ছফার হিম্মত নাকি খালেদার ডিসেন্সি, আফসোস এবং উইট

নিচে খালেদা জিয়ার লগে ছফার একটা কাহিনি পড়েন। এইটা ছফানাগরেরা গলা উঁচাইয়া কন প্রায়ই, এই নাকি ছফার হিম্মতের গপ্পো। তা ছফার হিম্মত তো আছিলোই, কিন্তু গপ্পোটা তো আরো বেশি খালেদার!

খেয়াল করেন, ‘অশিক্ষিত’ খালেদা ‘আতেল’ ছফারে খুবই উইটি জবাব দিছেন। ছফানাগরেরা তো আর ভাবতে নারাজ, কিন্তু ভাবেন তো, খালেদার জবাবে ছফা তখন কি কইছিলেন? ছফানাগরেরা ছফার পরের জবাবে হয়তো ততো হিম্মত বা উইট পান নাই আর, গপ্পো তাই ঐখানেই খতম :)!

-------------------------

কথাই হয়তো ঘুরাইয়া ফেলছিলেন ছফা,

“আচ্ছা যাহোক, এনজিও ব্যুরো…”

কিন্তু এনজিও ব্যুরোতে একটা রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রাইম মিনিস্টারকে ফোন করেন কেমন আতেল :)? এইটারে হিম্মত নামে ডাকা ঠিক হবে? ফিলিস্তিনের খেজুর কিনতে আমি যদি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করি, আপনে কি সেইটারে হিম্মত কইবেন, নাকি ফানি লাগবে ব্যাপারটা? তবে গপ্পোটার আসল কাহিনি আর কিছুওহইতে পারে; এনজিও ব্যুরোর ব্যুরোক্রেসি আর আইনের হ্যাছেল লইয়া খালেদারে কইতে পারেন ছফা, সেইটা দরকারি সারা দেশের জন্যই। বাট ছফানাগরেরা হয়তো সেই গুরুত্ব না বুইঝা ছফার হিম্মত দেখাইতে যাইয়া পুরা ঘটনাটারেই ফানি বানাইয়া ফেলছে!

পরে দেখেন, খালেদা ফোন ব্যাক করছে ছফার মেজাজ দেখানির পরেও। ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার পাবলিক বাসে খাড়াইয়া অফিসে যাইতেছেন, সেই ক্যাটেগরির ঘটনা এইটা। ছফা নাগরেরা খালেদার এই ডিসেন্সি একদমই দেখতে পায় না! ছফার ঝাড়ির জবাবে খালেদার হাসিটাও দেখতে পায় না। ওনারা বরং পারলে কয়, ফোনে খালেদার মেকাপের কারণে ছফা তো প্রায় চিনতেই পারে নাই :)!

তারপর দেখেন, খালেদার প্রতি দেশের এডুকেটেড মানুষের দেমাগ এবং ডিনায়্যাল-ঘেন্না কতটা সহি ভাবে দুইটা কথায় ছফারে দেখাইয়া দিছেন খালেদা! খালেদার জবাব উইটি, কিন্তু আরো বেশি আছে তার আফসোস এবং দেশের সর্বনাশের গোড়ার কথা একটা!

ছফানাগরেরা এগুলার কিছুই দেখতে পায় না। তারা ছফার হিম্মতের গপ্পো মারে, সেইটা যে আদতে একটা ফানি স্টোরি হইতেছে, যেইখানে ছফারেই ফানি লাগতেছে সেইটাও মালুম হয় না এই ছফা নাগরদের!

কাহিনিটা পড়েন:


“খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছফার আরেকবার ফোনালাপ হয়েছিল। উপলক্ষ্য ছিল এনজিও ব্যুরো থেকে ‘বাংলা-জার্মান সম্পীতি’র রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে। ছফাই বেগম জিয়াকে ফোন করেছিলেন। ফোনটি ধরেছিলেন তাঁর পিএস। ছফা বিনয়ের সঙ্গে পিএসকে বলেছিলেন, ম্যাডামকে কি একটু দেয়া যাবে? আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।

পিএস সাহেব জানতে চাইলেন, আপনি কে?

ছফার জবাব, আমি আহমদ ছফা।

পিএস সাহেব ফের জানতে চাইলেন, কোন আহমদ ছফা?

পিএস-এর কথায় ছফা ভয়ানক রকম খেপে গিয়েছিলেন। তিনি রাগলে সচরাচর যে গালটি তাঁর মুখ দিয়ে বা’র হতো সেটি বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি কোন রকম ভূমিকা না করে বললেন, বাংলাদেশে আহমদ ছফা দু’জন আছে নাকি?

ছফা কথা না বাড়িয়ে রিসিভারটি ধপাস করে রেখে দিয়েছিলেন।

পিএস সাহেব ছফার এ অশোভন আচরণের কথা বেগম জিয়াকে জানিয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। কিছুক্ষণ পরে বেগম জিয়া ফোন করেছিলেন। ছফার কথার ঝাল তখনও থেকে গিয়েছিল। ফোন পেয়ে তিনি বেগম জিয়াকে বিরক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ম্যাডাম, কী সব অশিক্ষিত পিএস-টিএস রাখেন আহমদ ছফার নাম জানে না।

ছফার কথায় বেগম জিয়া হেসে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি নিজে অশিক্ষিত; শিক্ষিত মানুষ পাব কোথায়। আপনারা কেউ তো এগিয়ে আসছেন না।'”