রক মনু

পাঁচটি কবিতা

বোধের তলায় (ভারী বলে?) জমা দেহ নামীয় পঙ্ক খেদাইলো আলো

এ এক মিঠা, অর্বাচীন, বঙ্গীয়, অবৈষ্ণব, নীতি সম্মন্ধীয়
বাণিজ্য বায়ুঘটিত, ব্রাহ্ম আলোয় ভুবন ভরা,
সম্মুখে তুমিও ঘুরিতেছো প্রয়োজনাতিরিক্ত।
আমার আশ মিটে যাইতেছে,
তোমারে দেখতে দেখতে, তোমারে দেখার।
উপরন্তু, এতো পরিষ্কার দেখতেছি!
তোমারে ধরার আশটাও মিটে যাইতেছে নাকি!
আমার কেনো তোমারে ছুঁইতে ইচ্ছা করে না!
দেখিবারে এতো পরিতৃপ্তি, তোমার উরুগণে
সন্ধি করতে নারাজ থাকলেও আমার কেনো
কিছুই যায় আসে না?
কবিতার নামে আছে তার জবাব?

-------------------------

মার্চের শেষ সপ্তাহ
চরিতার্থতা

সমুদ্র বড়ো মনোহর বস্তু, বটগাছও কি কম মনোহর!
একটা শিকড়ে তার হয় না, কিছুদূর যাইয়া শিকড় নামাইয়া দেয়,
নতুন শিকড়ের প্রেরণা তার ডগায় ডগায়;
বটগাছের এই তথাগততা আমার ভালো লাগে।
সমুদ্রের তীরে গেলেও আমার ভালো লাগে,
সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়াইয়া দূরে তাকাই, তারপর কাছে আনতে থাকি দৃষ্টি,
কাছে আসতে আসতে পায়ের কাছে এসে পড়ে,
আর আমি টের পেয়ে যাই সমুদ্রের সীমানা।
এইভাবে সমুদ্র আর বটগাছ আমার চেনাজানা।
ভালোলাগা জিনিসগুলা কাছে চাই,
বারান্দায় টবে একটা বটগাছ লাগাইছি,
এই বটগাছটা বিশেষ, দেখভাল করতে হবে নিয়মিত;
সব ঠিকঠাক থাকলে এই গাছে বটফল হিসাবে সমুদ্র ধরবে,
সমুদ্রফল আমার পায়ের কাছে পড়বে, বটের কামুক শিকড়ের গা ঘেঁষে,
আমি দূর থেকে আমার দৃষ্টিকে কাছে আনতে আনতে
আমার পায়ের কাছে আসলেই পেয়ে যাবো সমুদ্রের সীমানা।

২৯ এপ্রিল ২০১০

 

থাকা নামের প্যাচালো অমীমাংসা

লোকে আমারে স্মরণ করতে পারে না,
এইটা লোকের কোন দোষ, নাকি আমারই গুণ?
কেমন স্মরণাতীত হইয়া থাকতে পারি!
কত লোক মনে পড়ে যায় কত লোকের,
মনে পড়ে না যারে কারো—সে কেমন এক অনস্তিত্ব?
আমি কি আমার মনে আছি?
এইভাবে স্মরণাতীত থাকতে থাকলে
বুঝবার উপায় কি থাকে তখন যে, আমি আছি?
আবার, আমি মনে থাকা মানে আমারি থাকা
নাকি তখন, তাহাদের থাকাটাই প্রামাণ্য?

২৯ এপ্রিল ২০১০

 

উদাসীন লেখকের পাঠকদর্শন

গণপৃষ্ঠী লেখক জনাঞ্চলে গিয়া খোঁজে হাসিমুখ,
কিছু আয়তলোচন—তাঁর দিকে ঘোরায় বর্তুল হয়ে আছে,
একহাতা একজন কেউ হাত ভিক্ষা করে বেড়াইতেছে,
তালে তালি দিয়া উঠবার পারে যেন, অথবা হাতের কারসাজি নিয়া সবাই ব্যস্ত বিধায়
নিজের পেটে জুতা পরাইয়া পা দুইটারে নিয়া আসতেছে হাতের কাছে,
একহাতে টানতেছে পায়ের আঙুল রুটিনমাফিক, দরকারি দৈর্ঘ্য পেলে পর
তিন হাত-পায়ের ত্রিতালে হইয়া উঠতেছে তালের সর্দার।
অথবা লেখকের সমূহ ঔদাসিন্য জেনে ফেলা দুইহাতা কোনো পাঠক
হঠাৎ লোভে এক হাত লুকাইয়া ফেলতেছে ত্রিতালের সম্ভাবনায়…
উপরের দিকে তিনজন মেঘ একগুচ্ছ হবার বাসনায়
ডাকতেছে আরো দুই বা তিনজনকে, কেননা
কতটুকু আর শুভেচ্ছা দিতে পারে লেখকেরে ঐ দরিদ্র সংখ্যা!
অথবা তারা বৃষ্টির ফোঁটায় সওয়ার হয়ে নাইমা আসতেছে নিচে
রোদ পোহাতে থাকা উঠানে লেখকের শীতার্ত পুস্তক দেখে।
পুস্তকেরা আরো ভিজে যেতে যেতে ভিজাইয়া দিতেছে মেঘেদের
মেঘেরা ভুলে যাইতেছে ধীরে, তাহাদের ফিরে যাবার কথা আকাশে…
এইসব সম্ভাবনার উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে
চোখ আর পিঠের বিরোধ বিষয়ে হাড়কাঁপানো চিন্তা চিন্তা করতে করতে আমাদের লেখক
নাকের পাশ থেকে একটা চোখ তুলে নিয়ে বসাইয়া দেন পিঠের মাঝখানে।

২৯-৩০ এপ্রিল ২০১০

 

অধিবিদ্যায় জল ও ফিজিক্স

উপুড় করা একটা কড়াই এই রাতের আকাশ, তারা তারা, মানে ফুটা ফুটা।
ছোটরাত পূর্ণিমায় সূর্য উঠে গেছে পুবে, পশ্চিমে চাঁদ ডোবে নাই তখনো—
এমন প্রত্যুষে আমি উপরে আর ডাইনে-বামে তাকাইয়া দেখতে পাই পুরাটা কড়াই;
সূর্য আর চাঁদ—দুই মহাফুটা পুবে আর পশ্চিমে,
তখন মনে হতে থাকে তারাফুটাময় উপুড় কড়াইয়ের আংটা।
এই কড়াইটারে আমি চিৎ করে ফেলি,
অস্ফূট করে তুলি মিশুক দস্তায়, তারপর
মার্ক্স আর দেরিদার সিকিউরিটি ক্যাম এড়াইয়া
অধিবিদ্যা থেকে কিছু জল এনে ভরে দেই ,
ময়লা ময়লা নদী আর সমুদ্রগুলা চ্যাংদোলা করে ফেলে দেই আকাশ কড়াইয়ে,
পাহাড়ে ঝর্নাগুলার গোড়ায় যেহেতু আছে কিছু পর্যটন টয়লেট,
তাহাদের স্নানের পালা আসে অতঃপর…
এইসব করে টরে ফেলে চলে এলাম অধিবিদ্যায়,
সাথে আনা কতকটা জৈবসার ছড়াইয়া দিলাম,
এইবার অধিবিদ্যায় কিছু ধুরন্ধর ফিজিক্স চাষ করবো ভাবতেছি।

৩০ এপ্রিল ২০১০