রক মনু

সেলিম আল দিন #metoo

সেলিম আল দীনের কাহিনি পইড়েন আপনেরা। #metoo মুভমেন্ট ওয়েস্টে অনেকখানি ক্রেডিবিলিটি হারাইছে, স্পেশালি আজিজ আনসারির ঘটনায়; কিন্তু সেক্সুয়াল প্রিডেটর সমাজে বাস্তব, হামলা বাস্তব; তাই কেউ একজন কোন একটা ঘটনার কথা কইলো, নালিস করলো বা করলো না কোন অথরিটির কাছে, তাতে আগে থিকাই কোন একটা ধইরা লওয়া বেইনসাফি। ইনোসেন্ট যেমন ভিকটিম হইতে পারে, তেমনি আগের কোন ইনোসেন্ট ভিকটিম হয়তো ইনসাফ পাইলো না! পার পাইলো কোন প্রিডেটর, আরো কত কত ইনোসেন্ট ভিকটিম হবার হিস্ট্রিক্যাল কন্ডিশন যেন বানাইয়া না রাখি আমরা! আমাদের আগামির হেলদি সমাজ বানাইতে যতোটা পারি আগাইতে হবে, তাতে এইসব নালিস আমাদের মদদ দিতে পারে।

সেলিম আল দীন চেতনার কারবারি একজন, জাবি’তে চেতনার কারবারিদের কায়কারবার তো জানেনই আপনেরা! সেলিম সাব যদি আসলেই অমন হইয়া থাকেন, তারে সেই ৩১ বছর আগে ঠেকানো গেলে হয়তো মানিকেরা গজাইতেই পারতো না!

-------------------------

কিন্তু ব্যাপারগুলা আমাদের দেখতে হবে আইনের ফিলসফি’র আওতার ভিতরে থাইকাই, আমাদের ইমোশন থাকবে, কিন্তু তা যেন আরেকজন মাসুমকে (ইনোসেন্ট) ভিকটিম বানাইয়া না তোলে, হুশিয়ার!

মডার্ন স্টেটে আইনের ফিলসফিতে ক্রিমিনালকে সাজা দিতে চায় স্টেট (সমাজ নামের কালেকটিভ এইখানে স্টেটের লগে একাকার), আদালত হইলো কেউ ক্রিমিনাল কিনা সেইটা যাচাই করার কারখানা। এখন একদিকে সমাজ ও স্টেট–হিউজ পাওয়ার, আরেকদিকে পসিবল ক্রিমিনাল একলা, এই সিচুয়েশনে আদালত যদি নিউট্রালও হয় তবু ব্যক্তি ক্রিমিনালের উপর বিরাট প্রেশার পড়ে, তাতে পাওয়ার এবিউস হবার সম্ভাবনা। তখন মাসুমকেও সমাজ-স্টেট ক্রিমিনাল হিসাবে পোরমান কইরা ফেলতে পারে (কনফেশনে বাধ্য করা মনে করেন)!

এই কারণে আদালত বা আইনের এসেন্স হইলো আসামী পক্ষে, তাই কনফেশনও ক্রাইমের সাবুদ-আলামত হিসাবে লয় না আদালত! তার বাইরে সাক্ষ্য-সাবুদ দিয়া পোরমান করতে হবে আপনার, না পারলে আসামী বেকসুর!

তাইলে বিরাট ডিলেমা কিন্তু, আপনে ভিকটিম, আপনে জানেন, আপনের কথা আমিও বিশ্বাস করলাম, কিন্তু আমাদের এজমালি এই ইমোশন আদালতে কিছুই পোরমান করবে না! দিস ইজ স্যাড, কিন্তু আইনের ফিলোসফিতে এইসব ডিলেমার ফয়সালা হইয়া আছে, স্যাড হইলেও মাইনা নিতে হবে! নাইলে আদালত বইলা কিছু থাকে না, আদালত হইয়া ওঠে আরেকটা মব!

