নতুন রাজনৈতিক দল হইবেন যেমনে

১.

১৯৮৪ সালে ইন্ডিয়ার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সিট পাইছিলো ৩টা; ১৯৯৮ সালে পাইলো ৩০৩ টা। কেমনে? এক কথায় বললে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা।  ১৯৮৪ থেকে ১৯৯২-এর ঘটনাবলী আসলে রাজনৈতিক দল তৈরি হবার ইতিহাস। ৯২ চূড়ান্ত পর্ব। তার আগে চূড়ান্ত পর্বের দিকে যাইতে থাকাটা খেয়াল করা দরকার, বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক দল বানাইতে চান তাদের জন্য।

-------------------------

“বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির বানাইতে হবে; কারণ, ওইটা রামের জন্মভূমি এবং ওইখানে আগে একটা মন্দির আছিলো।”—এই ইস্যুতে ‘রথ যাত্রা’ করতে থাকে বিজেপি। ভারতীয় হিন্দুদের সাথে সহজেই কানেক্টেট হইতে পারে বিজেপি। ইস্যুটা সারা দেশের হিন্দুদের মাঝে চৈতন্যের যোগাযোগ ঘটাইয়া দেয়। এই দাবিতে সারা দেশে নেটওয়ার্ক তৈরি হতে থাকে। মনে রাখা দরকার এইটা রাম মন্দিরের নেটওয়ার্ক, বিজেপির না। কিন্তু, এই নেটওয়ার্ক নিজেদের রাজনৈতিক দল দেখতে পায় বিজেপিরে; তা বিপরীতে নেটওয়ার্কটারে বিজেপির নেটওয়ার্কে পরিণত করে।

কর্ম পদ্ধতির মডেল দিয়া বাণিজ্যিক সিনেমা বানান। দেইখেন যাতে নিতান্ত শ্লোগান না হইয়া যায়। প্রেম, সেক্সি নাচ, গান রাইখেন। নাচে বুক-পাছা-পেশির মুদ্রা রাইখেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের নাচের মতো খালি হাত-আর চোখ নাচাইয়েন না। হিন্দি আইটেম সংরে নকল করেন। ভুয়া অশ্লীলতার চিন্তারে মনে জায়গা দিয়েন না। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সেক্স পছন্দ করে, এইটা দিয়াই সবচে এফেক্টিভ যোগাযোগ করা যায়।

বাংলাদেশে এই রকম একটা নেটওয়ার্ক হয় হয় দশায় আছি আমরা। আমাদের সৌভাগ্য যে, ধর্মের মতো একটা কমন পাবলিক সেন্টিমেন্ট বাদেই এই নেটওয়ার্ক হইতে পারছে, বিজেপি মডেলে এইখানে কোন মন্দির ভাঙা নিয়া আন্দোলন হইতেছে না।

‘যুদ্ধাপরাধ’ কঠিন শব্দ; এর চাইতে হয়তো ‘যুদ্ধপাপ’ পাবলিক ভালো বুঝতো। কিন্তু গত চার বছরে ‘ডিজিটাল’ শব্দের মতোই ‘যুদ্ধাপরাধ’ও বাংলাদেশের মানুষ বুইঝা ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা যে অর্থে বলেন, সেই অর্থে হয় নাই হয়তো, কিন্তু ব্যাপক সামাজিক মানুষ যেই অর্থে শব্দরে বোঝেন সেইটাই ভাষার প্রধান অর্থ। ভাষায় ভুল-শুদ্ধ নাই।

শব্দটা পরিচিত করায় শেখ হাসিনার বিরাট অবদান আছে। দেশে এই শব্দ না চেনা মানুষের মধ্যে শেখ হাসিনার একটা বক্তৃতা যেই পরিমাণ পরিচিতি দেয় তা তাবৎ ‘অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট’ মিলেও পারবেন না। বিএনপির যাবতীয় বিরোধিতার পরেও এই শব্দ খালেদা জিয়া কোন জনসভায় একবার উল্লেখ করলেও ওনার অবদান স্বীকার করতে হবে। এর পরে টিভি। টিভি মিডিয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার আর ডকুমেন্টারির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষরে অর্থ বুঝাইয়া দিছে। যারা আগে থেকেই শব্দটা জানতেন তাদের কাছেও অর্থটা আরো তীব্র হইয়া উঠছে।

