১২ মাসই মানুষের ভাদ্রমাস এবং এইটাই নর্মাল

সামাজিক মানুষের দেমাগ আছে। দেমাগের কিছু বেসিস বা পাটাতনও আছে। যেমন ক্লাস, রেস, জেন্ডার, বর্ণ, জাতি, এলেম, পেশি বা মাসল; এমনকি স্পেসিস হিসাবেও মানুষ দেমাগী। এই দেমাগ আবার মানুষের ইজ্জতের পাটাতন। ইজ্জতের ফারাকের দেমাগে মানুষ অনেক সময় অন্যরে পাত্তা দেয় না, দেমাগে অন্যের হাজিরা পুরাই ইগনোর করে মানুষ প্রায়ই।

মানুষের দেমাগে বা ইজ্জতে জখম করার মোক্ষম হাতিয়ার হইলো গালি। ইজ্জতে আপনের চাইতে যে যতো নিচে, তার গালি ততো বেশি জখম করে আপনের ইজ্জতে বা দেমাগে। আপনে যেই কামলা বা রিক্সাঅলারে পাত্তাই দেন না, চেহারাই মনে করতে পারেন না, সে যদি আপনারে একটা গালি দেয় অমনি তার চেহারা মনে দাগ কাটে আপনের, মনেও করতে পারেন পরে। দেমাগ আর গালির এই গ্রামারে সমাজ চলে মোটামুটি।

-------------------------

সমাজের এই গ্রামার মোতাবেক দেখা গেল, দেশের পোলাদের ইজ্জতে ‘কুত্তা’ গালি বেশ জখম করতে পারছে। পাত্তা পাওয়া বা ইজ্জতে জখম করা যদি আপনের মঞ্জিল হয় তাইলে গালি দিতে পারেন আপনে, কিন্তু পাত্তা বা এটেনশন আর ইজ্জতের ঐ জখম করতে পারাটারে অনেকেই লজিক হিসাবে ধইরা ভুল করে। লজিক দেবার দরকারে অনেকে গালি দেয় এবং জখম আর রিঅ্যাকশন দেইখা তৃপ্তি পাইতে থাকে যে কঠিন এক লজিক দেওয়া গেল। বাস্তবে গালির ভিতর লজিক থাকে না প্রায়ই।

কুত্তার ভাদ্রমাস ফুরায়, কিন্তু পোলা মানুষের ফুরায় না–এই কথা পোলাদের ইজ্জতে লাগছে। স্পেসিস হিসাবে মানুষ সবচে উপরে বা আশরাফ, এমন একটা পোক্ত ভাবনা থাকায় কুত্তার লগে ঐ তুলনায় পোলাদের খুব লাগলো। কিন্তু ঐ কথার ভিতর কুত্তা আর মানুষের সেক্সুয়ালিটির ব্যাপারে যে অনুমান আছে, যেই পাটাতনে লজিক গজাইয়া ওঠার আভাস আছে তার প্রায় পুরাটাই ভুল।

তবে কথাটা কিন্তু মিছা না, কুত্তার ভাদ্রমাস ফুরাইলেও পোলাদের আসলেই ফুরায় না, এবং এইটা একটা ভালো ব্যাপারই! কিন্তু পোলা মানুষের না ফুরানো ভাদ্রমাসকে আপনে গুণ বা দোষ যেইটাই ভাবেন না কেন, এইটা তারা পোলা হিসাবে পায় নাই, এইটা পাইছে স্পেসিস হিসাবে, মানুষ বইলাই তারা এমন, আর কুত্তা মানুষ না বইলাই তার ভাদ্রমাস স্যাডলি ফুরাইয়া যায়। তাইলে ঐ দোষ বা গুণটা মানুষ হিসাবে মাইয়ারা বা হিজড়াদেরও আছে, মাপে যদি হেরফেরও থাকে তবু আছে।

