বলিউডি সেক্যুলাররা যত স্বাধীন বিজেপি ততো মজবুত

ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ সাকসেসফুল সিনেমা খুবই, বলিউডের লোকেরা এই সিনেমার সাকসেসের ভিতর দিয়া দরকারি একটা মেসেজ পাইছে, কনফার্ম হইছে, তাই খুশী। এই সিনেমারে পালাবদলের শুরু হিসাবে ধরেন অনেকে। কিন্তু মেসেজটা কি, কেন খুশী হইলেন তারা, পালাবদল হইয়া কোনখান থিকা কোনখানে গেল?

মেসেজটা হইলো–ভারতের ছোটলোকদের আর পাত্তা দেবার দরকার নাই, বলিউড স্বাধীন হইলো যেন, ছোটলোকদের কাছে টিকিট না বেইচাও বলিউড চলতে পারে। ভারতের মিডল ক্লাস এতোটা বড় হইছে যে, তাগো কাছে টিকিট বেচতে পারলেই সিনেমা সুপারহিট হইতে পারে। বাস্তবে কারা কত টিকিট কিনছে সেই জরিপের চাইতে আন্দাজ কইরাই অবশ্য ঐ অনুমানটা করা হইছে ! তো, ছোটলোকরা হইলো আনকালচার্ড, বাচ্চা অডিয়েন্স–ম্যাচিউর হয় নাই, তাগো কারণে পাতলা রস/ভাবের সিনেমা বানাইতে হয়, সামাজিক কোড তোয়াজ করতে হয় খুব, আর্টিস্টের ফ্রি উইল দম নিতে পারে না, ‘ফাইন আর্ট’ করার উপায় নাই ছোটলোকদের পাত্তা দিলে! তাই খুশী তারা।

-------------------------

তাইলে পালাবদলের কি অর্থ পাইলাম? এইবার বলিউড লইয়া আমজনতার বদলে কেবল মিডল ক্লাসের কোলে বইসা থাকা যায়, বলিউডের ‘ফাইন আর্ট’ কেবল মিডল ক্লাসের কালচার্ড কোলে আন্ডা পাড়লেই হবে, আমজনতা হইলো অডিয়েন্স হিসাবে আর্টের পাদের যোগ্য, কিছু লোক এই বেকুব অডিয়েন্সের নাকে পাদুক।

সবচে খুশী হইলেন, বলিউডি সেক্যুলাররা। এইবার ধর্মরে আর অতো পাত্তা দেবার দরকার নাই, সমাজের লগে কম্প্যাটিবল আর্ট বানাইতে হবে না, এইবার নিজের লাগাম ছাইড়া দেওয়া যায়। এই সেক্যুলারদের কাছে পয়সার জন্য, টিকিট বেচার জন্য ধর্ম আর সমাজকে পাত্তা দেওয়াটা নিজের উপর ঘেন্না হবার কারণ, দিল চাহতা হ্যায় হইলো নিজের ইজ্জত ফেরত পাবার খবর! এখন ভাবেন, ওনাদের এই মুক্তির ফল কেমন! ভারতের ছোটলোকদের লগে কানেকশনের গরজ থাকলো না আর সেক্যুলারদের।

বলিউডের এই স্বাধীনতার খবর দিয়া যখন সেক্যুলাররা ভারতের রাজনীতির হিসাব করলো তখন ঝামেলাগুলা টের পাইলো একটু! একটা সিনেমা সুপারহিট হইতে যদি ১০০ কোটি রুপি লাগে, তাতে টিকেট বেচতে হয় হয়তো ১ কোটি মাত্র! ভারতের মোট ভোটারদের ৫০ ভাগের এক ভাগও লাগতেছে না! তাইলে কংগ্রেস বা সেক্যুলারদের পাওয়ারে যাইতে হইলে বলিউডের ঐ ১ কোটিরে পাত্তা দিলেই চলতেছে না! তাগো লাগবে ৩০-৪০ কোটি ভোট, সেক্যুলারদের একেকজন তো আর কুড়ি ভোট দিতে পারে না, ভোটে ছোটলোক আর কালচার্ড/শিক্ষিত/মিডল ক্লাস/সেক্যুলার সমান!

সিনেমা হইলো পলিটিক্সের কালচারাল উইং/ব্রাঞ্চ। বলিউডে সেক্যুলার পলিটিক্সের কালচারাল উইং যখন ছোটলোক/দলিতকে পাত্তা দেবার দরকার পাইলো না, তখন সেক্যুলার পলিটিক্স ফেল মারতে বাধ্য! বলিউডের সেক্যুলাররা রাষ্ট্রের ক্ষমতার গুরুত্ব বুঝলেন না, সেক্যুলার পলিটিক্সের কালচারাল উইং হিসাবে নিজেদের রোলটা ঠিকঠাক ধরতে পারলেন না, আমরা কি বলিউডের এই সেক্যুলারদের বেকুব কইবো!?

