রক মনু

সো লং

রোহিঙ্গা ইস্যুটারে এখন ‘হিউম্যান ক্রাইসিস’ হিসাবে দেখাইতে চায় দেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান। মানে হইলো, রোহিঙ্গাদের পরিচয় হিসাবে মায়ানমারের দেওয়া ‘বাঙালি’ বা সামনে আসা আরেকটা পরিচয় ‘মোসলমান’–দুইটারেই বাতিল কইরা ‘মানুষ’ পরিচয়টারে উপ্রে তুলতে চায়।

পরিচয়ের এইসব পলিটিক্স মারামারির নয়া ডাইমেনশন যোগান দেয়, রিস্কি, কিন্তু এই পলিটিক্সটা আছে, চাই বা না চাই, এরে এড়াইয়া থাকার উপায় নাই।

-------------------------

মোসলমানের বদলে মানুষ পরিচয়কে সাইনবোর্ড বানাবার দুইটা লজিক পাওয়া যাইতেছে মার্কেটে।

ক. বার্মায় আর আরো এথনিক কম্যুনিটির মোসলমান আছে, তাগো উপর এমন হামলা হইতেছে না।

খ. বেশ কিছু হিন্দু রোহিঙ্গাও পালাইয়া আসছে বাংলাদেশে।

তাইলে নয়া সওয়াল হইলো, পরিচয়টা এথনিক কিনা! এনারা বাঙালি বইলাই কি খেদাইয়া দিতেছে, খুন করতে করতে? এদিকে বাংলাদেশের কোন পক্ষই এনাদের বাঙালি বইলা মানতে রাজি না মনে হইতেছে! তাতে যেন মায়ানমার সরকারের দাবিটাই পোক্ত হয়–দাবিটা হইলো, এরা আসলে বাংলাদেশী বাঙালি।

আমার খায়েশটা হইলো– আমি বুঝতে চাই, বাংলাদেশের লিবারাল হিন্দু-মোসলমান পরিচয়ের এই পলিটিক্সে হারলো, মানুষ পরিচয় কেমনে ছাপাইয়া উঠলো মোসলমান পরিচয়টা? এনারা রোহিঙ্গাদের বাঙালি পরিচয়টাই বা লইতে নারাজ কেন?

শুরুতেই খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, সবগুলা পক্ষ কেবল একটা পরিচয়েই আটকাইতে চান! অথচ একজন মানুষ, রোহিঙ্গা, হিন্দু, বাঙালি, শূদ্র, হিজড়া, বুড়া সবগুলাই এক লগে হইতে পারে! কিন্তু তারে মায়ানমার কইলো বাঙালি, বাংলাদেশ কইলো রোহিঙ্গা স্রেফ! মহাত্মা গান্ধি-রঠার ছাও কইলো মানুষ, কিন্তু মনের তলায় ভাবলো হিন্দু!

তবু যে যার পলিটিক্স তো করবেই, যতখন সেইটা হামলা না করতেছে, কেমনে আমরা আপত্তি করি!

বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালি শুরুতে মায়ানমারের এই ক্রাইসিসকে পাত্তা না দিয়া স্রেফ বর্ডারের ওপারে রাখতে চাইছে! শুরুতে তারা মানুষের ক্রাইসিস হিসাবেও স্বীকার করে নাই, মায়ানমারের ঘরের ব্যাপার হিসাবে দেখতে কইছে, নিজের বর্ডার আটকাইয়া রাখছে। জাতিসংঘ অবশ্য কইছে, হাজার ছাড়াইয়া লাখের ঘরে রোহিঙ্গা বাঙালি হিন্দু-মোসলমান ঢুকছে বাংলাদেশে, কেমনে ঢুকলো সেই অনুমান না করাই সেফ মনে হইতেছে!

বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালির নজর এমন আন্ধা হবার ফাঁকেই এই মানুষগুলার পরিচয় হিসাবে মোসলমান উপ্রে ভাইসা উঠছে–শিয়া না সূন্নি, সেইটা আসে নাই কোনভাবেই, তুরস্ক এবং ইরান সাড়া দিছে মোসলমানের ক্রাইসিস হিসাবে; তারা মোসলমান পরিচয়ের ব্যাপারে ততোটা ভোকাল না হইলেও বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালির সন্দেহ, ঐ দেশগুলা মোসলমান হিসাবেই মোসলমানের বিপদে পাশে খাড়াইছে। আইডেন্টিটি লইয়া অনেক অনেক ভাবলেও তাগো মোসলমান ভাবনাতেই শিয়া ইরান যে সূন্নি রোহিঙ্গাদের পাশে খাড়াইলো, সেইটা দেখতেই পায় না বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালিরা!

ওয়ার্ল্ড ক্রাইসিস হিসাবে এই ইস্যু খাড়া করার ক্রেডিট অনেকটাই হয়তো আল জাজিরার। মোসলমান পরিচয়টাই যে উপ্রে ভাসলো তাতে বাংলাদেশেরও বিরাট দায় আছে। বর্ডার আটকাইয়া রাখার অ্যাডভোকেসির মাঝে ইসলাম এবং টেররিজমের একটা নেসেসারি খাতিরের ভাবনা আছে, বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালির মাঝে এই ভাবনাটা হিউজ!

কিন্তু এনারা যদি এইটারে ‘হিউম্যান ক্রাইসিস’ হিসাবে দেখাইতে মানুষ পরিচয়টারেই উপ্রে উঠাইতে চান, তাইলে শুরুতেই কেন সাড়া দিলো না! এনারা কি ভাবছিলেন, বর্ডার আটকাইয়া রাখলেই দুনিয়ার কারো নজরে পড়বে না এই ঘটনা? এতো বেকুব!

শুরুতেই যদি সাড়া দিতো বাংলাদেশের লিবারাল/মডার্ন হিন্দু-মোসলমান বাঙালি, তাইলে তাগো কাছে সেক্যুলার/লিবারাল মিডিয়ারে ডাইকা আনার কথা বর্ডারে, ইউনাইটেড নেশনস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে হেল্প চাইবার কথা ‘মানুষের’ এই ক্রাইসিসে! শুরুতেই যদি জার্মানি বা জাপান বা ভুটানের রিলিফ জোগাড় করতে পারতো বাংলাদেশ, আল জাজিরার আগে যদি বিবিসি-সিএনএন ইস্যুটারে লইতো, বাংলাদেশ যদি এই ব্যাপারে ডিপ্লোম্যাটিক সাকসেস হাতাইতে পারতো তাইলেই তুরস্ক-ইরান আর মোসলমান পরিচয় উপ্রে উঠতে পারতো না!

বাকিটা ভারত, ইলেকশন–এইসব মিলাইয়া ভাইবা লন। পলিটিক্সটা কেমনে করবেন, ভাবেন। সো লং।