রক মনু

মাসুদ খানরে লইয়া মজনু শাহ’র লগে

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ মজনু শাহ’র স্ট্যাটাস:

(https://www.facebook.com/maznu.shah/posts/423163167748240)

-------------------------

ভাষাকে ফাটিয়ে, বিশৃঙ্খল করে দিয়ে, নেমে আসে কবিতা। ভাষার ভিতরে ঘটিয়ে দেওয়া এক তুমুল রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে কবিতা। ভাষার এক শুদ্ধসৎ আরতিকতার ফসল কবিতা। উপমা-উৎপ্রেক্ষায়, রূপকে, প্রতীকে, প্রতিমায় আর ভাষা ও যুক্তির শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক নতুন শৃঙ্খলা, এক অভিনব গোধূলিভাষ্য। এ যেন খোদ অনুভূতিরই এক অবিকৃত সৎ প্রতিচ্ছবি, উপলব্ধিরই এক অকপট আলপনা। কবিতা। পরম মমতায় কবি তাকিয়ে থাকেন তাঁর নবজাত কবিতার দিকে। কবির তখন যুগপৎ শান্তি ও সংশয়। এ-শান্তি সৃজনের, এ-শান্তি গর্ভমোচনের- পরম ও অনির্বচনীয়। এ-সংশয় আধ্যাত্মিক- ‘আমিই কি জন্ম দিলাম এই কবিতার, নাকি তা নাজিল হলো এইমাত্র আমার ভেতর?’

 কবিতাকে তাই অপৌরুষেয় বলে ভ্রম হয়, হতে থাকে, দেশে দেশে, কালে কালে।


কবিতা : মানবজাতির মাতৃভাষা / Masud Khan

—————–

মন্তব্য

১. আমি:

ভাষাকে ফাটিয়ে, বিশৃঙ্খল করে দিয়ে, নেমে আসে কবিতা। ভাষার ভিতরে ঘটিয়ে দেওয়া এক তুমুল রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে কবিতা।/ Masud Khan

ধর্ষকাম। ‘ভাষাকে ফাটিয়ে’–সেক্সুয়াল স্যাডিজম। নর কবি। ভাষার নারীরূপ। কিন্তু কবি নারীরূপ ভাষাকে প্রোপোজ করেন না আদৌ, উত্তেজিত করবার চেষ্টা করেন না, তিনি রেপ করছেন।

এই রেপ-এ ভাষা প্রেগন্যন্ট হইলো, ভাষার বাছুরকে কবি টাইনা বাইরে আনলেন, ভাষার বাছুরকে নিজের বাছুর বললেন, মমতা দিয়া চাইয়া থাকলেন। এমনকি রেপিস্ট পাইলেন গর্ভমোচনের শান্তি।

পরে কবিতাকে ‘অপৌরুষেয়’ বলে ভ্রম হইলো কবির; নিজের রেপরে বিধাতার রেপ বইলা চালাইয়া দিলেন।

এই কবিভাব Maznu Shah নিতে পারেন, আর কোন কোন কবি নিচ্ছেন?

২. মজনু শাহ:

রূপক প্রতীকে ভাবা কোনোকিছুকে, আক্ষরিকভাবে নিলে যে ফ্যাসাদে পড়তে হয়, আপনি মনে হয় তেমন কিছুতে পড়েছেন।

৩. আমি:

