রক মনু

পাবলিক ডায়েরিঃ মানুষের ডিফল্ট খাসলত…

১৭ মার্চ ২০১৯

মমতা কোন ডিফল্ট খাসলত না মানুষের; আপনারে খাইয়া আপনের শরীলের ভিতর বাচ্চা এবং টিউমার–দুইটাই বড় হইতে থাকে, এই দুইয়ের মাঝে যারে চাইবেন মনে, তার পোরতি মমতা বাড়তে থাকবে, সে টিউমারও হইতে পারে, বাচ্চাও হইতে পারে। যারে চাইবেন না, সে আপনার শরীলে ইনভেডার মাত্র, তারে খালাস করাতেই মুক্তি।

-------------------------

আর সব স্পেসিসের তুলনায় মানুষ এইখানেই যুদা যে, মানুষ না চাইতে জানে, টিউমার তো বটেই, বাচ্চাও।

দুনিয়ায় এনভায়রনমেন্টালিজম এবং কনজার্ভেশনের ছবক কুত্তা-বিলাই-কাছিমে আমাদের মমতা বাড়াইছে, ‘পেটিং’ ভালো লাগে আমাদের। ওদিকে, আমরা একেকজন এতোই বড়ো যে, আশপাশে আরেকটা ‘ইগো’ সইতে পারি না আমরা পেরায়ই, আরেকটা মানুষের তুলনায় কাছিমের ইগো এতোই পুচকে বা আমাদের বোঝাবুঝির আওতার বাইরে যে, কাছিম আরাম দেয় অনেক, কুত্তা-বিলাইয়ের লয়্যালটিও আরামের, মানুষের লগে রিশতার মতো টেনশন নাই কোন। আরেকটা মানুষের বাচ্চা মানে তো আরেকটা রাক্ষস!

এদিকে, দেশের পলিটিক্যাল কালচারে মমতা নাই; টর্চার, ঘেন্না আর দখলদারি; ভালোর বদলে খমতার ইজ্জত বেশি সমাজে, ভয় এবং মানের ভেদাভেদ নাই হইয়া গেছে, অন্যরে দেবার মাঝে সুখ নাই আর, দখলেই কেবল মন হাসে আমাদের। অন্যরে বাঁচতেই দেই না আমরা, নিজের মতো থাকার কোন স্পেস নাই, জঙ্গলও এখন ফরেস্ট দপ্তরের প্রোপার্টি। জারজ একটা বাচ্চা কি বার্থ সার্টিফিকেট পাইতে পারে? স্কুলে যাইতে পারবে? এমন এক মা কি বাসা ভাড়া নিতে পারবে? চাকরি পাবে? বেশ্যাপাড়ায় যাওয়া ছাড়া কি উপায় রাখছি আমরা? কেবল নাপছন্দ কইরাই তো থামি নাই আমরা, আমাদের ত্রিসীমানায় ঘেষতে দেই না আমরা, এমনকি বেশ্যাপাড়ায় হামলা চালাইয়া, পিটাইয়া খেদাইয়া দিছি তো আমরা! অন্যরা তাই আমাদের নাপছন্দের কিছুতে মমতা রাখে না, মমতার হিম্মত রাখে না আর।

কিন্তু তবু, তাবত এই সিস্টেম কাউকে খুনের দিকে লইয়া গেলেও সবাই তো খুন করে না; তাই খুনী আছে আলবত এবং খুন ঠেকাইতে হবে আমাদের। ট্রাংকে মরা বাচ্চা চাই না তো আমরা!

এমন ঘটনা ঠেকাইতে সমাজে অনেকগুলা সেফটি নেট থাকার কথা; আমাদের কন্সট্রাকশন সাইটেই অবশ্য সেফটি নেট থাকে না পেরায়ই, তবু এক দুই কদম হইলেও আগাইতে হবে তো!