তবে এইখানে আমাদের ভাবার ব্যাপার হইলো, কুত্তার ভাদ্রমাস কইতে কি বুঝবো আমরা। ভাদ্রমাসে কুত্তারা কুত্তি দেখলেই প্রোপোজ করে, ফ্লার্টিং করতে থাকে কয়েক ফর্মে। কুত্তা কি রেপ করে, রেপ করা কি সম্ভব কুত্তার জন্য? আমরা কি পুরাটা বা এনাফ জানি এই ব্যাপারে? আমার হিসাবে কুত্তা-কুত্তির সেক্সে কুত্তি রাজি হওয়া বা কনসেন্ট দেখতে পাই আমি, কেবল না পারতে কনসেন্ট দেওয়া না, কুত্তির ডিজায়্যারই দেখতে পাই আমি। এদিকে কুত্তার ফিজিলজিক্যাল ফিচার মোতাবেক আমার হিসাবে কুত্তা চাইলেও রেপ করতে পারবে না। একজন কুত্তি যদি রাজি না হন, তাইলে সেক্সের মাঝে কুত্তি চাইলে কুত্তার পেনিস ভাইঙ্গা ফেলতে পারে, হঠাৎ বইসা পড়লেই হবে। কুত্তিকে তেমন কিছু করতে দেখি নাই। কুত্তা-জিন্দেগি ভালো কইরা খেয়াল করলে দেখবেন, কয়েকজন কুত্তা একজন কুত্তিরে প্রোপোজ করতে পারে, ফ্লার্টিং করতে পারে, কিন্তু আখেরে কুত্তাদের মাঝে গ্যাঙ রেপ হয় না। কুত্তারা প্রোপোজ করে, ফ্লার্টিং করে এবং ফোরপ্লে করে। কোন কুত্তার মাঝে পেডোফিলিয়া দেখি নাই আমি, বাচ্চা কুত্তিরে প্রোপোজ করতে কোন কুত্তারে দেখি নাই।

কুত্তা-কুত্তি সেক্স করার সময় অন্য কুত্তা কি ডিস্টার্ব করে, হামলা করে? দেখি নাই আমি। মানুষ অবশ্য অন্য মানুষের সেক্সলাইফে হামলা করে, এমনকি কুত্তার সেক্সলাইফেও হামলা করে। সেক্স করতে থাকা কুত্তাদের দুই পাছার মাঝখানে লাঠি দিয়া পিটাইয়া কুত্তার পেনিস ভাঙ্গে মানুষ। একান্তই মানবিক কাম এইটা, কোন কুত্তা আপনের বেডরুমে হামলা চালাইছে!

তাইলে কুত্তার সেক্সলাইফ বিচার কইরা পোলাদের রেপিস্ট মনের লগে কুত্তার ভাদ্রমাসকে গুলাইয়া ফেলা ঠিক হয় না। কুত্তার ভাদ্রমাসের নাম ইংরাজিতে ‘হর্নি দশা বা ভাব’, বাংলায় কইতে পারেন কামজ্বালার মাস, মাথায় মাল ওঠাও কইতে পারেন। স্পেসিস হিসাবে মানুষের দোষ বা গুণ হইলো, মানুষ অল সিজন হর্নি ভাবে থাকতে পারে–পোলারা যেমন, মাইয়ারাও বা হিজড়ারাও। ফিজিওলজিক্যাল ফিচার মোতাবেক মানুষ রেপও করতে পারে, মানুষের সেক্সুয়ালিটির ঘটনাগুলার হিসাবে মানুষ পোডোফাইলও হইতে পারে। মানুষের গ্রোথ রেট দুনিয়ার জন্য অসহ্য হইয়া ওঠার একটা কারণ অল সিজন মানুষের হর্নি হইতে/থাকতে পারাও, যে কোন ওয়েদারে মানুষের গ্রোথরেট পজিটিভ রাখতে পারার কারণগুলার মাঝেও ঐটা একটা। মানুষের মাঝে একবারে একটা বাচ্চা হওয়াই কমন, কুত্তাদের ৫/৬ টা; সেই হিসাবে মানুষ অল সিজন হর্নি না হইলে মানুষ টিকতো না দুনিয়ায়, অন্তত এখনকার টেস্টটিউব বেবির জমানা আসার আগে।

কিন্তু কুত্তার ভাদ্রমাসের ঐ আলাপটা সারা বছরই মানুষের ভাদ্রমাস থাকার আলাপ না কিন্তু, কেবল পোলাদের ভাদ্রমাস সারা বছর থাকার আলাপ। ঐ আলাপের খায়েশ মোতাবেক যদি বারোমাসই মাইয়াদের ভাদ্রমাস থাকে আর পোলাদের ভাদ্রমাস ১ মাসেই ফুরাইয়া যায়, কেমন হবে?

একজন ফেইথফুল, হেটারো-সেক্সুয়াল বিয়াতো মাইয়ার কথা ভাবেন যার ভাতার মাত্র একজন, যেই ভাতারের ভাদ্রমাস কেবল ডিসেম্বর, আর মাইয়ার বারোমাস; ভালো হবে ব্যাপারটা? ১১ মাস ইম্পোটেন্ট এই সিঙ্গেল ভাতার লইয়া ঐ ফেইথফুল মাইয়া ঐ ১১ মাস রাতদিন কেমন কাটাবে? তার দুঃখের ভাগ কে নেবে?

