রক মনু

নদী, গাছ, আর্ট আর উন্নয়ন

সিনেমা/আর্ট হইতে উন্নয়ন, বাংলাদেশের সবগুলি সেক্টরেই যা কিছু দেশি তারেই আমরা ফালাইয়া দিছি, ছোটলোকের কায়-কারবার ভাইবা সেই সব নিতে আর রাজি হই নাই।

আমাদের প্রাইম মিনিস্টার ক্লাস ফাইভের বাচ্চার লগে ওয়াদা করেন, পায়রায় ব্রিজ কইরা দেবেন; নদীতে মানুষ মরে। আমরা কি তুলনা কইরা দেখছি যে, নদী না রাস্তা–কোন পথে বেশি মানুষ মরে? না। ফেরি উঠাইয়া দিয়া পায়রায় ব্রিজ করতে হবে। এই চিন্তার গোড়া কই?

-------------------------

আমাদের নদী আর পানি আছে, আজকের হাতির ঝিলের হবার কথা একটা পার্ট, বালু নদী দিয়া ঢুইকা সোনারগাও হোটেলের পিছে দিয়া খালে খালে ধানমন্ডি লেক হইয়া রায়ের বাজার দিয়া তুরাগে যাইতে পারার কথা নায়ে চইড়া, আরেকটা লাইন হবার কথা কল্যাণপুর খালের লগে, মিরপুর দিয়া তুরাগে; এদিকে বাড্ডা-গুলশানের মাঝখানের লেক দিয়া টঙ্গি পয়েন্টে তুরাগে নামতে পারার কথা। আজকে ড্রিমের মতো লাগে, বাট আজকের রিয়েলিটি নদী নিতে রাজি না হবার ফল। নদীর এমন নেটওয়ার্ক সারা দেশেই; বাট আমরা বাস-ট্রাক আমদানি করি কেবল, ব্রিজ বানাই হরদম, নদী মাইরা ট্রেন চালাই, যেই দলের মার্কা নাও, সেই দল ভুল উন্নয়নের নেশায় নাও চলার পানি বন্ধ কইরা দেয়! নদী আমাদের আবর্জনা রাখার গুদাম, আবর্জনায় ভরবে নদী, বাড়ি বানাবো!

নাও বন্ধ করার লগে নদী খালের সব মাছ মারছি আমরা, পরে তেলাপিয়া-পাঙ্গাস চাষ কইরা খাইতেছি; আমাদের খেজুর-তালের মিঠা আছিল, সব কাইটা আমরা মেহগনি আর আকাশমনি লাগাইয়া চিনি ইম্পোর্ট করতেছি, ধানখেতে ইনসেক্ট কিলার দিয়া মাছ-ঘাস মারছি, গরু-ছাগল ফার্মে ঢুকাইয়া ট্রাক্টরে ছাইয়া ফেলছি দেশ, আজকে আমরা গরু আনতে যাইয়া বিএসএফের গুলি খাইয়া মরি! প্লাস্টিকের ভ্যাট কমাইয়া দিয়া পাট মারছি! এলুমিনিয়াম দিয়া মারছি মাটির হাড়ি-পাতিল; যা কিছু দেশি তাই ফালাইয়া দিছি।

আর্ট-কালচারে? ভাটিয়ালি, বাউল, মাজার, বোস্টমীর গানরে আমাদের ভাবি নাই, নাম দিছি ফোক আর আঞ্চলিক, বা বিয়ার গানও, বাঈজির মিউজিক-ডান্স ফালাইয়া দিছি আমরা; আমাদের হইলো রঠার গান, কোলকাতার গ্রামোফোন ঠিক কইরা দিছে আমাদের গান, আমাদের আরবান ভাষা বা ভাব আমাদের আরবান লাইফ থেকে আসে নাই, আমাদের গ্রামের লোকের ভাষারে কইছি অশ্লীল–হাগা বা গু কইতে শরম লাগে, আমাদের সেন্স অব ভালগার ঠিক কইরা দিছে কোলকাতা!

আমরা ভালো সিনেমা বানাইতে চাইয়া কোলকাতার নভেলিস্টদের নভেল কনটেক্সুয়ালাইজ না কইরাই সিনেমা বানাইছি, সেই বাংলারেই ভাবছি আমাদের বাংলা! আর আমাদের আসল কমন বাংলাটারে আমরা কেবল গরিবদের নিয়া কিছু সিনেমায় রাখছি, আমরা কথা কই নাই এই বাংলায়! দুয়েকজন যারা বানাইতে চাইছে, রিকগনাইজ করি নাই আমরা!

আমাদের মেইনস্ট্রিম লিটারেচার/আর্ট কোলকাতার নকল, তারে গালি দিয়া যেই লিটল ম্যাগ এবং বাম আর্টের ধারনা গজাইছে সেইটাও কোলকাতার নকল! দেশের জনতার ভাষার আরো দূরে সেইটা!

এইসবের ফল কি? যা বিদেশি, এই সমাজের লগে কানেকশন নাই, তা খায় নাই মানুষ, সো সেই আর্টের/আর্টিস্টের রিপ্রোডাকশন হইতে পারে নাই, ওদিকে যা দেশি তারে রিকগনাইজ না করায় প্রোডাকশন/রিপ্রোডাকশন কোনটাই হইতে পারে নাই! সো, আমরা বানাইতে পারি নাই কিছু আর, রিপ্রোডাকশনের অভাবে নকলও করতে পারি না আর, জনতা খায় না বইলা চালানও ওঠে না আর! আমাদের বই সমাজ পড়ে না আর, সিনেমা দেখে না। আমরা মেঘমল্লার বানাই, তিনটা টিকিট বেচি, বুদ্ধিজীবী দোস্ত রিভিউ লেখে, আরেক দোস্তের সুপারিশে সরকার চারটা প্রাইজ দেয়, জনতা বোঝে না বইলা তিনটা গালি দিয়া সরকারি ফান্ড জোগাড়ে সরকারি দলে পাওয়ারফুল কন্টাক্ট তালাশ করি, দরকারে বিশ্বভারতীর ট্রেনিং লওয়া লোকের মারফত স্ক্রিপ্ট লেখাই!

এরা সব দূরে সরার আগে দেশি জিনিস হবে না, দেখা যাক ববিতার পিছে পিছে আর কেডা কেডা দূরে সরে।

অক্টোবর ৫, ২০১৬

নোট: আমার সরে যাওয়াই ভালো, ববিতার এমন একটা কথা লইয়া এক নিউজ পইড়া লেখা। লিংক: https://m.bdnews24.com/bn/detail/glitz/1222440?