আপনাদের দরবারে…

আপনে সোশিও-কালচারাল ভাবুক হইলেও ম্যাথমেটিকস্ জিনিসটা ইন প্রিন্সিপ্যাল মোটামুটি বোঝা দরকার। ধরেন, নর্থ কোরিয়া এখন ইসরায়েল-আমেরিকার লগে দোস্তির পরে একটা নিউক্লিয়ার মিসাইল মারলো ইরানে; কি কি হিসাব করতে হবে তাগো? মিসাইলের স্পিড এবং গ্রাভিটির হিসাব কইরা কত ডিগ্রি এঙ্গেলে মারতে হবে সেইটা বুঝতে হবে, এ্যরোডিনামিকস্ আর কি।

 

-------------------------

পুরাটা ঠিকঠাক বুঝাইতে পারার কথা না আমার, গাইডেড মিসাইল আছে, ঐটা আরো কম বোঝার কথা… কিন্তু ইন প্রিন্সিপ্যাল কইলাম, স্পিড এবং গ্রাভিটি হইলো ডিটারমাইনিং ফ্যাক্টর, লগে আরো অনেক কিছুই। আরেকটা ফ্যাক্টর যেমন বাতাস। কয়েক হাজার মাইল দূরে আর্থ কতটা কার্ভ হইয়া আছে সেইটাও খেয়াল রাখতে হবে হয়তো! এইগুলা হইলো ফ্যাক্টর। এখন, আপনে মানে নর্থ কোরিয়া যদি ফ্যাক্টর হিসাবে বাতাস বা আরো দুয়েকটা জিনিস পাত্তা না দেন/দেয় তাইলে হয়তো মিসাইল ইরানে যাবার আগেই চীনেরই ওয়েস্টার্ন বর্ডারে পইড়া ফাটবে! কেমন ডিজাস্টার, ভাবেন তো!

ম্যাথমেটিক্সের এই টাইপের হিসাব যে সোশিও-কালচারাল ভাবনায়ও লাগে সেইটা আমাদের মালুম হয় না প্রায়ই! কারণ মনে হয় এই যে, আমাদের মন আসলে খাসলতের হিসাবে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের বান্দি হইয়া উঠছে পুরাই; এতোই যে, মরণ আর তার ফুটেজ না দেখলে পাত্তা দেবার দরকার দেখি না!

কিন্তু আমরা অনেক ফ্যাক্টর বাদ দিয়া দেই; তেমন বান্দি না হইলে ফ্যাক্টরগুলা হিসাবে রাখতে হবে আমাদের! ইউরো-আমেরিকান চশমার কারণে বাদ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে, ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কম থাকে! ফলে, আমাদের মিসাইল ইরানে যাবার আগেই চীনে পইড়া ফাটে!

আমেরিকায় ‘মি ট্যু’ মুভমেন্ট গজাইলো; চলতেছিল, হার্ভি ওয়েনস্টেইন থিকা কেভিন স্পেসি… প্যাচ লাগলো আজিজ আনসারির ঘটনায়! এক মাইয়া রেপের নালিশ করলো, খুব ইমোশনাল কলাম-টকশো হইলো, আজিজ আনসারি যেন শয়তান, ক্যারিয়ার খতম প্রায়, জেলে যায় যায় দশা। পরে দেখা গেল, আজিজ আনসারি আসলে ভিকটিম!

বাংলাদেশী অনেকে বিদেশে থাকে, আমেরিকার এইসব ঘটনায় টাসকি খায়, বাংলায় লেখে; আজিজ আনসারির ঘটনায় যেন বাংলাদেশেও একই ভঙ্গিতে দেখার দরকার হইয়া পড়ছে! বা ‘মি টু’ মুভমেন্ট যেন একই ভঙ্গিতে বাংলাদেশেও করতে হবে আমাদের!

আর সব দলাদলির মতো ফেমিনিস্টদেরো দলাদলি আছে; কেউ হয়তো পর্ন ইন্ডাস্ট্রি পুরা ডিনাই করেন, কেউ বা ফেমিনিস্ট পর্ন নামে নয়া ক্যাটেগরি বানাইতে কাম করতেছেন! দুঃখের ব্যাপার হইলো, বাংলাদেশে যারা ফেমিনিস্ট হিসাবে একটিভ তার একটা বড়ো অংশই দেশের কতগুলা ফ্যাক্টর বাদ দিয়া দেন!