এই ফ্যাসাদে পড়তে চাই আমি Maznu Shah, আপনারেও পড়ার দাওয়াত দিলাম। কেননা, আপনের প্রস্তাব ‘রূপক প্রতীকে ভাবা কোনোকিছু’র সঠিক পাঠপদ্ধতি বলে যারে দেখায় পাঠ সেইভাবে আদৌ ঘটে না। লেখাও না। রূপকের ব্যবহার কেবল অন্য বিষয়ে বিবৃতি দেয় না, ঐ ঐ রূপক সম্পর্কেও বিবৃতি দেয়। Masud Khan ভাষাকে ফাটাবার আগে নারীকে ভার্চুয়ালি ফাটাইয়া আসেন। পাঠের সময় আপনে এই ভার্চুয়াল ফাটানোকে না পাঠ করবেন কেন? রূপক টেক্সটের মধ্যেই এই ভার্চুয়াল কর্মপর্ব এমবেডেড থাকে। অনাক্ষরিক পাঠ করবার জন্য অর্ধপাঠ কইরেন না। ইন ফ্যাক্ট, আপনেও (পাঠকমাত্র) পূর্ণ পাঠের মধ্য দিয়াই রূপক বোঝেন, পরে অনাক্ষরিক পাঠের দায়ে মধ্যপর্বকে অগ্রাহ্য করেন মাত্র।

৪. মজনু শাহ

ধর্ষকাম। ‘ভাষাকে ফাটিয়ে’–সেক্সুয়াল স্যাডিজম। নর কবি। ভাষার নারীরূপ। কিন্তু কবি নারীরূপ ভাষাকে প্রোপোজ করেন না আদৌ, উত্তেজিত করবার চেষ্টা করেন না, তিনি রেপ করছেন।

এই রেপ-এ ভাষা প্রেগন্যন্ট হইলো, ভাষার বাছুরকে কবি টাইনা বাইরে আনলেন, ভাষার বাছুরকে নিজের বাছুর বললেন, মমতা দিয়া চাইয়া থাকলেন। এমনকি রেপিস্ট পাইলেন গর্ভমোচনের শান্তি।

পরে কবিতাকে ‘অপৌরুষেয়’ বলে ভ্রম হইলো কবির; নিজের রেপরে বিধাতার রেপ বইলা চালাইয়া দিলেন।> Rezaul Karim

আপনি যেভাবে লেখাটুকু পাঠ করেছেন, সেই পাঠ প্রথমত বিকৃত বলে মনে হয়েছে। কবিরে স্বয়ং এখানে আপনি ভেবে নিচ্ছেন রেপিস্ট হিসেবে, যার দায়, আপনার দৃষ্টিতে, পরে বিধাতার কাঁধে গিয়ে পড়ছে। সত্যি কি তা-ই? ভাষার নারীরূপ কল্পনা করে যা রেপ্‌ড হয়েছে ভাবছেন, তা, সম্ভবত, ভাষার মাতৃরূপ, এখানে।

 

৫. আমি:

‘এই রেপ-এ ভাষা প্রেগন্যন্ট হইলো…’ ভাষার মাতৃরূপ দেখলামই তো। মাসুদ খান কথিত কবি ভাষাকে রেপ করে মাতৃত্ব দিতেছেন (যেনবা, এইটা ভাষার সামর্থ না, কবির ঔরশ মাত্র), কিন্তু সেই ভাষার সন্তান আবার দখল করছেন (পরম মমতায় কবি তাকিয়ে থাকেন তাঁর নবজাত কবিতার দিকে। কবির তখন যুগপৎ শান্তি ও সংশয়। এ-শান্তি সৃজনের, এ-শান্তি গর্ভমোচনের- পরম ও অনির্বচনীয়।/ Masud Khan )। মাতৃত্বের সাথে রেপের বিরোধ নাই, মাকে রেপ করাও পসিবল ঘটনা।

বরং আপনেরে একটা বুদ্ধি দেই; বলেন–মাসুদ খান বলছেন, কবিই ভাষা। ফলে এটি আত্মধর্ষণ। কোন কোন কবি আত্মধর্ষণকে পজিটিভলি রিকগনাইজ করতে পারে, যদিও সেইটা তখনো ধর্ষকাম।

৬. মজনু শাহ:

আমার ঘটে বুদ্ধি যেহেতু কম, সেইজন্য বুদ্ধি দিতে চাইলে কেউ, আগ্রহী হই। কিন্তু বুদ্ধির বদলে যে আপনি পয়জন এনে হাজির করলেন, তার কী করি! যাকে আমি ‘সৃজন’ ভাবতে চাইছি, আপনার ব্যাখ্যায় ‘আত্মধর্ষণ’ দাঁড়াচ্ছে যে বারবার!

