হাউ লিবারালস সুইসাইড!

ট্রাম্পের টেবিল থিকা ফাইল সরায় হোয়াইট হাউজের আমলারা, আন্ধারে রাখে প্রেসিডেন্টকে; এইটা আবার বেনামী চিঠি ছাপাইয়া জানায় দুনিয়ারে! ইলেকটেড প্রেসিডেন্টের হুকুম মানে না!

তাইলে গণতন্ত্র আর ইলেকশনের অর্থ কি থাকলো! ওবামাও দেখলাম, আমেরিকার এই দশারে কইছেন ‘নট নর্মাল’। কেননা, আমলারা তো ইলেকটেড না, জনতার কাছে তাদের জবাবের মামলা নাই।

-------------------------

হোয়াইট হাউজ রিপাবলিককানদের দখলে, ট্রাম্প বাদেও। সেই রিপাবলিকানরাই এমন করতেছে ট্রাম্পের লগে। আমেরিকার বাম-ডেমোক্রেটদের কাছে রিপাবলিকানরা কনজার্ভেটিভ হইতে পারে, বাকি দুনিয়ার কাছে তো লিবারালই। ডেমোক্রেটদের মাঝে হয়তো একটু মার্ক্স টান আছে মাত্র। তাছাড়া ট্রাম্পে বহু রিপাবলিকানও সমান নাখোশ, আমাদের বাচ্চার বানানো বাপ ম্যাককেইনও মরার আগে তক তেমনই একজন, মরার পরের খবর জানি না অবশ্য। জুনিয়র বুশ আগে ভোটের ইজ্জতের ছুতায় ওবামা লইয়া কমেন্ট করতে নারাজ হইছিলেন আগে, সেই বুশ এখন ট্রাম্প ধুইয়া সাফ করতেছেন! ট্রাম্পের আমেরিকারে ‘নট নর্মাল’ কইতেছেন ওবামা।

দেখা যাইতেছে, লিবারাল গণতন্ত্রের পক্ষে যারা গলা ফাটাইয়া ফেলেন, ট্রাম্পে নাখোশ সেই লিবারালদের তরফেই ভোটের দেদার অপমান চলতেছে! তাগো যুক্তি কি? যুক্তি হইলো, ট্রাম্প পপুলিস্ট, গণতন্ত্রের দুশমন।

বটে। গণতন্ত্রে পপুলিজমের রিস্ক আছে; সেই রিস্ক মোকাবেলার রাস্তা গণতন্ত্রের সিস্টেমের মাঝেই থাকার কথা; আমেরিকার গণতন্ত্রে তাই সিনেট-কংগ্রেস-প্রেসিডেন্ট-কোর্ট-পুলিশ-ইলেকশন কমিশন ইত্যাদির মাঝে গোড়াতেই কতগুলা দুশমনি বা কন্ট্রাডিকশন রাখা হইছে, চেক এন্ড ব্যালান্স থাকার দরকারেই।

দেখা যাইতেছে, ঐগুলায় কাম হইতেছে না ট্রাম্পের মোকাবেলায়! তাই গণতন্ত্রের পাটাতন যেই ভোট, সেই ভোটেরই অপমান করা লাগতেছে গণতন্ত্রের সেপাইদের! এমন গ্যাড়াকলে কেন এবং কেমনে পড়লেন লিবারাল সেপাইরা?

আমেরিকা আর ভারতে লিবারালরা ফেল করছে অলরেডি, বৃটেনেও তো (বাংলাদেশে?); আন্দাজ করি, ফেল করার দিকে যাইতেছে কানাডা, জার্মানী আর ফ্রান্স। গ্লোবাল ফেইল্যুর একদম।

১ নম্বর কারণ হইলো, যুগ যুগ ধইরা জিততে জিততে ভোটের কথাই ভুইলা গেছে লিবারালরা; জেতা তাদের কাছে ডিফল্ট ঘটনা হইয়া উঠছিল!

