যতো মরতে থাকবো, থামার সময় ততো আসতে থাকবে

এমএসজি: মেসেঞ্জার অফ গড, ভারতে তৈরি একটা সিনেমা যেইটা সেন্সরবোর্ড ছাড়ে নাই ( http://bangla.bdnews24.com/glitz/article911734.bdnews ); মানে পাবলিক ভিউয়িং-এর অনুমতি দেয় নাই। কারণও জানাইছে বোর্ড, যে, এখানে নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে উপস্থাপন করেছেন রাম রহিম। এছাড়া নানাবিধ কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাস উঠে এসেছে এই সিনেমায়।
দেখা যাইতাছে, যেই বোর্ড কয়দিন আগে ‘পিকে’র ব্যাপারে বেশ কিছু হিন্দু সংগঠনের আপত্তি মানে নাই। তখন ভারতের সেন্সর বোর্ডের সভাপতি লিলা স্যামসন এর উত্তরে বলেছেন, “আমাদের কাজ কেবল ছাড়পত্র দেওয়া। আমরা সেটাই করেছি। আমরা সেন্সরশিপ বোর্ড নই। রাজনৈতিক ধর কিংবা আদর্শবাদীদের যদি সমস্যা থাকে, তাহলে তারা তাদের সমর্থকদের সিনেমা দেখতে না করুক। ( http://bangla.bdnews24.com/glitz/article903595.bdnews )”

এই স্যামসন সাহেবই এমএসজি: মেসেঞ্জার অফ গড’রে সেন্সরে আটকাইছেন; আপিলে বোর্ডরে পাশ কাটাইয়া এমএসজি: মেসেঞ্জার অফ গড মুক্তির অনুমতি দিলে সেই স্যামসন সাহেব দলবল নিয়া পদত্যাগ করছেন। পরে আদালত এই ছবির মুক্তি আবার আটকাইছেন।

-------------------------

জটিল। তাইলে কী বুঝবো আমরা? সেক্যুলাররা হিপোক্রিট, তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়া গালি দিবো নাকি। ফ্রান্সের ঘটনায়ও এমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখা গেছে; যিশুর কার্টুন ইউরোপের সেন্সরে আটকাবার ঘটনা সাধারণ ব্যাপার ইনফ্যাক্ট। মুসলমানরা সেন্সরের দাবি করে, হিন্দুরা সেন্সরের দাবি করে, সেক্যুলাররা করে একইভাবে। সেক্যুলাররা সংস্কার, বিশ্বাস–এগুলি প্রচার করতে দেবে না।

তাইলে দেখা যাইতাছে, পজিশনের বিশেষ হেরফের নাই দুই বিরুদ্ধ পক্ষের। ফলে, মুক্ত সমাজ/রাষ্ট্র হলে কথাটাই ফেক; ফলে, বিভিন্ন জিনিস আটকাইয়া দিলেই অন্যের থেকে বিশেষ আলাদা হওয়া যায় না, এতে গণতন্ত্রেরো বিশেষ ক্ষতি হয় না। গণতন্ত্র মানে মুক্ত জীবন না মোটেই, আইনের অধীন জীবন সেইটা, অধীনতা একটা এভার-লাস্টিং ব্যাপার। আমরা যারা নেভারল্যান্ডে যাবো না বইলা ভাবছি তারা এমনই নিয়ন্ত্রিত জীবন লইয়াই মরবো। তাইলে, কন্ট্রোলড সিস্টেম দেখলেই ফ্যাসিজম বইলা চিল্লাবার মতলব ভিন্ন; এইটা বিপরীতে মুক্ত রাষ্ট্রের মিথ জিয়াইয়া রাখে। ইরান, চীন, জার্মানী, ফ্রান্স বা কিউবা বা যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত–কোনটাই মুক্ত রাষ্ট্র না, এমনকি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারেও খুব ভিন্ন অবস্থান নাই তাদের।

তাইলে, আমরা যারা নেভারল্যান্ডে যাবো না, ফলে খুঁজিও না, ফলে এইসবখানেই থাকতেছি, থাইকা থাইকা মরতেছি, সেক্স করতেছি বা না, বাছুরের মুখ দেইখা প্লেজার পাই বা না পাই–আমরা যারা মারামারি চাই না, খুন চাই না কি করবো তারা?

আমরা কি অন্যরে লইয়া মজা করতে করতে সেই অন্যরে খুনী বানাইয়া তুলবো? বন্দুক লইয়া মাইরা যাবে বা সুইসাইড বম্ব লইয়া মইরা মারবে যেন, মরা আর মারা দুইটাই উদ্দেশ্য হইয়া উঠুক তেমন ব্যবস্থা করতে থাকবো?

ওদিকে দেখা যাইতাছে, সেক্যুলাররা আরো বেশি খুন করে কিন্তু তার মাত্র মারাই উদ্দেশ্য, নিজে কতটা না মইরা পারে সেইটাই ধান্দা; ইসলামিস্টরা মারা এবং মরা দুইটাতেই আগ্রহী। এইটা কিন্তু এখন পর্যন্ত হিসাব; মরা কিন্তু একটা শিক্ষার ব্যাপার, শেখা যায়, শিখানো যায়। সেক্যুলার খ্রীস্টানরা সেই শিক্ষা কিন্তু শুরুও কইরা দিছে; মরার এসথেটিক্সের শিক্ষা শুরু হইছে কিন্তু খ্রীস্টান ইউরোপ-আমেরিকায়!

আপনেরা যারা অ্যাংরি বার্ডস গেমটা খেলছেন তারা সহজে বুঝবেন ব্যাপারটা; বড়রা মে বি গেম হিসাবেই নিছেন; কিন্তু ছোটরা? তারা কি শেখে নাই মরার এসথেটিক্স? অ্যাংরি বার্ডের লক্ষ্য মরা এবং মারা–দুইটাই; মরবার মধ্য দিয়া কতো মারা যায়, সেইটাই ব্যাপার; যেইগুলা বোমা লইয়া শুকরদের মধ্যে হামলাইয়া পড়তে পারে সেইগুলাই বেশি আকর্ষণীয়। খ্রীস্টান ইউরোপ-আমেরিকার বাচ্চারা অ্যাংরি বার্ডের ট্রেনিং নিতাছে, মরার এসথেটিক্স শিখে ফেলতাছে। ১২/১৩ শতাব্দীতে বা্চ্চাদের ক্রুসেডেরো ইতিহাস আছে ইউরোপের।

কী হবে যখন হজ্জ্বের সময় খৃস্টান সুইসাইড বম্বার মক্কায়, মিনায় ফুইটা পড়বে? ইউরোপ-আমেরিকা বোমা বানাইতে আরো ভালো পারে, তাদের টাকাও বেশি; সাদাদের জীবনের দাম বেশি ভাবলে অভিবাসী কালা খ্রীস্টানরাই হয়তো বেশি যাবে এমন সুইসাইড বম্বিং-এ। মোসলমানরা গীর্জায় সুইসাইড বম্বিং করবে, আর খ্রীস্টানরা মসজিদে মসজিদে। এমনে যতো মরতে থাকবো আমরা, ততোই থামার সময় হবে আমাদের…