পরে এই আলাপ আমার স্ট্যাটাসে চলে; সেখান থেকে:

মজনু শাহ:

আপনি যেভাবে লেখাটুকু পাঠ করেছেন, সেই পাঠ প্রথমত বিকৃত বলে মনে হয়েছে। কবিরে স্বয়ং এখানে আপনি ভেবে নিচ্ছেন রেপিস্ট হিসেবে, যার দায়, আপনার দৃষ্টিতে, পরে বিধাতার কাঁধে গিয়ে পড়ছে। সত্যি কি তা-ই? ভাষার নারীরূপ কল্পনা করে যা রেপ্‌ড হয়েছে ভাবছেন, তা, সম্ভবত, ভাষার মাতৃরূপ, এখানে।Rezaul Karim

September 23, 2012 at 5:52pm · Edited · Like

  • Shafiq Shaheen শুভ্রা, বিশ্লেষণটি দারুণ না, করুণ হইছে। ভাষা রেপড হইছে, এইটা কোন আমোদের কথা না। একজন কবি কাব্যিক ভাষায় তার স্বকীর্তিরে রেপ-এর ফসল বলছে বিধায়- তার ফসল খারাপ কিম্বা নাজায়েজ, এই ধরনের কোন যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা কাব্যে নাই। কারণ, মাসুদ খান কী রূপে কাব্য উৎপাদন করবেন, সেটা তার নিজস্ব পদ্ধতি। কেউ তার পদ্ধতি সমর্থন করলে নিজ দায়িত্বে করবেন, না করলে না করবেন। পাবলিকরে ডাইকা আইনা দরবার করার কিছু নাই। উৎপাদন শেষে কবিতা প্রকাশিত হইলে কবিতা তার কাব্যগুণের ভিত্তিতে পরিচিত/ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই গুণাগুণ বিচারের সাথে এর উৎপাদন পদ্ধতির রীতি/ গুণাগুণের সম্পর্ক নাই। অর্থাৎ মনু কথিত রেপ-এর সম্পর্ক নাই। আর মনু যে প্রশ্নটা তুলছে, এইটা মানবের দৈহিক পুনরুৎপাদন কর্মের নীতির মামলা। এই রেপের মামলা আলাদা। কাব্যের ভাষা উৎপাদন করতে ভাষার সহিত সবধরনের কামলীলা জায়েজ। কবিতা উৎপাদনে কবি ভাষা লইয়া স্বকাম, স্বমেহন, ধর্ষকাম, মর্ষকাম, ইত্যাদি ইত্যাদি সকল ধরনের কাম চালাইতে পারেন। এই কামযজ্ঞে কবিকে কোন ধরনের অবৈধ যৌনতার দায়ে অভিযুক্ত করা যাইবে না।September 23, 2012 at 7:40pm · Like · 1
  • Ahmed Shamim আমার পাঠটা একটু অন্যরকম। ফাটিয়ে বিশৃংখল করে নেমে আসার ঘটনাটা আমার বিবেচনায় প্রসবঘটনা। এখানে “ফাটিয়ে” প্রসবক্রিয়ার ক্রিয়াবিশেষণ। রতিক্রিয়া ক্রিয়ার ক্রিয়াবিশেষণ হল “তুমুল”। “তুমুল রতিক্রিয়া” যে কামকে বিশেষায়িত করে সে কামের ভাব ধর্ষণ থেকে পাওয়া দুষ্কর। প্রস্তাব করা, উত্তেজিত করার মাধ্যমে তুমুল রতিক্রিয়ায় যাওয়াটা কামসূত্র। মাসুদ খানের কবিতায় সে সূত্রকে সম্মান করা হয়েছে বৈ কি: “আরতিকতা” কথাটির মধ্যে নিহিত আছে পূর্বরাগ- প্রস্তাব এবং উত্তেজন। এরপর আসা যাক “নর কবি”র