আপনাদের হয়তো মনে পড়বে: কয় মাস আগে এক মাইয়া তার উপর জুলুম করা এক পোলারে দৌড়াইয়া ধরলো, লোক জড়ো হইলো, পরে একটা মব হইলো, সবাই মিলে ঐ মাইয়ারে ‘দশে মিলি করি কাম’ স্টাইলে মলেস্ট করলো, কোনমতে বাঁচছে পুলিশ নাক গলানোয়, থানায় যাইয়া আবার কতো কতো যাচাই বাছাই! এমন মব যেই সমাজে আছে সেইখানে ‘মি টু’ মুভমেন্ট করার বেলায় ঐ সোশিও-কালচারাল/কালেকটিভ সাইকি ফ্যাক্টর হিসাবে না ধরলে আপনের মিসাইল কই পড়বে?
উল্টাদিকে দেখেন, আজিজ আনসারির ঘটনারে প্রোটোটাইপ ধইরা দেশে যারাই যৌন জুলুমের নালিশ করবে, তাগো সবাইরে আজিজ ইস্যুর সে মাইয়ার মতো ভাববেন? ফ্যাক্টর বাদ পড়তেছে না? জেনারালাইজেশনের সম্ভাবনা না কইলাম, কিন্তু দেখেন, ইউরোপ-আমেরিকায় রেপের ঘটনায় সমাজে একটা মাইয়া কতটা চাপে পড়ে? ঐসব দেশে মাইয়া পর্নস্টাররা এমপি/সিনেটরও হইতেছে, আমাদের দেশে বেশ্যাদের রেপ কইরা আপনে যদি দেখাইতে পারেন সে আসলে বেশ্যা, তাইলে আপনার কিছুই হবে না বিচারে! সব রেপের মামলায় আসামীর উকিলের একমাত্র এজেন্ডা হইলো, ‘মাইয়া চরিত্রহীন’ পোরমান করা। চরিত্রহীন মানে কিন্তু স্রেফ বেশ্যাও না, বিয়া না কইরা বয়ফ্রেন্ডের লগে ঘুরতে যাওয়াও আমাদের মাইয়ারে চরিত্রহীন বানায়! আমাদের মাইয়ার বয়ফ্রেন্ড/বন্ধু (আম বাংলায় বন্ধু মানে প্রেমিক/নাগর/লাভার, ফ্রেন্ডের বাংলা দোস্ত/সই/সখি।) থাকলেই তার চরিত্র খারাপ, ইউ-আমেরিকায় বয়ফ্রেন্ড/বন্ধু না থাকাটা সোশ্যাল ফেইল্যুর!

এই যে ফারাক কনটেক্সটের, এইটারে ফ্যাক্টর হিসাবে না ধরা ঠিক হবে? এমন না যে আমাদের এইখানে আজিজ আনসারির মতো ভিকটিম হইতে পারে না, ‘চরিত্রহীন’ ট্রাগ আমাদের সমাজের অনেক মাইয়াই অ্যাফোর্ড করতে পারে ক্লাসের জোরে, কখনো বা ওয়েস্টার্নাইজড সাইকি’র কারণেও তারা মনে বল পায়। কিন্তু দেশের অন্তত ৯৫% মাইয়া এইটা অ্যাফোর্ড করতে পারে না; তাই এই ৯৫% যখন কোন নালিশ করতেছে, প্রায়ই দেখা যায় সহ্যের সীমা পার হবার পরে করে, বা সুইটেবল খনের জন্য ওয়েট করতেছিল যেন!

মানুষ অতো শক্তিমান না, খুব অল্প দরকারেই মানুষের অনেক কিছু মানতে হয় প্রায়ই! আমাদের সরকারি বাহিনি খুন করে, ভোট নাই দেশে, কি করতে পারছি আমরা? ইন্ডিয়া পানি দেয় না, বর্ডারের কাঁটাতারে ফেলানিরে ঝুলাইয়া রাখলো, কই আমাদের শক্তি? আর একটা মাইয়ার থাকার জাগা নাই, খাবার পয়সা নাই, একজনের রেপ থিকা বাঁচতে ঘর থিকা বাইরাইলে গ্যাঙরেপ ভিকটিম হবে, স্বামী মারে মা-বাপ-বোন-ভাই সহ্য করতে কয়… এমন এক মাইয়া কেন অন-টাইম মামলা করলো না, আমরা তাই কইতে পারি আমেরিকার এলিট ফেমিনিস্টদের মতো, যদি ফ্যাক্টর বাদ দিয়া দেই অনেকগুলা!

