রক মনু

পাবলিক ডায়েরি: খুচরা ভাবনা

আরবের এই ব্যাপারটা আমাদের জন্য আরো খারাপ মনে হয়; ভারতে স্টেট তবু খাড়াইছে এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশের নাগরিকরা তাও পায় না; আরবে আমাদের মেয়েদেরকে বান্দি হিসাবে সাপ্লাই দেয় বাংলাদেশ, বাট এমনসব অভিযোগে পাশে খাড়ানো তো দূর, অভিযোগই করা যায় না মে বি–মামলা না নেবার মতো ব্যাপার; দেশে ফেরত আইলে তবু মিডিয়ায় দুই-চারটা কথা তোলা যায়, ওই সব দেশে তো কোন আওয়াজই করা যায় না।

বাট আমি আরেকটু ভিন্নভাবে দেখতে চাই ব্যাপারটা–পসিবল কালচারাল ডিফরেন্স রিকগনাইজ করতে রাজি আমি।

-------------------------

ধরেন, আরবে বান্দির জব রেসপন্সিবিলিটির ভিতর কালচারালি সেক্সুয়াল সার্ভিস ইনক্লুডেড; আমরা তাইলে কি করবো? আমরা সেই কালচার খারাপ বইলা রায় দিতেই পারি; বাট প্লুরালিটি যদি মানতে রাজি থাকি আমরা তাইলে দাবি করবো, জব রেসপন্সিবিলিটি ক্লিয়ারলি বলা থাকতে হবে; সেইটা জানার পরে, পড়ার পরে যারা আগ্রহী তারা যাবে কাম করতে; একই সাথে, সেক্সুয়াল সার্ভিস ইনক্লুডেড থাকলে কেমন বাড়তি মজুরি পাওয়া উচিত, সেই সার্ভিসের ভিতরেও কি কি করা যাবে না (ধরেন, সোডোমি–যদি আপত্তি থাকে) সেগুলি লেখা থাকবে, প্রেগন্যেন্ট হইলে কী করা হবে, বাচ্চার উত্তরাধিকার কেমন হবে, অ্যাবরশান করার বিধি কেমন হবে–এর সবটাই লিখিত থাকবার পরে সেইটা কবুল করে/কনসেন্টের ভিত্তিতে বান্দি নিয়োগ করতে হবে।

আরো একটা কারণ আছে–এই ভাবে দেখতে চাইবার।

বাংলাদেশে বিয়ার বাইরে সেক্স করায় সামাজিক-আইনী বহু ঝামেলায় পড়তে হয়; যার লগে কেবল ইন্টারকোর্স করতে চায় একজন তারে বিয়া করতে বাধ্য করা হয়; এমনকি পুলিশও এই জবরদস্তিমূলক কাম করে–কয়দিন আগে চাটগায় যেমনটা নিউজ হইলো। দেশে এসব ঝামেলা হয় বলে কোন মেয়ে ঐ রকম জব রেসপন্সিবিলিটি দেইখা আগ্রহীও হইতে পারে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, কবুল না করলে সেক্স নাই–ওইটা রেপ, তেমনি কবুল করার মাধ্যমে কেউ একটা সেক্স লাইফ লিড করতে চাইলে সেইটা ঠেকানোও বিরাট ক্রাইম–মানবিক হক বা মানুষের অটোনমি’র বিরোধী। দেশে বোন-মা’র সেক্স লাইফে যেই পরিমাণ নাক গলানো হয় তাতে অনুমান করা যায় যে, অমন জব রেসপন্সিবিলিটি লিখিত থাকলেও বহু ভাই-পোলা-শ্বাশুরি-বোন-মা-সমাজ বহু মেয়েকে অমন যৌন সম্ভাবনার দিকে যাইতে দেবে না।

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মিডল ইস্টে মেয়েদের পাঠানোরে রেমিটেন্স দিয়া বোঝা ভুল হবে।

এইটা মাইয়া সাপ্লাই দেবার পুরানা কারবার; এইটা দিয়া সরাসরি কামাইয়ের চাইতে খুশি করার কামে লাগে বেশি।

খুশি কইরা কী লাভ?

ওকে। কিছুদিন আগে সৌদী সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগ দেবার ঘটনাও কিন্তু এই জাতীয়। খুশি করা। আলী কেবল এক জায়গায় খুশি কইরা গদিতে আছে ভাবলে ভুল করবেন। পাইরেটেড উইন্ডোজ/সফটওয়্যার বিষয়ে ইউএসএ’র লগে বোঝাপড়া, ট্রানজিট-রামপাল-ব্যান্ডউইথ রপ্তানী-বাস/বগি কেনা লইয়া ইন্ডিয়ার লগে মাখামাখি, মিডল ইস্ট–এই ৩ পার্টিরে খুশি কইরাই গদিতে আছে।

ওদিকে, মিডল ইস্টকে খুশি কইরা জামাতের চাইতেও বেশি খাতির জমাইতে এই মাইয়া সাপ্লাই কামে দিতাছে; এতো খাতির লাগতাছে আবার দেশি দালালদের খুশি রাখতে; ওয়ার ক্রাইমের বিচার ঝুলাইয়া রাখা হইছে ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা কমাইয়া, নবিশ প্রসিকিউটর দিয়া, অদরকারে টাইম খাইয়া। সিভিল সোসাইটিরে কন্ট্রোলের লাগাম এইটা। আবার এত ঝুলাইয়া রাখায় মিডল ইস্টকে আরো বেশি খুশি রাখতে হইতাছে।

সো, এই মাইয়া সাপ্লাই দেশের আলোকিত সিভিল সোসাইটি আর আলীর কো-প্রোডাকশন। এগো বাইরে যারা আছেন তারা রেমিটেন্সের ডিজগাইজে ভুললে কিন্তু আরো বেশি না বোঝার দিকে যাইতে থাকবো আমরা।

এডিশন: তাড়াহুড়ায় বাদ পড়লো মডার্ন মুসলিমদের ভিতর এমন এক প্যানিকের ইস্যু যেইটা একদিকে যেমন ওলামা লীগরে সেফ ভাবতে থাকে, ভাবে আওয়ামী ফন্দি, আর দিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং-এর মতো কইরা বিএনপির ইসলামী উইং/ভঙ্গিমার ভিতর ফান্ডামেন্টালিজম ইনভেন্ট করতে থাকে।

এই ইনভেনশন ইন্টারন্যাশনাল শাহেনশাহদের খুশি করতে গোয়ার উপর পুকুর বানাইয়া মাছ চাষ কইরা খাওয়ানো থেকে মাইয়া সাপ্লাই তক সব কিছু করতেই রাজি রাখে আমাদের লাস্টফুল আলোকিত বেকুবদের।

৯ এপ্রিল ২০১৬