কথায়। এখানে আমার পাঠ একই হলেও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। এক পর্যায়ে প্রসূতির প্রতিস্থাপন ঘটে। ভাষা কবিতাকে জন্ম দিতে না দিতেই কবি নিজের মধ্যে মাতৃত্ব বোধ করেন। তার “মমতায়” মাতৃত্বের ছাপ আছে, তার “গর্ভমোচনের শান্তিতে” মাতৃত্বের ধাপ আছে, এবং তার “… নাকি তা নাজিল হলো এইমাত্র আমার ভেতর?”- এই শরীরোর্দ্ধ সংশয়ের ভিতরে মাতৃত্বের ভাব আছে। তার সংশয়- কবিতা কার সন্তান, তার না ভাষার? তার ভ্রম- কবিতা অবশেষে তারই। লোকোত্তর পাঠক অবশ্য সে সংশয় এবং ভ্রম থেকে মুক্ত, ওর বোধে আছে দুই মায়ের গর্ভে এক সন্তান ধারণের ধারণা।September 23, 2012 at 10:11pm · Edited · Like · 4
  • Sohel Hasan Galib পারফেক্ট রিডিং Shamim ভাই। এত সুন্দরভাবে বললেন আপনি, যেন আমারই মনের কথা। হাইলি কনভিন্সড আমি। আপনারে সালাম।September 23, 2012 at 10:17pm · Like · 1
  • Ahmed Shamim Sohel Hasan Galib শোধবোধ। আমার মনের কবিতাগুলো যেমন তুমি সুন্দর লিখে ফেল, তেমনি তোমার মনের কথাগুলো আমি বলে দিলাম।September 23, 2012 at 10:42pm · Like · 2
  • Maznu Shah Rezaul Karimমাসুদ খানের যে-প্রবন্ধ থেকে পোস্টটা দিয়েছিলাম,পূর্ববর্তী কথাগুলো ছিল এমন, হয়ত আপনার ভাবনার সহায়ক হবে … যা হোক, উচ্চারিত বা লিখিত শব্দের সঙ্গে যদি উদ্দিষ্ট বস্তু বা বিষয়ের থাকত সরাসরি মিল, ধ্বনিগত কিংবা চিত্রগত, তাহলে হয়তো কবির পক্ষে তবু কিছুটা সহজ হতো অনুভূতিকে ভাষায় রূপান্তরের কাজটি। বাস্তবে তা হয়নি। আর এখানেই কবিকে মুখোমুখি হতে হয় এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জের। কবি ঘটাতে চান তার অনুভূতির অবিকৃত সৎ প্রকাশ, কিন্তু বিদ্যমান শব্দ তথা ভাষাব্যবস্থা মোটেই তার অনুকূল নয়। অথচ এই শব্দই কবির একমাত্র অবলম্বন, এ ভিন্ন অন্য কোনো সহায় নাই তাঁর। অপরাপর শিল্পমাধ্যমের মতো তাঁর নাই কোনো দৃশ্য, সংগীত, আলো, আলো-আঁধারি, রং, রেখা, পাত্রপাত্রী, কুশীলব। একমাত্র শব্দই তাঁর অবলম্বন, শব্দই সহায়। সেই শব্দের আচরণও ফের বিমাতাসুলভ। এরকম এক নিঃসহায় ও নিঃসঙ্গ অবস্থার মধ্যেই কবিকে গ্রহণ করতে হয় শব্দ ও ভাষার ছুঁড়ে দেওয়া সেই চ্যালেঞ্জ। তিনি তাঁর অনুভূতিমালাকে যতটা সম্ভব সৎভাবে ভাষায় রূপান্তর ঘটানোর প্রয়াস পান। এই প্রয়াস আত্যন্তিক। এই প্রয়াস চলে চেতন ও অবচেতনের