মীনার বুলি: জাতিসংঘের সালিশিতে পাইলাম কমন বাংলা

বরিশালের মনু চট্টগ্রামের কুতুবের লগে কোন বাংলায় আলাপ করবে? বিএনপি প্রেস রিলিজ দেবে কোন বাংলায়? জনসভায় খালেদা জিয়া বলবেন কোন বাংলায়? একটা কমন বাংলা দরকার এইসব কাজে। এই ব্যাপারে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের বা আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের পজিশন একদম ক্লিয়ার আছে। এইটার নাম দিলাম বাঙালি কম্যুনিটির কমন বুলি বিষয়ে আওয়ামী এসথেটিক্স। আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল বুলিই সেই কমন বাংলা। এই আওয়ামী এসথেটিক্স কতটা গোড়া সেটা সবচে ভালো বোঝা যাবে জাতির জনকের অসমাপ্ত আত্মজীবনী দেখলে। আওয়ামী লীগের সবচে বড়ো আইকনের বুলি এডিট করে ফেললো ওরা! চার্চ প্রতিষ্ঠার পরে আসল যিশু যেমন চার্চের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, জাতির জনক আওয়ামী লীগের জন্য তেমনি। তাঁর বুলি থেকে বাকশাল পর্যন্ত সেই পরিচয় পাইবেন। এর নাম অর্থোডক্সি।

বাঙালি কম্যুনিটির কমন বুলি বিষয়ে বিএনপির ভিন্ন কোন প্রস্তাব দেখা যায় না। এদিক থেকে ভাবলে আওয়ামী এসথেটিক্স দিয়াই চলছে বিএনপির পলিটিক্স। 

-------------------------

বাঙালি কম্যুনিটির ভিতর রাজনীতি করতে দুইটা পলিটিক্যল পার্টির নেসেসারিলি দুইটা বুলি দরকার

হবে তেমন কথা নাই; কিন্তু যখন সেই অভিন্ন বুলিটা অর্থোডক্স এবং কম্যুনিটির কমন বাংলা নয় এবং যেই বুলিটার কেন্দ্র কলকাতা নামের একটা বিদেশি শহর তখন হিসাবটা ভিন্ন; তার উপর এই বাংলা অভিজাতন্ত্রী, বিভিন্ন বাংলারে পাত্তা দেয় না; অন্যান্য বাংলা নিয়া মশকরা করে; বিভিন্ন বাংলারে উৎখাত করতে আইন করছে; ফলে এই বাংলা ডেমোক্রেটিক নয়। এই বাংলার বিপক্ষে খাড়াইয়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটা ডেমোক্রেটিক আন্দোলনে সফল হবার শর্তগুলি হাজির আছে এখনকার বাংলাদেশে।

শুরুতে একটা ডেমোক্রেটিক কমন বাংলা পাওয়া দরকার, যেইটা অভিজাততন্ত্রী নয়, বাঙালি কম্যুনিটি সহজেই বুঝতে পারে; এক বাংলা আরেক বাংলার সাথে কথাবার্তা চালাইতে পারে। যেই বাংলা দিয়া এক বাংলা আরেক বাংলার উপর দাপট দেখাইতে না পারে; মানে, সেইটা সিলেটের বাংলা হতে পারবে না, বা বরিশালের বা ঢাকাইয়া বা নোয়াখালির বা রংপুরের; এবং সেই বাংলার কোন বাড়তি ইজ্জতও থাকতে পারবে না অন্যান্য বাংলার চাইতে, এখনকার আওয়ামী বাংলা (প্রমীত) যেমন নাম দিয়াই বাড়তি ইজ্জত ক্লেইম করে।

এই রকম কিছু আগে থেকে না থাকলে তৈরি করা যায় না; এবং তৈরির চেষ্টা আধিপত্যকামী অর্থে খারাপও। আমাদের কপাল ভালো যে তেমন একটা বাংলা তৈরি অবস্থায় পাইতেছি আমরা। এজন্য, আমরা জাতিসংঘের শুকরিয়া করতে পারি। কেননা, মীনার বাংলাই সেই কমন বাংলা।

