রক মনু

মব

আপনে ধরেন অক্সফোর্ডে পিএইচডি করছেন, ডকিন্স আপনের সুপারভাইজর আছিল, আপনের থিসিসের টপিক ‘ইভোল্যুশন অব পেনিস’, অ্যামিবার মতো একটা সিঙ্গেল সেল অর্গানিজমের ধোন থিকা মানুষের ধোন কেমনে হইলো…
এখন, আপনের লগে আমার দেখা হইলে কইলাম, ‘তুই তো একটা ইলিটারেট বেকুব।’, আপনের ইগো তখন জখম হবে না, আপনেরে ‘তুই’ কইলাম বলে আপনের ফিলিং জখম হবে না?
কইতে চাইতেছি যে, গালি মানুষের মনে জখম বানায়, বংশ, ফেমিলির ইজ্জতের দাম আছে মানুষের কাছে, মানুষ বাই ডিফল্ট অনার সিকার, মান-সম্মানে লোভ আছে মানুষের, এমনকি নির্বাণও তো অনার-সিকিং হইতে পারে!
তো, আপনের মন জখম হইলে কি করবেন, মারবেন আমারে? এমন জখম হইলে ৫/৭ জন মিলা একজনরে ধোলাই দিতে আমরা কি দেখি না প্রায়ই? কিন্তু যদি দেখেন, মামলা করলে ৫ লাখ টাকা পাইবেন, জেলেও যাইতে পারি আমি, আপনের বিশেষ ঝামেলায় পড়তে হবে না, তখন কোনটা বাছবেন? মাইর নাকি মামলা?
আবার দেখেন, পকেটমারকে গণধোলাই আমাদের দেশে হামেশাই শোনা যায়, মাইয়াদের টিজ করলে গণধোলাই, ডাকাতেরে গণধোলাইর নিউজ কম দেখেন? গ্যাঙ রেপ?
এই যে একটা কালেকটিভ ১/২ জনরে মারে, খুনই কইরা ফালায়, এই কালেকটিভরে কইতে পারেন ‘মব’। বাংলা/হিন্দি সিনেমায় ভিলেনকে মব মারতেছে, কমন ব্যাপারই তো, মবের হাতে ভিলেনকে তুইলা দিতেছে নায়ক। কমন।
আইডিয়ালি রাষ্ট্রের কাম হইলো বিচার জিনিসটাকে মবের হাত থিকা নিজের হাতে নেওয়া; বহু ওয়েস্টার্ন সিনেমায় দেখবেন, নায়কের কাম হইলো, ক্রিমিনালকে মবের হাত থিকা কাইড়া লইয়া আদালতে হাজির করা। আইনের ১ নম্বর কাম মব ঠেকানো, পার্সোনাল অনারও দেখবেন ডুয়েলে থাকে, ১৫ জন মিলা একজনরে ধোলাই দেওয়ায় থাকে না, মব একটা কালেকটিভ অব কাওয়ার্ডস!
আমাদের সমাজে কি অবস্থা? ‘দশের লাঠি, একের বোঝা।’ বা ‘একতাই শক্তি।’–এমন সব কথা যতই পজিটিভ মনে হৌক, এগুলি বাস্তবে মবের লজিক হিসাবে কাম করে, ‘রেশনেল অব মব।’! আমাদের রাষ্ট্রের কি অবস্থা? রাষ্ট্র নিজেই খুন করে বিনা বিচারে, রাষ্ট্রের বাহিনির প্রাইড হইলো বন্দি খুন করা। মবের ব্যাপারে কি ভাবে রাষ্ট্র?
জনতার/মবের হাতে ডাকাত তুইলা দেবার খবর মনে আছে? গণধোলাই দিয়া ডাকাতদের খু্ন করছিল মব। আমিনবাজারে মবের হাতে ৬ ছাত্র খুন হওয়া মনে পড়ে? 
আমাদের রাষ্ট্র মব বানায়, খুন করায় মবের হাতে। আরেকদিকে, নারায়ণগঞ্জ বা কুমিল্লা বা হিল ট্রাক্টস, বা ঢাকার কত কত খুন-রেপ মামলার কোন ফয়সালা হয় না, চান্দাবাজি, পিস্তল লইয়া সরকারি দলের মিছিল হইতে পারে আরামেই, চেনা খুনী-রেপিস্ট চোখের সামনে আরামে ঘোরে, পুলিশ পাহারায়! ব্যাংক লুট কইরা সেরা ব্যবসায়ী হওয়া যায়, স্টক এক্সচেঞ্জের লোকেরাই হেল্প করে শেয়ার কারসাজিতে! নদী-বন দখল কইরা ভিআইপি হয় দেশে, মানুষের জমি দখল কইরা রিয়েল স্টেট ম্যাগনেট। আদালতে মামলা করলে বাড়ি-গয়না বেইচা খয়রাতি হইতে হয়, মামলার বাদী হওয়া মানে জান হাতে লইয়া ঘোরা, সিঙ্গেল রেপের মামলা করলে গ্যাঙ রেপের সম্ভাবনা…! 
এই কনটেক্সট মব কালচার ডেভলাপ করার ফ্রেন্ডলি ওয়েদার। কোন একটা মব পানিশড তো হয়ই না, উল্টা আমাদের রাষ্ট্র মবকে ট্রেনিং দেয় খুনের।
মব এক্টিভ হবার জন্য একটা কালেকটিভ কনসাইন্স দরকার, এই কনসাইন্স যোগাইতে পারে জাতীয়তা (হিল ট্রাক্টস), মাসকুলিটি (গ্যাঙ রেপ), মডার্ন এথিকস্ (কান্দুপট্টি), ভিকটিমহুড (ডাকাত গণধোলাই), রিলিজিয়ন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)। একটা লইয়া ভাইবেন না, সকল মব ঠেকান।

৩১ অক্টোবর ২০১৬

-------------------------