এক অপরূপ গোধূলিলগ্নে, এক অভূতপূর্ব ঘোরের ভেতর, এক অনির্বচনীয় টানাপড়েন ও দোলাচলের মধ্য দিয়ে। অনুভূতিকে ভাষায় রূপান্তরের এই কৃত্যে কবি কখনো সফল হন, কখনো-বা ব্যর্থ। কিন্তু ব্যর্থতাও ফুটে ওঠে মহৎ ও অপরূপ হয়ে। কবিতার শরীর জুড়ে অলক্ষেই লিপ্ত হয়ে থাকে কবির আন্তরিক রক্তক্ষরণের চিহ্ন। ভাষার এই নিদারুণ কপটাচার সত্ত্বেও কবিকে ওই ভাষার মাধ্যমেই ঘটাতে হয় তাঁর অনুভূতির প্রতিফলন, ভাষার মাধ্যমেই আকার দিতে হয় নিরাকার অনুভূতিকে, মূর্ত করে তুলতে হয় বিমূর্ত উপলব্ধিকে। আর এটা করতে গিয়ে তাই অনিবার্যভাবেই ভাষার শরীর যায় ফেটে ফেটে। চিড় ধরে ভাষিক শৃঙ্খলায়। লঙ্ঘিত হয় ব্যকরণ, ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক যুক্তি ও পরম্পরা। বস্তুত যে কোনো সাধারণ একটি কবিতায়ও আমরা ভেঙে পড়তে দেখি ভাষার ওই প্রথাগত শৃঙ্খলা। … এক অর্থে কবিতার জন্ম ভাষারও জন্মের আগে। সেই অর্থে কবিতা মানুষের সমান বয়সী। বলা হয়, শ্রমই আদি মানুষকে ক্রমে ক্রমে মানুষ বানিয়েছে। পরিশ্রম করার সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের ঝোঁক বা ঘাতের সঙ্গে উচ্চারিত হয় কিছু ধ্বনি। সেই ধ্বনিগুচ্ছ যখন উচ্চারিত হয় নির্দিষ্ট পর্যায়বিরতিতে, তখন তৈরি হয় এক ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিতরঙ্গ। দেখা গেল, সেই ধ্বনিতরঙ্গের মাজেজা এমনই যে, তা মানুষকে দোলা দিতে পারে, করতে পারে উদ্দীপিত। যৌথশ্রমের সময় প্রয়োজন হয় ঐক্য ও একাত্মতার, দরকার হয় উদ্দীপকের। সেই উদ্দীপকের কাজ করতে থাকল ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিপুঞ্জের সাম্য, প্রতিসাম্য ও পর্যায়বিরতি। যেখানেই যে-কাজেই মানুষের প্রয়োজন হতো যৌথশ্রমের, যৌথশক্তির, সেখানেই সেই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিতরঙ্গ- উদ্যম ও উদ্দীপনার জন্য, ঐক্য ও একাত্মতার জন্য, স্পিরিট ও ইমপালসের জন্য। দাঁড় টানা কিংবা দল বেঁধে ভারি জিনিশ টানার সময় যে সমস্বর ‘হেইয়ো…হেইয়ো…’, কিংবা বেহারাদের যে ‘উহুম্না…উহুম্না…’ এইসব ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিতরঙ্গই কবিতার আদি রূপ, বীজাকার। কবিতার প্রোটোটাইপ।September 23, 2012 at 11:40pm · Edited · Like · 1
  • Rezaul Karim আপনার পাঠে কতক কনভিন্সিং আসপেক্ট আছে Ahmed Shamim ।তবে,