আমেরিকায় আদালত খুবই একসেসিবল, আমাদের? ঐখানে মামলায় জিতলে খতিপূরণ পায়, আমাদের? মামলায় কত বছর লাগে দেশে, আমেরিকায়? রেপিস্ট আর খুনীরে গোপনে মাফ করে আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের শক্তি কই তখন? আর আমেরিকায়? আমাদের দেশে মিছিল-মিটিং মোটামুটি ব্যানড, আমেরিকায়? সেই আমেরিকাতেও ভিকটিম প্রায়ই কোর্টে না যাইয়া মিডিয়ায় যায়, আর আমরা কি কোর্টে না যাবার জন্য গালি দিবো ভিকটিমকে? আমাদের সমাজ-দেশের ফ্যাক্টরগুলা হিসাবে না লইয়া মিসাইল মারবো?

কয়দিন আগে রেপিস্ট সন্দেহে এক পোলারে গণধোলাই দিছে ধানমন্ডির মব। এই রেপিস্ট যেন আসলে একজন আজিজ আনসারি, এইটা ধইরা কিছু লোক লেখালেখি করলেন। আমরা যদি ভাবতে রাজি হই, এই ঘটনার সোশিও-কালচারাল বিচারে কোন কোন ফ্যাক্টর হিসাবে রাখা দরকার? কতগুলা সওয়াল তুইলা পাবার চেষ্টা করি ফ্যাক্টরগুলা:
দেশে রেপ কি ঘটে? ঘটে তো! ভিকটিম কারা? কিছু বাচ্চা পোলা বাদে সবাই মাইয়া– বাচ্চা, বা সাবালক মাইয়া, এমনকি ৬০/৭০ বছরের বুড়িরাও, এমনকি ১ বছরের মাইয়া বাচ্চাও! জালিম কারা? ৮০/৯০% ঘটনায় দেখা যায় সরকারি পাওয়ারের লগে কানেক্টেড লোকেরা! তা বাদে ক্লাসের পাওয়ার আছে, বাসাবাড়ির কামের মাইয়াদের রেপের ঘটনা আনরিপোর্টেড থাকার কারণ আছে হিউজ। ঐ লোককে একজন আজিজ আনসারি ভাবতে রেপের ঐ ইতিহাসকে ফ্যাক্টর হিসাবে একদমই আমলে লইতে পারবো না আমরা!

কোন মাইয়া যখন রেপের নালিশ করে, তার উপর যেই সোশিও-কালচারাল প্রেশার পড়ে, সেই হিসাবে ঐ মাইয়ার যেই অপরচুনিটি কস্ট (আনলাইক ওয়েস্ট) সেইটাও একটা ফ্যাক্টর! এই প্রেশারটা এমনকি খুবই ইন্টার্নালও; রেপ বা আরো অনেক ছোট হামলাতেও আমরা সুইসাইডের ঘটনা দেখি মাঝে মাঝেই! আমাদের পপুলার কালচার ছবক দেয়, “ইজ্জত হারাবার আগে সুইসাইড কর!”। রেপের পরে মেডিকেল/ পুলিশ-এক্সাম এবং আদালতেও আরো কয়েক দফায় হিউমিলিয়েট করা হয়। ইজ্জতের ঐ ভাবনা ইন্টার্নাইজড হবার কারণে হিউমিলিয়েশন আরো ঘন/কড়া/ইনটেন্স হইয়া ওঠে!