এইভাবেই দেশের মানুষের মনে মনে বা চেতনায় নেটওয়ার্কটা তৈরি হইছে গত চার/পাঁচ বছরে। নেটওয়ার্কটা এখন মাঠে নামছে সশরীরে। বিদেশী শাখাও তৈরি হচ্ছে এই নেটওয়ার্কের। এইটা এখন বড়ো একটা রাজনৈতিক দল বানাইতে সক্ষম এখন। বাবরি মসজিদের তুলনায় কাদের মোল্লা খুবই পুচকে; তাছাড়া ওইখানে রাম মন্দির বানাইতে হবে বইলা প্রজেক্টটা বেশ লম্বা, এইখানে ফাঁসির পরে তো শেষ। বলা যায়, এই নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক দলে পরিণত হবার জন্য একটা ‘বাবরি মসজিদ’ দরকার। এইটা সত্যি সত্যি নাই। এইটাই একমাত্র সমস্যা। এই অভাব অবশ্য জামাত কিছুটা পূরণ করতে পারে। কিন্তু অল্পই। ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচে বড়ো প্রাইভেট ব্যাংক—লাখ লাখ পরিবার এই ব্যাংকের গ্রাহক; এরা সবাই জামাত করে না। ইসলামী ব্যাংককে আক্রমণ করলে এই আন্দোলন সমর্থন হারানো শুরু করবে। জামাতের কতগুলি পাবলিক সার্ভিস আছে। যেমন, অ্যাম্বুলেন্স। এগুলা পাবলিকের দরকার। জামাত বিরোধী কোন গোষ্ঠী এই সার্ভিসগুলির বিকল্প দেয় নাই। বিকল্প তৈরিতে বরং মনোযোগ দেওয়া যায় আপাতত।

২.

এই নেটওয়ার্কটারে রাজনৈতিক দলে কনভার্ট করার জন্য যা যা করা দরকার—সেইটা নিয়া আমার কিছু প্রস্তাব আছে।

প্রথমেই প্রতিটা লোকাল সেন্টারের সাথে যোগাযোগ হওয়া দরকার। যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করাটা কঠিন। কারো প্রধান হইতে থাকাই কিছু লোক খসাইয়া দেয়। অপছন্দ নিয়াও লোকে থাকবে—এইটা নিশ্চিত করতে পারে কেবল গণতন্ত্র। সাধারণ এবং খোলা নির্বাচনই অন্তঃবিরোধ মোকাবেলার রাস্তা; গণতন্ত্রই দলের ভিতরের বিরোধীদের কনসেন্ট আদায় করতে পারে। প্রতিটা লোকাল সেন্টারে তিনদিনের কমিটি করতে হবে প্রথমে। নির্বাচনের মাধ্যমে। মোবাইল এসএমএস দিয়াও নির্বাচন করা যায়।

এখনি ফাঁসি আদায় করতে পারাটা মুভমেন্টের সাফল্য হবে ঠিকই কিন্তু রাজনৈতিক দল তৈরি হতে পারবে না তাতে। এই নেটওয়ার্ক রেসপন্ড করবে সেই রকম পরবর্তী মুভমেন্ট দরকার হবে তখন। আশা করা যায়, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটা রাখবে। ততদিন মিডিয়াও ইস্যুটারে লাইভ রাখতে থাকবে। এতে রাজনৈতিক দল তৈরি হতে সুবিধা হবে। হবু রাজনৈতিক দলের কাজ কইরা দেবে আওয়ামী লীগ এবং মিডিয়া—বিনা পয়সায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই ইস্যু দীর্ঘায়িত কইরা ফায়দা নিচ্ছে—এই রকম কথা বার্তা বলতে হবে বেশি বেশি। এতে আওয়ামী লীগ বেশি লাভ করতে পারবে না। হবু রাজনৈতিক দলের ভয়েস ডিসটিংক্ট হইয়া উঠবে তাতে।

