প্রেমিকের পয়সায় খাওয়া মাইয়ারা বেটার হিউম্যান বিইং

‘বন্ধু বা নাগরের পয়সায় খায় মাইয়ারা।’। হ, তেমন মাইয়া তো আছেই। এইটারে কেউ যখন মাইয়াদের ব্যাপারে নালিশ হিসাবে কয়, কেমনে দেখবো আমরা?

এইটা যখন নালিশ, তখন লগে এইটাও কইতেছে যে, আসলে অন্য কিছু হওয়া উচিত; তো, আর যেমন যেমন হইতে পারতো সেইগুলা তো জানা দরকার আমাদের! তারপর আমরা তুলনা কইরা দেখলাম, কোনটা কেমন হইতেছে, কোনটা বেশি খারাপ। নালিশ যারা করেন, তারা মনে হয় কইতেছেন–যা কিছু হইতে পারতো তার মাঝে নাগরের পয়সায় মাইয়াদের খাওয়াটাই সবচে খারাপ।

-------------------------

আরো আলাপে যাবার আগে আমার পুরানা একটা স্ট্যাটাস পড়েন:

“আজকেও দেখলাম, রাশিয়ান এক হোয়াইট মাইয়া বাংলাদেশের এক কালা পোলারে বিয়া করছেন, কিছুদিন আগে ব্রাজিল থিকা আইছিলেন একজন। এতে বাঙালি পোলারা বেশ আরাম পায়, তাগো বুকটুক ফোলে। বিপরীতে বাঙালি মাইয়ারা বিদেশি বিয়া করলে বাঙালি পোলাদের ইগোতে লাগে। ভারতের দশাও এমন, এইটা আর্ট-কালচারেও কইতেছে বলিউড, ‘দেশি বয়েজ’ গানটা শুনতে পারেন, বা আলিশার মেড ইন ইন্ডিয়া। কিন্তু মাইয়াদের আপনে নিজের দখলের জিনিস না ভাবলে এতে আরাম বা ইগোতে লাগার তেমন কিছু নাই। তবে এতে দুনিয়ার ইতিহাসে মাইয়াদের একটা ফিচার লইয়া ভাবতে পারেন, একটু দরদ লইয়া ভাবলে টাসকি খাইবেন। লগে এও বুঝবেন যে, মাইয়াদের মন ইতিহাসের কখনোই দখল করতে পারে নাই পোলারা।

রাশিয়া বা ব্রাজিল কেস যেমন পাইতেছেন রেগুলার, তাতে কোন পোলা কিন্তু পাইতেছেন না এমন যে কোন এক গার্মেন্টেস লেবারের পিরিতে আউলা হইয়া চইলা আইছে দেশে! ঐসব দেশ পোলাদের দখলেই, স্টাইল-ফ্যাশন-বডি-কালার-ঘ্রাণ বহু ভাবেই ঐখানের মাইয়াদের মন দখলের চেষ্টা আছে পোলাদের, যাতে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে। তবু রাজবাড়ির কোন ট্রাক ড্রাইভারের মাঝে এমন কিছু পাইয়া যাইতেছে কোন মাইয়া, এই মাইয়ার নজর দখল না হওয়া নজর! উল্টাদিকে, ঐসব দেশের ডমিন্যেন্ট ভাবনাগুলার পুরা দখলে পোলারা!

মাইয়াদের মন আর নজরের এমন দখল না হওয়া ইতিহাসে খুবই কমন। রেসিজমের টালমাটাল একটা টাইমে ইংল্যান্ডের হোয়াইট মাইয়া রুথ উইলিয়ামস বিয়া করেন বোতসোয়ানার এক কালা আদমীরে, সেরেৎসে খামা, পরে যিনি বোতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট হইছেন। দুই দেশেই ঝামেলা হইছে, বোতসোয়ানায় হওয়া ঝামেলাটারে ঠিক রেসিস্ট কওয়া মুশকিল, কিন্তু ইংল্যান্ডের ঝামেলা পুরাই রেসিস্ট।

আরো আগে আমাদের মাইকেল মধুসূদনের কথা ভাবেন। দুইজন হোয়াইট মাইয়া তারে বিয়া কইরা কত কষ্ট পাইলেন। ১৮৪০-৬০ কতটা রেসিস্ট আছিল ইউরোপ? নেটিভরা তো আদৌ মানুষই না, তার উপর মধুসূদন এমনকি আর্যও না–কালা চন্ডাল! এমন একটা টাইমে মধুকে ভাতার হিসাবে লওয়া প্রেমে পড়তে পারা টাসকি খাবার মতো ঘটনা, কতটা পাওয়ারফুল হইলে একটা মাইয়ার মন আর নজর ডমিন্যেন্ট ভাবনা-কালচারের এমন বেদখলে থাকতে পারে!”

এইখানে ৫ জন মাইয়া পাইতেছেন, ব্রাজিল বা রাশিয়ার মাইয়া নাগরে পয়সার লোভে আসে নাই, নাগরদের প্রোফাইলের হিসাবে অতো পয়সা তাগো নাই মনে হয়! আপনাদের আরামের কথা ভাইবা এই দুইজনরে গড় মাইয়াদের উপরে রাখলাম :), এক্সেপশন যেন!

