আরেক কদম দেবার টাইমও হইছে

নাটক সিনেমার জেনার হিসাবে কমেডির একটা ব্যাপার আছে। সমাজে একটা নয়া কনসেপ্ট ছড়াইতে কমেডি সবচে ভালো। লোকে কমেডির মজার কথা কয়, কিন্তু নয়া কনসেপ্ট আনতে কমেডি ইউজ করার আসল কারণ আরেকটা।

১/২ বছর আগে হলিউডের ‘দ্য ইন্টার্ন’ সিনেমা লইয়া ভাবেন। বুড়া মানুষের এক্সপেরিয়েন্স কামে লাগাবার একটা প্রস্তাব দিতেছে দ্য ইন্টার্ন। লগে আরো কয়েকটা ব্যাপার আছে। বুড়া রিটায়ার্ড লোকদের সেক্সলাইফ প্রোমোট করতেছে একটু, তবে সবচে বড়ো প্রস্তাবটা জেন্ডার রোল লইয়া। পোলা-মাইয়ার লগে ঘর-বাইরের যেসব অনুমান আছে তারে উল্টাইয়া দেখাইতেছে। এক্সট্রা-ম্যারিটাল রিলেশন কেমনে মোকাবেলা করবেন সেই ব্যাপারেও টিপস আছে।

-------------------------

সমাজে, আমেরিকার সমাজেও এই সিনেমার প্রস্তাবের মতো সেক্স-ফেমিলি-জেন্ডার রোল নাই, সমাজের জন্য নয়া একটা জিনিস ছড়াইতে চাইতেছে। কমেডির সুবিধার হইলো, প্রপাগান্ডারে মজা দিয়া ঢাইকা ফেলা যায়! কমেডি মানেই হইলো, ঘটনাগুলা নাই সমাজে, তাই রিপ্রেজেন্টেশন ইস্যু লইয়া কেউ আপত্তি করে না, খুব সেন্সিটিভ ইস্যু হইলে অবশ্য অন্য কথা!

কিন্তু ভিতরে প্রোপাগান্ডাটা আছে! অডিয়েন্স চাইলেই তুলনা করতে পারে–এমন হইলে আসলে কেমন হয়! পরে দুই চার জন যেন কমেডিই করতেছে, তেমন একটা ঢঙে ঐ নয়া কনসেপ্ট নিজেদের জিন্দেগিতে তরজমা করে, তারপর আরো দুই চার জন। আরো দুয়েকটা কমেডি হয়। কয়েক বছর পরে সমাজে যেন আছে এইটাই, সেই দাবি করা যায়! তারপর সমাজকে তেমন ধইরাই থ্রিলার হবে, সোশ্যাল ড্রামা, অ্যাকশন, ট্রাজেডি।

বাংলাদেশের টিভিতে ফারুকীরা/ছবিয়াল কমেডি নাটক বানাইয়াই শুরু করছেন। মফঃস্বল, পিরিতি, পাড়া-মহল্লা, আড্ডা-দোস্তি এমন সব সমাজের নয়া হালচাল দেখাইছেন। তবে সবচে বড়ো প্রস্তাবটা দিছেন ভাষার ব্যাপারে। মিডল ক্লাস হবার জন্য আগে কোলকাতা/উদিচী/ছায়ানটী বাংলা লাগতো, তেমন একটা অ্যাকসেন্ট আর ভোকাবুলারিতে পিরিতের প্রস্তাব দিতে হইতো, আফজাল-সুবর্ণারা শেলী-কীটসও মারাইতেন মাঝে মাঝেই। ফারুকী গং/ছবিয়াল-আনিসুল হক ঐ বিদেশি বাংলার দাপট ভাইঙ্গা দিতেন তাগো কমেডি দিয়া, মিডল ক্লাসে এখন স্ট্যান্ডার্ড বাংলা হইলো ‘আম বাংলা’, ছায়ানটী বাংলায় এখন পিরিতি প্রোপোজ করলে হাসি পায় ! এই বাংলাটাই ওনাদের আসল নয়া প্রস্তাব, দেশি হইয়া ওঠা।

ওনারা সাকসেসফুল হইছেন। কিন্তু এখন আসলে যেইটারে ‘সিরিয়াস’ কয়, তেমন নাটক বানাবার টাইম হইছে তাগো! দরকারি এই নয়া স্টেপটা অনেক দেখা যাইতেছে না এখনো!

তবে দুয়েকজন মনে হয় নয়া স্টেপ দিছেন। আগে অনেক বাংলা সিনেমা আমজনতার লগে ধানাইপানাই করতো, মিছা কসম খাইয়া টিকিট বেচতো। এখনো করে। কেমন? ধরেন, ‘ও আমার রসিয়া বন্ধুরে, তুমি কেন কোমরের বিছা হইলা না?’, আম বাংলায় এমনসব গান শুনাইয়া সিনেমার ডায়লগ-ন্যারেটিভ রাখতো ঠিকই ‘প্রমীত বাংলা’য়! শাকিব খানের এক সিনেমায় দেখলাম চান বয়াতির ‘মেজিসটেট ছামসুল হক আমায় জামিন দিল না’ ইউজ করছে!

এই ব্যাপারটারেই মনে হয় উল্টাইয়া দিছেন আশফাক নিপুন। ‘প্রমীত বাংলা’য় গান রাখছেন, ডায়লগ-ন্যারেটিভ আম বাংলায় :)। ভালো। এইটারে একটা স্টেপ ভাবা যায়। কিন্তু আরেকটা স্টেপ/কদম দেবার টাইমও হইছে আসলে। গানও লিখতে হবে আম বাংলায়।

#রক_মনু, ২৯ জুন ২০১৭