রক মনু

বুদ্ধিজীবীর পাওয়ার কানেকশন

আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মাঝে যাগো একটুখানি শরম এখনো রইয়া গেছে (যেমন Maskwaith Ahsan) তারা শফিক রেহমান ইস্যুতে সরাসরি আওয়ামী সরকারের কামে দালালি করতে পারতাছেন না; এগো কাম হইলো, শফিক রেহমানের চরিত্রে হামলা করা।

আহসান মশাই (মশিয়েঁ) যেমন রেহমান মশাই’র এপিটাফ লিখছেন, রেহমান বিএনপির লগে খাতির করছেন বইলা কিভাবে তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল সম্ভাবনা পঁচলো সেইটা লিখছেন রেহমানের এপিটাফে। এইভাবে ইশারায় উনি কইতাছেন, রেহমানের প্রতি সরকারের অভিযোগ বিলিভেবল যেন।

-------------------------

তো, বিএনপি’র লগে জনাব রেহমানের খাতিরে রেহমানের কেমন খতি হইলো সেইটা আমরা ইতিহাসের আরো কিছু নজির দিয়া দেখতে পারি।

ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা বিদ্যাসাগর আমরণ ইংরাজের দালালী করছেন, মধুসূদন বা দেবেন্দ্রনাথেরা করছেন। শর্মা মশাই পার্সোনালিই করছেন, বাকিরা সিস্টেমে রোল প্লে কইরা। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে কোলকাতার ভূমিকা খেয়াল করলে ক্লিয়ার হবে ব্যাপারটা।

বিদ্যাসাগর স্পেশাল কারণ, বাংলার বড়লাটের লগে ওনার পার্সোনাল খাতির আছিল, চিঠি লেইখা চাকরি চাইছেন, পাইছেন, বহু কমিটির গুরুত্বপূর্ণ মেম্বার হইতে পারছেন খাতির দিয়া, হিন্দুদের শাসন করায় শাস্ত্রীয় সহযোগিতা দিছেন। কী দেখতাছি এখন আমরা? শর্মা মশাই বা মধুসূদনরা কি মেমোরেবল থাকেন নাই? মাইনষে তো মেঘনাদবধই মনে করে, ইভেন মিছা হইলেও বিদ্যাসাগরকে মনে করে এডুকেশন, জেন্ডার, বাংলা বুলি ইত্যাদি ব্যাপারে।

পরে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (রঠা) কংগ্রেসের দালালী করছেন, মহাত্মা গান্ধীর চান্দা লইয়া শান্তিনিকেতন/বিশ্বভারতী চালাইছেন। আহসান মশাইরা রঠার গান শুনতে শুইয়া টের পান নাকি সেই চান্দা?

ইংরাজ খেদাও মুভমেন্ট চলতাছে, বেগম রোকেয়া তখন ইংরাজের ডোনেশন পাইতাছে, হোস্টেল, ছাত্রীদের গাড়ি কিনতাছেন। রোকেয়া লইয়া আজকের আলাপে কেডা মনে করে এইগুলা?

ভূপেন হাজারিকা বিজেপিতে যোগ দিছেন, অমিতাভ বচ্চন কংগ্রেসের এমপি হইছেন–কী হইছে তাতে? জীবনানন্দ কংগ্রেসের মন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে বই ডেডিকেট কইরা পত্রিকার সম্পাদক হইছেন, কলেজে চাকরি পাইছেন নিজে, বউ স্কুলে; তাতে মোচ ফালানি গেছে দাশের?

এই আহসান মশাইরা যখন জাতির পিতার কোটেশন/চিন্তা মনে করেন হরদম তখন জাতির পিতা যে আওয়ামী লীগ করতেন তাতে আটকায় না কেন তাইলে? বাকশাল কেমনে ভোলেন তাইলে?

যেইসব নজির দিলাম তাঁরা তো এন্টি-জনগণ
সরকারবাদী লোক আছিলেন প্রায় সবাই তাতেও তো মানুষের মনে পড়ায়, ফ্যান হওয়ায় প্রোবলেম হয় না। আর জনাব রেহমান তো গদি জবরদখলকারী, জনতার উপর হরদম গুলি চালানো, এন্টি-এনভায়রনমেন্ট, খুনী-রেপিস্ট পয়দা-পালনকারী, ইতিহাসছাড়ানো লুটপাটকারী সরকারের বিরুদ্ধে খাড়াইছেন তাঁর কেন অনুশোচনা করতে হবে, মানুষ কেন রেহমানকে মনে করে বরং ইন্সপিরেশন পাবে না, ফ্যান হইতে যাইয়া বিএনপি’র লগে তাঁর খাতিরে বিচলিত হবে?