মাসে মাসে ফার্টাইল দশায় একজন মাইয়ার হর্নি থাকা কমন ব্যাপার, বহু মাইয়া এমনকি মিন্সট্রেশন বা প্রেগন্যেন্ট দশাতেও বাড়তি হর্নি ভাবে থাকে, তাগো দরকার ১২ মাস হর্নি ভাতার!

আমাদের কালচারাল ছবক প্রায়ই মাইয়াদের হর্নি হইতে মানা করে, শরমের ব্যাপার হিসাবে দমাইতে কয়। এইসব কালচারাল ছবক যেইসব মাইয়া ইন্টার্নালাইজ করছেন তারা অনেকে নিজের কাছেও তাগো ঐ হর্নিভাব স্বীকার যাইতে নারাজ। তার ফল ভালো হয় না, আর ১১ মাস ইম্পোটেন্ট ভাতারের ঐ ফেইথফুল বউ!

সেক্স একটা হেলদি ব্যাপার, এরে অস্বীকার করতে চাওয়াটা কেবল দুঃখের কারণ না, এর ফল আরো ডিজাস্টারাস। হর্নি দশায় আপনের ঘুম হবে না ঠিকঠাক, তাতে আপনার নার্ভাস সিস্টেম ঠিকঠাক কাম করবে না। কোন কামে কনসেন্ট্রেট করতে পারবেন না, হামেশাই টেম্পার লুজ করবেন।

আমার ধারনা, আমাদের দেশের মিডল ক্লাস মাইয়ারা যে বাসার কামের মাইয়ারে টর্চার করেন প্রায়ই, তার লগেও হর্নি দশায় ঘুমাইতে যাবার একটা যোগাযোগ আছে। বাচ্চা হবার পরে এমনিতেই মাইয়াদের কাম বাইড়া যায়–খুব কম ভাতারই বাচ্চা পালার কামের ভাগ লইতে রাজি, তাই মায়ের ঘুমের টাইম কমে। তার উপর যদি হর্নি হইয়া থাকে ঘুমে তাইলে বিরাট মুশকিল হবে। তাগো ভাতারেরা হয়তো এনাফ হর্নি থাকেন না, বা ভাতারদের হর্নি ভাব হয়তো কামের মাইয়ার উপর আরেক টর্চার হইয়া নামে, অথবা ভাতারেরা হয়তো বউয়ের সেক্সুয়াল হকের তোয়াক্কাই করেন না, সেলফিশ সেক্স কইরা ঘুমাইয়া পড়েন। এই সেলফিশ ভাতারেরা কুত্তার কাছে একটু ফোরপ্লের ছবক লইলে লাভ হইতে পারতো!

মোটের উপর, মানুষের ১২ মাসই ভাদ্রমাস এবং এইটাই নর্মাল এবং এর লগে রেপিস্ট মনের যোগাযোগ কমই। প্রোপোজিং, ফ্লার্টিং, কনসেন্টের লগে হর্নিভাবের কোন দুশমনি নাই। অন্যের ব্যথা যে এনজয় করে না, অন্যের ব্যথায় যার মন ‘আহা’ কইরা ওঠে সে তুমুল হর্নি দশাতেও পার্টনারের পেইনকে পাত্তা না দিয়া পারে না। কালচারাল ছবক মোতাবেক ব্যথা লইয়াও কনসেন্ট দেবার ঘটনা বউদের বেলায় কমনই, ভাতারেরা যে বউয়ের সেই ব্যথায় পাত্তা না দিয়া পারেন, এমনকি বউয়ের ব্যথা এনজয়ও করতে পারেন সেই স্যাডিস্ট মনগুলা হর্নি না হইলেও, ইম্পোটেন্ট হইলেও স্যাডিস্টই থাকবে। এরাই হয়তো রিম্যান্ডে টর্চারের দায়িত্ব পায়, স্টুডেন্টরে পিটায়, গণধোলাই দিতে ঝাপাইয়া পড়ে, ব্যাঙ দিয়া ফুটবল খেলে, কাছিমের ডিম দিয়া মার্বেল খেলে, কুত্তার গায়ে গরম পানি মারে। অন্যের ব্যথা এনজয় করার এতো এতো তালিম আমাদের সমাজে আছে, তার বেশির ভাগেই হর্নি থাকার দরকার হয় না! অমন এনজয় যে করে সে ইম্পোটেন্ট হইলেও লাঠি দিয়া গুতা মাইরা মজা পাইতে পারে, আনলাইক কুত্তা।

২০ মে ২০১৭