রক মনু

ড. হুমায়ুন লইয়া ভাবনার কয়েক টুকরা

৩০ মার্চ ২০১৭

ড. আজাদ লিখছেন, ‘যে বই তোমায় অন্ধ করে…’, তাঁর মুরিদরা কি তাইলে নিচের কবিতার বইটা পড়বে, জায়েজ হবে তাগো জন্য? কবিতায় দেখেন, ড. আজাদ জানাইছেন–তার অনেকবার জনম হইছে; এই ভাবনা তো উনি এবং তার মুরিদের বিজ্ঞানের বাইরে, তার উপর মইরা আবার জনমের এই আইডিয়ার ডাইরেক্ট গোড়া হিন্দুধর্মে! এমন সব ধর্মের বইই তো ওনাদের মতে ‘বন্ধ করে’!

-------------------------

বা ধরেন, কবির সুমনের জাতিস্মর গানটা শুনবেন ওনারা? কোলকাতার কার যেন জাতিস্মর সিনেমা বা বলিউডের ফারাহ খানের কি যেন সিনেমাটা–দীপিকা পাডুকনের ফার্স্ট সিনেমাটা দেখবেন ওনারা? শাহরুখ-সালমানের করণ-অর্জুন? বাংলাদেশি ‘বনমালি তুমি পর জনমে…’ গানটা শোনা যাবে?

এইসব ব্যাপারে আমার পুরানা লেখা পড়েন একটা: ​রিলিজিয়ন আর আর্টের দেনা-পাওনা

http://www.toolittledots.com/rock.1107.manu
————-
তোমার দিকে আসছি- হুমায়ুন আজাদ।

অজস্র জন্ম ধরে
আমি তোমার দিকে আসছি
কিন্তু পৌঁছুতে পারছি না।
তোমার দিকে আসতে আসতে
আমার এক একটা দীর্ঘ জীবন ক্ষয় হয়ে যায়
পাঁচ পঁয়সার মোম বাতির মত।

আমার প্রথম জন্মটা কেটে গিয়েছিলো
শুধু তোমার স্বপ্ন দেখে দেখে,
এক জন্ম আমি শুধু তোমার স্বপ্ন দেখেছি।
আমার দুঃখ,
তোমার স্বপ্ন দেখার জন্যে
আমি মাত্র একটি জন্ম পেয়েছিলাম।

আরেক জন্মে
আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পরেছিলাম তোমার উদ্দেশ্য।
পথে বেরিয়েই আমি পলি মাটির উপর আকাঁ দেখি
তোমার পায়ের দাগ
তার প্রতিটি রেখা
আমাকে পাগল করে তোলে।
ঐ আলতার দাগ,আমার চোখ,আর বুক আর স্বপ্নকে
এতো লাল করে তুলে,
যে আমি তোমাকে সম্পূর্ন ভুলে যাই
ঐ রঙ্গীন পায়ের দাগ প্রদক্ষীন করতে করতে
আমার ঐ জন্মটা কেটে যায়।
আমার দুঃখ !
মাত্র একটি জন্ম
আমি পেয়েছিলাম
সুন্দর কে প্রদক্ষীন করার।
আরেক জন্মে
তোমার কথা ভাবতেই-
আমার বুকের ভিতর থেকে সবচে দীর্ঘ
আর কোমল,আর ঠাণ্ডা নদীর মত
কি যেন প্রবাহিত হতে শুরু করে।
সেই দীর্ঘশ্বাসে তুমি কেঁপে উঠতে পারো ভেবে
আমি একটা মর্মান্তিক দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে
কাটিয়ে দেই সম্পুর্ন জন্মটা।
আমার দুঃখ ,আমার কোমলতম দীর্ঘশ্বাসটি ছিল
মাত্র এক জন্মের সমান দীর্ঘ
আমার ষোঁড়শ জন্মে
একটি গোলাপ আমার পথ রোধ করে,
আমি গোলাপের সিঁড়ি বেয়ে তোমার দিকে উঠতে থাকি-
উঁচুতে ! উঁচুতে !! আরো উঁচুতে !!!
আর এক সময় ঝড়ে যাই চৈত্রের বাতাসে।

আমার দু:খ মাত্র একটি জন্ম
আমি গোলাপের পাপঁড়ি হয়ে
তোমার উদ্দেশ্য ছড়িয়ে পরতে পেরেছিলাম।

এখন আমার সমস্ত পথ জুড়ে
টলমল করছে একটি অশ্রু বিন্দু।

ঐ অশ্রু বিন্দু পেরিয়ে এ জন্মে হয়তো
আমি তোমার কাছে পৌঁছুতে পারবনা;
তাহলে ,আগামী জন্ম গুলো আমি কার দিকে আসবো ?