মবের ধোলাই লইয়াও আমাদের ভাবতে হবে, মব ধোলাই বিচারেও আমরা দেশি ফ্যাক্টরগুলা বাদ দিয়া ওয়েস্টার্ন নজরে দেখলে চিন্তার মুসিবতে পড়বো! এইখানে কইয়া রাখি, ওয়েস্ট কিন্তু ইউ-টার্ন নিতেছে! পপুলার কালচারে পুলিশের খুন তো অনেক আগে থিকাই সেলিব্রটেড, লগে বাংলাদেশী সিনেমার মতো ইদানিং হলিউডেও দেখা যাইতেছে-মবের হাতে ভিলেনকে তুইলা দিয়া নায়ক কইতেছে, ‘এনজয়’।

সমাজে ইনসাফ/জাস্টিস/বিচারের ডিমান্ড আছে, কিন্তু দুনিয়ায় ইনসাফ নাই–আমজনতার মাঝে এই ভাবনা মনে হয় সমাজের আদিকালেই গজাইছে, স্পেশালি যখন থিকা ‘পাওয়ারফুল ফিউ’র কব্জায় গেছে শাসন! ক্লাসের শাসনে এই ভাবনা আরো পোক্ত হইছে!

আইনের শাসন মানে জনতার ঐ ভাবনারে কাভার দেবার চেষ্টা। যেই সমাজে এই কাভার যত পাতলা সেইখানে মব ধোলাই তত বেশি। মব ধোলাই আগলি, কেননা পাওয়ারের আগলি কামের রিঅ্যাকশন আগলি হবার সম্ভাবনাই বেশি, কেননা, মানুষের মাঝে আগলি কায়কারবার আছে, এবং এইটাই নর্মাল! আমরা যা কিছুকে আগলি কই সেইসব আমরা স্রেফ সিলেক্টিভলি বাদ দিতে চাই বা সাপ্রেস করতে চাই মাত্র, উপড়াইতে পারি না! আমাদের ইতিহাসে হাঁটতে হাঁটতে আমরা হয়তো কখনো ঐগুলা ভুলতে পারবো; এইখানেই আতেল আর আর্ট-কালচারের কামের জায়গা! দুনিয়ার আর্ট-কালচারের দশা দেইখা তো চোখে আন্ধার দেখি, হাজার হাজার বছর পরে হয়তো হবে, কোন একদিন!

আমাদের দেশে আইনের শাসনের কাভার পাতলা। চোর-ডাকাত ধরলে লোকে ধোলাই দিয়া খুন কইরা ফেলে, সমাজে কান পাতলে শুনবেন–পুলিশ লইয়া গেলেই বাঁইচা গেল! আমজনতার ভাবনায় ওরা সব একই পাওয়ার সিন্ডিকেটের শরিক। রিম্যান্ডে লইয়া হাড্ডি ভাঙলে বা ক্রসফায়ারে লোকের মনে জাস্টিসের ক্যাথারসিস হয়! আইনের এমন বাইপাস লোকের মনে জাস্টিসের/ইনসাফের সম্ভাবনা হিসাবে হাজির–যেনবা ঐগুলা করতেছে আইনের মাঝে এখনো থাকতে পারা কিছু ‘ভালো’ বা নায়ক, ডার্ক জাস্টিস হিসাবে পপুলার কালচারে আছে, মবের লগে গলাগলি কইরা! আমাদের রাষ্ট্র খুন করে, খুনীদের বাঁচায়; ব্যাংক থিকা শেয়ার বাজার, রেপ–যেকোন সেক্টরে নজর দিলেই বুঝবেন আইনের শাসনের কাভার কতটা পাতলা!

মবের ধোলাই বিচারে এইগুলা ফ্যাক্টর হিসাবে ধরতে হবে আপনার! যেইসব দেশে আইনের শাসনের কাভার মজবুত আর মোটা সেইসব দেশে পয়দা হওয়া নজরে দেখলে মারাত্মক গলদে পড়বেন!

ধানমন্ডির ঐ ঘটনায় রেপ আর গণধোলাই–এই দুইটা ব্যাপারই মাত্র আলাপে আছে আমাদের, এ পক্ষে বা ঐ; রেপের ব্যাপারে আমরা সেন্সিটিভ, রেপিস্টের সাজা চাই, ধোলাইতেও দোষ দেখি না অনেকে; উল্টাদিকে, আসামী রনি যেন দেশি আজিজ আনসারি, এইটা কইয়া মব এবং রেপের ঘটনায় বিচার চাওয়া মানুষজনকে গালিও দিতেছে কেউ কেউ। কিন্তু আবারো, বড়ো একটা ফ্যাক্টর বাদ পড়তেছে!