কিন্তু সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ঠেকাইতে আমাদের কোন একটা চিপাচাপা বাইর করতে হবে! সেক্স রিলেটেড ক্রাইমের বেলায় ভিকটিম এবং ক্রিমিনাল ছাড়া কেউ হয়তো হাজির থাকেই না শতকরা ৯০% ঘটনায়! দুইজনার দেখা হওয়াই ঘটনার সবগুলা শর্ত পুরা কইরা ফেলে, এই ব্যাপারে আর কোন হাতিয়ার লাগে না, ঘটনার চিনা/আলামত থাকে না প্রায়ই! আইনের ঐ ফিলসফি পয়দা হবার কালে সেক্স রিলেটেড এই ক্রাইম হিসাবে রাখে নাই মালুম হয়!

তাইলে কি করবো আমরা? ঐ ফিলোসফি পুরা মানতে যাইয়া আমরা কি ৯০% প্রিডেটরকে পার পাবার সিস্টেম কইরা দিবো? নাকি কোন চিপাচাপা বাইর করবো ফিলসফির, কিছুটা মেরামত কি করা যায় না?

কিন্তু কিছু একটা করতে শুরুতেই আইনের ঐ মুশকিল বা ডিলেমাটা মানা দরকার আমাদের, তারপর রফা করার দিকে আগানো যাইতে পারে! #metoo’র যারা হার্ডকোর একটিভিস্ট আর আমরা যারা সমাজে ইনসাফ চাই, হামলা হবে না তেমন একটা হেলদি সমাজ চাই, দুই পক্ষের ডায়লগ দরকার! ইনসাফ এবং হেলদি সমাজ যদি আমাদের আখেরি খায়েশ হয়, আমরা তাইলে একমতই আছি গোড়ায়! ডায়লগটা হইলো কে কতটা ছাড় দিয়া রফা করা যায়, সেইটার তালাশ! গোড়ায় যে একমত, কদ্দূর ঘুইরা আবার কোন পয়েন্টে মিলতে পারি আমরা?

পোরতিটা নালিশের যাচাই হওয়া দরকার, এইটা আমার ১ নম্বর পয়েন্ট। সেলিম সাবের ঘটনায় ইনভেস্টিগেশনের মওকা বিরাট। কেউ কেউ কইবেন, উনি মরছেন, কেন ঘাটাই! নো! অনেকেই মরছেন, তো ছাড়ছেন নাকি? হিটলার? আইউব? স্ট্যালিন? বঙ্কিমচন্দ্র? গান্ধি? শশাঙ্ক? বখতিয়ার খিলজি? এনারা তো কেউ পেনশন পান না, সেলিম সাবের বরাতে তো এখনো পেনশন পাবার কথা তার ফেমিলির! উনি যদি অমন প্রিডেটর হন, রাষ্ট্র কেন জনতার পয়সা ওনারে দেবে এখনো? ওনার যেসব এওয়ার্ড, তা কেন ফিরাইয়া লওয়া হবে না! ওনার নামে মহুয়াতলা কেন থাকবে জাবি’তে? ব্যক্তির মরণ সমাজে তার পালা খতম করে না।

এই ঘটনার ইনভেস্টিগেশন না হওয়া ইনসাফের খেলাপ, ঘটনার লগে রিলেটেড অন্তত ৩০ জন এখনো বহাল তবিয়ত! জাবি’র আরেক মাস্টারের নাম আসছে, ঐ মাইয়ার ক্লাসমেটরা আছে, ড্রামা এন্ড ড্রামাটিক্সের আরো আরো তালেব এবং মাস্টারও তখন জানার কথা ঐ মাইয়ার দাবি। আমাদের নজর দেবার ব্যাপার হইলো, ঐ মাইয়া যদি ভুয়া দাবি করতো, তাইলে সেলিম সাবের আরো কড়া রিঅ্যাকশন হবার কথা; মাইয়া যখন মাফ চাইতে কইছে তখন সেলিম সাব ঘটনা অস্বীকার যায় নাই, আরেক মাস্টারের লগে মিলে মাইয়ারে বাইর কইরা দিছে। এক্সামের ব্যাপারে মাইয়া যেই পয়েন্ট–সেলিম সাব তারে জিরো দিতো রেগুলার, এই ব্যাপারে ক্লাসমেটদের লগে আলাপ করা যায়। আর কোন মাইয়ার এমন ঘটনা আছে কিনা, সেইটাও তালাশ করা যায়।

