রক মনু

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ ভাগ কইরেন না

পলিটিক্যাল শত্রু-মিত্র চিনতে দেশের সার্বভৌমত্ব বা সভ্রেইনটির ধারনা ব্যবহার করেন; এখন আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ ভাগ কইরেন না; কেননা, মুক্তিযুদ্ধ নাই, শেষ হইয়া গেছে।

এখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ ভাগ একান্ত আওয়ামী প্রকল্প; কারণ, এই ভাগ দিয়া আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি সবাইকে বিপক্ষে রাখা যায়। কিন্তু বিপক্ষ দিয়া যা মিন করা হয় তেমন কিছু বিএনপি করে নাই; একাধিকবার ক্ষমতায় থাইকাও ৭১ আগে যাবার চেষ্টা করে নাই; বা পাকিস্তানের সাথে একটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যাবারো অ্যাটেম্ট্ নেয় নাই। জিয়াউর রহমান পাওয়ারে আসার সময় পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গেলে ঠেকাবার মতো কোন পলিটিক্যাল ফোর্স ছিলো না। বরং, তেমন ব্যবস্থায় যাবার বিরাট চাপ ছিলো! এখন যাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ভাবেন তাদের নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও পুরাটা ছিলো না। জিয়াউর রহমানরেও যদি বিপক্ষ ভাবেন তাইলে সেনাবাহিনী মোটামুটি পুরাটা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আছিলো!

-------------------------

এদিকে সভ্রেইনটি’র ধারনা ব্যবহার করলে শুল্ক ছাড়া ভারতকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া, সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী ধরে নিয়া যাওয়া বা হত্যায় আপনি সভ্রেইনটি’র ক্ষূন্ন হওয়া দেখতে পারবেন এবং এজন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করতে পারবেন।

আবার, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পলিটিক্যাল ফোর্স পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো তাদেরকে এখনো বাংলাদেশের সভ্রেইনটি’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে দেখতে পারবেন। আপনার ওই রকম বিপদে যে পাশে থাকে নাই, তার কাছে এখনো আপনার সভ্রেইনটি নিরাপদ নয় বলে প্রতিষ্ঠা করা মোটেই কঠিন না; কিন্তু, আপনার এই বিরোধিতার বেনিফিট আওয়ামী লীগ কোনভাবে পাবে না।

এবং, যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ ভাগ করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশের সভ্রেইনটিকে ক্ষূন্ন হতে দেবে আর এভাবে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী সুবিধা পাইয়া যাবে তখন সেইটা না দেখার মতো অন্ধত্বও আপনার তৈরি হতে পারবে না। এদিকে বিএনপিরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ ভাবতে থাকলে একটা বেকুবি নিশ্চিন্তবোধ তৈরি হতে পারে যে, বিএনপির সময় আর যাই হোক ইন্ডিয়া কোন সুবিধা নিতে পারবে না!

মোটের উপর, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ এখনো ভাগ করতে থাকা দেশের পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিরাট বাধা।

[iframely url=https://www.facebook.com/rk.manu/posts/10151294638562027/]