থেমিসের শাড়ি আর তরবারি বনাম খনার এলেম

পুরানা বা এনসিয়েন্ট এথেন্সে কোন মাইয়া সিটিজেন আছিল না। এই সিটি স্টেটের আইন মাইয়াদের সিটিজেন হিসাবে দেখে নাই। স্লেভ বা গোলামরাও সিটিজেন আছিল না। তাই আইনের কোন প্রোটেকশন আছিল না মাইয়া বা গোলামদের জন্য। গিফট বা ডাউরি/যৌতুক পাইলে মাইয়ারা সম্পদের মালিক হইতে পারতো, কিন্তু সেই সম্পদ ভাতার চাইলে লইয়া মনের খায়েশ পূরণ করতে পারতো, এই ছিনতাই অবশ্য মহান গ্রিক আইন পুরাপুরিই প্রটেকশন দিত।

মহান এই গ্রিসে মাইয়ারা ভোট দিতে পারে ১৯৫২ সালে, পাকিস্তানেরও ৫ বছর পরে। বৃটিশ ইন্ডিয়ায় মাইয়ারা ১৯২১ থিকা ভোট দেয়।

-------------------------

তাইলে মডার্ন ডেমোক্রেসি এবং আইনের নজরে ‘সবাই সমান’ বইলা ধারনাটা কি আদৌ গ্রিক কইতে পারি? মডার্ন জাস্টিসের আইডিয়া? আর কোন সোর্স আছে হয়তো, তালাশ কইরা দেখতে হবে।

এদিকে, ‘জাস্টিসাস’ নামে এখন যেই স্ট্যাচু লইয়া ঝামেলা লাগছে, হেফাজতে ইসলাম আপত্তি জানাইছে, সেই জাস্টিসাসের ডান হাতে একটা তরবারি দেখা যাইতেছে। দাঁড়িপাল্লায় মাইপা জাস্টিসের দরকারে খুন করার এন্তেজাম।

দুনিয়ায় ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট তুইলা দেবার আলাপ চলতেছে এখন, কতগুলা দেশে তো বাদ দেওয়া হইছে। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট থাকলেও এইটা দেবার সিস্টেমটারে পেইনলেস করারও চেষ্টা চলতেছে কই কই যেন। এইটার সিস্টেমের ভিতর গলা কাটার রেটিং সবচে কম মনে হয়, সবচে ভায়োলেন্টও। জাস্টিসাস সেইটাই করবেন এই তলোয়ার দিয়া!

অনুমান করি, দুনিয়ায় এই জাস্টিসাস জাস্টিসের মেটাফর হিসাবে বেশিদিন থাকবে না আর! হিউম্যান রাইটস্অলা বা এনভায়রনমেন্টালিস্ট এবং ফেমিনিস্টরা কয় বছরের ভিত্রেই আপত্তি করবে এই মেটাফরে! আমরা তো এমনিই খুব ভায়োলেন্ট টাইমে আছি, এই তরবারি আরো ভায়োলেন্ট কইরা তোলে না!

এদিকে, আমাদের জাস্টিসাসকে শাড়ি পরানো হইছে, তবে মাইয়া কিন্তু ফর্সাই। মৃণালের কাম এমনিতেই অপছন্দ আমার, লজিক থাকে না তার কামে, ইতিহাসও না। পরিবাগে একটা বসাইছে যেইখানে লাশ কোলে খাড়াইয়া রইছে এক মাইয়া যার বডিতে বাড়তি ভরের ফিজিক্স কাম করে না! আজব মৃণালী ফিজিক্স হয়তো!

জাস্টিসাসে মৃণাল ফর্সা দেবী/মাইয়ারে শাড়ি পরাইছেন, তরবারিটা আবার ওয়েস্টার্ন। আইকনিক গ্রিক তলোয়ারও না।

তরবারি অনেক ধরনের আছে। অমন সোজা, ডাবল ব্লেডেড তরবারি ইউরোপিয়ান ট্রেডিশন। এদিকে, বা ইস্টার্ন তরবারির আইকন কার্ভি, বাঁকা। হযরত আলীর তরবারি আছিল আগার মাঝ বরাবর চেরা, কাঁচির মতো অনেকটা। মোঘল-সুলতানী তরবারিও বাঁকা, এমনকি জাপানি তরবারিও পুরা সোজা না। ট্রেডিশনালি পুরানা ইন্ডিয়ান তরবারিতে অমন কার্ভ আছিল না, কিন্তু অমন গড়নেরও আছিল না। এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ার খান্ডা আছিল, আগার দিকে চওড়া গোড়ার চাইতে, মাথাটা ভোতা।

আমাদের মন পুরা কলনাইজড না হইলে/থাকলে গায়ের রঙও অমন হয় না, বা তরবারি অমন হয় না! আমরা যদি পোস্ট-কলোনিয়াল হইয়া উঠতে রাজি থাকি তাইলে আমাদের জাস্টিসের মেটাফর হিসাবে ‘খনা’র কথা ভাবা যায়। খনা একজন এলেমদার মাইয়া, এনভায়রনমেন্টালিজমের প্যারালাল হিসাবে ভাবা যায় খনারে। মানুষ এবং দুনিয়ার আর সব মাকলুকাতের রিলেশন বুঝছেন, খনার মতো কে আছে আর সারা ইউরোপের ইতিহাসে? খনার উপর বিরাট অবিচারও হইছে। এদিকে, তরবারির ভায়োলেন্ট মেটাফরটারেও সুন্দর টুইস্ট কইরা খনার লগে রাখা যায়। একটা কার্ভি তরবারি দিয়া খনা মাটি খোঁচাইয়া গাছ লাগাইতেছে!

কিন্তু আসল কথা হইলো সমাজে আলাপ করা শুরু করতে হবে আমাদের। দেশের নাগরিকদের অনেকগুলা পক্ষ আছে, এমনটা থাকারই কথা। সব পক্ষের আলাপের ভিতর দিয়া গণতান্ত্রিকভাবে ফয়সালা করতে হবে আমাদের। গদিতে আছি, গায়ের জোরে এমন বসাইয়া দিলে কোন না কোন পক্ষ আপত্তি করবেই। আলাপের স্পেস যতো কমাইয়া দেওয়া হবে, মেজরিটির টর্চার ততো বাড়তে থাকবে মাইনোরিটির উপর।

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