বাংলা সিনেমার নাম: ঘাড়তেড়া, খাইছি তোরে নাকি ‘প্রাচ্য’র পিতৃব্য’

মিরপুর পুরবীতে চলতাছে ‘ঘাড়তেড়া’। ঢাকাই বাংলা সিনেমার নাম হিসাবে ঘাড়তেড়া পছন্দ করতে পারবেন না অনেকেই, বা আরেকটা সিনেমার নাম যেমন দেখছিলাম ‘খাইছি তোরে’। পছন্দ করতে না পারা এই লোকগুলি কারা? কেন পছন্দ করতে পারেন না তারা?

ঢাকাই সিনেমা লইয়া অশ্লীলতার একটা ডিসকোর্স আছে, জানি আমরা। লোকে হরদম ভাবে, অশ্লীলতা এমন কিছু যেইখানে সেক্সের কোন ব্যাপার থাকবে! তা তো না। আসলে অশ্লীলতা মানে হইলো ‘ভালগার’, বা ‘আনকালচার্ড’; অর্থটা অমন ঝপসা হবার একটা কারণ হইতে পারে ‘অশ্লীলতা’ শব্দটা কোন এক অসামাজিক মগজের আকাম, অসামাজিক মানে হইলো, বাংলায় কথা কওয়া কম্যুনিটির শব্দের জগতের কোন আইডিয়া নাই সেই মগজে, বা খুব সম্ভব ঐ কম্যুনিটির বেশিরভাগ যেসব শব্দ বোঝে সেগুলিরে ঘেন্না করেন সেই মগজের মালিক! ভালগার অর্থ আসলে ‘খ্যাত’, আরো পপুলার খুব সম্ভব ‘ছোটলোকি’, কুরুচিকরও হইতে পারে; আর কোন শব্দও হইতে পারে, মনে আসতাছে না আর, কইতে পারেন আপনেরা কেউ।

-------------------------

তো, ঐ ‘ঘাড়তেড়া’ বা ‘খাইছি তোরে’ সেই লোকগুলির কাছে ‘অশ্লীল’ বা ভালগার বা খ্যাত বা ছোটলোকি বা কুরুচির পরিচয়। ‘শ্লীল’ বা ভাল রুচি কেমন, বা কি? ঘাড়তেড়া না রাইখা সিনেমাটার নাম যদি ‘বীর্যবান’ রাখলে ওনারা ভাল রুচির খবর পাইতেন; ‘খাইছি তোরে’ না রাইখা ঐ অসামাজিক মগজ নাম রাখবেন ‘হুংকার’, বা ‘গর্জন’ বা ‘জিঘাংসা’ও হইতে পারে!

এখন, রুচির তফাত জগতের সব সমাজেই হয়তো আছে; কিন্তু এইখানে খেয়াল করলে দেখবেন, এইটা স্রেফ রুচির তফাত না, এইটা আসলে সমাজের বেশিরভাগ লোকের ভাষার ভঙ্গিমার প্রতি ঘেন্না, সমাজকে ডিকশনারিতে ঢুকাবার মতলব।

কিন্তু সমাজ ডিকশনারিতে ঢুকতে রাজি হয় না প্রায়ই, ডিকশনারি বাতিল হয় বটে!

ধরেন, বীর্যবান শব্দটা বেশির ভাগ লোকের বাংলায় এখন বড় আইড়াঅলা পোলার বেশি কিছু মিন করে না! হুংকার বা গর্জন একটু থাকলেও ‘জিঘাংসা’ তো নাই-ই!

তাইলে, ঢাকাই সিনেমার অমন নাম আসলে একটা তফাতের ঘোষণা, সংস্কৃতের মাইয়া হিসাবে বাংলা ভাষারে দেখতে নারাজ হওয়া। এই নামগুলির প্রতি ঘেন্না তাইলে দাবাইয়া রাখার ফন্দি!

এই ঘোষণাটা বিরাট কাম, বাংলায় পয়লা লিটারেচার হবার ঠিক আগের পর্ব যেন, তফাতে যাবার/থাকার ডিসিশন; দিন যাইতে থাকলে ভালো ভালো আর্টিস্ট পয়দা হবে, ভাল মুভি হবে তখন! সংসারের শুরুটা তো একটু ছ্যাড়াব্যাড়া থাকেই জালিম মুরুব্বিদের অমতে বিয়া করলে…