    ‘আমিই কি জন্ম দিলাম এই কবিতার, নাকি তা নাজিল হলো এইমাত্র আমার ভেতর?’ এখানে কবিতার জন্মে ভাষার অংশীদারিত্ব নাই আর। ‘নাজিল’ দিয়া বিধাতারে টাইনা আনছেন উনি–এতে কবি নাই হইয়া গেলেন না প্রথমে, বরং কবিই বিধাতা হইয়া উঠলেন। পরে উনি একেশ্বরবাদী হইলেন; ‘কবিতাকে তাই অপৌরুষেয় বলে ভ্রম হয়, হতে থাকে, দেশে দেশে, কালে কালে।’—কবিতা কবিরে ছাড়াইয়া কুড়িগ্রামের সিলিকন আকাশের ফুটা দিয়া উইড়া যাইতেছে, একজন বিধাতা ‘দেশে দেশে, কালে কালে’ কবিতা লিখে যাচ্ছেন অসংখ্য কবির মধ্য দিয়া—কবিতার মহা ঐক্য তৈরি হইতেছে। কবি আর স্রষ্টা/বিধাতা থাকলেন না, বরং কবির ভিতর বিধাতার অবতরণ ঘটাইলেন–স্রষ্টা হবার চাইতে নবী হওয়া বাইছা নিলেন উনি। এইটা উদ্ধৃতাংশের পরের দিকের নবীতত্ত্ব, কিছু ছাড় দিয়া আলগাভাবে কতকটা সূফিতত্ত্ব আছে বলা যাইতে পারে। কিন্তু উনি ‘ভ্রম’-এ পতিত হবার আগে কবিরে দিয়া যা করাইলেন তা বস্তুপৃথিবীর ঘটনা–নারী-নর রূপ ভাষা-কবির ঘটনা। ভাষাকে ফাটানো বা বিশৃঙ্খল করে দেওয়া কবির তৎপরতা, কবিতা তো কবির মধ্যে, সেইটারে স্ফুট করবার জন্য তিনি ভাষাকে ফাটাচ্ছেন, বিশৃঙ্খল করছেন। নর কবি কেবল কবিতাশুক্র ভাষার জরায়ুতে ঢাইলা দেন নাই, যে, বাকি কর্ম ভাষা নিজে নিজে করলো। ফলে ‘দুই মা’ নাই। ভাষাকে ফাটাচ্ছেন, বিশৃঙ্খল করছেন—এইটা কবির ‘তুমুল রতিক্রিয়া’, রত হওয়া; এবং একপাক্ষিক, ভাষার ক্রিয়া নাই এইখানে—ভাষা নিরেটই কবির স্বেচ্ছাচারী লীলাক্ষেত্র; আপনি ভাষাকে যেইভাবে একজন সত্তা হিসাবে দেখছেন—এইটা মাসুদ খানের উপর আপনের পোস্ট-স্ট্রাকচারালিজম আরোপ, মাসুদ খানের বাক্যগুচ্ছে এইটা নাই আদৌ; এই দেখাদেখির মধ্য দিয়া উনি নারীরেও দেখছেন—নিষ্ক্রিয় প্রকৃতি হিসাবেই; ফলে এইটা সেক্সিস্ট। মাসুদ খানের নারী যেমন কবি হইতে পারে না, তেমনি মানবজন্মেও মাসুদ খানের নারীর ভাগ নাই; কবিতা নর কবির, বাচ্চা নর মানবের। মুসলমানের ধর্মগ্রন্থে আছে—“তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র; তোমরা যখন যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো।” মাসুদ খান এই বাণীর প্রচারক হইছেন। এদিকে মাসুদ খানের নারীর কোন সত্তা না থাকায়, তার কামও নাই; সত্তা আর কাম না থাকায় সে আর রত হইতে পারে না, কবিই কেবল রত হয়; রতি আবশ্যিকভাবে দ্বিপাক্ষিক না, অন্তত রেপিস্টের কাছে না; এদিকে নারীর সত্তা না থাকায় মাসুদ খানের নারী আসলে লাশ, উনার কবির ভাষা তখন নারী লাশের রূপক হইয়া ওঠে, সে লাশে রত হয়, লাশরে রেপ করে। কে জানে, বাধাহীন রেপ করবার জন্যই হয়তো লাশ ভাবে; পুকুরের গায়ে গর্ত করে রত হইলে তারে তো আর রেপ বলা কঠিন।September 24, 2012 at 3:50pm · Edited · Like · 2

