ব্যবসা বুদ্ধি: ফ্লোটিং স্টেট

ভাবতেছি একটা আইডিয়াল স্টেট বানাইলে কেমন হয়! শুরুটা প্রাইভেট স্টেটও হইতে পারে; ওয়াটারওয়ার্ল্ড সিনেমাটা যারা দেখছেন, বুঝতে সুবিধা হবে তাগো।
ধরেন, ১০০ জাহাজ কিনলাম, চিটাগাং-এ ভাঙতে আনে যেসব জাহাজ, সেই টাইপের বড়ো বড়ো জাহাজ, আরেকটু বেটার কন্ডিশনের। এই সবগুলা জাহাজ লইয়া গেলাম ‘ফ্রি ওশেন’-এ, প্যাসিফিকের মাঝে ধরেন, যেইখানে কোন দেশের মালিকানা নাই। এই ১০০ জাহাজ হইলো এই আইডিয়াল স্টেটের ল্যান্ড, সিটিজেনদের থাকার আর কামের জায়গা। 

তাইলে স্টেট তো বানাইলাম, থাকার আর কামের জায়গাও আছে, কিন্তু সিটিজেন লাগবে না, কই পাই? এই ব্যাপারে আমারে হেল্প করার অনেক দেশ আছে! পুরাই ফাও হেল্প।
বার্মা/মায়ানমারের কথাই ভাবেন। মায়ানমার আমারে হাজার হাজার সিটিজেন দেবে, রোহিঙ্গা সিটিজেন। সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন (সৌদি আরব) দেবে কয়েক লাখ সিটিজেন। আফ্রিকার আরো কিছু দেশ থিকা পাওয়া যাবে আরো অনেক। এখন চিন্তার বিষয় হইলো, এই স্টেটের কামাই কেমনে আসবে?
মাছ হইলো একটা সোর্স, প্রোটিনের দরকারটাও মাছে সামাল দেওয়া যাবে। কিন্তু সবচে বড়ো কামাইটা করতে হবে হাতের কামে। মানে ধরেন, স্যুয়েটার বানাইয়া কামাই করতে পারেন, বাঁশের কাম করা যায়, পাটের দড়ি বানানো, ব্যাগ, নকশী খ্যাতা। এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি ইকোনমি খাড়া করানো যাবে আরামসে! কামাইয়ের আরেকটা রাস্তাও বানাই পারবো। দুই-চারটা জাহাজ জেলখানা হিসাবে ভাড়া দিলাম আর সব স্টেটের কাছে! এই ব্যাপারে আমেরিকা থিকা টার্কি গভমেন্ট, সবাই হেল্প করবে আমাদের!
আসল ঝামেলাটা হবে ঝড়-ঝাপ্টা-টর্নেডো, বাতাস, সুনামী সামলাইতে পারা! তবে এক জায়গায় থাকার তো দরকার নাই, আবহাওয়ার তালে তালে আমার এই স্টেট লইয়া সারা দুনিয়া ঘুরলাম! তাতে আরো সুবিধা হইলো, প্রোডাক্ট ডেলিভারির একটা হিউজ খরচ বাইচা যাবে! দুনিয়া ঘুইরা ‘র ম্যাটেরিয়াল কিনতেও সুবিধা হবে!
তবে এইগুলা তো স্টেট বানাবার পরের হিসাব! আগে কিছু পয়সা লাগে। সোনালী ব্যাংক থিকা ৪০০০ কোটি টাকা লোন লইতে পারলেই শুরু করা যাইতো! কোটি দশেক খরচ করলে এই লোন ফেরত না দিয়াও পারতাম মনে হয়! বিবির সিকিউরিটি দেখার নেইবার কান্ট্রির কনসালটেন্ট হইতে পারলেও কাম হইতো মনে হয়! গুড লাক টু মি।

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