রক মনু

ঢাকা ভার্সিটির হিস্ট্রিক্যল পারপাস নাই আর

ক. বঙ্গভঙ্গ> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়>পূর্ব পাকিস্তান>বাংলাদেশ; সেই বঙ্গ থেকে বাংলা বানাইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্ট্রিক্যাল পারপাস পূরণ হইয়া গেছে। এরশাদরে নামাইতে পারপাস অতিরিক্ত একটা কামও কইরা ফেলছে।
খ. ২০০৭ সালে বিশেষ সেই লাথিতে কিছু খুশি হওয়া যাইতে পারে; বাট সেই লাথিতে ক্যান্টনমেন্ট যদি উইড়া ঢাকার বাইরে যাইয়া পড়তো তাইলে ঢাবি’র পোর্টফোলিও রিচ হইতে পারতো আরো; তা হয় নাই।
গ. বাট খেয়াল করেন, সেই লাথি আসলে পৌরুষের এক্সিবিশন, সেই বিশেষ মোমেন্টে পালাইতে থাকা সিঙ্গেল এক দুর্বলরে দেওয়া লাথি।
ঘ. ঢাবিতে মেয়েদের উপর যৌন হামলাও ঐ পৌরুষেরই এক্সিবিশন, অবশ্যই দুর্বলের উপর–জেন্ডার এবং মেহমান হিসাবে যাওয়া/দলগত না থাকা, দুই অর্থেই।
ঙ. হিস্ট্রিক্যাল মহা পারপাস থাকায় এবং সেইটা পূরণ হইয়া যাওযায় ঢাবির পৌরুষ দুর্বলরে এমন আক্রমণ ছাড়া তেমন কিছু করতে পারবে না আর; পড়ালেখা বা ইন্টেলেকচুয়ালি এই বিশ্ববিদ্যালয় ঠনাঠন একটা ঘন্টা হইয়াই গেছে।
চ. এর লগে এই সমাজে মেয়েদের যৌন-হামলার খাসলত তো আছেই গোড়ায়; এক পৌরুষ অন্য পৌরুষরে হামলা করতেও সবচাইতে মোক্ষম জিনিস হইলো অন্য পৌরুষের মা-মাইয়া-বইনরে যৌন হামলা করা।
ছ. এমন পৌরুষ যখন হিস্ট্রিক্যাল কারণে রেসপেক্ট পায় তখন আরো হিংস্র হবার কথা, ঢাবি এখন যেমন।
জ. একে লাইনে আইনা কন্ট্রোলে রাখার জন্য শুরুতেই দরকার রেসপেক্টের সেই সূতাটা কাইটা ফেলা।
ঝ. পাকিস্তান আমলে ঢাবিরে ঢাকার বাইরে নেবার প্লান হইছিলো, কাম হয় নাই, বা পারে নাই; তার কারণ, তখনো এইটার হিস্ট্রিক্যাল পারপাস পূরণ হয় নাই; পোক্ত নৈতিক বল আছিলো। এখন আর সেইটা নাই; ফলে সহজেই এই আকাইমা জিনিসটা এইখান থেকে সরানো যাবে। আমার ধারনা, ইভেন বসুন্ধরারে দায়িত্ব দিলেও কাম হইয়া যাবে।
ঞ. ঢাবির মাটি শক্ত আছে; চৌধুরীপাড়ার লেকে আওয়ামী টিনের ঘর তলাইয়া গেল, তাতে মারা গেল ১২/১৩ জন; এমন ঘর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিছেও আছে; ঢাবিরে যদি আওয়ামী লীগ/পাওয়ারে থাকা পার্টির ঘর ভাড়া খাবার কাজে ইউজ করা হয় তাইলে সেই পার্টি আর গরীব মানুষ–উভয়ের কিছু লাভ হইতে পারে। কার্জন হলরে কমিউনিটি সেন্টার, কর্পোরেট পিকনিক স্পট বা ডেইরি ফার্ম বানানো যাইতে পারে; ডেইরি ফার্ম বানাবার মধ্য দিয়া ইংরাজ কার্জনের উপর একটা পোস্ট-কলোনিয়াল প্রতিশোধের মজাও পাবে অনেকে।
ট. আমার প্রস্তাব হইলো, ঢাকা-মাওয়া রাস্তার পাশে ঢাবিরে নিয়া যাওয়া; এতে যেই মনস্তাত্ত্বিক আঘাতটা দেওয়া যাবে সেইটা এইটার পৌরুষরে সাইজ করবে অনেকটা; তাতে সমাজের অন্যান্য যৌন হামলার মাপের হামলার বেশি করতে পারবে না। এতে বইমেলা বা পয়লা বৈশাখ জাতীয় জিনিস লঘু লঘু (মানে অভ্যস্ত) যৌন হামলার ভিতর দিয়াই পার হইতে পারবে।
ঠ. এইভাবে আগাইতে আগাইতে আমরা হয়তো একদিন ক্যান্টনমেন্টরে ঢাকার বাইরে নিতে পারবো; বা অন্তত ঢাকারে লইয়া কি ক্যান্টনমেন্টের বাইরে যাইতে পারবো না?

এপ্রিল ১৮, ২০১৫

-------------------------