সেরেৎসে খামা বা মধুসূদনের বউদের কথা ভাবি এইবার; খামা বা দত্তের পয়সা আছিল; মধুর ফুটানির তো অনেক কাহিনি আছে–বাপে জমিদার, বড়ো উকিল, প্যারিস থিকা কোট-প্যান্ট ধোয়াইয়া আনতো নাকি! খামাও ধনী আছিলেন। এই দুইজনের বউয়েরা মনে হয় পয়সার লোভেই বিয়া করছিল; খামার বউ আছিল পুচকে টাইপিস্ট, মধুর বউয়েরাও অতো ধনী কই! ধইরা নিলাম, এনাদের বউয়েরা নাগরের পয়সায় খাইতো, পয়সার লোভেই বিয়া করছিল।

এখন, এনাদের ধরেন নাগরের পয়সায় লোভ নাই, এনারা তাইলে পোলাদের কি কি বিচার কইরা নাগর বাছাই করতে পারতো, বা বিয়া করতে পারতো?

ঐ ৩ জন হোয়াইট মাইয়ার ফেমিলি বা সমাজ শিখাইছে, বিউটি মানেই ‘সাদা’, হোয়াইট সমাজ কেন, আমাদের এই কালা সোসাইটিও কি ফর্সারে বিউটি কয় না? বা ধরেন, পয়সার বদলে বুদ্ধিমান দেইখা বাছাই করলো পোলা; তো, কলোনিয়াল আমলে হোয়াইট সমাজ কি ভাবতো–নেটিভরা কি আদৌ চিন্তা করতে পারে? বুদ্ধি কি সম্ভব নেটিভদের মাঝে? আফ্রিকার ‘নিগার’ খামা কি চিন্তা করতে পারে? ইতিহাসে দেখবেন, খামার লগে হোয়াইট টাইপিস্টের পিরিত বা বিয়ার টাইমেও আফ্রিকানদের জানোয়ার হিসাবে ধইরা আইনা ইউরোপে আফ্রিকান চিড়িয়াখানা বানাইতেছে। মধুসূদনের বিয়া/পিরিতের টাইমে আমেরিকায় স্লেভারির মার্কেট রমরমা কিন্তু! কালা মানুষদের জানোয়ার হিসাবে দেখার সেই হোয়াইট আমলে কালারা কি চিন্তা করতে পারতো আদৌ, হোয়াইটের লগে তুলনা করার মতো বুদ্ধি কি থাকতে পারে কালাদের?

এই মাইয়ারা দেখা যাইতেছে, পয়সায় মন দিয়া (ধরলাম পয়সার লোভই!) রেসিজমের সেই ভায়োলেন্ট টাইমে নেটিভ বা কালাদের ঘেন্না না কইরা পারতেছে, চুমাইতেছে হরদম, কালার স্পার্মে পেট বান্ধাইয়া নিজের পোলামাইয়া বিয়াইতে পারতেছেন! উল্টাদিকে খামা বা মধুরে দেখা যাইতেছে, ‘সুপিরিয়র’ রেস চুমাবার কসরত করতেছে, মধু এমনকি সেই দরকারে খৃস্টান মাইকেল হইছেন!

না, মধু বা খামার পিরিতে সন্দেহ করতে কইতেছি না, কিন্তু ধলা যে তখনকার মাতবর/ডমিন্যেন্ট ভাবনায় সুপিরিয়র রেস–এইটা কি মিছা কথা? ধলা মাইয়াদের লগে পিরিত কইরা কালারা কি আর সব কালার চাইতে নিজেরে বড়ো ভাবার বাড়তি মওকা পায় নাই? আবার, রেসিজমের সেই জোয়ারের আমলে কয়জন ধলা পোলা পাইতেছি যারা কালা মাইয়ারে রেপ করার বদলে প্রেমে পড়ছে বা বিয়া করছে?

আমরা তাইলে কোনটারে ভালো কইবো–রেসিজম, নাকি পয়সায় মন দিয়া রেসিজমের বাইরে থাকতে পারা?

কেউ কেউ কইতে পারেন, রেসিজমের সেই আমল পার হইছি আমরা; তো দেখেন, বৃটিশ প্রিন্স হ্যারি এক কালা মাইয়ারে বিয়া করতে যাইয়া বৃটিশ কুইনডমের রেসিজম কেমন উদলা কইরা দিলো! এই পয়লা কোন বৃটিশ প্রিন্স কোন কালা মাইয়ার প্রেমে পড়তে পারলো! তাও কতটা কালা, আমাদের হিসাবে ফর্সাই তো, মাইয়ার কালা একটা অরিজিন আছে মাত্র!