জাতির জনকের পাবলিশড আত্মজীবনী থেকে:: 'লাগাইয়া', হারাইয়া'--স্ক্রিপ্টের এমন কাজরূপ এডিট করা হইছে পাবলিশড ভার্সনে...
জাতির জনকের পাবলিশড আত্মজীবনী থেকে:: ‘লাগাইয়া’, হারাইয়া’–স্ক্রিপ্টের এমন কাজরূপ এডিট করা হইছে পাবলিশড ভার্সনে…

বাঙালি কম্যুনিটির বাচ্চাদের মাঝে মীনা কার্টুন সবচে কমন ঘটনা বলে অনুমান আমার। বাংলায় মীনা কার্টুনের শুরুতে যারা মীনা দেখছেন তাদের এখন যৌবনকাল; এখনকার সব ক্লাসের বাচ্চাই মীনা কার্টুনের সাথে পরিচিত হয়। অত্যন্ত কট্টর কিছু আওয়ামী/অভিজাত মধ্যবিত্ত এবং কিছু কট্টর মাদ্রাসা হয়তো বাচ্চাদের মীনা দেখতে পড়তে দেয় না। তবু টিভি দেখতে পারে এমন বাচ্চারা মীনার বুলির সাথে পরিচিত হবার বিপুল সম্ভাবনা। এখনকার পথে ঘাটে বাঙালি কম্যুনিটি অপরিচিতদের সাথে যেই অনুমিত কমন বাংলায় আলাপ শুরু করে আমার অবজার্ভেশান হইলো সেইটা মীনার বুলি।

অভিজ্ঞতা থেকে জানি, বাচ্চাদের সাথে বড়দেরও মাঝে মাঝেই দেখতে হয় মীনা কার্টুন; ফলে বড়দেরও মোটামুটি শেখা হয়ে যায়। এছাড়া বড়োদের মাঝে মীনার বুলি ছড়াতে ফারুকী গং-এর টিভি নাটক বিরাট ভূমিকা রাখছে অনেকদিন ধরে। দেশের চায়ের দোকানগুলিতে টিভি দেখা যায় এখন, চায়ের দোকানে বসেন এমন যে কেউই ফারুকী গং-এর টিভি নাটকের মাধ্যমে মীনার বুলি বুঝতে-বলতে পারেন।

মীনার বুলি বোঝা যায় না বলে কোন অভিযোগ দেখি নাই এ যাবত; বরং উল্টা ঘটনা আছে; মধ্যবিত্তের বাচ্চাদের বুলি দূষিত হবে বলে বাসায় মীনা কার্টুন নিষিদ্ধ করার ঘটনা আছে; কেননা, মীনার বুলি ছোটলোকের বুলি হিসাবে দেখা হয়; বাস্তবে বাংলায় ইউনিসেফের মীনা কার্টুন প্রজেক্ট আসলেই গরিব মানুষের মাঝে উন্নয়ন ভাবনা ছড়াবার কাজে তৈরি হইছিলো। এতে এইটাও প্রমাণিত হইতেছে যে, বিভিন্ন ক্লাসের মাঝে চিন্তা-ভাবনা ছড়াবার কাজেও মীনার বুলিই সবচে এফেক্টিভ। ফলে মীনার বাংলাই সেই কমন বাংলা যা কোন বিশেষ এলাকার বুলি নয় এবং আধিপত্যকামীও নয়। আমরা খেয়াল করে দেখতে পারি যে কেন বাংলায় অনুবাদ করা বিভিন্ন টেক্সটবুক ইংরাজির তুলনায় বেশি না বোঝার মতো হইয়া ওঠে; কারণ হয়তো প্রমীত বাংলা, মীনার বুলিতে অনুবাদ করা হইলে হয়তো এই সমস্যা কমতো।

