তার চাইতেও বড় নায়ক মুসা

এশিয়া এনার্জির প্রতি লয়্যাল ছিলেন আলী যাকের আর এশিয়াটিক, আপনারা নিন্দা করলেন সেই লয়্যালটির। মুসা লয়্যাল থাকলো না ট্রান্সকম আর বাংলালিংকের প্রতি, আপনারা নিন্দা করলেন মুসার। কেন?

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া বা এভারেস্ট বা লাং সিসায় ওঠা—মুসার বিভিন্ন অভিযানে স্পন্সর ছিলো বিভিন্ন কোম্পানি। যেমন, এভারেস্ট অভিযানে ট্রান্সকম-পেপসি; বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ায় বাংলালিংক। ফলে মুসার দায়বদ্ধতা কেবলই তাঁর স্পন্সরদের কাছে; বাংলাদেশ বা এর নাগরিকদের কাছে মুসার কোন দায় নেই। ঘোর জাতীয়তাবাদীরা জাতির সাথে প্রতারণার কথা বলবেন; না, জাতির কাছেও মুসার কোন দায় নাই। rk-manu2 তবু মুসা নায়ক; যতো বড়ো ভাবেন প্রথম আলোর (বাংলা ভার্সন) রিডাররা, তার চাইতেও বড়ো নায়ক। এবং মুসা প্রতারক; হ্যাঁ প্রতারক, অভিযোগগুলি মিছা না হইলে অবশ্যই প্রতারক। কিন্তু কার সাথে প্রতারণা করলেন মুসা, কার পক্ষে প্রতারণা? কর্পোরেটের সাথে প্রতারণা করলেন মুসা। এটি জনগণের প্লেজার, এন্টারটেইনমেন্ট। বাংলাদেশে কর্পোরেট কোম্পানিগুলিকে ধাপ্পা দেওয়া জনগণের পক্ষে নায়কোচিত কর্ম। কেন?

-------------------------

এক বন্ধুর অবজার্ভেশন দিয়ে শুরু করি; বন্ধু বললেন গ্রামীণফোনের পোস্টপেইড কানেকশনের কথা। বা অন্যান্য মোবাইল কোম্পানির পোস্টপেইড কানেকশন নিয়েও একই ভাবনায় যাওয়া যাবে। আপনি ২০০০ টাকা সিকিউরিটি মানি জমা রাখছেন আগে, তারপর একটা পোস্টপেইড কানেকশন পাচ্ছেন যার লিমিট ২০০০ টাকা।

তাহলে এইটা পোস্টপেইড কিভাবে হলো? কোম্পানি আপনাকে পরে পে করার সুযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করছে; আসলে আপনার জমা রাখা টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে সে! আপনার পক্ষে কি রাষ্ট্র/সরকারকে পাইলেন যে আপনার জমা টাকার ইন্টারেস্ট উসুল করে দেবে আপনাকে? পাননি। এই কোম্পানির সাথে প্রতারণা করে মুসা আসলে আপনার প্রতিশোধটা নিয়ে নিলো, এটি আপনার পক্ষে মুসার ক্ষুদ্র প্রতিরোধ। মুসাকে ধন্যবাদ।

এভারেস্টে মুসা ইব্রাহীম (বামে), হাতে বাংলাদেশের পতাকা

বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে আছে ট্রান্সকম; ট্রান্সকম আরো আছে মিডিয়া ব্যবসায় (প্রথম আলো, বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সন)। ট্রান্সকম কোম্পানি ট্রান্সটেক ব্রান্ডনেম দিয়ে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স বেচে বাজারে। ট্রান্সকমের সরাসরি দাবি না থাকলেও এর পাবলিক মিনিং হলো– ঐ জিনিসগুলির ম্যানুফ্যাকচারার ট্রান্সটেক; কিন্তু এগুলি চায়না মাল সব; বিভিন্ন কোম্পানিতে অর্ডার দিয়ে বানানো। বাংলাদেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি যেমন জামা-কাপড় বানাইয়া দেয় তেমন করে চায়না বানাইয়া দেয় ইলেকট্রনিক্স। বরং গার্মেন্ট শিল্প বেটার; কারণ, কাপড়ের ডিজাইন ইত্যাদি সেই সেই বিদেশি ক্রেতা কোম্পানির। এই ট্রান্সকমের সাথে প্রতারণা করে মুসা কি ধন্যবাদ পাবে না?

এবারে অন্য দিক থেকে ভাবি; বহু সিনেমায় দেখছেন নিশ্চই, পুলিশ নায়ক ভিলেনের কাছ থেকে ঘুষ নেয় কিন্তু সেই কাজটা করে না। এই পুলিশ ভিলেনের সাথে প্রতারণা করে নিতান্ত এক পুলিশ থেকে নায়ক হয়ে উঠলো; মুসাকে নিয়ে একটা সিনেমার স্ক্রিপ্ট ভাবেন; সেখানে কোম্পানিগুলির ওই চরিত্র হাজির করেন আর মুসাকে দিয়ে এই এই প্রতারণা করান। কিন্তু কোম্পানিগুলির মিডিয়া উইং দিয়ে মুসার জয়গান গাওয়ান। তারপরে সিনেমা বানান বা স্ক্রিপ্টটা নিজে পড়েন। ঐ স্ক্রিপ্টে মুসাই আসল নায়ক।

এভারেস্ট বিজয়ের ৪ বছর পূর্তিতে

আরো ভাবেন; বাংলাদেশে সবগুলি মাল্টিন্যাশনালে বহু বালাদেশি চাকরি করেন। কিন্তু বড়ো পদে? ভারতীয়, শ্রীলংকান বা পাকিস্তানি। বাংলাদেশের নাগরিকদের সাথে ব্যবসা করে এদের বেশি বেশি বেতন দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশিদের প্রমোশন হচ্ছে না; কারণ, কোম্পানির পলিসি হইলো একটা নির্দিষ্ট স্তরের উপরে উঠতে দেবে না বাংলাদেশিদের।

এই কোম্পানিগুলির সাথে মুসাকে লয়্যাল/ফেইথফুল রাখতে চাইছেন কেন আপনি? আর বোকা না থাকেন প্লিজ; বরং মুসার বিরুদ্ধে কর্পোরেটরা জালিয়াতির মামলা করুক, আপনি মুসার পক্ষে ট্রান্সকম ঘেরাও করতে রেডি থাকেন।

Series Navigation