এদিকে আমরা কেমন, দুনিয়ার পোলারা? ধনী মাইয়ার লগে পিরিত করতে চাওয়া পোলাদের আলাপে না যাই; আরো বাদ দেই সেই সব পোলারে যারা বিসিএস দিয়া ঢাকায় বাড়িঅলা মাইয়ারে বিয়া করলো! যেইসব পোলা নাকি মাইয়ার বা তার বাপের পয়সা দেখে না তারা কি দেইখা প্রেমে পড়ে–গায়ের রঙ, চোখের সাইজ, বডির স্ট্যাটিসটিক্স, মুখের গড়ন? মাইয়ার নাকের নিচে দুইটা পশম থাকে পোলার প্রেম ছুইটা যায়, পায়ের পশমেও, দাঁত একটু বড় আর আউলা হইলে সেই মাইয়া হইয়া যায় পেত্নী, গলা একটু মোটা হইলে, হাসি একটু তেড়ছা বা বেসুরা হইলে পোলার পিরিতি ছুইটা যায়! এমনকি পোলাদেরএই সব হিসাবে যারা সুন্দরী তারাও কয়দিন পরে বাসি হইয়া যায়।

একটা পোলা ধরেন আরেক পোলায় জেলাস, এই আরেক পোলার বউ বা প্রেমিকার ব্যাপারে; জেলাসির কি কি কারণ পাইতেছেন সমাজে? মাইয়া কচি, মাইয়ার গায়ের রঙ ফর্সা, চোখ সুন্দর, সহি স্ট্যাটিসটিক্সের বডি–কার্ভি, পার্কি টিটস্, পাছা, ঢাকায় বাপের বাড়ি…। মাইয়া অংকে ভালো পাইছেন কয়বার? ভালো দাবা খেলে? ভালো কবি বা লেখক? ভালো তর্ক করে? আইন-কানুন ভালো বোঝে? গরিবে দরদী? গাছে উইঠা ডাব বা তাল পাড়তে পারে? ভালো ডিজাইনার? ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার? ভালো গাড়ি চালায়? ভালো ম্যানেজার?

খেয়াল করেন, একটা মাইয়ার যা কিছু একটা পোলারে টানে তার মাঝে মাইয়ার নিজের কামাই প্রায় নাই! রঙ, বডি, চোখ, বুক, পাছা, বয়স, হাসি, দাঁত, বাপের বাড়ি–এর সবগুলাই হয় বংশের মামলা, বাপ-মা চৌদ্দগুষ্টির চেহারাসুরতের মামলা, মাইয়া নিজে এর কোনটা চাইলেও উল্টাইতে পারবে না, নিজে কামাই করতে পারবে না চেষ্টা করলেও!

উল্টাদিকে একটা পোলার যা কিছু একটা মাইয়ারে টানে তার মাঝে পোলার বংশ প্রায় নাই, বুদ্ধি থিকা পয়সা–পোলার নিজের কামাই; বাপের পয়সা হইলেও পোলার সেইটা রক্ষা করতে হবে; ওদিকে পয়সা কামাই বা রক্ষা করতে পারা সেইটাও বুদ্ধির ফল প্রায়ই! পয়সা হইলো গুণের সুরত প্রায়ই, ভিজিবল; দুই চার দিনে বুদ্ধি বা গুণ বোঝা শক্ত, পয়সা এবং তা খরচের প্যাটার্নে মানুষের গুণের অনেকটা বোঝা যায়, ভালো চাকরির ভিতরেও বোঝা যায়।

এদিকে মাইয়ারা ইনহেরিটেন্স কম পায়, বা পায় না; আইনে পাইলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারে না প্রায়ই। সমাজে প্রোপার্টির ভাগাভাগিতে প্রায় পুরাটাই যখন পোলারা পাইতেছে, মাইয়াদের খাওয়াবে, এমন একটা অনুমানেই পোলাদের দেওয়া হইতেছে, প্রোপার্টির এমন ভাগাভাগির সমাজে মাইয়াদের খাওয়ানো পোলাদের সামাজিক দায়িত্ব, যেই পোলা খাওয়ায় না সে মাইয়াদের হক মাইরা খাইতেছে!

নাগরের পয়সায় খায় মাইয়ারা, এই কথার অর্থ কি পাইতেছেন তাইলে? সমাজ মাইয়াদের এতো এতো কম দেবার পরেও বহু মাইয়া ভালো কামাই করে; পোলারা সমাজের সব খাবার পরেও ভালো কামাই করা মাইয়ার পয়সার দিকে নজর দিতেছে আসলে! সমাজে পোলাদের খমতা দিয়া এমন কালচারাল ভ্যালু বানাইতে চাইতেছে যাতে মাইয়াদের কামাই করা পয়সা মারা যায়, ডাকাতির আরেকটা ফর্ম এইটা, আরেকটা এবিউজ।

সো, পোলাদের/নাগরের/বন্ধুর পয়সায় খাওয়ায় শরমের কিছুই নাই, কারণ, ঐগুলা আসলে মাইয়াদের পয়সাই, সমাজ মাইয়াদের ঠকাইয়া পোলাদের পকেটে রাখছে! কেবল তাই না, পোলাদের পকেটের পয়সা প্রায়ই আসলে কামাই করা বোনের পয়সা, ধানাইপানাই কইয়া লইছে। এইসব বাকোয়াজে কাহিল হইয়েন না মাইয়ারা, পোলাদের ডাকাতির শিকার হইয়েন না।

৮ ডিসেম্বর ২০১৭