এবারে আওয়ামী লীগকে পলিটিক্যলি আগাইয়া দেয় এমন কালচারাল প্রোডাক্টগুলির বুলি বিচার করা যাক। ‘সোনার বাংলা’ নামের আইডিয়াটা আওয়ামী লীগ এবং রবীন্দ্রনাথের এবং কোলকাতার। রবীন্দ্রনাথ এবং কোলকাতার বুলি কি? আওয়ামী প্রমীত বাংলা। ফলে প্রমীত বাংলা দিয়া রাজনীতি করলে তা ঐ বাংলার কেন্দ্রকে মনে জাগাইয়া রাখতে থাকে, আওয়ামী এসথেটিক্স লাভবান হয়; ফলে আওয়ামী লীগ পলিটিক্যলি বেনিফিটেড হতে থাকে।

পিয়াস করিমের মুদ্দার শহীদ মিনারে যাইতে না দিতে যারা ফেসবুকে/সোস্যাল মিডিয়ায় মুভ করলেন তাদের বুলি খেয়াল করেন; তারা সবাই প্রমীত বাংলাপন্থি। এদেরকেই আপনি পাইবেন অনন্ত জলিলের উচ্চারণ নিয়া হাসাহাসি করা পিপলের মাঝে; বা বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের বুলি নিয়া হাসাহাসি করাদের দলে। মিডিয়ায় ফারুকীদের বিপরীতে আলী যাকের, নূর, সুবর্ণা মুস্তাফা, শম্পা রেজা, বিপাশা, শমী কায়সারদের বুলি খেয়াল করেন; এদের কাউকে ফারুকীদের কোন নাটকে অভিনয় করতে দেখছেন? ফারুকীদের বুলিতে এরা নিজেরা কোন নাটক বানাইছে? আমার চোখে পড়ে নাই কখনো। বামপন্থি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী থেকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের বুলি খেয়াল করেন। খালেদা জিয়া ‘সমঝোতা’র উচ্চারণ নিয়া হাসাহাসি করা পিপলের এসথেটিক্স শেয়ার করেন এনারা সকলে। এবং তার ভিতর দিয়া আওয়ামী লীগরে পলিটিক্যল বেনিফিট যোগান দেয়। ওই বুলি অভিজাততন্ত্রী অগণতান্ত্রিক এবং আওয়ামী। ওই বুলি দিয়াই বিএনপির পলিটিক্স করার অর্থ এসথেটিক্যলি আওয়ামী লীগ করা। বিএনপির কি আওয়ামী লীগ করা ঠিক হচ্ছে?

মনে রাখা দরকার, আওয়ামী লীগ বিরাট পলিটিক্যল পার্টি হইয়া উঠছে আইউব বিরোধী মুভমেন্টের মধ্য দিয়া; আইউব যখন রবীন্দ্রনাথরে নিষিদ্ধ করে তখন পুরা পূর্ব পাকিস্তানে অসংখ্য কালচারাল সংগঠন তৈরি হয়ে রবীন্দ্রনাথ চর্চা করতে থাকে; এগুলিই আওয়ামী এসথেটিক্সের ফর্মেশন ঘটায়। এবং সেই কারণেই আইউবের বেকুবির কাছে আওয়ামী লীগ এবং রবীন্দ্রনাথ দুইটাই দেনাদার। এবং এই এসথেটিক্সের বুলি নেসেসারিলি প্রমীত বাংলা। বাংলাদেশের নিকট অতীতের যাবতীয় সাহিত্য খাড়াইয়া আছে এই বুলির উপরে; এই সাহিত্য আওয়ামী লীগ বানাবার কারখানা; ফলে আওয়ামী লীগ কঠিন প্রতিপক্ষ।

ফলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি মানে নেসেসারিলি প্রমীত বাংলার বিরুদ্ধে রাজনীতি। এইটা বুঝতে না পারার রাজনৈতিক দাম খুবই চড়া। বাংলাদেশের বাম দলগুলি যে আওয়ামী লীগের শাখা হইয়া আছে তার গোড়ায় এইটা বুঝতে না পারা। এরা প্রমীত বাংলা, ফলে আওয়ামী; মার্ক্সবাদে সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতির নতুন ভাবনা-ব্যাখ্যাগুলি জনগণের মাঝে ছড়াতে বামপন্থিদের ব্যর্থ করে রাখে প্রমীত বাংলা। প্রমীত বাংলায় কথা বলেও বিএনপি যে জনগণের মাঝে ছড়াইতে পারলো তার কারণ মে বি ক্ষমতায় যাবার পর দলটা তৈরি করছেন জিয়াউর রহমান; এবং রাজনৈতিক কোন কড়া প্রতিপক্ষতা ছাড়াই দল বানাইতে পারছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার একটা ওয়াজের দুইটা লাইন দেখা যাক:

