রক মনু

শ্রীজাতের কবিতা লইয়াও আলাপ করি

শ্রীজাত লিখছেন,
“প্রতি নির্বাচনে আমরা শতাব্দীপিছনে ফিরে যাই।”

কোলকাতা বা ঢাকা, এলিটিস্টরা এমনই। এরা সবচে বেশি ডরায় ইলেকশন। নিজেদের শাসন আর গদি খোয়ানোর নাম দেয় হিস্ট্রির পিছে যাওয়া।

-------------------------

ক্লাস আর রেসের দেমাগে ছোটলোকের লগে কালচারাল ডায়লগে যাইতে নারাজ, কমন কোন এসথেটিক প্লাটফর্মে উঠবে না, আনটাচেবল হিসাবে ট্রিট করবে এলিটিস্টরা। তারপর জনতার কনসেন্ট লইয়া পলিটিক্স করতে চাওয়া দলকে ঠেকাইতে ইলেকশন ঠেকাইয়া দিতে চাইবে। ইলেকশন হইলেই তো নিজেদের কালচারাল ফেইল্যুর, তার পিছে এক্সক্লুশন/ডিনায়্যাল আর ঘেন্নার ইতিহাস বাইরাইয়া পড়বে।

কনসেন্ট না লইয়া জবরদখলে রাখতে চাওয়াদের কাছে হিস্ট্রির আগেপিছের ছবক লইবেন আপনে? যদি লন, আপনেও এলিটিস্ট, আপনেই টর্চার চালাইতেছেন ইতিহাসের উপর।

–মার্চ ২১, ২০১৭


ভ্যাসেকটমি বা লাইগেশন করা কেউ কি কনডম এস্তেমাল করে? ঢাকা এবং কোলকাতার লোকজনের আলাপে মনে হইতেছে, তারা ভ্যাসেকটমি বা লাইগেশন করা কারো কনডম এস্তেমাল করার পয়েন্টটা বুঝতেই পারেন না 🙂!

এই লোকগুলার বুদ্ধিতে যতটা ধরে, তাতে এনারা বোঝেন, কনডম মানে বার্থ কন্ট্রোল কিট/সিস্টেম একটা; প্রটেক্টেড সেক্সের অর্থের বেশির ভাগ এদের মগজে ঢোকার রাস্তা পায় নাই।

প্রটেক্টেড সেক্সের অর্থ এনারা আরেকটু যদি বুঝতেন তাইলে বার্থ কন্ট্রোলের চাইতে বেশি পাইতেন এসটিডি ইস্যু।

এখন, এসটিডি বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ ঠেকাইতে কনডমের এস্তেমাল করার ব্যাপারটা মাথায় রাইখা শ্রীজাতের কবিতাটা পড়েন।

লাশের উপর সেক্স করতে পোলা কনডম পইরা লইতেছে। কি বুঝবেন আপনে? ‘…কনডম পরানো থাকবে ধর্মের ত্রিশূলে।’ কে পরাইয়া দেবে, কন নাই শ্রীজাত। এইটা যদি বার্থ কন্ট্রোল, মানে ধর্মের রিপ্রোডাকশন ইস্যু হয় তাইলে দুইটা ব্যাপার ঘটে। ১. রেপ হৌক বা না হৌক, বাছুর তো বেশিটাই মায়ের; কিন্তু ধর্মের রিপ্রোডাকশন ধরলে পুরানা সেই ভাবনারেই এন্ডোর্স করা হয় যেইখানে ‘বাছুর হইলো বাপের’! শ্রীজাত ব্রাহ্মণ ধর্মের রিপ্রোডাকশন ঠেকাইতে যাইয়া আসলে পুরানা সেই ভাবনারেই রিপ্রোডিউস করলেন 🙂! ২. ওদিকে লাশের জরায়ুতে বাছুরই তো হবে না; তাইলে বার্থ কন্ট্রোল ইস্যুতে লাশের উপর সেক্স করায় কনডম এস্তেমাল করা পয়েন্টলেস!

বাদ থাকলো এসটিডি ইস্যু। লাশের এসটিডি হওয়া না হওয়া কিছু মিন করে না। তাইলে শ্রীজাত মনে হইতেছে ধর্ম-পুরুষকে এসটিডি থিকা বাঁচাইতে চাইতেছেন; কনডম পরানো থাকলে লাশ থিকা এসটিডি ধর্ম-পুরুষে যাইতে পারবে না, আরো আরো লাশের উপর সেক্স করার ফিজিক্যাল ফিটনেস থাকবে; শ্রীজাত কনডম পরাইয়া হেল্প করতেছেন, ব্রাহ্মণের দায়িত্ব আছে তো 🙂!

