ইভ টিজিং কারে কয়…

বাংলাদেশের নারীর চরিত্র রক্ষায় যেই সামাজিক ঐক্য আছে তা আর কোন ক্ষেত্রে নেই। এই চরিত্রের সাথে আইনীভাবে অপরাধের প্রায় কোন সম্পর্ক নেই। এই দেশের সমাজে প্রেমিকের টাকায় খাওয়ার চেয়ে চুরি করে খাওয়া নারীর জন্য প্রশংসনীয় এবং সম্মানের। প্রেমিকের টাকায় খেলে সেই নারীর চরিত্র গেল, তা নয়। কারণ ততক্ষণ আসলে ঐ নারীর চরিত্রটাই থাকে না, ফলে কেবল চরিত্রহীন নারীই প্রেমিকের টাকায় খায়। কেননা ঐ চরিত্রটা খুঁইয়ে ফেলেই কেবল প্রেম করা যায়, মানে প্রেমিকা হওয়া যায়। নারীর প্রেম এমনই একটি চরিত্রবিনাশী ঘটনা।

এই প্রেম আবার কেবল মনের দেয়া-নেয়া নয়, এই প্রেমের অর্থ খুবই শরীরমূলক, এই প্রেম নির্দেশ করে যে ঐ নারী বিবাহমূলক সম্পর্কের বাইরে শরীর বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করেন, শরীরের অসুখ-বিসুখ নিয়ে চিন্তা নয়, সুখ নিয়ে চিন্তা, খাওয়া দাওয়ার বাইরে আরেক ধরনের উপভোগ বিষয়ে নিজের শরীর নিয়ে সচেতনতা। এই সচেতনতাই নারীর চরিত্র নষ্ট করে দেয়। এমনকি কোন নারী প্রেম যদি নাও করে, নিজের শরীর নিয়ে উপভোগকেন্দ্রিক সচেতনতা যদি নাও থাকে, তাঁর শরীর বিষয়ে সচেতন পুরুষ যদি ঐ নারীকে স্পর্শ করে তাহলেও তাঁর চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়। গরমের দিনের পাকা আনারসের চাইতেও বেশি পঁচনশীল এই দেশের নারীর চরিত্র।

-------------------------

বাংলাদেশের নারীর অতি নাজুক এই চরিত্র রক্ষায় সমাজের ঐ সার্বিক ঐক্য। ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে, যেকোন সময় ছাদ মাথার উপর পড়তে পারে—সেই আশংকায় মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয় পরিত্যক্ত ভবন থেকে। মানুষের মাথার উপর ছাদের দরকার আছে, কিন্তু পড়োপড়ো ছাদ মানুষের মিত্র নয়। নিজের চরিত্র নামের পড়োপড়ো ছাদের নিচে বাংলাদেশের নারী আছে শত শত বছর ধরে, এই সমাজ তাদের সরিয়ে নেয়ার পরিবর্তে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। নারীর এই নাজুক চরিত্র নারীর মিত্র নয়, নারী মরছে নিজের চরিত্রের নিচে চাপা পড়ে। সমাজ চেষ্টা করতে থাকে পড়োপড়ো ছাদটা যাতে না পড়ে, আর একান্ত যদি পড়ে যায় তবে মারা যাওয়া নারী পায় ‘শহীদ’-এর মর্যাদা। তাই এই চরিত্র হারিয়ে বা রক্ষায় নারীর আত্মহত্যা আসলে আত্মবিসর্জন, কার স্বার্থে? নিজের নয় কোনভাবেই, সমাজেরই স্বার্থে।

সমাজের ঐক্য নারীকে রক্ষায় নয়, নারীর চরিত্র রক্ষায়। প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে সমাজ তাই ভীতিকর, প্রেমিকার ভাই ধরা পড়া প্রেমিকের ঠ্যাং ভেঙ্গে দিলে সামাজিকভাবে অপরাধ হয় না। পরিবার, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অফিসের কর্তৃপক্ষ নারীর চরিত্র পাহারা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমিক-প্রেমিকাদের হেনস্তা করেন শিক্ষক—শিক্ষার সাথে প্রেমের বৈপরীত্যমূলক সম্পর্ক দেখিয়ে সমাজ অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। নারীকে ঘিরে এইসব বহিঃস্থ অবরোধের থেকে বেশি কার্যকর সামাজিক মূল্যবোধ। নারীর শত্রু  যে চরিত্র, তাকে রক্ষায় সেই নারীকেই যদি তৎপর করে তোলা যায়, নারীর চরিত্র বিষয়ে সামাজিক মূল্যবোধ নারী নিজেই যদি আত্মঃস্থ করে নেয়, শত্রুকেই যদি ভাবা শুরু করে দেয় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—ব্যবস্থা হিসেবে সেটি তবে অব্যর্থ হয়ে উঠতে পারে।