এখন ছোটলোক/দলিতকে পাত্তা দেওয়া এবং না দেবার তফাতটা কেমন হয়, হইলো? বলিউডের সেক্যুলাররা যখন ছোটলোকের রুচি, সমাজ এবং ধর্মকে পাত্তা দিছে তখন তাগো সিনেমাতে ধর্ম আর সমাজের রুচিকে সাবধানে ডিল করছে। তাতে একটা কানেকশন হইছে, সেক্যুলাররা মনে শান্তি পায় নাই আপোষের কথা মনে থাকায়, কিন্তু আমজনতারে লগে পাইছে, আমজনতার ভোট পড়ছে সেক্যুলারদের বাক্সে।

খেয়াল করেন, সেক্যুলাররা যখন আমজনতারে পাত্তা দিয়া ধর্মরে আনছে সিনেমায় তখন ‘নায়ক’ সিনেমা হইছে, শিবাজী নামটারে ইউজ কইরা আজকের দিনের পলিটিক্সে ডেমোক্রেটিক রেভল্যুশন দেখাইছে সেক্যুলাররা। মাঠ ছাইড়া দেবার পরে কি পাইলাম আমরা? এখন এক শিবাজী খাড়া হইতেছেন যিনি হিন্দুত্বের মহানায়ক; সেক্যুলারদের হিন্দু নায়ক হইয়া উঠলেন হিন্দুত্বের সুপার হিরো! আমরা আরো সুপারহিরো পাইছি বলিউডে/ভারতের বিজেপির হাতে–’কৃশ’ পাইছি আমরা, ‘ছোটা কৃষ্ণা’ আর ‘ছোটা ভীম’ পাইছি! সেক্যুলাররা ধর্ম লইয়া যখন ব্যবসা করছে তখন ‘ভীম’ হইছে ডিশওয়াশিং সাবান, এখন ভীমকে পাইতেছি চাইল্ড সোলজার হবার আইকন হিসাবে! বলিউড পিকে বানাইলো ছোটলোক-সমাজ-ধর্মকে পাত্তা না দিয়া, এগো লগে তো ব্যবসা করার দরকার নাই আর, কেবল মিডল ক্লাসের লগে ব্যবসা করলেই সিনেমা সুপারহিট। সেক্যুলাররা যখন পিকে বানাইয়া খুশী খুশী হইয়া ওঠে মিডল ক্লাসের পয়সা পাইয়া, বিজেপি তখন রামরহিম সিং আর আর আদিত্যনাথকে দিয়া কোটিখানেক ভোট বাগাইয়া লয়!

হিন্দুত্ব পুরা ভারতকে দখল কইরা ফালাইলো, কাভারঅলা হিন্দু কংগ্রেস বা হিন্দু সেক্যুলার না, আসল শিবসেনা, আরো করতেছে। ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স, ইন্ডিয়াননেস বা পোস্টকলোনিয়ালিজমের লেবাস, এমন অনেক অনেক ফ্যাক্টর আছে; তবু দিল চাহতা হ্যায়ের দেওয়া বলিউডের ফ্রিডমও কম বড়ো ফ্যাক্টর না! বলিউডি সেক্যুলাররা ভরসা হারাইছে আমজনতার। এই আমজনতার লিডার হইতে পারছিল সেক্যুলাররা, সেক্যুলার হাতে আছিল আমজনতার লাগাম–এক পক্ষ আরেক পক্ষরে পাত্তা দেবার মহানিশান হইলো ‘শোলে’! তারপর বলিউডি সেক্যুলাররা নিজেদের আর্টিস্ট মনের লাগাম ছাইড়া দিছে, তার লগে ছুইটা গেছে আরো একটা লাগাম, সেই লাগাম এখন কার হাতে? বিজেপির। বলিউডের সেক্যুলারদের উপর আমজনতার সেই ভরসা থাকলে, আমজনতার মনের লিডার হইয়া থাকলে, দিল চাহতা হ্যায়ের অহংকার না দেখাইলে হয়তো রাজকুমার হিরানির এক সিনেমা দিয়া গরু ইস্যুর মোকাবেলা করতে পারতো সেক্যুলাররা! কিন্তু সেই আশা আর নাই খুব সম্ভব। দেশে দেশে হামবড়া সেক্যুলাররা সমান বেকুব হইয়া থাকেন।
#রক_মনু  ২৭ জুন ২০১৭