রক মনু

হ্যাক ইয়োর লাইফ

ছ্যাপ নাকি থুথু, কোনটা বলেন? ধরেন, ভরে গেল আপনের মুখ, কাম বা আকাম করতাছেন কম্পিউটারে, বেসিনে যাওয়া দরকার ছ্যাপ ফেলতে, ইচ্ছা করতাছে না যাইতে। কী করবেন?

হ্যাক ইয়োর লাইফ। সিগারেটের খালি প্যাকেটে ছ্যাপ ফালাইতে পারেন আপনে।

-------------------------

নিজের লাইফ হ্যাক করার জন্য স্পেশাল এডুকেশন লাগে, এরে খুটায় বান্ধা লোকেরা কইবে কুশিক্ষা; খুটায় বান্ধা কইলে গালি দেওয়া হয়, লাইফ হ্যাকিং শুরুর দিকে এইটুক গালি দেওয়া জায়েজ আছে। দুব্বলেরা নাইলে মনে জোর পাইবেন না, এমন গালি আপনের কনফিডেন্স বাড়াইয়া দেবে।

এমন এডুকেশনের জন্য আরেকটা স্পেশাল গুণ আপনার লাগবে; সেইটার নাম, ভক্তি ছাড়া শেখা; প্রায়ই খেয়াল করবেন, কারো কাছে শেখার অনেক জিনিস থাকার পরেও শিখতাছেন না আপনে, এমনকি আপনে হয়তো মালুম করতেই পারেন না যে, এই লোকের কাছে শেখার কিছু আছে। কারণ হইলো, রেসপেক্ট নাই ওই লোকটার প্রতি আপনের, আপনের লজ্জা লাগে অমন একটা লোকের কাছে শিখতে; ভক্তিরে শেখার প্রি-রিক্যুইজিট বানাইয়া রাখা আছে আমাদের কালচারগুলিতে; এই কারণে বউ’র কাছে শিখতে পারে না বেশির ভাগ হাজব্যান্ড, মে বি; বা অনেক সময় শেখে না, বাট শেখাটা চুরি করে স্রেফ–মানে বউর কাছে শেখাটা গোপন করে; কেননা, বউরে তো আর ভক্তি করা যায় না–আমাদের কালচারগুলিতে! মিউজিক, মার্শাল আর্ট, মার্ক্সবাদ, ঠাকুরবাদ বা লালনবাদে ভক্তি খুব দরকারি, ভক্তি ছাড়া নো-শিক্ষা। লাইফ হ্যাকিং শেখার জন্য ভক্তিরে একটু সাসপেন্ডেড রাখতে হবে।

যেমন ধরেন, সিগারেটের প্যাকেটে ছ্যাপ ফেলাটা শিখতে পারতাম না আমি ঐ প্রি-রিক্যুইজিট ধারনাটা যদি লালতাম বা পালতাম আমার ভিতর। অনার্স পড়ার টাইমে হলে থাকতাম; আহেশা ভাই আছিলো হলে–খাতিরের লোক আমার, কতকটা এডিক্টেড, আমাদের রুমের সামনে কংক্রিটের বেঞ্চের মতো আছিলো, সেইখানে ঘুমাইয়া থাকতেন উনি প্রায়ই, গরমের দিনে–টাল দশায়। ভাসানি হলের ২৪৬ নম্বর রুমের লগে যাগো পরিচয় আছে তারা বুঝবেন ভালো। লুঙ্গির নিচের দিকে দুই পায়ের মাঝে গিট্টু না দিয়া ঘুমাইলে আহেশা ভাই একদম রহস্যহীন হইয়া পড়তেন। আমি আছিলাম তার সুস্থতার মাপকাঠি, মানে আমারে তাই কইতেন উনি।

তান্ত্রিকতা নিয়া অমন স্টেরিওটাইপিং আছে, বাট এই নিগুঢ় মিডল ক্লাসে আহেশা ভাইতে ভক্তি হইবে না আপনার; আমার মাঝে ভক্তিভাব থাকলে অবশ্য ভক্তি হইতেও পারতো; কেননা, ওইভাবে ঘুমানোও এক ধরনের লাইফ হ্যাকিং, আবার ওনার অন্য গুণও আছিলো মেলা। তার মাঝে অন্যের জন্য জেলে যাওয়াও আছে; বিভিন্ন গন্ধের অত্যাচার থেকে ফ্রি থাকারও একটা গুণ আছিলো তার; কেননা, ওনার নাক ডিভিশন অব লেবারের কড়া প্রাকটিশনার আছিলো, এক মটর সাইকেল এক্সিডেন্টের পরে ওনার নাক ব্রিদিং অতিরিক্ত কোন দায়-দায়িত্ব নিতে রাজি হয় নাই আর।

আমি এই আহেশা ভাইর কাছে ওইভাবে ছ্যাপ ফেলা শিখে ফেলি। শেখার জিনিসগুলি এমনে ছড়াইয়া থাকে, আপনেও শিখতে পারেন কিন্তু।

এপ্রিল ১৫, ২০১৫