রক মনু

কবিতা/ফেসবুকে প্রকাশিত-১

বাছুর সমীপে

আমার বাছুর আমারে কয়—
তোমার দুধ নাই,
তাই তুমি আব্বা—
আব্বা, আমারে দুধ দেও।

আমি তারে বলি:
বুকে করিবো দুধের চাষ,
তবু, আব্বাই থেকে যাবো;

-------------------------

নিজেরে ছড়াইয়া দিবো
আব্বার বাইরে…

জুন ২০১১

চলো প্রেমিক, বিয়া করি

বিবাহিত বান্ধবী গল্প করে–
কী করে কী হয়
কিভাবে কিভাবে কী করে; বা
করবার কথা যদি ভাবে
করা হইয়া যায় কখোন!
হায়, বাকি থেকে গেলো ভাবা; বলে–
হায়, ভাবার সুখ কি পাবো না এ জনমে!
আমি শুনি
অবাক চোখ দেখাই, বলি—
লজ্জা লজ্জা মুখে বলি, যাহ্।
এই বিধেয় এই দেশে, শোনো আমার প্রেমিক।

তোমার স্মৃতি আসে মনে
তোমার স্মৃতিই তাজা বলে হয়তো,
নাকি তোমারেই ভালবাসি বলে, জানি না ঠিক।
বান্ধবীর কাছে লুকাই, লুকানো কি সহজ খুব?
তোমার কাছেই লুকাইতে পারছি কি কোনদিন?
শরীরে যখন আসো
তার থেকে মনে আসা কি কম শারীরিক!
বান্ধবীরো মনে আসে বুঝি তার স্বামী
চাইয়া থাকে স্বামীর নড়াচড়ায়—
এই স্বামীর স্বার্থপরতা নাই কোন,
এই স্বামী মনে গড়া।
আমার প্রকাশ দ্যাখে না বুঝি তাই;
ভাবো প্রেমিক—
মনে যদি আসো একবার,
তখন তোমার সঙ্গে যা করতে থাকি আমি,
তার চাইতে তা লুকাবার চেষ্টার দৃশ্য কতো কুৎসিত!
তারপরো লুকাইতে হয়।
ভাবো প্রেমিক—

তোমারে লুকাইতে হয় আমার, আরো বেশি
লুকাইতে হয় আমারেই! কেননা, এই বিধেয়।
বিবাহিত বান্ধবী বলে, আমি শুনি, আর লুকাই—
তোমারে, আমারে, আমাদের করাকরিরে…

অথচ, কত কি শেখার বাকি আমার বান্ধবীর!
তোমারে, আর বান্ধবীরে শিখাইবার ইচ্ছা মনে নিয়া
মুখের সামনে না বোঝা মুখ ঝুলাইয়া শুনে যাই,
চোখের সামনে ঝুলাইয়া রাখি না দেখা চোখ…
হায় গোপনতা—

চলো প্রেমিক, বিয়া করি;
বলবার মুক্ততা পাই তবে,
বান্ধবীরে বলি
তারো শেখার বাকি আছে কিছু…
দম্ভ নয়, তার আরো সুখ চাই বলে।

–২১ ডিসেম্বর ২০১১

রিলেটিভস-ইন-মিল্ক

আমি আর আমার মা
এই গরুর দুধ খাই।
আমাদের দুজনার দুধ মা উনি।
এই বাছুর আমাদের দুধ ভাই।

আমার দুধ ভাইয়ের গায়ে
গরুর গন্ধ,
তার গায়ে বাড়ছে গরুর মাংস।

এই মেশিন আমার দুধ মা;
এর কোন সন্তান নাই,
এর গায়ে গরুর গন্ধ নাই।
আমি ধাতব খাই না,
আমি ওনার দুধ খাবো।

আমি গরুর দুধ খাবো না।
যার মাংস খাইতে চাই—
সে আমার দুধ ভাই না হয় যেনো,
অবশ্য দুধ ভাইদের মাংস
খারাপ লাগে নাই কোনদিন;

অতি অবশ্য,
খাইতে খাইতে তারে
ভাই ভাবি নাই কোন দিন।

২৭ সে. ২০১১

কবির ড্রয়িং

অগ্রজ কবিরা
উপমায় উপমায়
ছুঁয়েছিলো নীলিমা
খুঁজেছিলো বায়ু
চুপসানো বেলুন
ফুলে ফুলে
জেনেছিলো হয়তো বা
স্বভাবের সীমা।

একালের কবি তাই
লোকায়ত শব্দে গড়েন
লোকাতীত বাক্যসকল
নিখিলের এপারে
মানুষের হৃদয়
হরিণের শরীর নিয়া
ছোটে নাকো
বাঘের সম্মুখে।

নেহায়েৎ বাঘের খাদ্য
এই হরিণ শরীর
আর কোন অর্থ নাই;
হরিণের রক্ত
প্রাকৃতিক অনুপাতে
সরল রাসায়নিক
সামাজিক ভূতলোকে।

মানুষের হৃদয় বড়োজোর
মন হয়ে শোয় অথবা বসা
বাক্যের গলুইয়ে।

পাখিদের পাখি ডাকা
অনন্য কবি এক
চরাচরে; তবু
খিদা জাগে হৃদয়ে
কৈ হতে কৈতর উড়ে যায়।
পানির নিচে নীলিমা দ্যাখে এক
ঢিল ছুঁড়ে
আকাশ কাঁপাবার সুখ পেয়ে যায়;
তারপর
পাখিদের রূপ লয়ে
ওড়েন কবি
ড্রয়িং খাতায়
আকাশে আকাশে
এক ও একা

তবু পারিবারিক।

–১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১