মোক্ষম মোক্ষম সব বিয়া করেন সবাই

শীলা এবং আসিফ নজরুলকে ধন্যবাদ, এই কাপল আমাদের সমাজকে বুঝবার জন্য দরকারি ভালো একটা ইভেন্ট তৈরি করলেন। চলেন সমাজ নিয়া বোঝাবুঝিটা একটু রিনিউ করি।

এই সমাজ ছিলো গুলতেকিনের সহমর্মী; শাওন এবং হুমায়ুন আহমেদকে বেশ গালাগালি করছিলো এই সমাজ। আসিফ নজরুলকে বিয়া করে শীলা এখন একান্তভাবেই হুমায়ুন আহমেদের মেয়ে হয়ে গেলো; তখনকার গুলতেকিনের মেয়ে হয়ে গেলো হুমায়ুন আহমেদের মেয়ে, শীলার মধ্যে গুলতেকিনের ভাগ এখন আর স্বীকারই করলো না সমাজ! বাচ্চা যে আসলে বাপের, মায়ের কোন ভাগ নাই—এইটাই আবার প্রতিষ্ঠা করা হলো।

-------------------------

এই বিয়ার মাধ্যমে আসিফ নজরুল এরশাদের তুলনীয় হইয়া উঠলেন; আমাদের ইতিহাসে যে আরেক নজরুল আছেন, যিনি বিয়া এবং প্রেমে বেশ নাম কামাইছিলেন সেই নজরুলের সাথে তুলনীয় হইলেন না আসিফ নজরুল! কেননা সেই নজরুলকে আমাদের সমাজের দরকার মোতাবেক বেশ ছাঁটতে হলো, সেই নজরুলকে জাতীয় কবি বানাতে তাঁর যৌনতা ইতিহাস থেকে বাদ দিতে চাইলো আমাদের সমাজ।

নজরুলের বন্ধু মোতাহার তাঁর স্মৃতিকথা লিখছিলেন মনে পড়ে নজরুলকে নিয়ে; মোতাহার লিখছিলেন যে, কোন একদিন সকালে নজরুলকে উদ্ভ্রান্ত দেখা গেলো, ফজিলাতুন্নেছার বাড়ির দিক থেকে ফিরছিলেন নজরুল; পরে মোতাহারের সাথে ফজিলাতুন্নেছার দেখা হইছিলো স্বর্ণকারের দোকানে; নিজের নেকলেস ঠিক করতে আসছেন ফজিলা; মোতাহার বলছেন যে, নেকলেসটার যেই দশা দেখলেন, বেশ একটা ধ্বস্তাধ্বস্তি ছাড়া ওইভাবে বিধ্বস্ত হইতে পারে না নেকলেসটা। নজরুলের প্রতি প্রায় ধর্ষণের অভিযোগ করছিলেন মোতাহার!

এগুলি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা দরকার আমাদের সমাজের; নজরুল যে জাতীয় কবি। ফলে অন্য কোন নজরুল যদি অপছন্দের যৌনসম্পর্কে যাইয়াও থাকে তাতে কখনোই আগের সেই নজরুলকে মনে করা যাবে না; অন্য কোন অপছন্দের ব্যক্তির সাথে তুলনা করতে হবে।বিয়ার বাইরে প্রেম বা যৌনসম্পর্ক অপছন্দ করে সমাজ, কিন্তু সমাজে আসল আলোড়নটা তৈরি হচ্ছে ঘটনাটা যদি বিয়ে পর্যন্ত যায়।শাওন-হুমায়ুন এবং শীলা-আসিফ দুই ঘটনাতেই দেখা গেলো সেটি। কেন? হুম, ভাবা দরকার। দ্যাখেন, বিয়া যে একটা সম্পত্তি বিষয়ক ঘটনা আসলে! বিয়ার বাইরের যৌনসম্পর্কে শাওনের বাচ্চা হলে সেইটা তো হুমায়ুন আহমেদের সম্পত্তি পাবে না, হুমায়ুন মারা গেলে শাওনও উত্তরাধিকারী হবে না; ওই বাচ্চা হবে জারজ!

হুমায়ুন আহমেদের পুরা সম্পত্তি ভোগ করতে পারবে গুলতেকিন, হুমায়ুনের মা, নুহাশ, শীলা—এরা; বিয়া করলেই ছেলে এবং স্ত্রী হিসাবে উত্তরাধিকার পাবে শাওন এবং বাচ্চা! এমনকি বাচ্চাটা হয়তো হবেই না, অ্যাবর্শান করাতে বাধ্য করবে শাওনের বাপ-মা, শাওন নিজেও করাটা মঙ্গলের বলে ভাবতে পারে; বা অন্য কাউকে বিয়ে করে তাঁকে বাচ্চার বাপ হিসাবে পরিচয় করে দিতে পারে সমাজে। শীলা-আসিফের বিয়াতেও ওনাদের সম্পত্তির আগের হিসাবটা নড়চড় হবে নিশ্চই। ফলে সমাজ আসলে যৌনতা নিয়া সম্পত্তির তুলনায় কম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

যাঁরা ভাবতেন প্রেম বা বিয়ার বাইরের যৌনতার মাধ্যমে সমাজে বিরাট বিপ্লব করে ফেললেন তাঁরা ভাবেন আবার। বরং একটা মোক্ষম বিয়াই সমাজে বৃহত্তর তোলপাড় ঘটাচ্ছে! অথচ বিয়ারে আপনারা ভাবতেন সমাজের কাছে অনুগত হওয়া, নতি স্বীকার করা, প্রতিষ্ঠানের কাছে আত্মসমর্পণ! মণি সিংহ কিংবা তাঁর মতো অতীতের কত কত বেকুব বিপ্লবী বিয়া না করাটারে বিরাট ব্যক্তিগত বিপ্লব ভাবতেন হয়তো, বিয়া করেন নাই তাই; এখনো কত কত বিপ্লবী ভাবেন, আহা! সমাজকে আরো ভালো বোঝেন প্লিজ; মোক্ষম মোক্ষম সব বিয়া করেন সবাই।

২৫ ডিসেম্বর ২০১৩