২ অক্টোবর ২০১৭

‘নরেন্দ্র মুক্ত’ নামে কাউকে চেনেন না মনে হয়, আমিও চিনি না; আমি আসলে ‘হুমায়ুন আজাদ’ নামের ভিতর যে কতক মোসলমান বাঙালি বইসা রইছে সেইটা বাইর কইরা দিলাম, তরজমা করলাম নামটারে 🙂!

তো, নিজেরা মোসলমান বাঙালি না বইলা যাগো দাবি আছে এবং বাঙালি মোসলমান পরিচয় দিলে গালাগালি করেন তারা যে আসলে কি দাবি করেন, বোঝেন না বালও!

ধরেন, আপনে উৎসর্গ না কইয়া কইলেন কোরবানি, বলি না দিয়া ছদকা দিলেন, আশীর্বাদ না কইরা দোয়া করলেন, সম্মুখে না যাইয়া সামনে গেলেন, আমন্ত্রণ/নিমন্ত্রণ কম কম দিয়া দাওয়াত দিলেন–এইসব আর কি! ক্রিসমাস, হ্যালোউইন, দুর্গা পূজার লগে বছরে দুয়েকটা ঈদও করলেন আর কি!

এইসবের মানে হইলো ডেমোক্রেটিক হওয়া, নাথিং এলস্! বাংলাদেশে আপনে ডেমোক্রেটিক না হইয়াই কেবল কালচারালি মোসলমান বাঙালি না হইতে পারেন! এইসব রাখার পরেও আপনে সেক্যুলার হইতে পারেন, হিন্দুও হইতে পারেন, বৌদ্ধও হইতে পারেন! দেখেন, বলিউডে সালমান খান ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ মানে গণেশ হইলেও মোসলমান থাকতে পারলেন কিন্তু! অমিতাভ বচ্চন ‘জনতা জনার্দন’ কইয়াও কিন্তু সেক্যুলার হইতে/থাকতে পারছেন! এমনকি রাকেশ রোশন কৃষ বানাবার পরেও সেক্যুলারই কিন্তু! এমনকি বাংলাদেশের সেক্যুলাররা মোদিরেও ততো হিন্দু হিসাবে দেখে না, বিজেপির প্রাইম মিনিস্টারের ওয়াজ লাইভ দেখায় বাংলাদেশের সবচে সেক্যুলার টিভি 🙂!

আরেক দিক থেকে ভাবেন, কম্যুনাল আইডেন্টিটি তো বহু হইতেই পারে দেশে, এথনিক আইডেন্টিটিও; আপনে যদি একটা মাত্র এথনিক আইডেন্টিটির দখলে বাংলাদেশটারে ভাবতে থাকেন সেইটা কন্সটিটিউশনাল ক্রাইম–এখনকার আপত্তিকর কন্সটিটিউশন মোতাবেকও! সেইটা কম্যুনাল পরিচয় রাখেন বা না রাখেন–যেকোন বাঙালি হিসাবেই! একটামাত্র পরিচয়ের প্রেশার ফ্যাসিজমের দিকে হাঁটতে থাকা, ভেরি ব্যাড।

২ মে ২০১৬

চঞ্চল আশরাফ:

বিয়ের পর এক ছাত্রী বোরকা পরতে শুরু করে। সে তাঁর রুমে ঢুকলে, তিনি এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলেন। সে বলল, ‘আমার স্বামী চায় না বোরকা ছাড়া বাইরে যাই।’

‘কিন্তু তুমি যে সবাইকে দেখে বেড়াচ্ছ, তোমার স্বামীর তাতে আপত্তি নেই?’

মাথা নিচু করে সে বসে রইল।

তিনি বললেন, ‘তুমি কার জীবন যাপন করো, তোমার স্বামীর, না নিজের?’

নীরবতা।

‘তোমাদেরকে নিয়ে, মানে নারী নিয়ে আমি একটা বই লিখছি। আচ্ছা, প্রতিদিনই কি তোমরা শারীরিকভাবে মিলিত হও?’