ভোটের মানেই হইলো, এইটা না লইয়া ঐটা লইতে পারেন আপনে। লিবারাল প্যারাডক্স হইলো, ভোটের আইডিয়ার মাঝে আদতে একটা প্লুরালিটি বা বহু থাকলেও লিবারালরা ভাবে, কেবল তারাই ঠিক, বাকি সব ভুল। তাদের মাঝে কয়েকটা দল দেখা যায় মাঝে মাঝেই, কিন্তু সেইগুলা তো সবই একটা প্যারাডাইমের ভিত্রে! তারা দাবি করে, তাদেরটাই সহি রেশনাল একমাত্র ‘পয়েন্ট অব ভিউ’; কিন্তু ভোটের আইডিয়ার মাঝেই আছে যে, যেকোন পয়েন্ট অব ভিউ আসলে অনেকগুলার একটা মাত্র! তাই লিবারালরা যখন ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেস’র নিশান উড়ায়, তখন গোড়াতেই একটা ফ্যালাসি থাইকা যাইতেছে! পার্টি হিসাবে আপনে হয় ভোটে বিশ্বাসী অথবা পলিটিক্যাল কারেক্টনেসে! কোন একটা পার্টি যখন নিজেরে আর সন্দেহ করে না তখন সে আর গণতন্ত্রে নাই, সেই পার্টির আদত তখন ফ্যাসিস্ট!

এইখানেই পার্সন আর (গণতন্ত্রের) পার্টির তফাত। এই কারণে যেকোন ব্যক্তির বিচারে যেকোন পার্টি খারাপ! এই কারণে গণতন্ত্র মানে ‘ভালোর শাসন’ না, ‘কম খারাপের শাসন’! কিন্তু ‘ভালোর শাসন’-এর চাইতে ভালো শাসন! কারণ, যে কোন একটা ‘ভালো’ আসলে তো অনেকগুলা ভালো’র যে কোন একটা, স্রেফ আরেকটা পয়েন্ট অব ভিউ! তাই ‘ভালোর শাসন’-এর চাইতে ‘কম খারাপের শাসন’ নরম, ফ্লেক্সিবল! এই কারণেই হিটলার বা স্ট্যালিনের তুলনায় খালেদা জিয়ার শাসন আলগা, দম লইতে আরাম!

এখন, আপনে যদি গণতন্ত্র আর পপুলিজম যুদা করতে রাজি থাকেন তাইলে গণতন্ত্রের পক্ষের লোকজনদের কইতে পারেন লিবারাল, আমেরিকারে হিসাবে লইয়া বুঝলে মেইনস্ট্রিম রিপাবলিকান আর ডেমোক্রেট–দুইটাই লিবারাল প্যারাডাইমের দুইটা উইং।

এই দুই দলের ভিতর ডেমোক্রেটরা বইলা-কইয়া পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের কথা কইতেছে, রিপাবলিকানরা যেনবা বিপক্ষে, কিন্তু আসলে জাস্ট ওয়ান স্টেপ বিহাইন্ড! যুগে যুগে লিবারালরা এমন দুইভাগে ভাগ হইয়া থাকে। ধরেন, অ্যাবর্শন করা যাবে কিনা–এইটা লইয়া বাহাস হইছে আগে, আইনে জায়েজ করছে একদল, অন্য দল তখন বিপক্ষে থাকলেও পরে গদিতে বইসা আনডু করে নাই! একই জিনিস পাইবেন হোমোসেক্সুয়ালিটি ইস্যুতে; আরো আগে স্লেভারি, বা চার্চে কালা পাদ্রি, বা ইন্টাররেসিয়াল বিয়া। এইটারেই কইলাম ‘ওয়ান স্টেপ বিহাইন্ড’! এর মানে হইলো, দুই পক্ষের লিবারালই আগে পরে হইলেও আসলে পলিটিক্যালি কারেক্ট হইয়া উঠতে চাইতেছে!

