রক মনু

চলেন, জাতি চিনি এই বিপুল উৎসব দিয়া

কারা কারা মিলে জাতি হয় সেইটার সরকারি সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন এই অ্যাড দিয়া; লাখো কণ্ঠের মালিকদের সম্পর্কেও আইডিয়া পাইবেন। আর বিশেষ সাবধান থাকবেন–কণ্ঠের বদলে যেন গলা দিয়া গাইবেন না যেন। ক্যাপ আর টুপির পার্থক্য যদি বোঝেন তাইলে কণ্ঠ আর গলার ফারাকও বুঝবেন অনেকটা।

১. জাতির এই সরকারি ডেফিনিশনে গরিব-গুর্বো নাই; দেশের উন্নতি এইটা; রাস্তাঘাটে গরিব দেখলে জানবেন ওনারা এই জাতির মেম্বার নন; হইতে পারে রোহিঙ্গা, হইতে পারে অননুমোদিত বিহারি ইত্যাদি। দেশে গরিব নাই মূলক একটা আইনের প্রস্তাব ভাববেন এইটারে; এখন থেকে গরিব নাই বলে ভাবা শুরু না করলে পরে আইন অমান্য করার আদালতি এবং পুলিশী বা র‍্যাবী ঝামেলায় পড়তে পারেন।

-------------------------

২. এইসব বিদেশি গরিব অবশ্য কিছু উপকারেও আসে। যেমন, আপনি ধরেন একজন কণ্ঠমালিক, আপনি সেইটা দিতে যাইবেন, কিন্তু দেরি হইয়া গেছে! আপনারে রিক্সায় নিয়া যাবে এইসব বিদেশি গরিব, তাড়াতাড়ি!

৩. আরো জানবেন, দেশে ইউনিফর্ম পরা লোকই বেশি; সেইটা সামরিক হইতে পারে বা কর্পোরেট। তবে সামরিক পুরুষের পাশে শাড়ি পরা মেয়ে থাকে; আর সামরিক মেয়েদের পাশে থাকে কর্পোরেট ছেলে। এই জাতির যৌন রুচি/সংস্কৃতি কেমন হতে হবে তার সরকারি নির্দেশ হিসাবে পড়বেন এইটারে।

৪. লুঙ্গি পরা বা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা, ইসলামী টুপি পরা লোক পাইবেন না এই জাতির মধ্যে। এইরম দেখলে সন্দেহ করেন; সন্দেহ করার পরে কী কররা উচিত সেই ব্যাপারে সরকারি লোকদের কাছে খোঁজ নেন। আপনি অবশ্য বড়চুলের পোলাও এই জাতির মধ্য পাইবেন না, দাড়িঅলাও।

৫. আপনি এমনকি মেয়েদের সম্পর্কেও কিছু জ্ঞান পাইবেন এই সরকারি অ্যাড দিয়া। ধরেন, মেয়েরা ক্যাপ পরার সময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইয়া উঠতে থাকে, ডিটারমিনেশনঅলা চেহারাটা ভালো দেখায় কিনা সেইটা আয়নায় দ্যাখে আবার; ওদিকে কপালে টিপ পরার সময় ‘নিয়ার কামিং প্লেজার নিয়া থ্রিলড’ একটা চেহারা নিয়া আয়না দেখবে। এমনকি ছেলেরা জামা/সামরিক ইউনিফর্ম পরার স্টাইল/ব্যাকরণটাও শিখে ফেলতে পারবেন।

চলেন, জাতি চিনি এই বিপুল উৎসব দিয়া।

[iframely url=https://www.facebook.com/rk.manu/posts/10151949135952027/]