বাংলাদেশের আইনে ‘অবসিন’ কিছু ঘটানো ক্রাইম, সাজা হিসাবে জেল জরিমানা হয়। সাজার হিসাবে এইটা ছোট ক্রাইম, কিন্তু সমাজে ‘অবসিন’ ঘটনার রিঅ্যাকশন প্রায়ই খুব কড়া; এতোই কড়া যে, রেপের মতো ঘটনায়ও ভিকটিমের ড্রেসআপ আলাপের গোড়ায় থাকে প্রায়ই, রেপিস্ট ছাড় পায় কালেকটিভ মনে! এই ড্রেসআপের ইস্যু গড়াইতে গড়াইতে যাইয়া মাইয়ার চরিত্রে পড়ে এবং মাইয়া ‘বেশ্যা’ হইয়া ওঠে! এই আলোচনায় ভিকটিম মাইয়া আরেকবার ভিকটিম হয়, রেপ জায়েজ হইয়া ওঠে, জালিম পোলা যেন স্রেফ একটু বেসামাল এবং পোলাদের যেন তাই হবার কথা!

এইখানে একটা খুব ছোট ব্যাপার আছে; মাইয়ারে বেশ্যা দেখাবার ঘটনায় মনে হইতে পারে, কওয়া হইতেছে–বেশ্যা রেপ করলে ক্রাইম হয় না! কিন্তু তেমন একটা ভাবনা খুব পোক্তভাবে থাকলেও আরেকটা ব্যাপার আছে: বেশ্যা হিসাবে মাইয়ারে দেখাবার ভিতর দিয়া দাবি করা হইতেছে যে, ইন্টারকোর্স আসলে মাইয়া কবুল করার পরেই হইছিল, কিন্তু ধরা পড়ায় মাইয়া নিজে বাঁচার জন্য কইতেছে, ‘রেপ’!

ধানমন্ডির ঘটনায় পাবলিক রিঅ্যাকশনের বেলায় ঐ ‘অবসিন’ ব্যাপারটা আছে ফ্যাক্টর হিসাবে! তার মানে খাড়ায়, ঐটা রেপ হৌক আর বেশ্যার লগে কবুলের পরেই ইন্টারকোর্স হৌক, গাড়িতে অমন কাম ‘অবসিন’। এবং এমন ‘অবসিন’ ঘটনায় মবধোলাই খুবই কমন! ‘অবসিন’ ঘটনায় মবের রিঅ্যাকশন হিসাব করলে এমনকি রেপের চাইতেও কড়া এবং বেশি! সেইটা এমনকি বিয়াতো/ম্যারিড কাপলদের বেলায়ও। বিয়াতো না হইলে তো খবরই আছে; পাবলিক তো দূর, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটও হরদম টর্চার করে পার্কে পার্কে; পাবলিক রিঅ্যাকশন বুঝতে মনে কইরা দেখতে পারেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাপলদের উপর হরদম টর্চারের খবরাখবর!

আসামী রনিরে যারা আজিজ আনসারি হিসাবে দেখতেছেন, তারা ‘অবসিন’ ঘটনায় দেশি রিঅ্যাকশনকে ফ্যাক্টর হিসাবে মিস করতেছেন, পসিবল ভিকটিম মাইয়ারে বেশ্যা কইয়া তারা আসলে কইতেছেন, মাইয়া পরে বেতাল দেইখা রেপের নালিশ করতেছে, আসলে কবুল করা ইন্টারকোর্সই ঐটা। লগে আরো মিস করতেছেন যে, ঐ মাইয়া বেশ্যা হইলেও সে পাবলিক প্লেসে হয়তো ইন্টারকোর্স করতে চান নাই এই বিপদে পড়ার ডরে, পাওয়ার না থাকলে সমাজের নজরকে বেশি পাত্তা দিয়া চলতে হয়, এরা সমাজকে বোঝেও ভালো! এই ফ্যাক্টর/ ব্যাপারগুলা মিস করতেছেন উল্টা পক্ষও!