এর ফল কি? ধরেন, হোমোসেক্সুয়াল বিয়া হইতে দেওয়া লিবারালদের হিসাবে পলিটিক্যালি কারেক্ট, কিন্তু জনতার ৭০% মনে করে এইটা একটা খারাপ কাম হইতেছে। লিবারালরা পাত্তা দিলো না, ফল কি হবে? বা আরেকভাবে জিগাই, লিবারালরা যদি জনতার ৭০%’কে পাত্তা না দেয় তাইলে তারা কি খোদ ভোটকেই উড়াইয়া দিল না? আপনে যখন এমন যুগের পর যুগ পাত্তা না দেবেন, আপনের লগে ঐ জনতার ভরসার রিশতা আর থাকবে আদৌ? আপনে যত ভরসা হারান জনতার তত ট্রাম্পদের (পপুলিজমের) জন্য স্পেস বানাইতে থাকেন!

কিন্তু লিবারালরা এইটা কেমনে করতে পারে? সোজাসাপ্টা জবাব হইলো, গায়ের জোর! পুরা রাষ্ট্র তাদের দখলে, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়া যেই রাষ্ট্র তারা হাতে পাইলো, সেই রাষ্ট্রের জিম্মাদার হিসাবে তারা কেবল নিজের মত চাপাইয়া দিলো! জনতার বলে বলিয়ান হইয়া আগের ফিউডাল শাসন হটাইয়া দিতে পারছিল, কিন্তু গদি দখল কইরা জনতার মনমেজাজ পাত্তা না দিয়া সেই ফিউডাল শাসনের মতোই গায়ের জোরে শাসন চালাইতে শুরু করলো!

অথচ এই লিবারালদের তো হবার কথা পুরা জনতার তরফে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জিম্মাদার! সমাজে অনেকগুলা পয়েন্ট অব ভিউ থাকবে; মানে হইলো অনেকগুলা মরাল পজিশন। গণতান্ত্রিক শাসকের ( লিবারাল প্যারাডাইমের ) দায়িত্ব হইলো, স্রেফ সালিসি করা, একমাত্র মরাল পজিশন (পলিটিক্যাল কারেক্টনেস) হইয়া ওঠা না! সালিসির ভিতর দিয়া সব পক্ষের কতকটা ছাড় আদায় কইরা একটা আলগা টেম্পোরারি ইউনিফিকেশন ঘটানো!

গত কয় বছরের ইতিহাসের কয়েকটা ঘটনা দিয়া আরেকটু ক্লিয়ার করার চেষ্টা চালাই। ওকে, আগের দুয়েকটা স্ট্যাটাস কপি করলেই চলে এইখানে:

১. অক্টোবর ২০১৬, আমেরিকার ইলেকশনের আগে:

“ট্রাম্পের অডিও শুনি নাই, ট্রান্সক্রিপশনও শুনি নাই, অন্যদের আলাপে অনুমান হইলো একটা, মিলাইয়া দেইখেন…

