রক মনু

জীবনানন্দের সাধ

মানুষের লালসার শেষ নেই;
উত্তেজনা ছাড়া কোনো দিন ঋতুক্ষণ
অবৈধ সঙ্গম ছাড়া সুখ
অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া ছাড়া প্রিয় সাধ নেই।

–জীবনানন্দ দাশ

-------------------------

_——————-
জনাব দাশের কোন কবিতায় রেপে আপত্তি দেখছি বইলা মনে পড়ে না। ওনার আপত্তি ‘অবৈধ সঙ্গম’-এ :)।

অবৈধ যে কোনটারে কইলেন বোঝা শক্ত; ওনার বরিশাল-কোলকাতা সমাজ হিসাবে মনে হয় বিয়ার বাইরের সেক্সরেই অবৈধ কইছেন। আরো কংক্রিট ডেফিনিশন পাইতে পারি ওনার রিলিজিয়ন হিসাবে নিলে, উনি ধর্মে ব্রাহ্ম আছিলেন, ঐ ধর্মমতেই বিয়া করছেন; ব্রাহ্মধর্ম মানে রঠা যেই ধর্মের গান লিখছেন গীতাঞ্জলি বইতে, রামমোহনের ধর্ম, রঠা যেই ধর্মভাবে নিজের বাপরে সাধুপুরুষের রেস্পেক্ট দিছেন।

এই ধর্মের লোকেরা ‘অবৈধ সঙ্গম’রে খুব ডরাইতেন, সেই ডরে মনে হয় রঠা নিজের মাইয়াদের সেক্সি মন কাম মিন্সট্রেশন শুরু হবার আগেই বিয়া দিছেন।

মজা হইলো, জনাব দাশ ‘অবৈধ সঙ্গম’ করা লোকদের মুখ ম্লান কইরা দিয়াই সুখ পাইতেছেন দেখা যায় :)! এই কবিতার বাকিটাতে মনে হয় খুন-যুদ্ধ এইসবের কাতারেই উনি ‘অবৈধ সঙ্গম’রে রাখছেন!

এই জিনিসটা ওনারে এতোই ডিস্টার্ব করতো যে উনি এইটা একটিভলি ঠেকাইতে চাইতেন।

ফেমিলির দুরবস্থার টাইমে এক মহিলারে সাবলেট দিছিলেন ওনারা, সেই মহিলা অবৈধ সঙ্গম করতেন বইলা সন্দেহ করতেন জনাব দাশ। পরে মন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে বই ডেটিকেট কইরা টইরা নিজে কলেজে চাকরি পান, বউ স্কুলে; তখন সাবলেট দেওয়া সেই মহিলারে খেদাইতে চাইলেন, পারলেন না, মে বি মহিলার সেইসব ‘অবৈধ’ নাগরদের কারণে। জনাব দাশ তখন প্রেমেন্দ্র মিত্রের তালাশ শুরু করলেন, মিত্র মশাইর লগে কংগ্রেস সরকারের ভালো খাতির, ঐ মহিলারে খেদাইতে সুবিধা হবে।

বাট প্রেমেন্দ্র নাই কোলকাতায়, মোবাইল নাই, ইমেইল নাই! আরেকজনের ‘অবৈধ সঙ্গম’ জনাব দাশরে দিশাহারা কইরা দিল, সেই বিল্লিটা যে আন্ধারের ছোট ছোট বল দুনিয়ায় ছিটাইয়া দিছিল, তার একটা বল তাইলে জনাব দাশের ঘরেও পড়ছে দেখা যায়!

ব্রাহ্ম দাশ উপনিষদের অনার রাখতে না পারার বেদনায় ট্রামের হর্ন শোনেন নাই, এক মহিলার ‘অবৈধ সঙ্গম’ জনাব দাশকে মাইরাই ফেললো, মহিলা রেপড হইলে মরতেন না মনে হয়… সো স্যাড!

আমি আরো স্যাড কারণ, ফেসবুক ঘুইরা মনে হইলো, উনি এই ২২ অক্টোবরে মরছেন, যার ঠিক ৩৯ বছর পরে অনেক অনেক (১৪ ফলে পরিচয়) ‘বৈধ সঙ্গম’ কইরা আমার মুখ ম্লান করা মরণ মরলেন বাপ আমার…