নতুন রাজনৈতিক দল হবার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে পয়েন্ট অব ডিপারচার পরিষ্কার রাখতে হবে।

বিএনপি আর আওয়ামী লীগ থেকে দূরে যাওয়াটা খুবই সোজা। যুদ্ধাপরাধ নিয়া কড়া অবস্থান তো আছেই; এইটা বিএনপি থেকে বহু দূরেই রাখে। আরেকটা পাবলিক কনসার্ন সামনে আনতে হবে যেইটা আওয়ামী লীগ থেকে ভিন্নতা একদম পরিষ্কার কইরা দেবে। সবচে কার্যকর হবে বিএসএফ ইস্যু। র‍্যাবও হত্যা করে; কিন্তু র‍্যাবের হত্যায় ব্যাপক মানুষের সমর্থন আছে; ফলে র‍্যাবের বিরুদ্ধে খাড়াইয়া রাজনৈতিক সুবিধা করা যাবে না।

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কর্মসূচী দিতে হবে। সবচে এফেক্টিভ হবে কোন একদিন সীমান্তের প্রতিটা বিএসএফ পয়েন্টের বরাবর বাংলাদেশ ভূখণ্ডে একযোগে খাড়াইয়া থাকা; প্লাকার্ড রাখতে হবে তিন ভাষায়—ইংরাজি, হিন্দি, বাংলা। প্লাকার্ডে লেখা থাকবে,

বাংলায়:

“আমাদের গুলি করো ইন্ডিয়া;

গুলির খরচ দেবে হাসিনা”

ইংরাজিতে:

“Shoot us, India;

Hasina will pay the price for bullets.”

হিন্দিতে:

“মুঝপে গুলি চালাও,

গুলি কা খরচা দেগা হাসিনা।”

বামদের থেকে দূরে প্রমাণ করার জন্য ভালো ইস্যু হইলো কর্পোরেট। দ্যাখেন, ফোন কোম্পানী আর প্রাইভেট ব্যাংক কত মানুষরে আর্থিকভাবে ভালো রাখছে। কর্পোরেটরে মাইনা নেন। কর্পোরেট এমপ্লয়িরা কর্পোরেটের কাছে আর কী চায়—সেই দিকে খেয়াল করেন। কর্পোরেটের কাছে সেইগুলা চাইতে থাকেন। কর্পোরেটগুলি দেশের পরিবেশ বা কৃষির যেই ক্ষতি করে সেইজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিরে ধরেন। এই ব্যাপারে শিবিরের কাছে শেখেন; শিবির পুলিশ আক্রমণ করছে; বামেরা এশিয়া এনার্জির সিইও’রে ধরতে যায়; হাস্যকর। ওদের উচিত এশিয়া এনার্জি যেই প্রতিষ্ঠানে হোয়াইট লিস্টেট সেইটারে আক্রমণ করা।

সমস্যা হবে ফান্ডিং নিয়া। বা নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা। ফ্রি-ল্যান্সার আর প্রবাসীদের হাতে টাকা আছে; এনারা অনলাইনেও অ্যাক্টিভ বেশি। ওনাদের টানার চেষ্টা করেন। ওনাদের নেতা হইতে দেন। প্রবাসীদের রাষ্ট্রদূত বানাবার লোভ দেখান।

এর বাইরে মাল্টিন্যাশনাল কিছু ব্রান্ডের কাছ থেকে কামাই করতে পারেন। ধরেন, স্যামসাং আর সিম্ফোনি নোকিয়ারে মার্কেট থেকে উঠাইয়া দিছে। নোকিয়ার কাছ থেকে টাকা খান। স্যামসাং বিরোধী লেখালেখি/বলাবলি করতে থাকেন অনলাইনে, মিডিয়ার যেখানেই পারেন। বাংলাদেশের মার্কেটে ঢুকতে চায় এই রকম ব্রান্ড খোঁজেন। সহি চ্যানেল ধরতে পারলে কোটি কোটি টাকার ফান্ডিং পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের ধনী মানুষের বেশি বয়সে পোলা মাইয়া হয় প্রায়ই। এরা মইরা গিয়া পোলা-মাইয়ারে ধনী বানাইয়া দেয়। এদের লগে বন্ধুত্ব বা প্রেম করেন, বিয়া করেন। দেশে লীগ, বিএনপি বা জামাতের বাইরে কিছু ব্যবসায়িক গ্রুপ আছে; এদের কাছে চাঁদা পাওয়া যাইতে পারে। এদের পোলা-মাইয়ারে পোস্ট দেন ভালো। পার্টি সিকিওরড হবে। টাকা ছাড়া পার্টি থাকবে না। কর্মীরা যাতে কামাই করতে পারে—সেইদিকে নজর দেন। ডনর এজেন্সি/এনজিও’র প্রজেক্ট, টেন্ডার পাবার ব্যবস্থা কইরা দেন, চ্যানেল বাইর করেন।

