রক মনু

বাংলাদেশ নিয়া হোপফুল হইয়া উঠবে নাকি আইএস?

বাংলাদেশে আল কায়েদা, তালেবান, আইএস বা মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশেষ মনোযোগ ছিলো না; এর একটা কারণ, বাংলাদেশের কাছাকাছিমনা দলগুলি এদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারে নাই কখনো; বাংলাদেশিদের ব্যাপারে ওরা বেশ হোপলেস থাকার কথা। কারণ?

-------------------------

ক. সারা বাংলাদেশে একবার বোমা মারা হইলো; সেটি নিশ্চই বিরাট এবং ডিপ একটা নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা দেখায়; কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকার কয়েক মাসের মধ্যেই পুরা ঠাণ্ডা কইরা দিলো, কিছু ক্রসফায়ার আর কিছু ফাঁসির পরেই ওই নেটওয়ার্ক পুরা নাই হইয়া গেল! এমন হইলে তো শ্রদ্ধা পাইতে পারে না এঁরা।

খ. এমন সর্বৈব আঘাতের পরেও এই দেশে একটা সুইসাইড বম্বার বাইর হইলো না; বোমা-গ্রেনেড মারা লোকগুলিও এমন অ্যামেচার ছিলো যে বেশ কিছু বোমা আর গ্রেনেড ফুটলোই না! গ্রেনেড মারে বাট মারার আগে পিন খুলতে ভুইলা যায়! এদেরকে নিয়া তো হোপফুল হওয়া যায় না!

গ. এসব কাজে পেশাদার ভাড়া করা বা ভালো ট্রেনিং-এর জন্য ইনভেস্টমেন্ট নাই তেমন।

ঘ. পসিবল দলগুলি একটু চাপেই পিছু হটে, নিজেদের সংগঠনের সংবিধান পাল্টাইয়া ফেলে পুরা; ভালো ব্যবসা-ট্যাবসা কইরা ভোগবিলাসই লক্ষ্য মনে হইতে থাকে এদের।

ঙ. বাংলাদেশিরা পুরা মরদ না আসলে, মাইয়া নেতার কথায় খাড়াইয়া মোতে! যেই দেশের ৮৫% মানুষ দুই মহিলার ভক্ত সেই দেশ নিয়া আল কায়েদা বা আইএস হোপফুল কেমনে হয়!

চ. দেশের ভিতর ক্রসফায়ার বা ফাঁসি ঘটলেও বাংলাদেশ কোন আন্তর্জাতিক যুদ্ধে জড়ায় নাই; আফগান বা ইরাক যুদ্ধে কোন পক্ষ লয় নাই; অর্থাৎ ওদের লগে বাংলাদেশ শত্রুতা করে নাই আনুষ্ঠানিকভাবে।

তবে এখন পরিস্থিতি একটু অন্য; খুন ঘটতে পারতেছে বেশ সফলভাবে। পেট্রোল দিয়া পোড়াইয়া মারতে পারতেছে বেশ কিছুদিন ধইরা; সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পক্ষে যোগ দিয়া শত্রুতার ঘোষণা দিছে, বাংলাদেশ আর নিরপেক্ষ দেশ নাই আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-বিবাদে। ফলে, বাংলাদেশিরা এইবার ওদের কাছে একটু রেসপেক্টেবল হইয়া উঠতে পারে; আবার, শত্রুতার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়া সরকারও ওদের চ্যালেঞ্জ জানাইলো; মোটের উপর, ওরা এইবার বাংলাদেশের ব্যাপারে আরো মনোযোগী হইয়া উঠতে পারে।

আমরা এখন কী করবো? ওরা মারবে, আমরাও মারবো–নীতিতে এই যুদ্ধ চালাইয়া যাবো? যুদ্ধ কি মজা লাগতাছে আমাদের? ওরা আরো মনোযোগ দেবে আমাদের দিকে–আমরা কি একটা উপভোগ্য যু্দ্ধের জন্য ওয়েট করতাছি? নাকি যুদ্ধটা কেমনে এড়ানো যায় সেইটা ট্রাই করবো? বা এড়াবার কি রাস্তা নাই একেবারেই?

প্রধানমন্ত্রী যেমন বলছেন, শুরুতে আমরাও সুবিধার জন্য ধরি যে, বিএনপি আর জামাত আসলে আইএস; তাতে দাঁড়াচ্ছে, আনুমানিক প্রায় ৪০% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আইএস; আর্মি, বিডিআর, পুলিশ বা আমলার মাঝেও তাইলে বিরাট সংখ্যক আইএস আছে; কারণ, বিএনপি-জামাতের আমলে রিক্রুট হওয়ারা নির্ঘাৎ আইএস। আমাদের তাইলে একটা বাছবিচার শুরু করা দরকার; বোঝা দরকার, ঐ ৪০%-এর কতোটা ভাগাইয়া নিতে পারি আমাদের দলে; আমাদের চেনা দরকার, আইএস কাদের স্বার্থে নেসেসারি আঘাত করবে; তারা নিজেদের গরজেই আমাদের দলে চইলা আসবে।

