রক মনু

মিতা-সখী-বন্ধু-দোস্ত-পিরিতি-গ্যাঙ রেপ

৩০ জুন ২০১৭

দুনিয়ার এই দিকে দোস্তি লইয়া অনেক গান আছে। বাংলা আর হিন্দি গান শুনছি, সিনেমায় থাকে মাঝে মাঝে। এখন মনে পড়তেছে–

-------------------------

ক. একটাই কথা আছে…বন্ধু, বন্ধু আমার
খ. ইয়ে দোস্তি, হাম নেহি
গ. যাহে চার ইয়ার মিল…রাত হো গুলজার

পোলাদের দোস্তি ভরপুর এদিকে, এখন মনে হয় আরো পোক্ত হইতেছে, দোস্তদের মাঝে বেঈমানী কমছে মনে হয়, ভাগাভাগি করে সব দোস্তরা।

কতগুলা কথাও তো আছে। যেমন, দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।

ওদিকে, ভারত-বাংলাদেশে মাইয়ারা তো মাল। তিনটা ব্যাপার মিলাইয়া দেখেন এখন। তাইলে এক দোস্ত একটা মাল পাইলে আর সব দোস্তরে ভাগ দেবে না?! প্রেমিকাও তো মাইয়াই, দোস্তদের হক আছে না! তাইলে দ্যাখেন, গ্যাঙ রেপ হইলো দোস্তির সেলিব্রেশান, দোস্তদের লগে বেঈমানী না করা।

দোস্তের প্রেমিকারা হুশিয়ার, দুনিয়ার এদিকের দোস্তরা দশে মিলে কাম করে।

৭ আগস্ট ২০১৬

দোস্তি লইয়া ভাবতেছি আজ এই রোজ দোস্তির দিনে। ভাবতে ভাবতে আবারো শোলে সিনেমা মনে আইলো।

শোলে লইয়া অনেক ভাবনাই আছে আমার, আজকে আরেকটা যোগ হইলো। বিরু’র বিয়ার পয়গাম লইয়া বাসন্তির মাসীর লগে জয়ের বাতচিত মনে কইরা দেখেন; মনে হইলো, পুরা সিনেমার একটা সাইকো-এনালিসিস করা দরকার, তাইলে আমরা গোপন একটা গপ্পো পাইয়া যাবো।

মাসীর কাছে বীরুকে কেন পচায় জয়? তাতে বুঝি, জয় খুবই পজেসিভ। অনুমান হইলো, জয়ের এমন পজেসিভ মনের পিছে কিছু সেক্সুয়াল ফিচার আছে; ফিল্মটা সিধা নজরে মনে হয় হেটারোসেক্সুয়ালিটির গানই গাইতাছে, বাট গোপন গপ্পোটা মনে হইলো বাইসেক্সুয়ালিটির।
জয়-বিরুর হোমোসেক্সুয়াল রিলেশন, জেলে থাকার টাইমটা হোমোসেক্সুয়ালিটি ডেভলাপ করার ভালো মওকা। বিরুর বিয়া লইয়া নাখোশ জয়, বিয়া ভাইঙ্গা দিতে চায় সে, পিরিতও ভাঙ্গতে চায়—বাসন্তির লগে মন্দিরের আলাপেও পিরিত ভাঙ্গতে চাওয়াটা আছে; ট্রাই করে, পারে না। না পাইরা জয়া ভাদুরি/ঠাকুরের পুতের বউ’র লগে জয়ের পিরিতটা তাইলে মে বি রিভেঞ্জ লাভ!

বাট গোপন এই গপ্পে দোস্তির হানি হইতেছে না কিন্তু! জয় বিরুকে এক্সপ্লয়েট করে, দুই পিঠেই হেডঅলা কয়েন টসে চিট কইরা, বাট সেই চিট বিরুকে বাঁচাবার জন্যও, বিরাট রিস্ক লইয়া! মনে হইলো, সেক্সুয়াল ফিচারই দোস্তিরে এমন ঘন কইরা তুলছিলো।

মনে হইলো, friendship is a cheating to let live.