রাজনীতি দাঁড় করাবার আরেকটা ভালো সেক্টর গার্মেন্টস। একেক দিন একেকটা ফ্যাক্টরিতে যান কর্মসূচি দিয়া। আগুনের জন্য ব্যবস্থা দেখতে চান। এতে টাকা খাইয়া সার্টিফিকেট দেওয়া সরকারি কর্মচারিরা ধরা খাইতে থাকবে। গার্মেন্টসের উপর চাপ বাড়াবার জন্য গরীব মেয়েদের কাজের নতুন জায়গা বানান। কর্পোরেট এমপ্লয়িরা ছেলে-মেয়েদের জন্য ভালো বেতনে গভর্নেস রাখতে রাজি হবে। এগুলি প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির মতোই যাতে হইতে পারে সেই ব্যবস্থা করেন। ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করেন। এইগুলারে সেবামূলকভাবে কইরেন না, ব্যবসা দাঁড় করান। ট্রেনিং পাওয়া মেয়েদের সাথে চুক্তি করেন যে তাঁরা চাকরির বেতন থেকে লোন (ট্রেনিং ফি) শোধ করবে। এজন্য খরচ আর আয়ের এক বছরের একটা সাইকের তৈরি করতে হবে। ড্রাইভিং মেয়েদের জন্য ভালো পেশা হইতে পারে। এইটারে ঘিরে ব্যবসা দাঁড় করান। প্রাইভেট কার, এনজিও’র গাড়িতে এই মেয়েরা সহজে চাকরি পাবে। ভিআইপি রোডে রিকশার জন্য লেন রাখার ইস্যু তোলেন। এগুলির পক্ষে লেখালেখি, টক শো, সামাজিক প্রচার চালাইতে থাকেন। টক শো নিয়া মশকরা কইরেন না; এইগুলা সমাজে ভালো কাজ করে, মানুষ দ্যাখে।

কর্ম পদ্ধতির মডেল দিয়া বাণিজ্যিক সিনেমা বানান। দেইখেন যাতে নিতান্ত শ্লোগান না হইয়া যায়। প্রেম, সেক্সি নাচ, গান রাইখেন। নাচে বুক-পাছা-পেশির মুদ্রা রাইখেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের নাচের মতো খালি হাত-আর চোখ নাচাইয়েন না। হিন্দি আইটেম সংরে নকল করেন। ভুয়া অশ্লীলতার চিন্তারে মনে জায়গা দিয়েন না। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সেক্স পছন্দ করে, এইটা দিয়াই সবচে এফেক্টিভ যোগাযোগ করা যায়।

৩.

থিয়োরি ভালো লাগে আমার। মাঝে মাঝেই থিয়োরি বানাই। এমনই এক থিয়োরি বানাইছি শেখ মুজিবরে নিয়া। তো আমার থিয়োরিটা হইলো—শেখ মুজিব আর্মির হাতে মরায় কী ক্ষতি হইছে বাংলাদেশের—এইটা নিয়া।

আওয়ামী লীগের কোন ক্ষতি হয় নাই; কেননা উনি আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করছিলেন; মরার পরেই আবার আওয়ামী লীগ হইতে পারছে মাত্র। শেখ হাসিনা অকালে বাবা হারাইছেন—এইটা তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি। কিন্তু উনি এখন আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী; ফলে দলীয়ভাবে হত্যাকারীদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন বটে।

