সুইসাইড, দ্য গ্রেটেস্ট পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট

শুরুতে ‘কখনো আসেনি’ নামের সিনেমা লইয়া ফাহমিদুল হকের ভাবনা পড়েন। এই সিনেমা বানাইছিলেন জহির রায়হান, তারপরেই মনে হয় চালান খোয়াইয়া উর্দু সিনেমা বানানো শুরু করছিলেন :)!

“জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১) বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসেই এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টিকর্ম। একজন প্রায়-বেকার তরুণ পেইন্টারের ঘাড়ে দুই বোনের দায়িত্ব, অথচ আর্থিক সামর্থ্য নেই তার। অন্যদিকে প্রতিবেশী ধনাঢ্য ব্যক্তির সংগ্রহে বহু ভাস্কর্য, তার সংগ্রহের আছে রক্তমাংসের এক নারীও। অন্যান্য সংগ্রহের মতোও এই নারীর মালিক সে। সেই নারীর সঙ্গে পেইন্টার যুবকের সম্পর্ক হয়, কিন্তু সংগ্রহশালা থেকে নারীকে উদ্ধার করতে পারে না যুবক। এদিকে দারিদ্র্য সইতে না পেরে দুই বোন আত্মহত্যা করে। মৃত দুই বোনের ছবি এঁকে পেইন্টার যুবক নিজেও আত্মহত্যা করে। ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায় আরেক পরিবার আসছে বাড়িটিতে। সেখানেও এক যুবক, তার দুই বোন সঙ্গে। আর সংগ্রহশালার নারীটি তখনও বন্দি, আগের মতোই। এভাবে এক রহস্য দিয়েই চলচ্চিত্রটি শুরু হয়েছিল এবং রহস্য দিয়েই চলচ্চিত্রটি শেষ হয়। রহস্যময় এই চলচ্চিত্রের ধনাঢ্য ব্যক্তিটিও স্বৈরতান্ত্রিকতা ও পুরুষতান্ত্রিকতার এক প্রতিনিধি যেন। রহস্য ও প্রতীকের মধ্য দিয়ে জহির রায়হান যেন এক রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রে। ‘কখনো আসেনি’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কারখানার মাপে এক অগ্রগামী সৃষ্টিকর্ম; দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তা দুর্বোধ্যই থেকে গেছে। ফলে এধরনের চলচ্চিত্র জহির রায়হান পরে আর নির্মাণ করেন নি।”/ Fahmidul Haq
………..

-------------------------

দ্যাখেন, কেমনে কেমনে দেশে সুইসাইড গ্রেটেস্ট পলিটিক্যাল অ্যাকশন হইয়া উঠলো; এসথেটিক সল্যুশনও জীবন নামের ঝামেলার! জহির রায়হার এই সল্যুশন দেখাইলো আরেকবার, সেইটারে এখন আবার আরেকজন ইন্টেলকচুয়াল আগাইয়া থাকা আর্ট হিসাবে সার্টিফাই করলেন।

আজকে ড. জাফর ইকবাল নামের আরেকজন মাস্টার/ইন্টেলেকচুয়াল আবার কখন, কোন ধরনের ফেইল্যুরের পরে সুইসাইড করা উচিত সেই এথিকসও দেখাইয়া দিলেন। এর আগে আরেকভাবে জীবনানন্দ দাশের দেখানোটাও জনপ্রিয়। আহমদ ছফাও গায়ে আগুন দিয়া মরতে চাইছিলেন পলিটিক্যাল অ্যাকশন হিসাবে।

এগুলির ফল তো প্রায়ই পাই আমরা; টিজ করলে সুইসাইড করে দেশের মাইয়ারা প্রায়ই, রেপড হইলে করে, কোন মাইয়া সেই উদ্যম না পাইলে ফেমিলি বইলাও দেয় যে তার সুইসাইড করা উচিত; প্রেমে ছ্যাকা খাইয়া সুইসাইড করে, চাকরি না পাইয়া করে, কয়দিন আগে একজন ফ্রিডম ফাইটারও সুইসাইড করার কথা বলছিলেন কেন যেন, হুমকি হিসাবে। ‘আমার মরার জন্য অমুক দায়ী’–এমন প্রতিশোধের সুইসাইডও করেন অনেকে; নিজের দাম বুঝাবার জন্যও করেন এমনকি!

এই অঞ্চলের পলিটিক্যাল হিস্ট্রিতে ব্যাপারটা আরো একভাবে আছে মনে হয়; গান্ধী থেকে নজরুল পর্যন্ত অনশন করছেন, নিজের ইচ্ছায় না খাইয়া মরার ঘোষণা তো খুবই হিট মুভমেন্ট!

যেই দেশ জনসংখ্যারে মনে করে প্রধান সমস্যা, আনএমপ্লয়মেন্ট এমন একটা মাত্রায় যে, চাকরিজীবী মরলে আনন্দ হবার সম্ভাবনা, যেই দেশে সবচাইতে বেশি মারতে পারা লোক ইলেকটেড হয়, গণধোলাইয়ে মরা দেখাটা বিরাট প্লেজার, ক্রসফায়ার জনপ্রিয় একটা ব্যাপার, সেই দেশে মরার ভয় দেখায়, হুমকি দেয় আবার! সো ফানি!!