রক মনু

মানুষের ওলানের উপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

গরুর ওলানের ছবির উপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখে অ্যাড বানাইলে সেইটা ভালো দুধের গর্বমূলক অ্যাড হয়; তাইলে মানুষের ওলানের উপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখে অ্যাড বানাইলে সেইটা কি নেহাত ভালো দুধের গর্ব হবে না? যে, হে আমেরিকান বাচ্চারা, তোমাদের দুধ মা হবো আমি?

এই অর্থ যে নাই একদম সেইটা বলা যাবে না; কিন্তু নিশ্চই ওই অ্যাডে একটা যৌনমূলক ব্যাপার আছে, একটা যৌন দাওয়াত দেওয়া হইছে অ্যাডে।

-------------------------

এখন একজন বাংলাদেশী মেয়ে এমন একটা দাওয়াত যদি দেয় আমেরিকানদের তাইলে আরো আরো বাংলাদেশী হিসাবে কী করবো আমরা? লজ্জা পাবো? দুঃখ পাবো? পাইতেই পারি কেউ কেউ। কিন্তু এই দাওয়াতটা নিয়াও ভাবি একটু: এইটা সমকামী যৌন দাওয়াত বলে চিনতে পারলে আমাদের দুঃখ কি একটু কম লাগবে? বা অনেক বাংলাদেশী পোলা আমেরিকান আছে বলে অ্যাডের মাধ্যমে কিছু বাংলাদেশী পোলারেও দাওয়াত দেওয়া হইলে বলে আমাদের দুঃখ একটু কমবে?

আমাদের বাপেরা আর মায়েরা আর ভায়েরা আর পুরা পরিবার মেয়েদের যৌনপাহারাদার হিসাবে কাজ করে। আমাদের মেয়েদের যৌনকাতরতা প্রকাশিত হইলে আমরা লজ্জা পাই। সমাজে মুখ দেখাইতে পারি না বলে আমাদের মেয়েদের মারি, বন্দী কইরা রাখি, জোর কইরা বিয়া দেই। বাট হোয়াই, কেন লজ্জা পাই আমরা? আর লজ্জা পাইলেও আমরা কি মারতে পারি, বন্দী করতে পারি মেয়েদের?

এই অ্যাডে যাঁরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাইছেন তাদেরকে মেয়ে সন্তানের ঐ অত্যাচারী যৌনপাহারাদার থেকে কোনভাবে কি আলাদা করা যায়? আলাদা করা না গেলে এঁরা নিজেদের মেয়ে সন্তানদের জন্য কি আদৌ নিরাপদ?

ওদিকে, যেই সমাজ যৌনতায় আগ্রহীকে চরিত্রহীন বলে, সেক্স করলে পিটায়, ব্যক্তির সেক্স যেই সমাজে ক্রাইম, যেই সমাজে অবিবাহিত প্রেগন্যেন্ট মেয়েদের পেটে লাথি মাইরা বাচ্চা মারা হয়, যে সমাজে প্রেম হইলো বংশে চুন-কালি দেওয়া সেই সমাজে যৌন এক্সপ্রেশান/অভিব্যক্তিকেই বিপ্লবীরা প্রথম কর্তব্য হিসাবে আবিষ্কার করতে বাধ্য। আমাদের ট্যাবুরা নিপাত যাক।

[iframely url=https://www.facebook.com/rk.manu/posts/10151943617882027/]