আগে আমি এক লেখায় বিয়া এবং তালাকের ঘটনারে খুব সোজা এবং হালকা ব্যাপার হিসাবে লইতে কইছিলাম; আমাদের শক্ত এবং খুবই মচকা সোশ্যাল স্পেসে খুবই পিছলা নড়চড়ার জন্য বিয়া এবং তালাককে হাতিয়ার হিসাবে এস্তেমাল করা দরকার। বিয়া আপনাদের এমন সিকিউরিটি দিতে পারে যে তাড়াহুড়ার দরকার কমবে, জাগা-বেজাগায় ইন্টারকোর্সের দরকার কমাইয়া দেবে; তাড়াহুড়ায় প্রিপারেশনের ঘাটতি হয়, টাইম মতো কন্ট্রাসেপটিভ কিনতে ভুইলা যাইতে পারেন! ইমার্জেন্সি সিস্টেম থাকলেও খরচ বেশি অনেক। ঐ পয়সা বরং কাবিনে খরচ করেন; দেনমোহর অল্প রাখেন, তালাকের অথরিটি সমান ভাগে ভাগ করেন, মাইয়ারা হুশিয়ার থাকেন স্পেশালি, কাবিননামায় একটা ধারা আছে তালাকের অথরিটি পাবার। খুন করতে পারি আমরা যে কেউ, কিন্তু আমাদের ভিতরের সেই শয়তান যেন বাইরাইতে না পারে, সেই ব্যাপারে হুশিয়ার থাকা দরকার; খুন কইরা আপনে যদি ধরাও না পড়েন, তবু মনে আর শান্তি পাইবেন না জিন্দেগিতে! অথবা আপনে ফুলটাইম খুনী হইয়া যাইবেন!

পার্টনার বাছাই করার ব্যাপারে হুশিয়ার থাকেন; মানুষ চেনার মুন্সিয়ানা দরকার সবার। সিনেমা-কাহিনি পড়েন, নিউজপেপারে ক্রাইম স্টোরি পড়েন, সমাজে মানুষের উপর নজর দেন আরো। মনে রাখবেন, মানুষের সকল সুরত আসলে একেকটা মেকআপ, পোরতি মানুষের অনেকগুলা সুরতের ডিডাকশনের ভিতর দিয়া সেই মানুষের উপর এবং নিচের সীমা বোঝা দরকার, নাইলে তার ব্যাপারে ধুরন্ধর ডিসিশন লইতে পারবেন না কিন্তু, ভুল হবে। তবে ভুল কিন্তু হবেই, একলা সামাল দেবার প্রিপারেশন রাখেন মনে।

এদিকে, সমাজে আমাদের কিছু স্পেস বানাবার দরকার আছে। আমাদের রাষ্ট্র মানুষের মরণ বা ক্রিমিনাল হইয়া ওঠায় তেমন চিন্তিত হয় না, ঐগুলা বরং ব্যবসার মওকা রাষ্ট্র এবং তার বাহিনিগুলার জন্য। সমাজে পয়সাঅলা লোক আছেন, তারা কিছু স্পেস বানাইতে পারেন, জাউরা বাচ্চার মায়েদের জন্য কিছু এস্কেপ রুট বানাইতে হবে আমাদের; এতিমখানা যেমন একটা। ধকল সইয়া ওঠার জন্য ২/৩ মাসের একটা সেফ স্পেসও হয়তো দরকার। কুত্তা-বিলাই’র পেরায় সমান ইজ্জত মানুষের বাচ্চারেও দিতে পারেন কিন্তু ধনীরা, পেটিং খরচের একটা ভাগ মানুষের বাচ্চাদের জন্য চ্যারিটি করতেই পারেন! মোটের উপর, সমাজে দম ফেলার এমন একটা জাগা বানানো দরকার যাতে ভুলের খেসারত খুন কইরা না দিতে হয়, বাচ্চারে যেন টিউমার না ভাবার উপায় থাকে একটু!

মডার্ন মেডিকেল সায়েন্সের একটা নেসেসারি কন্সিকোয়োন্স হইলো মানুষের জীবনের দাম কইমা যাওয়া! আগে ১০টা বাচ্চার মাঝে হয়তো ৭ টা বাঁচতো, কোথাও বা ৩ টা; এখন ৯/১০ টাই বাঁচে। ফলে দুনিয়ায় মানুষের ফলন টেকসই হইছে অনেক। অনেক কালচারে এই ঘটনার লগে তাল মিলাইতে মানুষের জনম কইমা গেছে, জনম দেবার খায়েশ কইমা গেছে সমাজে; জনমের ব্যাপারটা ইনফর্মড ডিসিশন নেবার মামলা হইয়া উঠছে। তাতে মানুষের দামটা মোটামুটি ঠিক থাকতে পারছে, কোথাও এমনকি বাড়ছে; কেননা, ঐ মেডিকেল সায়েন্স এবং আরবানাইজেশনের কারণে একটা বাচ্চা মানে হিউজ ইনভেস্টমেন্ট, এবং যতো ইনভেস্টমেন্ট ততো মায়া।

