রক মনু

পশমী মাইয়া

বডি হেয়ার পোলাদের এক রকম, মাইয়াদের আরেক রকম; কিন্তু এই ব্যাপারে মাইয়াদের উপর হিউজ কালচারাল প্রেশার আছে, পোলাদের উপর প্রায় নাই। গত ৬০/৭০ বছরে বিকিনি মাইয়াদের উপর ঐ প্রেশার কয়েকগুণ বাড়াইছে।

পোলাদের দাড়ি-মোচ থাকতে পারে, নাও পারে; বগল বা বডির আর আর জায়গায় থাকা না থাকা লইয়া নেসেসারি ব্যাপার নাই বিশেষ। ওদিকে, মেয়েদের?

-------------------------

দাড়ি-মোচ নেচারালি বিশেষ ওঠে না মেয়েদের; কিন্তু হাত-পায়ে লোম থাকা খুবই নেচারাল; পায়ের লোম চোখে পড়ার মতোই মোটা হইতে পারে।

কিন্তু পাবলিক স্ফিয়ারে যাবার বেলায় স্কার্ট কিসিমের মাইয়াদের খাট খাট ড্রেস খুব চালু হইতে থাকলো ঠিকই, কিন্তু পায়ের লোম রিকগনাইজ করা হইলো না! সো, মাইয়াদের উপর প্রেশার বাড়লো, পা কামাইতেই হবে, নাইলে যেন মাইয়া হিসাবেই নিজেরে দাবি করা যাইতেছে না! হাত কামানোর প্রেশার তো আগে থেকেই আছে!

এক সপ্তা পা কামায় নাই, এমন এক মাইয়ারে সি-বীচে যাইয়া বিকিনি পইরা নামতে আনইজি ফিল করতে হবে, নামতেই রাজি হবে না মনে হয়! তখন বুরকিনি টাইপের কিছু তার জন্য আরামের হইতে পারে!

আমাদের দেশে কখনো হয়তো স্কার্ট পইরা অফিসে যাইবে মাইয়ারা, বিকিনি পইরা নামবে কক্সবাজারের সাগরে; তা যদি হয়ও কোনদিন, তার আগে আমাদের কালচারাল ফাইট শুরু করা দরকার বডি হেয়ার ইস্যুতে। যেসব অ্যাড দেখা যায় টিভি বা ম্যাগাজিনে তাতে মেয়েদের বডি হেয়ার সবসময়ই নগদ নগদ কামানো।

স্যালোয়ার বা শাড়ি পরা মেয়েদের পায়ের লোম কামানো লাগে না; বাস্তবে আমাদের দেশে এখনো মাইয়াদের বডি হেয়ার থাকতে পারবে না বলে কালচারাল এক্সপেক্টেশন নাই বিশেষ, খুব ওয়েস্টার্নাইজড লোকজনের মাঝে কিছু থাকতে পারে। আমাদের দেশে হাত কামানোর প্রেশারও নাই; বগলের লোম কামানো বা নাকের ভিতরের লোম কাটা–এগুলি হেলথ ইস্যুও অনেকটা; বগল দেখানোও তো হরদম ব্যাপার হয় নাই দেশে!

মোটের উপর কইতে চাইলাম, খাট ড্রেসে আমরা যদি যাইতেও চাই, ওয়েস্ট থেকে বডি কামানোর প্রেশারও যেন ঢুইকা না পড়ে! লম্বা ড্রেস পরে বইলা আমাদের দেশের মেয়েদের টাইম কম দিতে হয় খাট ড্রেসের সমাজের মাইয়াদের চাইতে! বিউটি প্রোডাক্টও কম কিনতে হয়!

জিলেট আলবত তার রেজরের আওতায় নিতে চায় সারা জাহানের মাইয়াদের শরীল, খাট ড্রেস জিলেটের দালাল হইয়া উঠবে, আমরা যদি মাইয়াদের বডি হেয়ার ইস্যুতে আমাদের কালচারাল ফ্লেক্সিবিলিটি হারাইয়া ফেলি জিলেটদের চাপে।

২৫ আগস্ট ২০১৬