রক মনু

সিঙ্গুলারিফিকেশন

‘সিঙ্গুলারিফিকেশন/singularification/singlify’–এমন একটা কনসেপ্ট লইয়া ভাবতেছি; আরো অনেক পড়লে হয়তো অমন কনসেপ্ট পাইতে পারতাম, বাট হায়…!

কেমন এই কনসেপ্ট?

-------------------------

ধরেন, মনো-থেইজম একটা সিঙ্গুলার ব্যাপার; অমন রিলিজিয়নগুলির মাঝে ইসলামই মনে হয় সবচে স্ট্রিক্ট, শিরক’র আইডিয়া দিয়া বুঝবেন এইটা। বাট ইসলাম মোসলমানের জীবনের বাকি সবকিছু সিঙ্গুলার করার চাপ দেয় না ঠিক।

ওদিকে খেয়াল করেন, সমাজ সায়েন্সের শাসনে যাবার পরে মানুষের চিন্তাজগতের প্রতিটা সেক্টরে সিঙ্গুলার হইয়া ওঠার চাপ আসতে থাকে। বিজ্ঞানমনস্কতা কইতে থাকে, ট্রুথ একটাই/সিঙ্গুলার; রিজন আর অরিজিনের তালাশে নামাইয়া দেয় মানুষেরে। এমন চাপ দিলো যে আমরা দেখলাম, ভারতে পলি-থেইজমের মনো থেইজম হইয়া উঠলো! তার আগের ৬০০ বছরে ইসলাম নামের মনো-থেইজমের পাশাপাশি থাইকাও তা হইতে হয় নাই।

মানুষের পরিচয়ের বেলায় খুব পাওয়ারফুল সিঙ্গুলারিফিকেশন ঘটল; জাতি, রেস, রিলিজিয়ন ইত্যাদি মানুষের অনেকগুলি পরিচয়ের একেকটা থাকতে পারলো না আর; রেসের বেলায় খাঁটির আইডিয়া এতো পাওয়ারফুল হইয়া উঠলো যে, বিভিন্ন রেসের ইন্টারকোর্স মানে ভেজাল মানুষ হওয়া; কালারের ভিত্তিতে সুপিরিয়র রেসের ধারনা পোক্ত হইলো–এতোই যে, সবাই আর মানুষই থাকতে পারলো না; সো, স্লেভারির ভিতর দিয়া কতগুলি মানুষ গবাদিপশুর পর্যায়ে নাইমা গেল; মানুষকে টর্চার করায় যেসব এথিক্যাল ঝামেলায় পড়তে হইতে পারতো তা আর এপ্লিকেবল থাকলো না স্লেভদের বেলায়।

পরিচয় মানুষের টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর মাত্র নয়, পরিচয় হইয়া উঠলো মানুষের খোদা–একদম মনো-থেইজম।

এইসব ঘটনারই কালচারাল এক্সপ্রেশান আমরা পাইতে থাকি ‘বাঙালি’, হিন্দু, মোসলমান ইত্যাদির মিল বা কন্ট্রাডিকশনের ভিতর; একজনের অনেকগুলি পরিচয় থাকলে সেগুলি কোনভাবেই প্যারালাল হইতে পারে না আর, কোন একটার অধীনে থাকতে হবে বাকিগুলির। মনো-থেইজমের আদলে জাতির ধারনা না বানাইলে বিভিন্ন বাঙালি পাইতে পারতাম আমরা; নওরোজের রহমতের ড়্যালি যেমন হইতো তেমন হইতে পারতো নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা–এগুলির কন্ট্রাডিকশন অত নাও পাইতে পারতাম; ইলিশ-মুরগী-গরু-ছাগল-সবজি যার যেইটা খুশি খাইতো–প্রেশার নাই কোন, সিঙ্গুলার কোন জাতীয় কালচার পাবার/থাকার আর্জ দেখতাম না এতো!

আর বিপুল সেই গরিব গরিব বাঙালিরা হয়তো পহেলা বৈশাখের সকালে পুরানা সেই দিনগুলি নতুন কোন রঙে দেখা যায় কিনা বোঝার চেষ্টা করতো!

বাট সিঙ্গুলারিফিকেশন আমাদের সবাইরে খাইয়া ফেলছে…!

–১৪ এপ্রিল ২০১৬