২৭ মে ২০১৭
আপনে যেই ভাবের দুনিয়ায় থাকেন তারে আনলার্ন করতে গেলে কতগুলা মুসিবতে পড়বেন। গত কিছুদিন আমি আছি ‘বন্ধু’র ঝামেলায়।

আমার থাকাথাকি দেশের মিডলক্লাস ভাবের দুনিয়ায়, ক্লাসিক (কলোনিয়াল) বাংলা লিটারেচারের বানানো ভাবের দরিয়ায়। এইখানে ‘বন্ধু’ মানে ইংরাজি ফ্রেন্ডের তরজমা। বাট এই ভাবের দুনিয়ার বাইরে, বাংলার আমজনতার মাঝে এখনো ফ্রেন্ড মানে হইলো–দোস্ত, সখি, মিতা এইসব; আর বন্ধু মানে নাগর, পিরিতের রিলেশনের ফলে পাওয়া যায় বন্ধুরে।

এখনো গানে গানে পাইবেন সোনাবন্ধু, বিদেশ যাইয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না, বন্ধুয়া; বন্ধু আর বধুর মাঝেও কোন খাতির থাকতে পারে। বাংলায় পোলাদের পলিগ্যামি থাকলেও পিরিতের রিলেশন বেশ মনোগ্যামাসই, তাই বন্ধুও খুব সিঙ্গুলার আছিল। কিন্তু আমাদের এই হাওয়াই ভাবের দুনিয়া মেসমার কইরা দিছে, ভালগার বানাইয়া রাখছে আমজনতার বন্ধু-দোস্তরে, দোস্ত শব্দটারে কম্যুনাল এজেন্ডার কারণে খেদাইয়া দিতেও চাইছে!

আমারে এখন চরে থাকতে হয়, কোন দরিয়ায়ই যাইতে পারি না পুরা–না বন্ধুতে, না দোস্তে!

১৭ জুলাই ২০১৭

#গান২#

নারাজ হইও বন্ধু কেবল পিরিতে!

এমন দেওয়ানা যেন মানে না মন
দুনিয়ারে পাশ কাটাইয়া যাই
যেন কেবলি করি আমি পিরিতি লালন
পলে পলে তোমারে ভাবিয়া
তোমার দুয়ারেই চলতেছে আমার কদম
পিরিতের দাবি হরদম
আর কিছু নাই মোর
তোমারে পাইয়া যেন
কামে দিবো মন বন্ধু,
ঢালিব গতর!

ভুইলো না বন্ধু মোর মায়া চাউনিতে
নারাজ হইও বন্ধু এমন পিরিতে!!

কত জনা উড়িল আসমানে
সওয়ার হইলো তুফানে তুফানে
ঠেকাইয়া দিলো কত পাহাড়ের ভাঙন
পাষাণে ঢুকাইয়া দিল শিমুলিয়া মন!

কত জনায় হইলো কাঁথা গোলাপের শীতে
না হইও না হইও রাজি সহজ পিরিতে!

যেমন রোশনাই মরা জোনাকিও ঢালে
ছাড়িয়া
পাখির বাসা, উপাসী নামে কত সাপ
আন্ডার সুরতে ভুলিয়া!
পিরিতি লেখা বন্ধু সবার কপালে!

নারাজ হইয়া বন্ধু আমারে বানাও
বানাও দরিয়া মোরে মাছের বাড়ি
বানাও তুফানে সওয়ারি!

কিছুই হবো না আমি অল্পে যদি পাই
আমারে লইয়া সস্তা হইও না সোনাই
দু্নিয়া করিয়া জয়,
পাইতে তোমারে–
পারি যেন দুনিয়া ভুলিতে!
না হইও, না হইও রাজি হুদাই পিরিতে!