কোন একটা নালিশ আসলে একটা গপ্পো, আমার হিসাবে এই মাইয়ার গপ্পো বিলিভেবল/বিশ্বাস করার মতো। এইটা আমাদের আমলে লইতে হবে। ইনভেস্টিগেশনের বিরাট ফায়দা আখেরে, হয় আমরা প্রিডেটর উগড়াইয়া ফেলতে পারলাম, বা বেকসুরকে বেকসুর কইতে পারলাম! আইনের ঐ ফিলসফিতে এইভাবে আমরা চিপা রাস্তা পাইতে পারি; গপ্পোটা মিলতেছে কিনা, যাচাই করতে গেলে খাড়া থাকতে পারতেছে কিনা, আশপাশের ঘটনার প্যাটার্নে ঐ নালিশের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা যায় কিনা–এমন কিছু ক্রসচেক কইরা ডাইরেক্ট আলামত বাদেই হয়তো আমরা রায় পাইতে পারি!

আইনের ফিলসফিতে এই চিপা দেবার বদলে #metoo একটিভিস্টদের কিছু ছাড় দিতে হবে; এক নম্বর হইলো, আইনের বিচারের সিস্টেমকে হেলায় উড়াইয়া দেবার উপায় নাই! যা করার আইনের ভিতর দিয়াই করতে হবে! কোন একটা ঘটনায় নিজের পাট খেয়াল রাখা দরকার, আপনে যা কন নাই, তা বুইঝা নেবার দাবি করতে পারেন না কারো কাছে! আপনের কোন একটা কামের কতগুলা অর্থ আছে সমাজে, আপনে কইলেই হবে না যে, ঘটনা তা না! এইখানে আরেকটা ঘটনা কইতে পারি। আসমাউল হোসনা নামে এক মাইয়া মনে হয় একটা নালিশ করছেন। ঘটনাটা এমন,

দুই বার দেখা হইছে আগে, পাবলিক প্রোগ্রামে; তার পর ফেসবুকে কানেকশন। চ্যাটিং কয়েকদিন। আস্কিং আউট। রাজি। শিল্পকলায় দেখা সন্ধ্যায়। শেয়ারিং অন কমন ইন্টারেস্টস্। দুইজন পাশাপাশি হাঁটা, সুনসান আধা আন্ধারে। মাইয়ার কান্ধে হাত রাইখা পোলা কয়–বয়স তো অনেক আমার, কিন্তু ফ্রেন্ড হইতে পারি তো আমরা। আন্ধারে আনইজি লাগতেছিল মাইয়ার। তবু কইলো না কিছু, হাঁটতে থাকলো এক লগেই। লিপ-জেল দিল পোলা, অফার করলো মাইয়ারে। নিলো না মাইয়া। হঠাৎ জাপটে ধরলো পোলা, চুমা দিল ঠোঁটে, বডি হাতাইলো মাইয়ার। ধাক্কা দিয়া পোলারে সরাইয়া দিল মাইয়া, প্রায় দৌঁড়াইয়া বাইরাইয়া গেল শিল্পকলা থিকা, রিক্সা লইয়া বাসায়।

এমন একটা ঘটনারে কি নাম দিবো আমরা? ঐ পোলা আর মাইয়া আর বাইরের আমরা–কার রিঅ্যাকশন কি কি হইতে পারে?

আমি নাম দিলাম: ফার্স্ট ডেট গন রং। আখেরি পার্ট বাদে খুবই নর্মাল ডেভলাপমেন্ট, নর্মাল ডেটিং, দুইজন মেটিং-খায়েশী মানুষের জন্য দরকারি একটা ডেভলাপিং স্টোরি আছিল, আখেরে প্যাচ লাইগা সম্ভাবনার পুরাটা মরলো :(!

এইটারো ইনভেস্টিগেশন হইতে পারে, বাট এই ব্যাপারে আরেকটা লিখবো, আপাতত গালি খাই কিছু।

১৪ নভেম্বর ২০১৮, জাহাজে