মুদ্রার দুই পিঠ দেখি চলেন

একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ ফ্রেজটা ইউজ করা ঠিক হচ্ছে কি?

চলেন, বাংলাদেশের এক টাকার মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ নিয়া ভাবি আমরা। ছবিতে দ্যাখেন, একপাশে পরিকল্পিত পরিবার দেখা যাচ্ছে; এইটার নামই যে পরিকল্পিত পরিবার সেইটা ঠিক করার জন্য গণভোট হয় নাই কোন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও পরিকল্পিত পরিবার ভোটাভুটির বিষয় ছিলো না; ১৫০’র বেশি আসনে একজনের বেশি প্রার্থী পাওয়া যায় নাই, সেসব আসনে এই পরিকল্পিত পরিবার ধারনাটারে প্রার্থী করা হলে নির্বাচন নিয়া বিতর্ক আরেকটু কমতো নিশ্চই, অল্প খরচে এই রকম একটা জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মীমাংসাও হইতে পারতো। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নাই।

-------------------------

যা হোক, জনগণের কনসেন্ট ছাড়াই সরকার নির্ধারিত এই পরিকল্পিত পরিবারে দেখা যাচ্ছে চার জন সদস্য; অনুমান করা যেতে পারে যে, দুইপাশের লম্বা দুইজন হইলেন স্বামী-স্ত্রী; স্ত্রীর চাইতে স্বামীকে হালকা একটু লম্বা হইতে হয় এই ধরনের পরিবারে, স্ত্রীর পিছনের দিকে একটা খোঁপা থাকতে হবে; আমরা এও অনুমান করতে পারি, এই খোঁপাটি হবে চুলের, স্ত্রীর নিজের চুলের। এই দুইজনের চারখানা পাঁ আলাদা করে দেখা যাইতেছে; ফলে ধরা যেতে পারে যে, তাঁরা লুঙ্গি এবং শাড়ি পরবেন না, প্যান্ট/পাজামা পরবেন বা ল্যাংটা হবেন– যেইটাই হোক অনুমান করা যাবে না কোনভাবেই। স্ত্রীর শরীরের মাঝখানের অঞ্চলটা একটু পুষ্ট হবে।

দ্বিতীয় বাচ্চাটি হবে ছেলে; মাঝে আরেকটি মেয়ে হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে কিছু পাওয়া যায় না এই ছবিতে। তবে পরিকল্পিত পরিবার যেহেতু, আপনি যদি মাঝখানের মেয়েরে খুনের পরিকল্পনা করেন তাইলে পরিকল্পিত পরিবারের দিকেই আগানো হবে নিশ্চই।

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দিকে চাইয়া থাকবেন, তাদের মাঝখানে একটি করে ছেলে এবং মেয়ে থাকবে, বাচ্চা–তাদেরই বাচ্চা বলে অনুমান করা যাইতে পারে; পরিকল্পিত পরিবারে মেয়েটি বড়ো হতে হবে, মানে প্রথম বাচ্চাটা মেয়ে হবে। নাই হইলে সেই বাচ্চাটা খুন করতে হবে কিনা সেই নির্দেশনা সরকার নির্ধারিত ডেফিনিশনে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় বাচ্চাটি হবে ছেলে; মাঝে আরেকটি মেয়ে হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে কিছু পাওয়া যায় না এই ছবিতে। তবে পরিকল্পিত পরিবার যেহেতু, আপনি যদি মাঝখানের মেয়েরে খুনের পরিকল্পনা করেন তাইলে পরিকল্পিত পরিবারের দিকেই আগানো হবে নিশ্চই।

মেটালে খোদাই করা এই ছবির সাথে কিছু টেক্সটও দেখা যাইতেছে; তাতে খাদ্যের একটা ব্যাপার আছে; পরিকল্পিত পরিবারের সাথে সবার জন্য খাদ্যের একটা যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে। এতে বুঝবেন, দুনিয়ার দুর্ভিক্ষগুলি হবার আসল কারণ হলো পরিবারে পরিকল্পনা না থাকা। আরো দুয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে; এটি যে একটা এক টাকা সেই খবরও দিচ্ছে মুদ্রাটার এই পিঠ। ও আচ্ছা, বাংলাদেশ বলে একটা কান্ট্রির মুদ্রা এটি–এমন একটা অনুমান করাও বৈধ হবে নিশ্চই।

এইবার ওই পিঠটা দেখা যাক। ওপিঠে ইংরাজিতে লেখা আছে–ওয়ান টাকা; মাঝখানে একটি বড়ো শাপলা; চারটা তারা আছে, দুইপাশে দুইটা ধান বা গমের শীষ হয়তো; একটা চাপাতাও আছে মনে হচ্ছে। এইতো! এখন আপনে বলেন, এই মুদ্রাটার দুইটা পিঠরে কি সমান বলাটা ঠিক হবে? এছাড়া কাগজের মুদ্রায় খেয়াল করলে দেখবেন, কেবল দুই পিঠেই নয়, মাঝখানেও একটা লেয়ার আছে, সেইখানে বাঘ বা বঙ্গবন্ধুর ছবি–এই রকম কিছু একটা।

তাইলে দ্যাখেন, দুইটা পিঠ বাদেও মুদ্রার একটা মাঝখান আছে! কিন্তু এতসব একদম গ্রাহ্য না করে আপনি বললেন মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ সমান! আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আসলে একই, এইটা বোঝাইতে আপনি এদেরকে বললেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! আপনি সম্ভবত নিতান্ত আর্থিকভাবে দেখছেন মুদ্রাটারে; ঠিক হচ্ছে কি এইটা– অন্তত আপনি যদি একজন থিংকার হন? বাপ-দাদার ভিটা বলে একটা কথা আছে; আপনে কি বোঝেন না যে, এই কথাটায় ভিটার অর্থমূল্যের বাইরে কিছু একটা ব্যাপার আছে! বা আপনি কি ইমেজকে গুরুত্ব দেবেন না? মানিব্যাগে বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড বা মা বা পোষা টিয়ার ছবি রাখার কনসেপ্টের সাথে কি একদমই পরিচয় নাই আপনার? কিভাবে আপনি একটি পরিকল্পিত পরিবার এবং একটি শাপলার ছবিকে একই মাল বলতে পারেন? তাই বলি কি, এই ফ্রেজটি বাদ দিয়া দেন আপনি প্লিজ।।