তবে এর বাইরেও একটা ব্যাপার থাকতে পারে। কয়দিন আগে এক দোস্ত কইছিলেন, পোলারা নাকি জুতা পইরা সাঁতরাইতে লাইক করে না। শ্রীজাতের এসথেটিক্স অমন হয়তো, উনি মনে করেন, কনডমে কনডমে পোলাদের মজা কইমা যায়, শ্রীজাত তাই একটা ষড়যন্ত্র করতেছে–কনডম পরাইয়া ধর্ম-পুরুষের মজা কমাইয়া দিতেছে 🙂!

খোদা মালুম।

বাড়তি নোট: সবার মন কনডমে ঢুইকা পড়ায় কেউ হয়তো খেয়াল করেন নাই যে, শ্রীজাত কবিতার শুরুতেই খয়রাত এবং গেরামের নাম লইয়া দুইটা গালি দিছেন। কোলকাতা নামের সেই শহরের লোকটা গালি দিলো গেরামকে যেই শহরটা ভারতে ইংরাজের কলোনিয়াল ক্যাপিটাল হবার পরেও রাখতে পারে নাই, দিল্লি লইয়া গেছে 🙂! ওদিকে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ভিতর দিয়া চাষার পয়সা ডাকাতি কইরা পয়দা হওয়া কোলকাতা গালি দিতেছে খয়রাত করাকে। হিসাব মিলান তাইলে; খয়রাত মানে কনসেন্ট চাওয়া, ডাকাতি মানে জোর কইরা লওয়া। যেই লোক জোর কইরা লওয়া জিনিস খাইয়া খয়রাতকে গালি দেয়, নীচ ব্যাপার মনে করে সে কি আদৌ রেপের দুশমন, নাকি দোস্ত!?

আবার, বুদ্ধি ঢুকাইতে এনারা পোলাদের কনডমই বাছলেন, মাইয়াদের যে কনডম আছে তার হয়তো খবর পান নাই।

–২৩ মার্চ ২০১৭


“যখনই সন্ধ্যের ডাক, আলো ভেঙে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে –
কেবল অতীত লিখবে, সে এই কৌশলে জাতিস্মর।”/ ছায়া, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

কালকে অনেক কনডম পুইড়া গেল। তবু ধর্মের ত্রিশূলে কনডম পরাইতে চাইলে আপনে শ্রীজাতরেই কনডমের ভিত্রে ঢুকাইয়া দিতে পারেন কিন্তু। তাতেই হবে :)। কারণ, শ্রীজাতও একজন ধর্মের ত্রিশূল!

খেয়াল করেন, এই জাতিস্মর শ্রীজাত বার বার জনমের আইডিয়া আবার ফলাইতেছেন, ত্রিশূলঅলা সেই ধর্মেরই আইডিয়া কিন্তু।

যত নিরিহ ভাবেন এইটারে ততো নিরিহ কিন্তু না এইটা; হিসাব করলে পাইবেন, এই আইডিয়া কেমনে আরেকবার জাস্টিফাই করে শিবসেনাদের।

ধরেন, গোমাতার আইডিয়া বাদেও দেখেন, জাতিস্মর শ্রীজাতের মনে পইড়া গেল গত জনমের কথা, মনে পড়লো যে, উনি আছিলেন সেই বলদটা যেইটারে জবাই কইরা খাইছেন আপনের বাপে! বা ধরেন জাতিস্মর শ্রীজাত হিসাব কইরা দেখলো, ওনার ব্রাহ্মণ বাপে এমন আকাম-কুকাম করছিল যে সে মইরা এখন বাংলাদেশে একটা গরু হিসাবে ঘাস খাইতেছে! সেই গরুটারে যদি আপনে জবাই কইরা খান তার শোধ নেবে না শ্রীজাত? ত্রিশূল শ্রীজাত কবরে যাইয়া হইলেও আপনারে ধরবে। কারণ আপনে তার বাপের গোশত খাইছেন।

সেক্যুলার পরিচয়ে শ্রীজাত এইভাবে ধর্মকে নিজ কম্যুনিটির বাইরে লইয়া আসেন, অন্য কম্যুনিটিরে পলিটিক্যাল দখলে নেবার কবিতা লিখতে থাকেন।

আমি তবু হোপফুল; এই বাংলা সমাজের আম বাঙালিরা, কলোনিয়াল ফেনা না খাওয়া বাঙালিরা বোঝে না, বোঝার দরকারও নাই; শ্রীজাত ব্রাহ্মণ আম বাঙালিরে তার ত্রিশূল বানাইতে পারবে না এই অসামাজিক বাংলায় কবিতা লেইখা। এতে বড়জোর ঢাকা-কোলকাতার কলোনিয়াল ফেনাদের গা শিরশির করতে পারে, কিছু লোক মাছ-পশু-পাখি-গাছের ভিতর নিজের চৌদ্দগুষ্ঠির লিনিয়েজ তালাশে বাইরাইতে পারে, নাথিং এলস…

১০ এপ্রিল, ২০১৭