বদনার চাইতে প্লেটে বা গ্লাসেও বেশি জীবানু থাকতে পারে

বাসায় আসছেন আমার, মেহমান আপনে, খাওয়াইতে তো হয়! ডাইনিং টেবিলে বইলেন আমার লগে। দেখলেন, টেবিলে একটা বদনা, পানির জগ হিসাবে ইউজ করতেছি আমরা, আপনারে গ্লাসে ঢাইলা দিলাম পানি। আরেকটা বদনায় পাতলা ডাইল। টেকনিক্যালি বদনায় সুবিধা অনেক তো! কেমন লাগবে আপনার?

ভাত-পানি খাইতে অসুবিধা হবে কোন, হইলে কেন? ক্লিনলিনেসের সায়েন্টিফিক হিসাব দিয়া ভাবেন, বদনা তো পুরাপুরি সাফ থাকতে পারে, সাবান দিয়া ধুইছি। আগের বাসায় ধরেন হাই কমোড আছিল না, এই বাসায় হাই কমোড আছে। তাই দুইটা বদনা টয়লেটে লাগতেছে না আর, হাগার পরে ধোয়ার জন্য পাইপ আছে এই বাসায়। তাই বদনা দুইটা ভীম (যুধিষ্টিরের ভাই, মহাবীর ভীম) লিক্যুইড দিয়া ধুইছি, স্যাভলন দিয়াও ধুইছি। তারপরে টেবিলে উঠাইছি। সো, সায়েন্টিফিক হিসাবে ক্লিনলিনেসের কোন ইস্যু নাই আমার এই বদনা দুইটায়।

-------------------------

তবু কেন আপনে খাইতে পারতেছেন না! আপনে তো বিজ্ঞানমনস্ক লোক; আপনের বুঝবার কথা, বদনার চাইতে প্লেটে বা গ্লাসেও বেশি জীবানু থাকতে পারে। বদনাদের সাফ করার এই ইতিহাস পুরা কইলাম আপনারে, তারপরো কি অসুবিধা হবে? ঘিন ঘিন লাগবে, বমি বমি ভাব? অসুবিধা হইলে আপনে কি বিজ্ঞানমনস্ক আছেন আর?

এই বদনা দিয়া ঢাইলা দেওয়া ডাইল খাইতে যদি আপনের অসুবিধা হয়, তাইলে ভাবেন, ক্লিনলিনেস কেমনে কাম করে, বিজ্ঞানের সাকসেস কেমনে পয়দা কইরা দিতেছে অবিজ্ঞান! ক্লিনলিনেসের ভাবনা/ডিসকোর্স সমাজে কামিয়াব হইতে ঐ ঘিনঘিন ভাবের দরকার হয়, এই বিজ্ঞান যতখন রুচিতে কনভার্ট না হইতেছে ততখন কামিয়াব হইতে পারে না সমাজে!

মাইক্রোস্কোপ আর জীবানু আবিষ্কার ব্যাপারটারে আরো জটিল কইরা তুলছে। একদিকে এই বিজ্ঞান আমাদের জীবানু চিনাইছে, বিজ্ঞানমনস্ক হইছি আমরা, আরেকদিকে আমাদের ঘিনঘিন ভাব অনেক বাড়াইয়া দিছে। যে আপনার ঘর মোছে, টয়লেট সাফ করে, বাচ্চার গু ভরা প্যান্ট ধোয়–আপনে জানেন সে অনেক জীবানু হাতাইতেছে সব সময়। ঘিনঘিন লাগবে না আপনার? আগে তো ভাবা যাইতো, ময়লা দেখা যাইতেছে না মানেই সাফ সুতরো হইছে, এখন আপনের চোখ ময়লা কতটা দেখতে পারে সেইটা তো আপনে জানেন, ময়লা না দেখা এখন আর সন্দেহ খেদাইতে পারে না!

গত দুই তিন দিন ফেসবুকে দেখলাম, রিক্সার পিছে বাসার কামের মাইয়া/বান্দি খাড়া করাইয়া একজন যাইতেছে রিক্সায়। কামের মাইয়ারে লইয়া এক লগে খায় না এখনকার মিডল ক্লাস। মিডল ক্লাসের চেয়ার-টুল-সোফায়-বিছানায় বান্দিদের বইতে মানা। এতে ক্লাসের ব্যাপার তো আছেই; ক্লাস আগেও আছিল, তবু কিছু কিছু কাম এক লগে করা যাইতো বান্দা-বান্দির লগে। এখন আর করা যায় না। কারণ, কেবল ক্লাস তো না, ক্লিনলিনেসের বিজ্ঞানমনস্কতা আমাদের দিছে এক নয়া ঘিনঘিনে মন।

রক মনু #রক_মনু