আলাপটা জেন্ডার ইস্যুতে ঠেকলো কিন্তু! দেখা যাইতেছে, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আসলে ‘মেক আমেরিকা মাসকুলিন এগেইন’, আমেরিকার ভিরিলিটি ফিরাইয়া আনা।
তো, আমেরিকানা কইলে ‘মাসকুলিন’ বোঝে দুনিয়া, আমেরিকাই এই ভাবনা বানাইছে ফরেন পলিসি আর হলিউড দিয়া, সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারও বিরাট ঘটনা। দুনিয়ায় আরেক আসল পোলা আছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, সেইটা ভাঙ্গার পরে দুনিয়ার দামড়া তো একটাই আছিল–আমেরিকা!
আরো কিছু দামড়া গজাইছে এখন, টেররিস্ট এটাক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চায়না-কোরিয়ার টেকনোলজি–অনেক দিক দিয়াই নতুন নতুন দামড়া গজাইছে দুনিয়ায়। পুতিন আছেন আরেক দামড়া, রাশিয়ার ভিরিলিটি ফেরত আইছে পুতিনে।
সো, যেইটারে ট্রাম্পের অডিও ফাস কইতেছেন, সেইটা আসলে ট্রাম্পের ক্যাম্পেইনে পজিটিভ এডিশন একটা, ট্রাম্পের ভিরিলিটির দাবি পোক্ত করা, মোদির ৫৬ ইঞ্চি ছাতির মতো ব্যাপার, হিলারির তুলনায় আগাইয়া যাওয়া।
ওদিকে হিলারি হইলেন দুনিয়ার বাদ বাকি দামড়াদের কাছে আমেরিকার পুসি হইয়া পড়া! ট্রাম্পের ভিরিলিটি ফাস হওয়ায় যারা ভোট দিবেন না, তারা আসলে আগে থেকেই হিলারির ভোটার, পাবলিকলি সাপোর্ট উঠাইয়া নেওয়া আসলে অনেক কিছু মিন করে না, এইটা হইলো, পাবলিকলি যে আর নিজেরে রেসিস্ট দাবি করা যায় না, সেক্সিস্ট দাবি করা যায় না, সেই ব্যাপার; এই একই কারণে ‘মেক আমেরিকা সেরা দামড়া এগেইন’ কইতে পারেন না ট্রাম্প! বাট লোকে বোঝে, ট্রাম্পের বলস্ আমেরিকার বলস্ সিগনিফাই করতেছে, হিলারির যে ফিজিক্যাল বলস্ নাই, তাই সিগনিফাইও করা যাইতেছে না।
ট্রাম্পের অডিও হিলারির ফিজিক্যাল পুসিরে আমেরিকার ভার্চুয়াল পুসি বানাইয়া দিছে, আমেরিকার মাসকুলিন প্রাইড ডরাইতেছে, চায়না-পুতিন দামড়া, আমেরিকা পুসি; আমেরিকানায় ইন্টারকোর্স কইলে মাইয়াদের ‘ফাকড’ হওয়াই বোঝে, মানে পোলা/দামড়াদের জিতে যাওয়া।
লিবারাল-কনজার্ভেটিভ ডিসকোর্স, রেসিজম, ওবামাকেয়ার, যুদ্ধবাজ ফরেন পলিসি–সব ছাপাইয়া আমেরিকার ইলেকশন এখন দামড়ার বলস্-এ; এমনিতেও, ট্রাম্পরে ঠেকাবার ডেমোক্রেট কায়দা তো আগেই বেকায়দায় ফালাইছে দুনিয়ারে–কে বেশি কনজার্ভেটিভ, ডেমোক্রেট না রিপাবলিকান…:)!
তবু দেখা যাক, ইন্টারকোর্স/ভিরিলিটি/বলস্/পুসি’র এই ডিসকোর্সের বাইরে আমেরিকার কত পার্সেন্ট ভোটার যাইতে পারছেন, ইলেকশনে যে জিতবেন–তাতে কিছু ধারনা পাওয়া যাইতে পারে…”

২. মার্চ ২০১৭, ভারতে মোদিরে যেন খুব ডরাইয়া দিতে পারলো লিবারালরা! বাস্তবে, এইসব কাহিনির পরেই কিন্তু আসামে জিতলো বিজেপি/মোদি, ওয়েস্ট বেঙ্গলেও আইতেছে:

“আমেরিকার লিবারালরা যেই রাস্তায় ধরা খাইলো, ভারতের লিবারালরা সেই রাস্তায়ই হাঁটতেছে! সো ফানি :)!