আমেরিকান বা ব্রিটিশ ইংরাজি মিডিয়ামে যারা নিজেদের পোলা-মাইয়া পড়ায় আইএস তো তাদের ধরবে; যাঁরা ইংরাজি নিউ-ইয়ার, হ্যালোউইন, ক্রিসমাস উৎসব করে তারাও পার পাবে না আইএস-এর কাছে; যারা নিজেদের মাইয়াগো বালিকা/কিশোরী অবস্থায় বিয়া দিতে চায় না তাদের স্বার্থে আইএস আঘাত করবে; যৌনসেবা দিতে অনিচ্ছুক মাইয়ারা আইএসবিরোধী হবে; যারা নিজের মাইয়ারে কারো ৩/৪ বউয়ের একজন হিসাবে দেখতে চায় না তারাও আইএসরে পছন্দ করবে না। হিন্দি নাচ-গান-সিনেমা দেখে বা মদ খায় যারা তারাও আইএসরে ভয় পাবে নিশ্চই। অমুসলিমরাও আইএস শাসন পছন্দ করবে না বলে অনুমান করি।

তো, এমন লোক কি বিএনপি-জামাতের মধ্যে পাবো না একদম? বিএনপির মধ্যে কিছু আছে মনে হয়; তাগো লগে আঁতাত করলে ভাগাইয়া নেওয়া যাবে আমাদের দলে। আমাদের উচিত হবে যারেই পারি ভাগাইয়া দলে নেওয়া।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়রে ভাগানো যাবে মনে হচ্ছে; মির্জা ফখরুল? মির্জা আব্বাস? সাদেক হোসেন খোকা? রিজভী আহমেদ? বিএনপির অন্য নেতাদের কি ভাগাইয়া নিতে পারবো? আচ্ছা, খালেদা জিয়ার কি অবস্থা?

আইএস তো মাইয়া নেতা সহ্য করবে না বলে অনুমান করি; তাইলে, সেইটা কি খালেদা জিয়ার স্বার্থের পক্ষে যাবে? যেই জিয়া মদের বারের লাইসেন্স দিছিলো তার বউরে কি ভাগাইয়া নেওয়া যাবে বলে আশা করা যায়? কোকোর মেয়েরা মালয়েশিয়ায় কি ওহাবী বা কওমী মাদ্রাসায় পড়ে? তারেক জিয়ার বউ আর তারেক জিয়ার বাচ্চারা? পসিবল আইএস বা তালেবানমনা কতগুলি লোকরে ক্রসফায়ার আর ফাঁসি দিছিলো যেই খালেদা জিয়া তারে ভাগাইয়া নিতে পারবো না আমরা? খালেদা জিয়া তো হেজাবও পড়েন না, তারপরেও আইএসরে পছন্দ করবেন তিনি?

শুনতে পাই, বছর খানেক আগে একটা সংসদ নির্বাচন হইছিলো; সেই নির্বাচনের পরে বেশ মারামারি হইছিলো; মানুষের জানমালের উপর আক্রমণে তখন জামাতের নাম আসছিলো প্রচুর। কিন্তু বিএনপিও সেই আন্দোলনে ছিলো; তখনকার প্রধানমন্ত্রী কঠোর হইছিলেন, মানুষকে নিরাপত্তা দেবার কথা দিছিলেন; কিন্তু পারেন নাই তিনি; সরকারি বাহিনী দিয়া দেশ ঠাণ্ডা করতে পারেন নাই তিনি। পরে, খালেদা জিয়ার বিএনপি আন্দোলন থেকে সরে আসে, দেশ ঠাণ্ডা হইছিলো তখন, বিএনপি না থাকায় জামাত আর একেবারেই সুবিধা করতে পারে নাই।

এবারের পেট্রোল বোমায়ও জামাতের নাম আসছে প্রচুর, কিছু অবশ্য আওয়ামী লীগের নামও আসছে! কিন্তু মানুষের জানমালের উপর হামলা যাঁরাই করুক তারা বিএনপির আন্দোলনরে কাভার হিসাবে ইউজ করে। খালেদা জিয়া বিএনপিরে সরাইয়া নিলেই হামলাবাজরা নাই হইয়া যায়! হামলাবাজরা গুলি মানে না, ক্রসফায়ার বা পুলিশ বা সরকার মানে না, খালেদা জিয়ারে মানে; ধরলাম, খালেদা জিয়াই কইছে হামলা করতে; আবার তিনিই যদি এইটা থামাইতে পারেন তাইলে খালেদার লগে আঁতাত করবো নাকি যুদ্ধ করবো? গণধোলাই দেবার প্রাকটিস করবো, পেট্রোল বোমা থেকে আসল বোমায় পাঠাইয়া উপভোগ্য যুদ্ধ করবো?

আমাদের বাসে চড়া আর বাঁচার জন্য খালেদা জিয়ার লগে আঁতাত করতে যদি না দেন প্রধানমন্ত্রী, আমরা কি তবু প্রধানমন্ত্রীর লগেই থাকবো, মরবো আর মারবো? প্রধানমন্ত্রী যদি যুদ্ধই করবেন বইলা ঠিক কইরা রাখেন, আর আমরা যদি খালেদারেই গালাগালি করতে থাকি তাইলে কেমন হয়? আমাদের উপকারের জন্য খালেদা জিয়া তাইলে সুইসাইড করুক–এইটুকু আর কতই বা বেশি চাওয়া খালেদার কাছে?

৭ ফেব্রু ২০১৫