রক মনু

আজ ২৯ মে, ইউএন পিসকিপিং দিবস–সেক্রেটারির ফোনের অপেক্ষায়

আজ (২৯ মে) ইউএন পিসকিপিং দিবস। জানতাম না। আমার সিটিসেল আর রবি ফোনে ‘Govt. Info’ বলে মেসেজ আসায় জানতে পারলাম। এই এসএমএস মার্কেটিং-এর মাধ্যমে মোবাইল কোম্পানিগুলি কোন আয় করে না, যতদূর জানি। আয় করে না, মানে সরাসরি আয় করে না। এইটারে ‘রাষ্ট্রের ঘুষ খাওয়া’ বলা যাইতে পারে।

সে যাই হোক, বাংলাদেশ ইউএন পিসকিপিং মিশনে লোকবল দেবার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়, প্রথম স্থানে আছে পাকিস্তান। পাকিস্তান যেই বিষয়ে প্রথম প্রথম, সেই বিষয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় হওয়ায় কি আনন্দিত হওয়া যায়? আমি আনন্দিত হইতে চাইলাম, পাকিস্তানের বিষয় এড়াইয়া। আমার এই সংশয় মোটেই ১৯৭১ মূলক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সাম্প্রতিক পাকিস্তান পরিস্থিতি চিন্তায়। আমার আনন্দিত হবার চেষ্টার মাঝে দেশপ্রেম প্রায় ছিলো না; আমি ভাবছিলাম, দুই-তিনটা ডলার আমার ভাগে নিশ্চয়ই পড়বে। আমার এক বন্ধু এনলিস্টেড আছেন ইউএন মিশনে, নিশ্চই আরো দুই-একজন এনলিস্টেড হবেন; আমার ভাগে আট-বারো ডলারও পড়তে পারে। লোভ আমার সংশয় হত্যা করলো।

-------------------------

আমি আনন্দের সাথে খুঁজলাম আর বুঝলাম, মানে রসাইয়া রসাইয়া আনন্দ করা আর কি। খুঁজে পাইলাম, সবচেয়ে নিচের পদের শান্তিরক্ষী অন্তত ১১০০ ডলার আয় করেন মাসে। থাকা-খাওয়া-চিকিৎসার ব্যয় জাতিসংঘের (এইটা ঠিক তথ্য আকারে পাই নাই, আমার যৌক্তিক হিসাব)। উচ্চতর পদের রক্ষীরা অন্তত ১৪০০ ডলার আয় করেন। সাভারের অ্যাডভান্সড পুলিশ সিটি আর রূপগঞ্জের (?) সেনা আবাসন প্রকল্পের কথা আমার মনে পড়লো। নিছক ঘুষ আর কারবারি ‘কালোটাকা’ দিয়া এইটার ব্যাখ্যা করতে পারতেছিলাম না। এপ্রিল ২০১১-তে দেখলাম অন্তত দশ হাজার বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী আছেন ইউএন মিশনে; এই তথ্য দিয়া আবাসন প্রকল্পগুলির একটা তৃপ্তিকর ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারলাম।

আসলেই দেখলাম, ব্যাখ্যাটা একটা তৃপ্তি দিলো। আমি তখন আরো কিছু অমিমাংসিত বিষয় নিয়া ভাবলাম। যেমন, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে ফোন দিলে তিনি মুভ করেন কেন? এক ফোনে ফখরুদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টা! ইয়াজ উদ্দিন তাঁরে ছদ্মশব্দে শপথ বাক্যগুলি পড়াচ্ছেন!

২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের আন্দোলনের সময়টা বোঝার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, ২০০৬ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাসদস্যের সংখ্যা কমে দাঁড়াইছে ৯৫৭৫ থেকে ৮৮১০ জনে। ৭৬৫ জন কমেছে। প্রায় (৬৪ মিলিয়ন: গড়ে ১২০০ ডলার ধরে ) ৬,৪২,৬০,০০০ টাকা আয় কমে গেছে সেনাবাহিনীর। ধরা যাইতে পারে এইটা সেনাবাহিনীরে বিএনপি’র মুখোমুখী দাঁড় করানোর প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু বিএনপি এতে নত হয় নাই, ফলে ইয়াজ উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা হইলেন। এই ঘটনা সেনাবাহিনী পছন্দ করতে পারে নাই। জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনাসদস্যের সংখ্যা ছিলো ৮৭৮৮, এই সময় আন্ডার সেক্রেটারি সেনাপ্রধানকে ফোন করেন বলে মঈন ইউ আহমেদ জানিয়েছেন। জানি না, কতজন শান্তিরক্ষী ফেরত পাঠানোর হুমকি পাইছিলেন মঈন ইউ আহমেদ। তিনি তখন মুভ করলেন, বিমান ও নৌপ্রধানকে নিয়ে। তিনের এই ঐক্যের পেছনে সম্ভবতঃ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিজ নিজ শেয়ার নিয়ে কোন রফা’র ফল।

আমি বর্তমান নিয়াও ভাবলাম। ধরা যাক, শেখ হাসিনা চাইলেন—র‍্যাব আর থাকবে না, জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া কি হবে? শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশি চাঁদা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আন্তর্জাতিক চিন্তা ‘ইসলামি জঙ্গী’, র‍্যাবের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হিসাবে বলা হয় ‘ইসলামি জঙ্গী’ নির্মূল। র‍্যাবের বড়ো অংশ সেনাসদস্য।  এই তথ্যগুলি কি কোন সমীকরণ প্রস্তাব করে? আমার ধারণা, বিএনপির শিক্ষা দিয়া আওয়ামী লীগও শিক্ষিত হইছে। বিডিআর-এর ঘটনার পর আওয়ামী লীগ সেনাবাহিনীরে আর খ্যাপাইতে চাইবে না।

এদিকে বিএনপি আবার মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইছে, ইউনূস বিষয়ে হিলারি অসন্তুষ্ট, পাকিস্তান সম্ভবতঃ চায় না—যুদ্ধাপরাধের বিচার হোক, জামায়াতের আন্তর্জাতিক লবি আছে। লাদেন পর্বে পাকিস্তানের অসন্তোষ কি দূর করতে চাইবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? আন্ডার সেক্রেটারির আরেকটা ফোন কি আসতেছে?

২৯ মে ২০১১