রক মনু

কবিতা/ফেসবুকে প্রকাশিত-২

তোমার বলতে থাকা

তোমার বর্ণনার মাঠে ভোকাবুলারির তৃণে
আমারে চড়াও;
আমার তৃণ নাই, তুমি কী খাবে?
আমার দেখতে থাকাই আমার বর্ণনা।

যে যা পারে তারে তাই পুনরায়
শিখাইয়া দিতেছে তোমার বলতে থাকা,
কয়েকটা সরীসৃপকেও উড়তে শিখাইয়া দিলা;–
এখন ওরা আন্তর্জাতিক,
ওদের এখন বৈবাহিক সমস্যা;–
তোমার ক্রিয়ায় নামপদ বিশেষণ হয়ে গেছে।

-------------------------

তোমাকে শুনবার উচ্ছ্বাসে
একটা দুপুর ব্যাঙের পিঠে চড়ে বসে
খেলনা সাপের ভয় দেখায়
তটস্থ ব্যাঙ লাফ দিয়ে অপরাহ্ণ ডিঙাইয়া
দুপুরটাকে নামাইয়া দেয় সন্ধ্যার কোলে।
সন্ধ্যা আলগোছে দুপুরকে উমানে বসাইয়া দেয়
তার ডিমের উপর,
পরদিনের সূর্য গরম হয়ে নেয় দুপুরের উমে।
সেদিনের প্রেমিকেরা মেনে নেয় এক অপরাহ্ণ কম প্রেম।

এইসব তোমার ধ্বনি আর বর্ণদক্ষতার কৃতি;
যারা ছিলো জ্যান্ত, তারা আজ বর্ণিত;
সবাই বিবৃত হতে চায়;
তোমার কারখানায় চকোলেট হয়ে যেতে চায়
মুখে মুখে।

–এপ্রিল-মে ২০১১

কবুতর

তাঁর খবর নিয়ে যেই কবুতর আসে
আমি তারে খাই। সে যদি
গিয়া দেয় আমার খবর!

আমি তো খবর দিয়াছি,
যেই খবর দিতে চাই;

আমার কবুতরগুলিও আর
ফিরে আসেনি।

আমাদের প্রেম—
এই খাদ্য সরবরাহ,
কবুতরে অর্ধবিশ্বাস,
অতঃপর ভক্ষণ।

ডুব

ব্রহ্মাণ্ড প্রতিভাত হয়ে আছে চারাধারে
তবু চোখ বুজে ডুব দিলেন বুদ্ধ।

বস্তুকে লেহন করে আলো
শুদ্ধ হয়ে যাইতেছে, কোথায়?
অন্ধকারে রেখে, রেখে কি?
আলো চলে যাবার কালে
বস্তুকে সে রেখে গিয়েছিলো—
কী করে বোঝা যাবে সেটি,
সকল আপ্তবাক্য ভূতপূর্ব
হইয়া যায় যদি, আলোর অভাবে।

বস্তুকে অনপেক্ষ করে দিতে
এই ডুব,
ফলতঃ নিজেই অনপেক্ষ হবার পায়তারা,
আলোকসংকুল না থাকার দম্ভ।

বস্তুকে তার তার আকারের খোলসে
বন্ধ করে দিতেছিলো
সেই তুমুল আলো—
তাদের মুক্ত করে দিতে
এই চোখ বোঁজা,
অন্ধকারে খুলে যাইতেছে
সকল আকার,
নিজের থেকে
প্রসূত হইতেছে সকলে,
নিজের আকার থেকে
মুক্তির উল্লাসে
কিছুটা হতভম্ব, ছুটতেছে দিগ্বিদিক।–

গোচরে আছে বলে বিশ্ব
তারে জানায় সংশয় হলো আপনার,
আলো আপনারে বলে দিতেছে—
কী আছে আর কি নাই,
এই দেখা প্রভুর বিবৃতি মনে করলেন,
অতঃপর চোখ বুজলেন ধ্যানে,
সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে বইতে থাকা
নিজের আকার থেকে মুক্ত
নদীর তটরেখা চিনে নিতে…

অনপেক্ষ সার্বভৌম হতে চাই বলে
আমি যাবো সেই অনালোকে—
পোষা মাছগুলির ভ্যাপসা আকার
শেষবার দেখে নিয়ে
আমার চোখগুলি তাদের খাওয়ায়ে
চলে যাবো—

আকারে আকারে বন্ধ আছে
চেনা সব সুন্দর;
চোখ না হারায়ে
চোখ বুজতে পারি না আমি।

২০মার্চ-১৩ এপ্রিল