কিন্তু আমাদের দেশে নকল ডেভলাপমেন্ট হিসাবে কেবল বাচ্চা বাঁচাইয়া রাখার সাইনবোর্ডটাই হইছে, ইনফর্মড ডিসিশন নেবার ব্যাপারটা ডেভলাপ করে নাই! বাচ্চা এখনো হইয়া যায় মাত্র! ইনফর্মড ডিসিশন না হবার কারণে ইনভেস্টমেন্টও খুবই অটো একটা ঘটনা, খুবই বেখেয়াল! ওদিকে, ক্যাপিটালিস্ট মন গজাইছে ঠিকই টিভি, বাজার, অ্যাড ইন্ডাস্ট্রির মারফতে, তাই ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে ভাবি না বইলা বাচ্চায় মায়াও গজায় না ততো! তাই এতো টেকসই ফলন হইতেছে যে, খোদ বাচ্চারই দাম কইমা গেছে।

এমনই সব নজরে না পড়ার মতো মিহি সব ঘটনায় মন দেওয়া দরকার আমাদের! খুনী ধরা এবং সাজা দেওয়াটা হইলো এন্টিবায়োটিক খাওয়া, ইনফেক্টেড না হবার ব্যাপারেও মন দেওয়া দরকার কিন্তু… সুপারবাগ হইয়া উঠতেছে কিন্তু সমাজের বহু কিছুই…

——

১৮ মার্চ ২০১৯

জাবি’র ট্রাংকে মানুষের মরা বাছুর পাবার ঘটনায় খুব শরম পাইতেছেন জাবি’র অনেকে। কেন পাইতেছেন!? আপনে কে আসলে জাবির! জাবিতে আপনের কোন পাওয়ারও নাই, দায়িত্বও নাই; জাবি যেন একটা ফেমিলি–এমন একটা ভাবনার পাটাতনে শরম আইতেছে মনে? এই ফেমিলি ভাবনা তো ভুয়া, সরকারি দলের এক এম্পায়ার জাবি, আপনারে কানে ধইরা মিছিলে লইয়া যায়, সালাম দিয়া সিটে থাকতে পারেন, ‌র‌্যাগ খাইয়া কানছেন হয়তো; এমন এক কয়েদখানা এবং ইজ্জতের ৩/৪ তলা একটা সিস্টেম কেমনে আপনের ফেমিলি, কেন ভাবেন! জাবি আপনের কেউ না, আপনের কেউ হইলে সে দেশের জনতা; আপনে একজন সাবসিডি খাওয়া লোক, জনতার পয়সায় থাকতেছেন, পড়তেছেন, খাইতেছেন জাবিতে। শরম থাকলে এই ব্যাপারে পাইতে পারেন, জনতার ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে আপনে কি ফেরত দিলেন/দেবেন জনতারে, জিন্দেগিতে…

ওদিকে, আপনের ফেমিলির কেউ আকাম করলেই বা কেন নেসেসারিলি শরম পাইবেন আপনে! যেইখানে আপনের পাওয়ার এবং দায়িত্ব আছে, সেইখানে ফেল করলেই কেবল শরম পাইবেন।

এইসব ভাবনার আরেক পিঠ হইলো, জাবি বা ঢাবি–এমন সব স্কুল-মাদ্রাসারে কিছু কইলে এগুলার তালেব-মাস্টারদের খুব গায়ে লাগে! এই গায়ে লাগা বা শরম পাবার পিছে ঐসব ভুয়া এবং বেহুদা কতগুলা ভাবনা।

এইগুলা ছাড়েন; এমনসব ঘটনা হইলো ছাড়ার মওকা, নেশনালিজমের ভুতের আছর থিকা মুক্তির মওকা। পাওয়ারের সিডাকশন টুলের একটার নাম নেশনালিজম এবং এইটা এমন এক কিছিমের সিডাকশন, আনলাইক লাভ, পুরাটাই আপনের লোকসান! পিরিতের সিডাকশনে তো আপনের লাভের অনেক সম্ভাবনা, পাওয়ারের এই সিডাকশন আপনারে কেবল এক তরফা খাইয়া ছাড়ার ফন্দি…