হঠাৎ এই প্রশ্নে হতভম্ব হয়ে গেলাম। শোঁ-শোঁ শব্দে ফ্যান ঘুরছে। তার না-ঠাণ্ডা না-গরম হাওয়ায়, রুমে আমরা তিনজন। কিন্তু আমি যে বসে আছি তাঁর সামনে, সেটা কি তিনি খেয়াল করছেন না? সেই ছাত্রীর দিকে তাকালাম। তার নড়াচড়াতেই বেশ বোঝা গেল, প্রশ্নটির জন্যে সে প্রস্তুত ছিল না এবং লজ্জা পেয়েছে। তবু বলতে পারল, ‘প্রতিদিনই না, তবে প্রায়ই। এসব প্রশ্ন আর করবেন না স্যার।’

একটা সিগারেট ধরিয়ে তিনি বললেন, ‘একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তুমি আমাকে খুব সাহায্য করেছ। এটা যখন পেরেছ, আর একটা প্রশ্নের উত্তর তুমি দিতে পারবে।’ সে কী-যেন বলতে চাইল, কিন্তু তাকে হাত তুলে থামিয়ে তিনি বললেন, ‘অর্গ্যাজম হয়েছে কখনও?’

সে বলল, ‘অর্গ্যাজম কী স্যার?’

তিনি বললেন, ‘আমি আজ আর তোমাকে কোনও প্রশ্ন করবো না। এখন বলো, কেন এসেছিলে?’

‘একটা টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আমি দিতে পারি নাই স্যার।’

‘কেন?’

‘বিয়ের কারণে।’

‘তোমার?’

‘জি, স্যার।’

অ্যাশট্রেতে ছাই ফেলে তিনি বললেন, ‘এখন তো তুমি স্বামীর জীবন যাপন করছ। ভাষাতত্ত্ব তার কোনও কাজেই আসবে না। তা হলে পরীক্ষা দিতে চাও কেন?’

(আমার হুমায়ুন আজাদ / ২০১০)

রক মনু:

আলোয় ঝলসাইয়া যাওয়া মাস্টার! ঐ মাইয়া মে বি সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টের মডার্ন আইডিয়াও ততো জানতো না বা পাশ করতে চাওয়ায় সাহস পায় নাই; নাইলে কমপ্লেইন করতে পারতো গায়ে পইড়া এমন পার্সোনাল সওয়াল করায়। এইটারে কয় লেখকের রিসার্চ হামলা; কলোনিয়াল টাইমে নেটিভদের এমন হামলা করতো সাদা লেখকেরা।

ঐ ভাতারের ভাষাতত্ত্ব কোন কামে না লাগার পরেও বউ যদি টিউটোরিয়াল দিতে চায় তাতেই তো প্রুভড হয় যে, নিজের লাইফ লিড করায় ততো মুশকিল হইতাছে না মাইয়ার।

ওদিকে, ভিন পুরুষ দেখায় তো আপত্তি করতাছে না ভাতার, আজাদেরা তো উল্টা–নিজেরে দেখাইতে বাধ্য কইরা অন্য পুরুষ দেখায় বাধা দেয়–নিম্ফোম্যানিয়াক নাম দেয়!

এদিকে, বউ চায় বইলা আপনে যখন নাভির নিচটা ধুইয়া আইলেন সাবান দিয়া, আপনে কি তখন ভাবতে থাকেন যে, নিজের লাইফ লিড করতে পারতাছেন না!

আর মাস্টারদের কিছু সওয়ালে চুপ থাকা যে স্রেফ ডর, জবাবের অভাব নয় সেইটা কবে বুঝবে এই বেকুবেরা!?

বেকুবেরা আরো বোঝে না যে শব্দ আর আইডিয়া দুই জিনিস; অর্গাজম কি?–এই সওয়াল করা হেজাবি বউ শরীলের জ্বালা না মেটায় ভাতারের পৌরুষ লইয়া মশকরা করতে পারে, ‘অঙ্গ যায় জ্বলিয়া…’ গানও গাইতে পারে নেতানো ভাতারেরে হাতাইতে হাতাইতে…!

