রক মনু

জিএম গরু: গরু জবাই না কইরাই গরুর গোশত 

যেই লেভেলের যেইসব পোস্টের অ্যাক্টর হবার কথা ছিল আমাদের, সেই সেই পোস্টের অ্যাক্টর হিসাবে আমাদের দায়িত্ব মানে জব রেসপন্সিবিলিটি (জেডি) ঠিকঠাক পালন করতে পারলাম আমরা। এ্য টোস্ট টু আওয়ার সাকসেস।
আমরা বুদ্ধের বা জৈন চিন্তা থেকে এনভায়রনমেন্টালিজম পর্যন্ত–এ হিউজ কালেকশান অব থিঙ্কিং এস্তেমাল কইরা কোরবানী দেওয়া মডার্ন মোসলমানদের ভিতর একটা রেগরেট বা পাপবোধ ঢুকাইয়া দিতে পারছি, ইন্টেলেকচুয়াল হিসাবে সমাজে একটা অ্যাপিল তৈরির যেই রেসপন্সিবিলিটি আছিল আমাদের সেইটা পূরণ হইছে মোটামুটি। এইবার সায়েন্টিস্ট আর ইঞ্জিনিয়ারদের পালা, ওনারা নিজেদের জেডি ঠিকঠাক পূরণ করলেই টোটাল সাকসেস হাসিল করতে পারবো, হোপফুলি–অপটিমিস্ট হইতে হবে আমাদের।
একটা সিস্টেমে অনেকগুলি লেভেল থাকে, একই লেভেলে অনেকগুলি পোস্ট থাকে; সব লেভেলের সবগুলি পোস্টে অ্যাক্টর থাকে, সেই অ্যাক্টরদের নিজ নিজ রোল প্লে করার ভিতর দিয়া সিস্টেমটা ফাংশনিং হয়। তো, সিস্টেমের একটা লেভেলের কতগুলি পোস্টে আমরা আছি, আরেক লেভেলের পোস্টগুলিতে আছেন সায়েন্টিস্ট আর ইঞ্জিনিয়াররা।
বাট ইন্টেলেকচুয়াল হিসাবে আমরা সায়েন্টিস্ট আর ইঞ্জিনিয়ারদেরো রাস্তা দেখাইতে পারি। ধরেন, দারুচিনি গাছ বা আলু; দারুচিনি গাছের ছাল/চামড়া তুলি আমরা, কিছুদিনের ভিতর গাছটা সেই উদাম জায়গায় আবার ছাল বানায়; গাছটারে মারলাম না আমরা বাট দরকারি জিনিসটা পাইয়া গেলাম। বা আলু রাইখা দিলে তার গায়ে কয়েকটা গাছ বের হয় সিজনে; গাছগুলি নিচে আলুর একটু গোশতসহ কাইটা নিয়া লাগাইতে পারি আমরা–গাছ হবে মাটিতে, আর আমরা আলুর চামড়ার নিচের অনেকখানি গোশত পাইয়া গেলাম; এইটা খাইতে পারি আমরা–বুদ্ধের বা জৈন চিন্তা থেকে এনভায়রনমেন্টালিজম–সবাইরে খুশি কইরা। 
এখন, দারুচিনি গাছ আর আলুর এই গুণ যদি আমরা গরু বা ছাগল বা মুরগীর ভিতর ঢুকাইতে পারি তাইলে কেমন হবে–ভাবেন! বা আপনে কলা আর কচু গাছের কথা চিন্তা করেন; আপনে এগুলির আগা কাইটা নেন, কিছুদিনের ভিতর তারা আগা আরেকটা বানাইয়া নেবে। অনুমান করা যায় যে, গাছ বা এই ধরনের অর্গানিজমের জিনের ভিতরেই এইসব গুণ লুকাইয়া আছে; আমাদের সায়েন্টিস্ট আর ইঞ্জিনিয়াররা সেই জিনগুলিকে আলাদা করতে পারবে হোপফুলি, তারপর সেই জিনগুলি গরু বা ছাগল বা মুরগীর ভিতরে সাকসেসফুলি ঢুকাইতে পারবে। এইভাবে আমরা পাবো জেনেটিক্যালি মোডিফাইড (জিএম) গরু বা ছাগল বা মুরগী। 
তখন এদের গুণগুলি কেমন হবে খেয়াল করেন; একটা গরুর গায়ের কিছু চামড়া তুলে নিবো আমরা, নিয়া প্রসেস কইরা জুতা বা মানিব্যাগ বানাইতে যে কয়দিন টাইম লাগবে সেই কয়দিনের ভিতরেই গরুটা আবার চামড়া বানাইয়া নেবে; আবার গরুর পাছা বা রান থেকে কতখানি গোশত কাইটা নিয়া খাইলাম, কিছুদিনে সেইখানে আবার গোশত বানাইয়া ফেললো গরুটা কচু গাছের জিনের গুণ দিয়া। জিএম ফুডের তুমুল একটা ডেভেলাপড দশায় গরুর একটা-দুইটা পা হয়তো কাইটা খাইয়া ফেলতে পারবো বা ধরেন কইলজার অর্ধেকটা নিয়া খাইলাম; গরুটা আবার সেগুলি বানাইয়া নিতে পারলো; তবে গরু যে এতে ব্যথা পাইবে কিছু সেইদিকেও খেয়াল রাখতে হবে আমাদের; এজন্য অ্যানেসথেশিয়া ইউজ করতে পারি আমরা; ভালো কথা, দারুচিনি গাছ বা আলুর জন্যও আসলে অ্যানেসথেশিয়া ইনভেন্ট করা দরকার আমাদের; মেডিক্যাল সায়েন্সের এই ডেভেলাপড দশায় মানুষের সনাতন বারবারিজম সাসপেন্ড করতে পারবো আমরা, হোপফুলি।

