রক মনু

ফলে ঘেন্নাই মুক্তির পথ

ধর্ম নিয়া এই মাত্রার অনুভূতি যাঁরা তৈরি করতে পারলেন তাঁরা বুদ্ধিজীবী বটে; দেশে আরো বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিজীবী আছেন; একদল আছেন যাঁরা ঘুষ-দুর্নীতি, খুন, অগণতন্ত্র, দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি ইত্যাদি ইস্যুতেও অমন প্রবল/তীব্র অনুভূতি চাইতাছেন নাগরিকদের মাঝে বা কাছে।

নাগরিকদের তীব্র অনুভূতি যে আছে সেইটা তো খুবই ক্লিয়ার ধর্ম দিয়াই, তাইলে অন্য অন্য ইস্যুতে যে সেই তীব্রতা দেখা যাইতাছে না সেইটা এই বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের ব্যর্থতা হিসাবে দ্যাখে না, এঁরা অনুভূতির ওই তীব্রতারেই খারাপ বলতে থাকে।

-------------------------

এইটাই সোজা আসলে; অনুভূতির তীব্রতারে খারাপ না বললে তো নিজেদের ব্যর্থতা দেইখা ফেলতে হবে, অন্য একদল বুদ্ধিজীবীর কাছে নিজেদের হার নিজের কাছে লুকানো যাবে আর? আরো সমস্যা হইলো সফল বুদ্ধিজীবীদের কাছে শিখতে হবে তো তাইলে; সফলতার সেই রাস্তা তো খুবই কঠিন, এই নিন্দুক বুদ্ধিজীবীদের লাইফস্টাইল ঠিকঠাক রাইখা তো সেইসব রাস্তায় হাঁটা যাবে না!

সফল বুদ্ধিজীবীদের রাস্তাগুলি দ্যাখেন:

ক. ওয়াজ-মাহফিল, মিলাদ, খুদবা; সিজনাল তো আছেই, জুমা থেকে দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পর্যন্ত।
খ. তাবলীগ, ওয়াজ-মাহফিলের ক্যাসেট, মোবাইলের রিংটোন, অ্যালার্ম টিউন।
গ. ঈদ/কোরবানীর কোলাকুলি, গরিবরে গোস্ত খাওয়ানো, মাজারের গণভোজ
ঘ. এতিমখানা, বাড়ি বাড়ি যাইয়া ভিক্ষা করা, রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষা করতে থাকা।
চ. পড়ার বিনিময়ে খাওয়ানো।
ছ. গ্রামে গ্রামে, কাঁচা রাস্তায়, কাদার মধ্যে নামতে/থাকতে রাজি থাকা, ধর্মীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া।
ঝ. ছোট লোকের বুলিতে, প্রমীত বাংলার অহংকার বাদ দিয়া কথা বলতে রাজি হওয়া, ওয়াজ করা।

এগুলির যেকোন একটা করতেই তো ব্যর্থ বুদ্ধিজীবীদের লাইফস্টাইল বলে কিছু আর থাকবে না! এরা বড়োজোর এনজিও’র চাকরি নিয়া ট্যুরিস্ট হবার মজা পাবার স্পেস বানাইতে পারে নিজেদের লাইফস্টাইলে। ফলে ঘেন্নাই মুক্তির পথ।

২৫ নভেম্বর ২০১৪