ট্রাম্পের অডিও ফাস কইরা লিবারাল বেকুবরা লাফাইছিল, ট্রাম্পকে যেন খুব ধরা খাওয়াইয়া দিলো! হাসছিলাম আমি; কইছিলাম, ঐ অডিওতে যারা ভোট দেবেন না তারা অলরেডি ডেমোক্রেট, আর যারা ট্রাম্পে ভরসা করতে পারতেছিলেন না যে, ট্রাম্প এনাফ মাসকুলিন কিনা, তারা পোক্ত হইলেন এইবার–নাহ্, ট্রাম্পরে দিয়াই হবে, আসল পোলা!
এখন ভারতে একই অবস্থা। আগে একবার গুজরাটের কসাই কইয়া মোদীরে জিতাইছে। মোদী কসাই হইলে যারা ভোট দেবেন না, তারা তো অলরেডি কংগ্রেস বা বাম! তাগো ভোট আরেকবার এনসিওর করার মানে কি, আজব!
ওদিকে, এনাফ কসাই কিনা সেই ব্যাপারে যাগো সন্দেহ আছিল তারা ভরসা পাইলো লিবারালদের ঐ গালিতে! হুম, মোদীরে দিয়াই হবে, মোদী ডেমোক্রেসির জামানা, কলিযুগের ক্ষত্রিয়, আদতে শূদ্র হইলেও!
এখন লিবারালরা রামরাজ্যের ডর দেখায়, হা হা! ওরে বেকুবগুলা, রামরাজ্য চায় ৬০%, ডরায় ৩০%! তাইলে রামরাজ্যের ডর দেখাইলে মোদী জেতে, নাকি হারে!!!”

এই কয়দিন আগের ঘটনার কথাও কই একটা। ভারতের আদালত নাকি হোমোসেক্সুয়ালিটি রিকগনাইজ করলো, অন্তত ভারতের লিবারাল মিডিয়া বেশ লাফাইতেছে সেই হিসাবেই। কিন্তু ঘটনাটা আরেকটু চোখা নজরে দেখা দরকার আমাদের। কিভাবে রিপ্রেজেন্ট করলে কে কেমন মেসেজ পায়, দেখা যাক।

আইনের যেই দফাটা (৩৭৭, একই দফায় একই টেক্সট বাংলাদেশের একই কলোনিয়াল আইনে বহাল তবিয়ত।) লইয়া আলাপ, সেইটা কলোনিয়াল ইংরাজের চার্চ/ভিক্টোরিয়ান এথিক্সের একটা দফা আসলে! এমন কোন আইন অশোক বা মোগল বা মিথিক্যাল রামরাজ্যেও আছিল না! আরো একটা ব্যাপার হইলো, এমন সব আইন তো আসলে নাগরিকদের জিন্দেগিতে রাষ্ট্রের নাহক খবরদারি; কেবল এইটাই না আরো অনেক আছে!

এখন, লিবারালদের এজেন্ডা যদি হয় নাগরিকদের জিন্দেগিতে রাষ্ট্রের খবরদারি কমানো, তাইলে এমন একটা আইন করতেই পারে না রাষ্ট্র! যেমন পারে না বাপ-মা-ভাই-বোন-দোস্ত, এমনসব রিশতার গ্রামার ঠিক করতে, জনতা লুঙ্গি নাকি প্যান্ট পরবে, আলু নাকি পটল খাবে, ভাতের লগে নুন খাবে কি খাবে না–এমন হাজারো পয়েন্টে রাষ্ট্র নাক গলাইতে পারে না! এই পয়েন্ট অব ভিউ থিকা তাইলে আদালত যেমন ‘নালিস করাই হয় নাই মর্মে’ রিট খারিজ করে, তেমনই রাষ্ট্রের খবরদারির এমন সব আইন কখনো করাই হয় নাই মর্মে বাতিল হবার কথা! কলোনিয়াল খোলস থিকা মুক্তিও একটা গণতান্ত্রিক এজেন্ডা হইতে পারে।

তাইলে আদালত কি আদৌ হোমোসেক্সুয়ালিটি রিকগনাইজ করলো? না। কিন্তু এখন আদালত এবং ভারতের লিবারাল মিডিয়া ঘটনাটারে যেইভাবে হাজির করলো তাতে পপুলিস্টদেরই মওকা বাড়লো, ভোটের তোয়াক্কা না করলেই কেবল এমন সব ইস্যু বানাইয়া ফূর্তি করা যায়!

