পড়া কবিতা

‘সকল প্রশংসা তাঁর’ কিন্তু সব নিন্দার ভার

যদি মনুষ্যের হয় ওর মধ্যে প্রভু ইনসাফ

-------------------------

নাই, আমি সে কারণে সর্বদা তোমাকে অন্ধভাবে

প্রশংসা করি না; তবু গোস্বা তুমি কোরো না মাবুদ।

 

আমি যেন সিধা চলি তাই দাও বেহেশতের লোভ

যদি চলি উল্টা পালটা নিমেষেই কুখ্যাত দোজখ

দেখায় আমাকে ভয়: উভয়ের মধ্যবর্তী পথে

নিরীহ ষাঁড়ের মতো দড়ি নাকে সদর রাস্তায়

চলেছি ঈমানদার এতে কিবা কৃতিত্ব তোমার?

 

শির খাড়া চোখ লাল মাঝে মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে ষাঁড়

ছোটে ঊর্ধ্বলোকে যেথা তোমার নক্ষত্র ফুটে থাকে

সুবেহ সাদেকের শুকতারা হয়ে; প্রেমে ও প্রজ্ঞানে

সে ধায় আপন বেগে হুঁশ নাই তিলেক নিজের

 

কিছুটা প্রশংসা তাই ধার্য থাক বিদ্রোহী ষাঁড়ের।

 

::এবাদতনামা ৩/ফরহাদ মজহার

————————————————

তো, ‘সব নিন্দার ভার’ মানুষের বলে কোন বিষয় নাই ইসলামে; কেননা, মানুষ আশরাফুল মাকলুকাত; হযরত মোহাম্মদ (সঃ) একজন মানুষ; নবুয়্যত পাবার আগেও তাঁর কোন নিন্দার ভার নাই; সারা জীবনে তিনি কোন গুনাহ্’র কাজ করেন নাই। ইসলামে অমুসলিমরাও নিন্দিত নন, তাঁরা অবুঝ মাত্র। নিন্দার সকল ভার শয়তানের।

ফলে, এই কবিতা অল্প বোঝা দিয়া শুরু হইছে; তা হইতে পারেই; ইউরোপের দর্শন আর সাহিত্যে নিবেদিত হইলে ইসলাম অল্প বোঝার কারণ থাকেই। এই কবিতায় কি ইউরোপে নিবেদন পাওয়া যাইতেছে? ভাবা যাক।

কয়েকটা ফার্সি শব্দ আছে বলেই ইউরোপ বিরোধী, আধুনিকতা বিরোধী হইলো না; ফার্সি ভাষার সাথে আধুনিকতা বা ইউরোপের নেসেসারি কোন বিরোধ নাই। আধুনিকতা বিরোধী হইতে হলে আধুনিকতার অ্যাজাম্পশনগুলিরে ডিনাই করতে হবে; আসল অ্যাজাম্পশনগুলিরে মাইনা নিয়া বিরোধিতা হয় না। এই কবিতায় কেবল মানাই হয় নাই বরং আধুনিক একটা অ্যাজাম্পশনই কবিতাটা ঘটাইতেছে। অ্যাজাম্পশনটা হইলো মানুষের ‘ফ্রি উইল’। কবিতার ‘বিদ্রোহী ষাঁড়’ এই উইলসম্পন্ন মানুষ, যে নিজেই করে, মাবুদের ইচ্ছানিরপেক্ষভাবে। এই ফ্রি উইলসম্পন্ন মানুষই যে প্রশংসার্হ মানুষ তেমনটাই মাবুদকে বুঝাইয়া বলছেন কবি। ইউরোপের হিউম্যানিজমের চূড়ান্ত দশা এইটা, যেইখানে স্রষ্টার শিক্ষকতার দায়িত্ব নিচ্ছেন মানুষ কবি। বাংলা কবিতায় দেবতা রামকে শঠ ভিলেন বানাইয়া হিউম্যানিস্ট মাইকেল শুরু করছিলেন, নজরুল বিদ্রোহী হইয়া ‘আরশ ছেদিয়া’ উঠলেন, ‘বিদ্রোহী ষাঁড়’ মজহার স্রষ্টারে মুরিদ বানাইয়া হিউম্যানিজমের শিক্ষকতা শুরু করলেন।

কিন্তু ইউরোপ এখানেই শেষ হইলো না আসলে। মজহারের এই মানুষ আসলে পোলা; ফ্রেন্স রেভল্যুশনে ভ্রাতৃত্বের কথা বলা হইছিলো; এইটারে খুব নিরীহ ভাবার কারণ নাই; এইটা যে আসলেই পোলা-পোলা ঘটনা সেইটার প্রমাণ পাইবেন মাইয়াদের ভোটাধিকার ইস্যু দিয়া। ফ্রেন্স রেভল্যুশনের পরে আরো প্রায় ১২৫ বছর লাগছে মাইয়াগো ভোটাধিকার পাইতে। ফ্রেন্স রেভল্যুশনের সেই প্রশংসার্হ পোলা মজহারের ‘বিদ্রোহী ষাঁড়’। ষাঁড়ের আরো অর্থ আছে বটে; এইটা কেবল জেন্ডার বিষয়ক পরিচয় বলবার উপায় কম। ষাঁড় মানে দুইটা ‘অণ্ডকোষ’; এই অর্থে হিউম্যান উইলের বসবাস অণ্ডকোষে। এইটাও ইংরাজিতে ভালো পাইবেন আসলে: A man who has balls.

৬ জুলাই ২০১৩, ফেসবুক নোটে পাবলিশড