‘‘দেশে বাক স্বাধীনতা নেই। সরকার মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়। এজন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা করেছে তারা। অতীতে যেভাবে বাকশাল করে ৪টি ছাড়া সব সংবাদ পত্র বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন একদলীয় শাসন প্রক্রিয়ার দিকেই তারা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে।’’

এইটারে মীনার বুলিতে কনভার্ট করার ট্রাই করি চলেন:

“দ্যাশের মানুষ কতা কইতে ডরায়; মানুষের মুখে তালা লাগাইয়া রাখছে সরকার। কতা কইলেই জেলে হান্দাইয়া দেবে, আইন করতাছে হেই জন্য। এরাই বাকশাল বানাইছিলো—ভুইলা গেছেন আপনেরা? পত্র-পত্রিকা উডাইয়া দিছিলো, কেউ যেন সত্য কতা কইতে না পারে; রাজায় দ্যাশ চালায় এহন, আপনেগো ভোটের চাইতে নাপিতের দোকানের চুলেরও দাম বেশি হেগো কাছে , দাদি-নানীর তাল্লুক দ্যাশটা, হ্যারা খাইতাছে ভাগাভাগি কইরা।”

বাঙালি কম্যুনিটির মাঝে ওয়াজ করতে কোনটা বেশি পাওয়ারফুল এবং কম্যুনিকেটিভ? আসলটার ‘বাক স্বাধীনতা’ বহু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া বাঙালিরে বুঝাইতেও ইংরাজিতে অনুবাদ (ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশান) করে দিতে হবে। সম্প্রচার নীতিমালাও তেমনি দুইটা শব্দ; প্রক্রিয়া শব্দটাও বাঙালি কম্যুনিটির বেশিরভাগ মানুষ ইউজ করে না নিজেদের বুলিতে। সংবাদপত্রের চাইতে পেপার বেশি বোঝে বাঙালি কম্যুনিটি, এর পরে পত্রিকা; বরং পেপার-পত্রিকা বলা যাইতে পারে। ইস্যুটা শব্দের অরিজিন নয়, সংস্কৃত নাকি উর্দু নাকি ইংরাজি নাকি ফারসি নাকি হিন্দি নাকি মান্দি—সেইটা কোন ব্যাপার নয়; ইস্যু হইলো কমন বাংলা ব্যবহার করা। খালেদা জিয়ার ওই ওয়াজ বাঙালি কম্যুনিটির কত ভাগ মানুষ বুঝতে পারবে? ৩০%? মে বি; তাতেই হবে? বাকি ৭০%-এর সাথে আওয়ামী লীগ কথা বলে না, মানে প্রমীত বাংলায় কথা বলে; ওদিকে বুঝতে পারা ৩০% এসথেটিক্যলি আওয়ামী লীগের বুলিময়। খালেদা জিয়া কি এর পরও ওই প্রমীত বাংলায় ওয়াজ করবেন?

এই আলোচনায় ১৯৫২ সালে বাঙালির বুলি আন্দোলন এবং শহীদ মিনার নিয়া কিছু বিষয় ক্লিয়ার করার দরকার আছে। সেই আন্দোলন প্রমীত বাংলায় কথা কইতে বা স্টেটে প্রমীত বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য হয় নাই; সেইখানে যেকোন বাংলা ইনক্লুডেড। পাকিস্তানে বাংলায় কথা কওয়া মানুষের পরিসংখ্যানে প্রমীত বাংলারে বাংলা হিসাবে বিবেচনা করলে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় না; ফলে বাংলারে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলা যায় না।