এখনতক আমাদের কন্ট্রাডিকশন নিয়া নিন্দা করে বার্বার লোকেরা; কয়, বিফবার্গার চাবাইতে চাবাইতে  কোরবানির জবাইরে বার্বারিজম কইতে থাকি আমরা। দারুচিনি গাছ আর কচুর জিন দিয়া মোডিফাইড গরু বানাইতে পারলে ঐ ক্রিটিসিজম থেকে রেহাই পাবো আমরা; আমরা দেখাইয়া দিতে পারবো, গরু খুন না কইরাই আমরা বিফবার্গার খাইতে পারি, বা গরুর চামড়া দিয়া জুতা বানাইতে পারি। 
শুরুতে কিছুদিন মানুষের কাছে হরর টাইপ ব্যাপার মনে অমন গরুকে; মানে,  ফার্মে একটা গরু রাখা আছে যার দুইটা পা কাইটা নেওয়া হইছে কয়দিন আগে–এখন গজাইতাছে আবার, অনেকখানি চামড়া নাই, কইলজার অর্ধেক কাটতাছি অ্যানেসথেশিয়া দিয়া আর গরুটা ঘাস খাইতাছে আরামে–হুম, এখনো হ্যাবিচুয়েটেড না হইতে পারায় মানুষের হরর ফিলিং হইতে পারে; ইন্টেলেকচুয়াল হিসাবে আমাদের তখন দায়িত্ব হবে নর্মালাইজ করা, হররকে রি-ডিফাইন করা, একেকটা গরুকে গোশতের একেকটা ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট হিসাবে দেখতে শিখাইতে হবে আমাদের; দুনিয়ার মানুষের ভিতর সেই এনসিয়েন্ট খুনীর এসেন্স থাকার ব্যাপারেই আমরা পাপবোধ ঢুকাইতে পারলাম আর হররকে রি-ডিফাইন করতে পারবো না! অপটিমিস্ট হইতে হবে আমাদের।

-------------------------

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