নিজের এই চরিত্রকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ মনে করা নারীর জীবন ঐ চরিত্রের নাজুকতার কারণে অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। সেই নারী তখন কেবলি আক্রান্ত বোধ করতে থাকে। এই সমাজ চরিত্রবিদ্যা দিয়ে নারীকে শেখায় কিভাবে আক্রান্ত বোধ করতে হয়, আর পৌরুষের জয়গান গেয়ে পুরুষকে শেখায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে, সবক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ করতে–‘নায়ক’ হবার বাসনা। এমনকি যেই পুরুষ নিতান্ত আকাংখা তাড়িত হয়ে পর্যাপ্ত বিনয় সহকারে প্রেমের প্রস্তাব দিলো—সমাজ তাকে নাম দেয় ‘অশালীন প্রস্তাব’। প্রেমের প্রস্তাবকে ‘অশালীন প্রস্তাব’ নাম দেওয়া আদতে নারীকে নির্দেশ দেওয়া যে, ‘তুমি আক্রান্ত হও।‘ কেননা আক্রান্ত না হলে সেই নারী রাজি হয়ে যেতে পারে, আর তাহলেই তো চরিত্র নষ্ট। এতে ঐ নারীর লাভ-ক্ষতি যাই হোক না কেন তাঁর বাবা-মা, ভাই-বোন–চৌদ্দ গোষ্ঠীর ইজ্জত হুমকির মুখে পড়ে, সমাজে দেখানোর জন্য মুখের বিকল্প খুঁজতে হয় তাঁদের। নারীর আক্রান্ত না হবার অর্থ আসলে তাঁর চৌদ্দ গোষ্ঠী আক্রান্ত হওয়া, তাই এই চৌদ্দগোষ্ঠীর কাছে নিজেরা আক্রান্ত হবার চাইতে ঐ নারীর আক্রান্ত বোধ করাটাই কাম্য। এ কারণেই নারীর চৌদ্দ গোষ্ঠীর শত্রু কেবল প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া পুরুষটি নয়, প্রেমের প্রস্তাবে আক্রান্ত বোধ করতে রাজি না হওয়া নারীটিও। প্রস্তাবকারী পুরুষটিও এই সামাজিক চক্রের বাইরে থাকেন না, তিনিও যথাস্থানে ভাই।

এই বিস্তৃত পরিসরে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হয়ে ওঠা ‘ইভ টিজিং’-কে বুঝতে হবে। ‘ইভ টিজিং’-বিষয়টি আপাদমস্তক যৌনতাসংশ্লিষ্ট কিন্তু আলোচিত হয়ে উঠবার জন্য ‘যৌন হয়রানি’-কে ‘ইভ টিজিং’ নাম পরিগ্রহ করতে হয়েছে। নারী প্রসঙ্গে যৌনতার উচ্চারণ নিষেধ এই সমাজে, যেন বা যৌনতা নারীর জীবনের কোন ঘটনা নয়। ‘ইভ টিজিং’ শব্দযুগল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি যে আসলে যৌন আক্রমণ-সেটা অপ্রকাশিত রাখা যায় আর এভাবে যৌনতা বিষয়ে অনাগ্রহী হবার যে সামাজিক নির্দেশ আছে তার বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়, যৌনতা বিষয়ে অশিক্ষিত রাখবার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ‘ইভ টিজিং’-কে যদি একটি অযৌন আক্রমণ হিসেবে নারীকে চেনানো যায় তবে সম্ভাব্য যৌন আগ্রহ থেকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হবার যেই সম্ভাবনা–আক্রান্তবোধ করার পরিবর্তে—সেই সম্ভাবনা নিবারণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে শব্দের এই পরিবর্তিত ব্যবহার নারীর চরিত্রকে অধিকতর নাজুক বলে ধরে নেয় এবং ঐ চরিত্র নষ্ট করতে নারীর দিক থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি (নারীর নিজস্ব যৌন আগ্রহ) কমায়। আবার, এই শব্দযুগল আবছাভাবে যে যৌন আক্রমণকে বোঝায় তাতে ধরে নেওয়া হয়—যৌন আক্রমণ বুঝি বা শুধু নারীর উপর ঘটে থাকে।