আইনের এই ধারার আর সব পয়েন্ট বহাল থাকলো কিন্তু, সো রাষ্ট্রের খবরদারির মওকাও, সেই কলোনিয়াল জামানা বহাল তবিয়ত থাকলো! আন্দাজ করি, কিছুদিন পরে আবার মামলা হবে এই ধারা লইয়া, অন্তত দুইটা।

এনিমেল সেক্স এখনো মানা আছে আইনের ঐ ধারায়, এই ব্যাপারে মামলা করবেন কেউ! তখন লিবারাল আদালত হয়তো রিকগনাইজ কইরা ফেলবে, লিবারাল মিডিয়া মানুষ আর কুত্তার কাপল ছবি ছাপবে, উইকিতে দেখলাম, কানাডায় ‘নন পেনেট্রেটিভ’ এনিমেল সেক্সে প্রোবলেম নাই আইন মোতাবেক।

আরেকটা মামলা করবে কোন বউ; ‘আননেচারাল’ সেক্স মানা করা আছে ৩৭৭ দফায়। কোন বউ স্বামীর নামে আদালতে নালিশ করবে ‘এ্যনাল সেক্স’-এর! তখনো লিবারাল আদালত হয়তো রিকগনাইজ কইরা দেবে।

রাষ্ট্রের কত কত টর্চারের মাঝে আছে মডার্ন নাগরিকরা, কিন্তু লিবারালরা রাষ্ট্রের লাঠি দিয়া পিটাইতেছে জনতার মন! আবারো মনে করাইয়া দেই, গণতন্ত্রের কাম হইলো, বহু বহু মরাল পজিশনের মাঝে ফ্যাসাদ ঠেকানো, সালিসির ভিতর দিয়া ফয়সালার দিকে যাওয়া। কিন্তু লিবারালরা হোমোসেক্সুয়ালিটিকে ভাবতেছে ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেস’, আদালত নিজেদের দখলে থাকায় গণতন্ত্র হইয়া যাইতেছে লিবারালদের ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেস’-এর আলটিমেট ভিক্টরি!

কিন্তু ভারতের ধরেন ৭০% ভোটের তোয়াক্কা যদি করতো এই লিবারালরা, তাইলে কি এমন লাফানো যায় জনরুচির বিপক্ষ হইয়া? এই ৭০% কেন ভোট দেবে এই লিবারালদের? এই লিবারালরাই যেই পার্টির মুখ, সেই পার্টিরে ভোট দেবে? এই জনতার ভরসা যখন হারাইয়া ফেললো লিবারালরা, লিবারালদের এথিক্যাল ঘেন্না যখন হরদম টের পাইতেছে এই জনতা, তখন পপুলিস্ট বিজেপির জয় কতটা আগাইয়া যায় আসলে? এই ফূর্তি তাইলে কতটা ফূর্তি, আর কতটা সুইসাইড, নিজেদের সুইসাইড করতে করতে গণতন্ত্রেরও কবর খুড়তে থাকা?

কিন্তু কেন, কোন হিসাবে এমন করে লিবারালরা? স্রেফ বেকুব কি এরা! একটা কারণ মনে হয় হামবড়া দেমাগ; অন্যরে লইয়া মশকরাতেই এদের স্যাডিস্টিক প্লেজার। বরং পুরানা আরেকটা স্ট্যাটাস কপি করি :)!

পড়েন: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10154519200852027&id=696472026