তাইলে ঘটনাটারে কেমনে বিচার করবো আমরা, কারে কতটা বেনিফিট অব ডাউট দিবো? আমাদের পক্ষে এই ডিসিশন লওয়া মুশকিল খুবই, আমাদের কাছে বিচারের জন্য দরকারি সব খুটিনাটি নাই; এইটা আদালতের হাতে ছাড়তে হবে; আদালতে বিচারের সময়ে আমরা হয়তো খুটিনাটি জানতে পারবো আরো, তখন আদালতের রায়ের বাইরেও আমরা মরাল ডিসিশন লইতে পারবো হয়তো।

কিন্তু তাতেই আমাদের ভাবনার দায়িত্ব সারা হয় না! মব এবং ধোলাই লইয়া ভাবতে হবে আমাদের, সরকারি বা ক্লাসের পাওয়ারের লগে রেপের রিশতা লইয়াও ভাবতে হবে আমাদের।

মব এবং মবের ধোলাই উতরাইয়া সমাজকে লইয়া যাইতে হবে আমাদের; সেইটা করার ১ নম্বর কদম হইলো আইনের শাসনের পাতলা কাভার আস্তে আস্তে মোটা করতে থাকা! দুনিয়ায় ইনসাফ নাই, সমাজের এই ভাবনা মিছা পোরমাণ করতে না পারলে মব ঠেকাইতে পারবো না! আইন এবং শাসনের ঐ গোড়ায় হাত না লাগাইলে দেখবেন, মব ঠেকাবার জন্য আপনে পাইকারি গুলিরে সাপোর্ট দিয়া ফেলছেন বেখেয়ালে! মনে কইরা দেখেন, পাইকারি গুলি কইরা পুলিশ হরদম মব ভায়োলেন্সের দোহাইটাই দেয় পোরতিটা ঘটনায়!

আইনের শাসনের কাভার মোটা করতে পুলিশ-আদালতেরর ব্যাপারে জনতার ডর কমাইতে হবে; আমরা অনেকে আমদানি করা মন দিয়া ক্যাপিটাল পানিশমেন্টকে গালি দেই। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো ইনসাফের লগে ফাসির রিশতা খুবই কড়া পাবলিক মনে; আমরা যদি ক্যাপিটাল পানিশমেন্টকে ডিনাই করতেও চাই সেইটা হবে জাস্টিস বা ইনসাফের দিকে সফরের আখেরি কদম! তার আগে এইসব কইয়া আমরা কেবল জনতার লগে কানেকশন হারাইয়া ইউরোপে অ্যাসাইলাম লইতে পারি, দেশে ইনসাফের রাস্তায় এক কদমও আগানো হবে না!

বেস লাইনটা জানাই আমাদের; মানুষ খুন কমাইতে কমাইতে শূন্যতে নামাইতে চাই আমরা; হামলা-জুলুম থামাইতে চাই। এগুলা কমাবার রাস্তায় কোনটার পরে কোন কদম দিতে হবে, সেইটা ঠিক করতে ফ্যাক্টরগুলা আমলে নিতে হবে।
আমি একটু পেসিমিস্ট কিসিমের, তাই অপটিমিস্টিক হইলে একটু বাড়াবাড়ি কইরা ফেলার রিস্ক আছে :)! এই যে গত ১৫ দিনে একটু হয়তো উন্নতি হইছে; এই লেখাটা ১৭ জুন শুরু করছিলাম, খতম করতে পারতেছিলাম না; টাইমিং আর মন-মেজাজ মিলতেছিল না!

আজকে ঐ উন্নতি খেয়াল কইরা জোস পাইলাম নয়া! খেয়াল করেন আপনেরাও: ঢাকা ভার্সিটিতে কোটা মুভমেন্টের উপর হামলা করলো সরকারি দল; একটা মাইয়ার উপর একদল ছাত্রলীগের পোলা হামলা করলো। ধানমন্ডির ঘটনায় রনি সাহেবকে যারা আজিজ আনসারি কইতে শুরু করছিল, তারা কিন্তু তাগো সেই একই থিয়োরিতে কইতে পারতেন, ঢাবি’র ঘটনায় ছাত্রলীগের সবাই একেকজন আজিজ আনসারি! ঐ মাইয়া পয়সা লইয়াই এন্টারটেইন করতেছিল!

এমন কিছু কিন্তু কয় নাই তারা এবার! এইটারে কইলাম একটু উন্নতি! একজন সিজনাল অপটিমিস্টের বাড়াবাড়ি হইলেও আমার হিসাবে তারা ইনসাফের দিকে পয়লা কদমটা দিলেন বুঝিবা! কংগ্রাচুলেশনস…

১৭ জুন–৩ জুলাই ২০১৮