প্রথমতঃ যৌন আক্রমণ যে কারো উপর ঘটতে পারে; নর-নারী ছাড়াও সমাজে মানুষ আছে, তাঁদের উপরও যৌন আক্রমণ ঘটে থাকে। আদতে যৌন আক্রমণ আক্রান্তের যৌন প্রকরণের উপর নির্ভরশীল নয়, ছেলে শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি গরু-ছাগলও হতে পারে। এটি আক্রমণকারীর একটি ভঙ্গি বা কর্ম। সাধারণভাবে সমাজে প্রচলিত মা-বাপ-বোন তুলে যে গালিগালাজ করা হয়, সেগুলোও যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। এ যাবত শোনা যায়নি যে, বোন তুলে গালি দেবার কারণে কোন ছেলে বা পুরুষ আত্মহত্যা করেছে; তবে গালি-গালাজ বা অঙ্গভঙ্গির কারণে কোন মেয়ে বা নারী আত্মহত্যা করছে কেন? যিনি গালি-গালাজ বা আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি করলো তাঁর অপরাধ তো শুধু ওগুলোই, আত্মহত্যার দায় তাঁর কিভাবে? যিনি আত্মহত্যা করলেন তিনি ছাড়া আর কারো যদি দায় থাকে তবে তা এই সমাজের, তাঁর পরিবারের; তাঁর উপর নাজুক চরিত্র আরোপ করার জন্য, আক্রান্ত বোধ করতে তাঁকে অতি সংবেদনশীলতা শিক্ষা দেবার জন্য, পরিবারের ইজ্জতের বলি হবার প্রশিক্ষণের জন্য। যৌন হয়রানির প্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যাকারী নারীর পরিবার স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি ইজ্জতের এমন কড়া বোধসম্পন্ন নারী সদস্য থাকার গর্ব কি অনুভব করে না?

সম্প্রতি একজন শিক্ষককে হত্যা (অভিযুক্তের বাবা ও শ্বশুরের দাবি—দুর্ঘটনা।) করা হয়েছে নাটোরে। এই ঘটনার সাথে ‘ইভ টিজিং’-এর সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় আছে। বলা হয়েছে তিনি ‘ইভ টিজিং’-এর প্রতিবাদ করেছিলেন; ‘প্রতিবাদ’ কী জিনিস বলা হয় নি। ঘটনার পরে অভিযোগ উঠেছে—পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করছে না। লক্ষণীয়, হত্যার পরেই পুলিশের প্রসঙ্গ এসেছে, ‘ইভ টিজিং’ চলার সময়কালে পুলিশ তথা আইন বা রাষ্ট্র অনুপস্থিত। অর্থাৎ রাষ্ট্রের কাছে যাওয়া হয়নি। কেউ কি ভাগাভাগি করে দিয়েছে সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব—‘ইভ টিজিং’-এর বিচার সমাজ করবে আর হত্যার বিচার আইন বা রাষ্ট্র! অপরাধের বিচার আদালতের কাছে না চেয়ে নিজেই করতে উদ্যত হওয়াকে আইন হাতে তুলে নেয়া বলে। আদালত নির্দেশিত নামে না ডেকে ‘ইভ টিজিং’ নামের মূল্যবোধ তাড়িত নামে ডাকা আবার আইন হাতে তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিচার করতে চাওয়া এবং দেশের মিডিয়া, উন্নয়নজীবী, বুদ্ধিজীবী—সকলের তাতে উৎসাহ দেওয়া ‘ইভ টিজিং’ আলোচনার প্রধান শংকাটি তৈরি করে। ‘ইভ টিজিং’ কি তবে শক্তিমানের হাতিয়ার হবে, তার অপছন্দকে উচ্ছেদ করার? কেননা এতে নারীর তো কোন লাভ দেখা যায় না, মিজানুর রহমানের স্ত্রী আর মেয়ের যথাক্রমে স্বামী আর বাবা হারানোকে লাভ বলে না ধরলে।