২১ এপ্রিল ২০১৬

—————————–

এইখানে দুই-একটা কমেন্ট দিতেছি…
————————–
Maskwaith Ahsanএকটি বাস দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানি ঘটেছে; সে খবর পাবার উপায় কী! গোবরনগরে খুব হৈ চৈ করে উপমানবদের গোবরের সাংগ্রেই উতসব চলছে। মিডিয়া মজিদেরাও ব্যস্ত জরির ফিতার জরীপ নৃত্যে। উপমানবগুলো বুঁদ হয়ে আছে এইসব গুজবের বিনিময়ে খাদ্য (গুবিখা) প্রকল্পে। মানুষের মৃত্যু এইসব “শাসক-শোষক-পরিতোষক-প্রতারক-স্থূল সৌন্দর্য্যধারক” অসম্পূর্ণ মানুষকে স্পর্শ করে না।
সংবাদ শিরোনামে তাই মাটি-মানুষের খবর নেই; নেই স্বজনের মৃত্যুর শোক। আছে বিকৃতির তান্ডব এইসব নরভোজীদের। এইভাবে একদিন অনন্যোপায় ভূমিকম্পে গোবরনগরটি মাটির নীচে চলে গেলে; সেইখানেও দেখা যাবে দলদাস নরভোজীগুলো মারামারিরত যুগল কংকাল হিসেবে স্থির চিত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অসভ্যতার জাদুঘরের প্রত্ন উপাদান যেন।
এস এম রেজাউল করিম
এস এম রেজাউল করিম খারাপ পোয়েটিক কোশেশ হইলো কিন্তু 🙂! আপনে যেহেতু শিষ্য লোক, এখনো ছাত্র–শিখছেন, গুড। আমার থেকে শেখেন না কেন!

কইতেছিলাম, এই যে গোবর বা উপমানব–এগুলিরেই মে বি স্যাটায়ার হিসাবে চেনেন, এইটা কিন্তু ভুল। এগুলি স্ল্যাং, তাও রেসিস্ট জাতীয় বেশ! সাদারা যেমন কালাদের উপমানব কইতো, আফ্রিকান কালাদের চিড়িয়াখানাও বানাইছিল! পশ্চিম পাকিস্তানও বাঙালিদের এমন ‘উপ’ কইতো! ভালো স্ল্যাং শিখাই আপনারে একটা–ড্যুশেব্যাগ 🙂!

—————————
Maskwaith Ahsan মি করিম একটি আলোচনার শুরুতেই আমাকে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী বলে ট্যাগিং করা খুব যৌক্তিক আচরণ বলে মনে হয়না। আওয়ামী-বিএনপি দলদাসত্বের বাইরেও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিসর আছে। এটা ধীরে ধীরে চিন্তা করতে শিখলে ক্ষতি কী! আমাকে যে লেখায় ট্যাগ করেছেন; সেইখানে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে ট্যাগিং-এর যে স্বভাবসুলভ আচরণ আপনি করলেন; এটা সিপি গ্যাং-এর স্থূলতার সঙ্গে তুলনীয়। সিপি গ্যাং-এর কুসংস্কৃতির সঙ্গে কেবল দলীয় পার্থক্য ছাড়া বাকী সব মিল যদি আইডেন্টিক্যাল হয়; তাহলে আর সেসব লোকের সঙ্গে কথা বলা সময় নষ্ট। আর দলীয় দালালী তাদের করতে হয়; যাদের ওটি অন্ন ও সামাজিক মর্যাদা জোগাড়ের একমাত্র পথ।

এস এম রেজাউল করিম
এস এম রেজাউল করিম টাকা পয়সা না লইয়াই যখন সার্ভ করেন, আপনারে তাইলে ভক্ত বলা গেল 🙂!

Maskwaith Ahsan
Maskwaith Ahsan শোনেন ভাই আপনার গোবরবিদ্যায় কুলাবে না। মাজারের খাদেম বা ভক্ত হওয়ার জন্য সবাই জন্মায়না। এই যে অনভিপ্রেত গোবরবিদ্যার পোস্ট দিয়েছেন; এটা হচ্ছে সেই গৃহকর্মীদের এক বাড়ী (টাইমলাইন)-র কথা নিয়ে গিয়ে অন্য বাড়ীতে লাগানি ভাঙ্গানির বদ-অভ্যাস। এগুলো বদলে একটু সমসাময়িক হন। এই বিষয় নিয়ে আমার আলোচিত পোস্টেই কথা বলতে পারতেন।

এস এম রেজাউল করিম
এস এম রেজাউল করিম আপনের পোস্ট তো আপনের অথরিটি, আপনে চাইলেই আমার কথা ডিলিট করতে পারেন–আপনের অথরিটি মাইনা নিবো কেন আমি! ওবামার সমালোচনা করার জন্য ওবামার বাড়িতে যাইতে হবে নাকি আমার?

কিছু হবার জন্যই জন্মায় না কেউ, জন্মাইয়া হয়…ক্রমে। ধরেন, জন্মাইয়া কেউ কামের ছেমড়ি হইলো, কেউ তারে গৃহকর্মীতে প্রোমোশন দিয়া তারে একটা রুম দিয়া সেইখানে এসি লাগাইয়া দিল–সবই জন্মের পরের হওয়া…

Maskwaith Ahsan
Maskwaith Ahsan মনীষীরা বলেছেন, সবার সঙ্গে বিতর্কে যেওনা; ওরা তোমাকে নিজের স্তরে নামিয়ে এনে কুতর্ক করবে। মনীষীরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছে, সব ঘেউ ঘেউ বৃষ্টির জবাব দিতে গেলে তুমি কাজ করবে কখন!

এস এম রেজাউল করিম
এস এম রেজাউল করিম সেই সব মনীষীরা ফিউডাল/অভিজাততন্ত্রী পুচকে; বঙ্কিমচন্দ্র বা মার্ক্স বা ফুকোরা অমন হইলে খবর আছিলো! নিচে নামতে না চাওয়ারা উপ্রেই থাক–ফেনা জিনিসটা অমনই।