রক মনু

আমাদের রেসিস্ট ইতিহাস

দেশের মেইনস্ট্রিম ইতিহাসতত্ত্বে বাঙালিকে একটা ‘সংকর’ জাতি হিসাবে চিনাইয়া দেওয়া হয়; শুরুতে বোঝা দরকার, এইটা একটা রেসিস্ট আইডিয়া। এইটা গোপনে কাজ করে আমাদের বুলিচিন্তায়ও; ‘বাংলা’কে চিনাইয়া দেওয়া হয় ‘সংকর’ বুলি হিসাবে। এই আইডিয়া ‘খাঁটি’ না হবার দুঃখ লুকাইয়া রাখে নিজের ভিতর, ‘খাঁটি’ হইতে চাইতে থাকে, খুঁজতে থাকে উৎস। এই ফর্মে এবং মিনিং তৈরিতে জার্মান ম্যাক্সমুলারের অবদান দেখাইছেন অনেক ভাবুক-লেখক। তবে, কিছু ভিন্ন মিনিং নিয়া হইলেও আর্য, চন্ডাল বা আশরাফ–এই সবের ভিতর দিয়া এগুলি এ অঞ্চলের চিন্তায় ছিলোই।

এই রেসিজম একটা নেসেসারি অনাত্মীয়তা তৈরি করে পড়শিদের লগে; আপনে আদি আর্য বা ইরান-তুরানের লোক হিসাবে ভাইবা  দূরের ভালো হইয়া ওঠেন, আপনের পড়শি এইখানকার লোক, খারাপ সব রেস; সেই সব রেস আবার একে অপরের লগে সেক্স কইরা খারাপ সব ব্রিড তৈরি করছে; ফলে আপনের ঘেন্না হয়। তবে, মানুষের লগে অন্য জীবদেরো যে এমনেই দ্যাখেন আপনে তা নয়। আপনে অরিজিনাল, সহি ব্রিডের জার্মান শেফার্ড খোঁজেন আবার দেশি মাইয়া গরুরে ডেইরি ফার্মে নিয়া বাইন্ধা অস্ট্রেলিয়ান পোলা গরু দিয়া রেপ করান; ঐ পোলা গরু অবশ্য দেশি মাইয়া গরুর কনসেন্ট থাকা না থাকা হয়তো বুঝতেই পারে না; রেপ এক মানবিক ব্যাপার, গরুর হাত না থাকায় ওইভাবে মানবিক হইয়া উঠতে পারে না। ফলে, কনসেন্ট না থাকা অবস্থায় সেক্স করা ভাবাটা বেশ কঠিন হবার কথা।

-------------------------

যাই হোক, এই সংকর ভাবনা যেই খাঁটিরে মনে তাজা রাখে সেইটা বহুবিধ ঘেন্নার গোড়া; যদিও অন্য অন্য জিনিসের ব্যাপারে ভেজালের ডিজায়্যারই বেশি আমাদের; যেমন ভেজাল পানির টেস্ট ভালো আসল পানির চাইতে। কিন্তু এগুলি আপনের ঘেন্না থামায় না; কারণ, আপনের প্রাইড দরকার নিজের জন্য।

এমন অবস্থায় আপনে এক বিদেশে থাকতে থাকেন, পড়শির লগে আপনের মাইয়ারে পীরিত করতে দেবেন না, পোলার করাটা বিয়ার আগ পর্যন্ত না দেইখা থাকেন। আপনের মাইয়ার সেক্স পাহারা দিতে কালচারাল বন্দুক বানাইতে থাকেন; আপনে ‘স্পিরিচুয়াল হিলার’ চেনেন, আপনে সাইকিয়াট্রি চেনেন কিন্তু ঝাড়ফুকরে বলতে থাকেন স্রেফ রিলিজিয়াস ব্যবসা; সুপারস্টিশান এর অনুবাদ কুসংস্কার কইরা রেসিস্ট হেট ক্যাম্পেইন চালাইতে থাকেন। আপনে মধ্যযুগীয়, কুসংস্কারে ডোবা পড়শী দেখতে থাকেন, মাইয়ারে সেইটা শিখাইতে থাকেন, পোলারে সেইটা শিখাইতে থাকেন। আরো কত কি শিখান; আপনের শিক্ষা পাইয়া আপনের পোলা কোন চুমা না দিয়া ছোটলোকের লগে সেক্স করে; মাইয়ারে আরো শিখান যে শরীর এক খারাপ ব্যাপার, মন হইলো আসল; এমন শিক্ষা দিতে থাকেন যেন কারো প্রতি মনে ভক্তি তৈরি না হলে সেক্স করতেই না পারে, ভাবলেই যেন বমি আসে।

আপনে বাঙালিরে গালি দেন, অন্য জাতির সদস্যরে অপছন্দ হইলে তারে বাঙালি বইলা গালি দেন। আপনে বাঙালিরে ‘সংস্কৃতিমনা’ কইরা তুলতে চান, ফলে শাসনে আনতে চান; এইদেশে আপনের থাকতে থাকা নিতান্ত একটা সিভিলাইজিং প্রজেক্ট হইয়া ওঠে; আপনের কি হক আছে শাসক হবার?

৩ মার্চ ২০১৫

  • Zahidul Islam

    “এইদেশে আপনার থাকতে থাকা নিতান্ত একটা সিভিলাইজিং প্রজেক্ট হইয়া উঠে”…

    এনজিও মনোভঙ্গি নিয়া শাসন চলতে থাকে। ছোটলোকদেরকে পুলিশ র‍্যাব দিয়া ঠেঙ্গানো, জঙ্গী নাম দিয়ে গুলি কইরা মাইরা ফেলাইয়া অন্তহীন “সমাজ শুদ্ধিকরণ” চলতে থাকে। শাসকের কাছাকাছি যারা, দল বাইন্দা তামাশা দেখে, সাবাসি দেয়।

    পরিশুদ্ধ বাঙালির জন্ম হয়।