Shafiq Shaheen “তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র; তোমরা যখন যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো।” / Rezaul Karim

রেফারেন্সটা ভুল হইল। সঠিকটা এইরূপ- “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শষ্যক্ষেত্র স্বরূপ, উহাকে উত্তমরূপে কর্ষণ করিও।“

উল্লেখিত দুইটি বাক্যে ‘উত্তমরূপে কর্ষণ করিও’ আর ‘যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো’- এই দুয়ের পার্থক্য বেশুমার। মাসুদ খানের লেখাকে যেইরূপ মুক্ত পঠনের সুযোগ আছে, কোরানিক রেফারেন্স-এর ক্ষেত্রে সেইরূপ মুক্ত পঠনের সুযোগ নাই।

“ভাষার এক শুদ্ধসৎ আরতিকতার ফসল কবিতা।“ – এই বাক্য ‘রেপ’ পারমিট করে না। রেপ তো ‘শুদ্ধসৎ আরতিকতা’ না। শুরুতে ‘ফাটাইয়া বিশৃঙ্খল করা’র কথা আসলেও সেটি প্রথম কর্ম না। অর্থাৎ শৃঙ্গার রহিত বলাৎকার দিয়ে এই প্রক্রিয়ার শুরু না। এটি পুরো প্রক্রিয়াটির ধারা। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় ‘নেমে আসে কবিতা’। “ঘটিয়ে দেওয়া এক তুমুল রতিক্রিয়ার” মাঝেও ‘রেপ’ নাই। কবি অনুঘটক হইয়া ভাষার ভিতরে ‘তুমুল রতিক্রিয়া’ ‘ঘটাইছেন’। এই ‘ঘটাইছেন’-এ আইসা আপনার আপত্তি। একটি শুদ্ধরতিও ঘটানোর ব্যাপার। অর্থাৎ ঘটানোর জন্য যে অনুঘটক, মানে ফোরপ্লে তা কবিই করেন। তারপর ইচ্ছামতো কল্পনায় অবগাহি তুমুল রতি ক্ষান্ত হইলে কবি তার প্রসূনটি অবলোকন করেন। সংশয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেন – ‘আমিই কি জন্ম দিলাম এই কবিতার, নাকি তা নাজিল হলো এইমাত্র আমার ভেতর’ এবং কবি বলেন, “এই সংশয় আধ্যাত্মিক।“ – এই তো মোটে?

এর মধ্যে মন্দ বা ভ্যাজাল কী আছে? বরং ‘মুক্ত পঠনে’র চেষ্টায় ইহাতে আরও সংহত পাঠ প্রতিভাত হইতেছে।