বিএনপির ক্ষতি হবার প্রশ্ন আসে না, মরার পরেই বিএনপির জন্ম। রক্ষী বাহিনী নাকি দেশের নাগরিকদের ধইরা ধইরা মারতো (এখন র‍্যাবও মারে; রক্ষী বাহিনীরে র‍্যাবের ফার্স্ট এডিশান বলা যাইতে পারে, তার বেশি কিছু না; সিরাজ শিকদার ধরনের লোক র‍্যাব কয়েকশো তো মারছেই।)। বাকশাল করছিলেন মুজিব, বহুদলের গণতন্ত্র ছিলো না দেশে। মত প্রকাশের স্পেস ছিলো না মোটেই। সরকারী ছাড়া মিডিয়া বন্ধ কইরা দিছিলেন। ব্যক্তিগত সম্পত্তির জাতীয়করণ করতেছিলেন। সেই সময়ের সমাজতান্ত্রিক মডেলে বাংলাদেশরে বানাইতেছিলেন তিনি। এইটা অনন্য ঘটনা পৃথিবীতে; ঘটনা হিসাবে এই মাপের আছে মাত্র একটাই মনে হয়—সম্রাট অশোকের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী দেশে সমাজতন্ত্র কায়েম করছেন! অতি আশ্চর্য। মার্ক্সবাদীরা অনেকেই বাকশালে যোগ দিছিলেন সেই কারণে।

কিন্তু বহুদলীয় নির্বাচনী গণতন্ত্রপন্থি, উত্তরাধিকারে পাওয়া সম্পত্তি ভোগদখল করতে চাওয়া বা কথাবার্তা বলতে চাওয়া মানুষের খুবই দুর্দশা হইছিলো তখন। বাংলাদেশের নাগরিকরা বেশিরভাগই এই ধরনের মনে হয়। শেখ মুজিব হত্যায় এই নাগরিকরা বাঁইচা গেছে বলা যায়। তো, দেশের ক্ষতি এইভাবে খুব একটা পাওয়া যাইতেছে না। আমার থিয়োরিটা এই সব হিসাবের বাইরে বলতে হবে।

এই হত্যা না হইলে কী অবস্থা হইতো দেশের সেইটা ভাবি আমি। ক্রমে গণ আন্দোলন হইতো দেশে। হয়তো জাসদ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতো। মুজিব পরাস্ত হইতো রাজনেতিকভাবে। ৮০ বা ৮৫ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (বাকশাল থেকে আবার আওয়ামী লীগ) পরাজিত হইতো। আজকের বিএনপি’র জায়গা হয়তো জাসদ নিতো। আওয়ামী লীগ আর জাসদ—এই দুইটা প্রধান দল থাকতো হয়তো। দুইটার কারোই জামাতরে নিয়া রাজনীতি করতে হইতো না। আর্মির শক্তিমত্তা এতো বাড়তে পারতো না। এরশাদ হইতে পারতো না।

বিএনপি গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়া তৈরি হয় নাই বলে জিয়ার বাংলাদেশ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামাত বা আর্মি লাগছে; এইটা মুক্তিযুদ্ধ প্রেম বা বেঈমানীর প্রশ্ন না। রাজনৈতিক দল তৈরি করার উপায়ের প্রশ্ন। আজকের আন্দোলন থেকে একটা বড়ো রাজনৈতিক দল বাইর হলে বিএনপির সমস্যা হবে সবচে বেশি। সেইটাই দরকার। দল বাইর না হলে লাভটা পাবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগরে ধ্বংস করা কঠিন হবে; কিন্তু আওয়ামী লীগরে দিয়া যদি বিএনপিরে ধ্বংস করানো যায় তাইলে সেই পাপ দেখাইয়া আওয়ামী লীগরে পরাজিত করতে পারবে নতুন রাজনৈতিক দল। বা বিএনপিও থাকলো, কিন্তু নতুন বড়ো দল হইলে বিএনপি পাল্টাইতে বাধ্য হবে। তিনটা প্রধান দল তো দেশে থাকতেই পারে, নাকি না?

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

ফেসবুক নোটের লিংক: http://goo.gl/fVDHe