অবশ্য ‘যৌন হয়রানি’ বলে যে আইনী সংজ্ঞা আছে তা আসলে ‘ইভ টিজিং’-কে পুরোটা বোঝাতে অক্ষম। এমন কতিপয় কর্ম আছে যেগুলোকে যৌন হয়রানি বলা যায় না কিন্তু তা ‘ইভ টিজিং’-এর সাংস্কৃতিক/সামাজিক সংজ্ঞার অন্তর্গত। স্কুল বা কলেজের সামনে যে পুরুষ মুড়ি-চানাচুর বা আচার বিক্রি করেন তিনি  স্কুল বা কলেজের মধ্যবিত্ত মেয়ের দিকে কিভাবে তাকাবে তার সামাজিক ব্যাকরণ আছে। তাঁর তাকানোর মাঝে কোন ধরণের যৌন আগ্রহ থাকলে তাঁকে (আগ্রহ প্রকাশমাত্র) উচ্ছেদ করা হবে। একে শ্রেণীসীমা অতিক্রমের পদক্ষেপ বলা যায়, যৌন হয়রানি ঘটে না। কিন্তু তাঁকে যে অভিযোগে উচ্ছেদ করা হলো তা অশালীন দৃষ্টি বা খারাপ দৃষ্টি তথা ‘ইভ টিজিং’। প্রেমের বা বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাঁর কঠোর সামাজিক বিচার হবে শ্রেণীসীমা অতিক্রমের অপরাধে; বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন কোন প্রস্তাবকেই অপরাধ বা লিগ্যাল অফেন্স হিসেবে চিহ্নিত করে না। তাহলে এই অপরাধের বিচার হবে কোন আইনে? ফলে এখানে কেবল আইন হাতে তুলে নিলেই বিচার করা যায় না, বরং আইনকেও বানিয়ে নিতে হয়, । মুড়ি-চানাচুর বা আচার বিক্রেতা সামাজিকভাবে ‘ছোটলোক’, তখন এই ‘ছোটলোক’-এর বিচার করে বাদীপক্ষ নিজেই, নিজের রচিত আইনে। অথচ যেই মধ্যবিত্ত মেয়েটিকে তিনি প্রস্তাব দিলেন সেই মেয়েটি নিজেও যদি আক্রান্তবোধ করেন তারপরও এটি যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে না।

মধ্যবিত্ত যে মেয়েগণ রিক্সাচালক বা আচার বিক্রেতার দৃষ্টিতে/প্রস্তাবে/আমন্ত্রণে আক্রান্তবোধ করেন , কিন্তু  নিজের শ্রেণীর মধ্যে দৃষ্টি/প্রস্তাব/আমন্ত্রণে প্রেম বা বিয়ে করছেন তাঁরা নিজেদের কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করে দেন যে প্রেম বা যৌন দৃষ্টি/প্রস্তাব/আমন্ত্রণ আদৌ হয়রানি নয়। তাহলে এটি আদতে যৌন আক্রমণ নয় বরং শ্রেণী নিষেধাজ্ঞার দেয়ালে আক্রমণ।  তাই এর বিচার আদালত করতে পারে না, অধিপতি শ্রেণী নিজের তৈরি আইনে ঐ বেআইনী বিচার করে, আর একে ‘ইভ টিজিং’ বলবার মধ্য দিয়ে শ্রেণীহিংসা ও  প্রতিশোধকে আড়াল করার পথ পরিষ্কার হয়।

বাংলাদেশের পরিবার সাধারণভাবে সন্তানদের যৌনজীবন নিয়ন্ত্রণ করে। যেমনি অযৌন জীবনে বাধ্য করে তেমনি জোর করে যৌনজীবনে ঢুকাইয়া দেয়। পরিবারের এই নিয়ন্ত্রণের আগ্রহ আবশ্যিকভাবেই স্কুল বা কলেজে বাহিত হয়। শিক্ষকগণ তাঁদের কোন দু’জন ছাত্র-ছাত্রী একান্তে বা নির্জনে বসা/কথা বলা পছন্দ করেন না। যদি কোন স্কুল বা কলেজ ঘোষণা দেয় যে এর কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছামূলক যৌনক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না, তবে নিশ্চিতভাবেই কোন পরিবার সেই স্কুল বা কলেজে তার ছেলে-মেয়েকে পড়তে দেবেন না। শিক্ষক মিজানুর রহমান মেয়েদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সতর্ক করেছে কথিত উত্যক্তকারীদের। কিন্তু স্কুলেরই অ-সন্ত্রাসী ছেলেদের সাথে ঐ মেয়েদের প্রেম মিজানুর রহমানের অনুমোদন করার সম্ভাবনা কতটুকু? বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কিন্তু মিজানুর রহমানকে আগেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছে– অনুমোদন না করার। ঐ মূল্যবোধ মিজানুর রহমানকে বলে দিয়েছে—কোন ছেলে যখনি কোন মেয়েকে যৌনসম্ভব ভাবলো তখনি ‘ইভ টিজিং’ ঘটলো। আর মেয়েটির যদি সম্মতি থাকে তবে তাকে ‘চরিত্র’ শিক্ষা দিতে হবে।

মৃত মিজানুর রহমান এখন নায়ক, তিনি অনুপ্রাণিত করবেন বহু মানুষকে। সেই অনুপ্রাণিত মানুষেরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। কি প্রতিরোধ করবেন তাঁরা—যৌন হয়রানি, ইভ টিজিং, নাকি মানুষের স্বাধীনতা?

২৫.১০.২০১০