September 24, 2012 at 6:29pm · Like · 1

  • Shafiq Shaheen আমার দেয়া রেফারেন্সটা আমি পরে দিব। কারণ- এই তাফসীরের প্রতি সন্দেহ পোষণ করতেছি। এখন জরুরি কাজে যাওয়া দরকার। যদিও রেফারেন্স না দেওয়া পর্যন্ত একটু রিস্ক রইয়া গেলো। আয়াতটা বহুল ব্যাবহৃত আর বিতর্কিত। হয়তো আপনিও জানেন। তাই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আপাতত আসি।September 24, 2012 at 6:58pm · Like · 1
  • Ahmed Shamim দেরির জন্য দুঃখিত। তবে’র পর থেকে শুরু করা যাক। আমারও কথা ছিল দুই মায়ের স্বীকৃতি মাসুদ খানের বাক্যগুচ্ছে নাই, পাঠকের অবলোকনে আছে। কিন্তু তিনি ভাষাকে একটি সত্তা হিসেবে নেন নাই এ কথা বলব না। উদ্ধৃতিটুকুতে ভাষার অংশগ্রহণ ছিল ফেটে ফসল দেয়া পর্যন্ত, এ বাবদে সত্তার আত্মটুকু পাওয়া; পরে (মজনু শা’র সংযুক্তি দ্রষ্টব্য) দেখা যাবে, এর আগে কবির যখন আরতি করছিল তখন তার সঙ্গে ভাষা কপটতা করেছে, শব্দের মাধ্যমে ‘বিমাতাসুলভ’ (আপত্তিকর পদ) আচরণ করছে, এ যেন ভাষার “হর্াড টু গেট গেইম।” তারপর কবির শুদ্ধসৎ পূর্বরাগ তাকে এবং ভাষাকে তুমুল রতিক্রিয়ায় নিয়ে যায়। এসবে ভাষার কর্তাসত্তাও পাওয়া গেল। তাই বাক্যগুচ্ছে ভাষাকে সত্তা হিসেবে দেখাটা আমার (আ)রোপণ নয় আহরণ।এখন মাসুদ খান নর কবি, শুধু নর কবি বলে নয়, বিসমকামী নর কবি বলে তার ভাষায় ভাষা হয়ে যায় নারী। তবে হ্যঁা, সেই নারীর সত্তার যে পরিচয় তুলে ধরেছেন তাতে খামতি আছে। যে নারীর পাশে নারী হয়ে শুয়ে কবি মাতৃত্ব পেল কবিতার, সে নারীর ক্ষমতা সম্পর্কে কবির বিশেষায়িত জ্ঞান থাকলেও সার্বিক জ্ঞানের অভাব আছে। ফলে, সে অন্য এক সার্বিকের ধারণা আমদানি করে; সন্দেহ করে, সেই সার্বিক তার ভেতরে এই কবিতা নাজিল করল কি না। পরে ওটাকে ভ্রম বলায় কবিই কবিতার জন্ম দিয়েছে এই ধারণা পোক্ত হয়। এতদবিচারে আমি বলব, মাসুদ খানের কথায় কবি ও ভাষা ঠিকই দ্বিপাক্ষিক রতিকলায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু কবিতার জন্মের পর, মাসুদ খানের কবি সৃষ্টির রূপে আত্মহারা হয়ে প্রথমে নিজে কী করে এই সুন্দর সৃষ্টি করল সে বিষয়ে সন্দেহ করে। সন্দেহ করাই স্বাভাবিক, সেতো একা কখনই তা পারবে না। আবার এ দিকে সে ভাষার ক্ষমতার সার্বিকতাও দেখছে না। তাই সে উটকো এক সৃষ্টিকর্তার কবিতা নাজিলের কথা ভেবে সৃষ্টির ব্যাখ্যা দিতে চাচ্ছে। তবে মাসুদ খান সেটাকে ভ্রম বলে বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তখনো পরিষ্কার করেন নাই, কে বা কারা এই সত্তা(সমূহ) যে বা যারা এই কবিতা সৃষ্টিতে তার সঙ্গে অংশ নিল। এখন মাসুদ খান ভাষাকে অপৌরুষেয় ঠাহর করতে পারলে এই আপনার (দুই অর্থেই) জালে আটকা পড়াটা এড়াতে পারত।সেই সুযোগ তার ছিল। কারণ, ভাষার সার্বিক ব্যাকরণ অপৌরষেয়, জিনগত পাওয়া। কিন্তু উনি প্রথাগত ব্যাকরণ বৈরি আচরণে বিরক্ত হয়ে বলে ফেললেন “এক অর্থে কবিতার জন্ম ভাষারও জন্মের আগে। সেই অর্থে কবিতা মানুষের সমান বয়সী।” আমরা কিন্তু জানি না উনি কোন মানুষের কথা বলছেন‍‍- কথা বলা মানুষ, না কি মানুষের পূর্বসূরী। পূর্বসূরী হলে কথা নাই, কথা বলা মানুষ হলে দুইখান কথা আছে।এখানে Maznu Shah ’র ইনপুট আশা করি। প্রতি-

    Rezaul KarimSeptember 26, 2012 at 8:55pm · Edited · Like · 1

————–

প্রাসঙ্গিক আলোচনা এই পর্যন্ত।