ইস্টার্ন প্রোমিজেস (EASTERN PROMISES)

আমি মুভি দেখি নায়ক-নায়িকার নাম দেইখা। কিছুদিন আগে থেকে অবশ্য imdb.com… ভিজিট করি প্রায়ই। কিন্তু ডিরেক্টরের নামের চাইতে অ্যাক্টর বা কাহিনী বা ওয়াচার রিভিউরেই পাত্তা দেই বেশি। এই সিনেমাটাও এইভাবেই ডাউনলোড কইরা দেখছিলাম।

কিন্তু দেখতে দেখতে ডিরেক্টরের নাম জানার আগ্রহ জাগলো মনে! কারণ বোঝার চেষ্টা করলাম। বলছি।

-------------------------

দুইটা সিনের কথা স্পেশালি মনে আছে। একটা ডেড বডির হাতের আঙুল কাঁচি দিয়া কাইটা নিচ্ছে। খুব প্রোফেশনাল ভঙ্গি; মুরগী ঠ্যাং কাটার মতোই ফিলিং নাই কোন! আঙুলের ভিতরের হাড় কাটতে জোরে চাপ দিতে হচ্ছে বলে কিছুটা বিরক্ত যেনো। সম্ভবতঃ ডেডবডির আঙুলের ছাপ দেইখা যাতে আইডেন্টিফাই না করা যায় সেই জন্য আঙুলের মাথা কাটছিলো। এই সিন দেইখা ডিরেক্টরের নাম জানার ইচ্ছা হইলো। আঙুলের ছাপ অবশ্য সোয়ার্জনেগারের ইরেজার (Eraser) সিনেমায় একটা ইস্যু ছিলো। কিন্তু সেইটা নাটকীয় ইম্প্রুভাইজেশনের মতো। তো, ডিরেক্টরের নাম–David Cronenberg। পরে ওনার আরো একটা ছবি দেখছিলাম–Existenz মনে হয়। সাইন্স ফিকশন মুভি। মজার।

আরেকটা সিন মনে আছে; অ্যাকশন সিন সেইটা। একদম ল্যাংটা অবস্থায় সবাই। অন্য সব ছবিতে দেখবেন অ্যাকশন সিনে বাহারি কস্টিউম থাকে অ্যাক্টরদের। এই সিনের কস্টিউম হইলো বডি-স্কিন! এক্সাইটিং। হোটেলের বাথরুমে অ্যাকশন হয়। খুবই লজিক্যাল লাগবে আপনার। নাইতে নামলে তো ল্যাংটা হবে! কোন অস্ত্র থাকবে না, আঘাত থেকে প্রোটেক্ট করার জন্য কোন কাপড়ও নাই গায়ে। তখনি আক্রমণ করা বুদ্ধির কাজ তো অবশ্যই!

ইস্টার্ন প্রোমিজেস মুভির কাহিনী রাশান মাফিয়াদের নিয়া। রাশিয়ায় বিপদে পইড়া লন্ডনে আশ্রয় নিয়া আছে। হোটেল ব্যবসার কাভারে মব চালায়। বস লন্ডনের উপর খুব খাপ্পা; তাঁর পোলা নাকি লন্ডনের আবহাওয়ায় সমকামী হইয়া উঠছে! পোলা একটা মেয়েরে রেপ করতে যায় কিন্তু পারে না! তখন বাপ দেখাইয়া দেয় যে কিভাবে রেপ করতে হয়। বাপ রেপ করলে মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হইয়া যায়! পরে মেয়েটারে খুন করতে চায়। মেয়েটা পালায়। আর নোটবুকে রুশ ভাষায় লিখে রাখে বিভিন্ন জিনিস। পরে একটা বাচ্চা জন্ম দিয়া মরে। নায়িকার হাতে পড়ে বাচ্চাটা আর সেই নোটবুক।

রাশান ভাষা অনুবাদ করায় সাহায্য দরকার নায়িকার! মায়ের প্রেমিক রুশ ভাষা জানে। কিন্তু তাঁর লগে ঝামেলা হয়। পরে মবের বসের সাথে পরিচয় হয় নায়িকার; তাঁরে অনুবাদ করতে দেয়–কিন্তু ফটোকপি! বস তখন আসল নোটবুক আর বাচ্চাটারে নষ্ট করতে লোক লাগায়। এদিকে নায়করে প্লান্ট করে মবে রাশান এজেন্সি। সে মেয়েটারে সাহায্য করে বিভিন্ন সময়। কিন্তু তাঁরে আসলে দায়িত্ব দেওয়া হইছে খুনের। পরে তো নায়ক ধরা খাইয়া যায়। ওদিকে আগের একটা খুনের কারণে বসের পোলারে খুন করতে চায় আরেকটা গ্রুপ। বস তখন জটিল এক খেলা খেলে। বেশ জটিল। অনেকগুলা টার্ন আছে কাহিনীতে। ব্যাপক থ্রিলিং…