রক মনু

SOPA&PIPA–পৃথিবীর সবাই ইউএসএ’র নাগরিক হইতে যাইতেছে…

বছর খানেক ভাবছিলাম অনলাইনে ফাইল শেয়ারিং এবং প্রাইভেসি নিয়া কিছু লিখবো। লেখা হয় নাই আর। গত কয়দিন SOPA&PIPA দেখছিলাম নেটে; বিশেষ গুরুত্ব দেই নাই। আজকে দেখলাম মারাত্মক সব ঘটনা ঘটতে যাইতেছে। বাংলাদেশের ব্লগ মডারেটরদের ঠেকানো যাইতে পারবে হয়তো, কিন্তু মার্কিনরে ঠেকাইবে কে?

 

-------------------------

মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এ দুইটা বিল উত্থাপন করা হইছে। বিল দুইটার নাম হইলো ‘Stop Online Piracy Act (SOPA)’ এবং ‘PROTECT IP Act (PIPA)’। পাশ হইলে ভয়ানক দুইটা বিদেশি আইনের আওতায় যাইতেছি আমরা। বেট ধরা যায় যে আমাদের রাষ্ট্র আমাদের কোন প্রোটেকশন তো দেবেই না, বরং বেআইনী খুন করতে থাকা আমাদের বাহিনীগুলা মার্কিন এই আইন রক্ষায় আমাদের ধরা শুরু করবে। আর তার আগেই আমাদের প্রায় সব ওয়েবসাইট বন্ধ কইরা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম আলো বা বিডিনিউজ২৪ সাইটেও কপিরাইটেড মালপত্র আছে। সিএনএন, ভয়েস অব আমেরিকা বা বিবিসির অভিযোগে এইগুলা বন্ধ হইয়া যাবে। ইউটিউব বা ফেসবুক বন্ধ হয় হয় দশা হবে, অর্থাৎ কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করা হবে। মাইক্রোসফ্ট বাংলাদেশের প্রায় সব পিসি মালিকরে ধইরা ফেলতে পারবে। মার্কিন আর্মি তো বিশ্ব-আর্মি আছিলোই, এইবারে মার্কিন পুলিশ বিশ্ব-পুলিশ হইতে যাইতেছে এই দুই আইনের মাধ্যমে। জাতিসংঘ তো আছেই তাবৎ দালালীর জন্য।

 

ধরেন, জাতিসংঘ বললো–‘এই আইন বলবৎ করা না হইলে বাংলাদেশের পুলিশ-সেনা সদস্যরে ইউএন শান্তিবাহিনীতে নেওয়া হইবে না। বাংলাদেশের সিআইডি/ডিজিএফআই/এনএসআই/পুলিশ/র‍্যাব তখন কী করবে? আমার-আপনার কী হবে?

 

এই দুই আইনে ফাইল শেয়ারিং সাইট, যেমন–রেপিডশেয়ার বা মিডিয়াফায়ার বন্ধ হবে। এইসব সাইটে যারা ফাইল আপলোড করেন তাদের আইপি দিয়া ধইরা ফেলা খুবই সোজা হবে। এতদিন এই সাইটগুলা প্রাইভেসি আইনের চিপা দিয়া চলতো। সাইটগুলার বক্তব্য ছিলো–এইটা ইউজারদের ব্যাপার, আমরা জানি না কে কী রাখে/শেয়ার করে। প্রাইভেসির জন্য ইউজারদের তথ্য সংরক্ষণ করি না আমরা। কোন ফাইল কপিরাইটেড হলে আমাদের জানান, আমরা সাথে সাতে ডিলিট করবো। তাঁরা ডিলিট করে, আর ইউজার সাথে সাথে আবার আপলোড করে। প্রাইভেসি আইনের কাছে কপিরাইট আইন পাত্তাই পাইতো না। প্রাইভেসি আইনের মধ্যে যেই ফ্রিডম আছিলো, সেইটা আর থাকতেছে না প্রস্তাবিত আইন দুইটা পাশ হইলে। অধিকন্তু এই দুই আইনের আওতা সত্যি সত্যিই পৃথিবীর কক্ষপথ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে রেহাই নাই।

 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো বহু রাষ্ট্রই বিব্রত হইছে উইকিলিকসের কারণে। রেপ কেসে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের যাবজ্জীবন হইলেও আরেকটা উইকিলিকস হইতে বাধা নাই; প্রস্তাবিত আইন দুইটা পাশ হলে  বলতে হবে–বাধা ছিলো না। আইন দুইটা ইন্টারনেট প্রোভাইডারদেরো আওতাভুক্ত করতেছে। ফলে ভাবী উইকিলিকস একটা ‘হোম নেটওয়ার্ক’-এর বাইরে ছড়াবার উপায় থাকবে না। উইকিলিকসের বিষয়টা দিয়া অন্যান্য রাষ্ট্রের কাছে থেকে কুটনৈতিক সমর্থন আদায় করতে পারবে সহজেই।

লিংক: http://en.wikipedia.org/wiki/Stop_Online_Piracy_Act

http://en.wikipedia.org/wiki/PROTECT_IP_Act

http://www.1stwebdesigner.com/design/how-sopa-pipa-can-affect-you/