আমার এক ফ্রেন্ড তাঁর মেয়ের নাম রাখছেন ‘ঋদ্ধি হৃদিতা’; ফেসবুকে তিনি তাঁর ক্লাস ফাইভ পাশ শ্বাশুরিরে নিয়া মশকরা করে বললেন নাতির নাম উচ্চারণ করতে যাইয়া শ্বাশুরির বেশ কিছু দাঁত পড়ে গেছে; এই নাম বোঝা তো দূরের কথা, একবারে উচ্চারণ করতে পারেন কিনা সেইটা দিয়া যদি বাঙালি কম্যুনিটির জনসংখ্যা হিসাব করা হয় তাইলে কয় লাখ বাঙালি পাওয়া যাবে দেশে? নাম রাখার এমন ঘটনার মতো সমাজের বিভিন্ন স্পেসে প্রমীত বাংলাপন্থিরা ৮০% বাঙালিরে বাদ দিয়া দেয়, বের করে দিতে চায় কম্যুনিটি থেকে; আর ১৯৫২’র মতো আন্দোলনের সময়গুলিতে কোলাকুলি করে আবার।

পিয়াস করিমের মুদ্দারকে বাঙালি কম্যুনিটি থেকে বাইর করে দিলো আসলে এই প্রমীত বাংলাপন্থিরাই; আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আরো পাওয়ারফুল হবার জন্য প্রমীত বাংলা সব জায়গায় প্রতিষ্ঠা করতে আইন তৈরি করলো। ফলে মানুষের বুলির আরেকটা মুভমেন্ট তৈরির শর্ত হাজির হইছে ইতিহাসে।

এইটা শুরু হইতে পারে সংবিধান মীনার বাংলায় অনুবাদ কইরা; বিএনপি যদি মীনার বাংলায় সংবিধান অনুবাদ কইরা বাঙালি কম্যুনিটিরে পড়াইয়া শুনাইতে থাকে তাইলে ‘সংবিধান অবমাননা’ বা ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা করবে আওয়ামী লীগ। মীনার বাংলায় ডেইলি পত্রিকা পাবলিশ করলে বা টিভি চ্যানেলে খবর পড়া শুরু করলে আওয়ামী লীগ আইন দিয়া হামলা করবে; বাঙালি কম্যুনিটির ৮০% মানুষের কাছে বিএনপি তখন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে যে বাঙালির বুলির উপরে হামলা চালাইছে আওয়ামী লীগ। একই সাথে যেই কোলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্য আওয়ামী লীগার বানায় তারে এফেক্টিভলি রেজিস্ট করা সম্ভব হবে; এবং বিপুল বাঙালি কম্যুনিটির মাঝে বিএনপি তার রাজনৈতিক এজেন্ডা ছড়াইতে পারবে সহজে। মিছিল বা মানববন্ধনে যেইভাবে গুলি চালায় নিয়মিত তাতে এই বুলি মুভমেন্টে কিছু শহীদও পাওয়া যাইতে পারে; ডেমোক্রেটিক এক শহীদ মিনার পাওয়া যাবে তখন। মীনার বুলির আরেকটা বিরাট সুবিধা পাইবে বিএনপি; যেই অসাম্প্রদায়িকতার ক্লেইম আছে আওয়ামী লীগের তার আইডিয়াল ভার্সনটা পাওয়া যায় মীনা কার্টুনে, মীনার বুলিতে; মীনা কার্টুনের নামগুলি বিভিন্ন ধর্মে থাকা সম্ভব তেমন ধরনের নাম; মীনাকে আপহোল্ড করার মাধ্যমে আসল অসাম্প্রদায়িকতা বিএনপিই প্রাকটিস করে বলে দাবিও করতে পারবে বিএনপি।

পাকিস্তান পয়দা হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই মুসলিম লীগ কালচারালি হাইরা যায় বাঙালির বুলির আন্দোলনে; আওয়ামী এসথেটিক্সের বিরুদ্ধে জিততে এই বুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝতে হবে বিএনপিরও।

১৮ অক্টোবর ২০১৪