১২ আগস্ট ২০১৫

দেশের বাংলা মিডিয়ামের এসথেটিক বেসগুলি খেয়াল করেন।

নজরুল একজন বেস, মোল্লা-মৌলবীদের প্রতি টিটকারিই– ইতিহাসের এই ধাপে আইসা–নজরুল বইলা শিখায় যেন বাংলা মিডিয়াম; এই নজরুলরে আগাইয়া নেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ–বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, আলো বিতরণ করে করে এইটা আরেকটা বেস হইয়া ওঠে; আরেক বেস আছে হুমায়ুন আজাদ, তিনিও বিসাকে’র প্রজেক্টেরই পার্ট ইন ফ্যাক্ট–উভয়ই চোখে আন্ধার দেখেন খালি। আরেকটা বেস ধরেন, ওয়ালিউল্লাহ; বাট এই ওয়ালির অবস্থা নজরুলের মতোই–আর আর ওয়ালিরে নিখোঁজ রাখে বাংলা মিডিয়াম, লালসালুরে একমাত্র বানাইয়া তোলে; লালসালু কি?

লালসালু মাজারের ইতিহাস না জানার থেকে পয়দা হইছে, পীর-খাদেম-মৌলবীদের নিন্দামন্দ-টিটকারি ছাড়া বিরাট কিছু পাওয়াই কঠিন এই উপন্যাস থেকে; ওই উপন্যাসে মজিদের হাতে হেনস্থা হইয়া শহরে ফেরত যায় মডার্ন বিজ্ঞানমনস্কতা, বাংলা মিডিয়াম এখনো তার প্রতিশোধ নিতাছে যেনবা নাস্তিকতা দিয়া।

এর আগে থেকেই ‘আধুনিক বাংলা’ তৈরি হবার ইতিহাস আছে একটা; বিপুল পরিমাণ ফারসি আর কিছু আরবী শব্দ বাংলা থেকে তাড়াইয়া দেওয়ারে নাম দেওয়া হয় ‘আধুনিক বাংলা’ তৈরি হওয়া; ‘আধুনিক বাংলা’ বানাবার ঐ প্রজেক্ট বাংলা মিডিয়ামের বেসগুলি চালু রাখে সমানেই; নজরুল রিভল্ট করছিলেন বাট সেই নজরুলরে দূরেই রাখে বাংলা মিডিয়াম; ভাষা আন্দোলন নামে যেই জিনিসটা সেলিব্রেট করে বাংলা মিডিয়াম সেইটারেও ঐ ‘আধুনিক বাংলা’ রক্ষার মুভমেন্ট হিসাবে থিয়োরাইজ করছে বাংলা মিডিয়াম, আর আর বাংলারে খেদাইয়া দেবার চেষ্টাই চলে এখনকার ডমিন্যেন্ট ২১ ফেব্রুয়ারি।

আরেক বেস আছেন রঠা; উনি যে ধর্মে ব্রাহ্ম আছিলেন সেইটা গোপন রাখে বাংলা মিডিয়াম; ওনার গানগুলি যে ব্রাহ্মধর্মের প্রেয়ার সং–এইটা গোপন করার ভিতর দিয়া ওনারে প্রায় নন-বিলিভার সাজাইয়া রাখে; আর আছে, ওনার ‘মানবতা’র আইডিয়া; গান্ধী/কংগ্রেসের ক্যাম্পেইনের ভিতর দিয়া মানবতা নামের এই পদার্থ রিলিজিয়নের অল্টারনেটিভ হিসাবে প্রোপোজ করা হয়–এইটার ভিতরে কম্যুনালিজমের সল্যুশন খুঁজতে বলা হইতে থাকে; বাস্তবে মানবতাবাদীরা আরেকটা কম্যুনিটির বেশি কিছু হইতে পারে নাই; তার উপর, মানবতাবাদরে জেন্ডার ইস্যুর সমাধান হিসাবেও প্রোপোজিং চলতে থাকে, বাস্তবে যেটি এন্টি-উইমেন ভাবনা-কালচারকে সাসটেইনেবল করে তুলতে থাকে।

লালনকে যদি বেস ধরেন, দার্শনিক লালন বেস হিসাবে নাই বাংলা মিডিয়ামে, জগৎ-সংসার বোঝার আরেকটা প্যারাডাইম নয় মিডল ক্লাসের লালন, এই লালন হইলো, জাত-পাত-আশরাফ-আতরাফ বিরোধী লালন মাত্র–তুমুল হিউম্যানিস্ট।

বাংলা মিডিয়ামের ইত্যকার বেস কেমন ‘শিক্ষিত’ বানাইবে? এরা যখন হকিন্স নিয়া রিপোর্ট করবেন তখন “ঈশ্বর নেই: স্টিফেন হকিন্স”–এর বাইরে কোন হেডিং পয়দা করতে পারবেন?