রক মনু

​রিলিজিয়ন আর আর্টের দেনা-পাওনা

রিলিজিয়ন আর আর্টের দেনা-পাওনা ভাবতাছি; সেই পুরানা দিনের এপিক বা ভিঞ্চির লাস্ট সাপার না, হালচাল ভাবতাছি; আপাতত দুই তিনটা গানের কথা কই।
আগের সেঞ্চুরির লেট নাইন্টিজে মনে হয় ডলি সায়ন্তনির গাওয়া একটা গান শুনছিলাম–“চিন্তার চেয়ে চিতার আগুন ভালো…”, আরো আগের একটা বাংলা মুভির গান আছে না–“আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, চোখ দুটো খেয়ো না…”, ফেসবুকে এখন দেখতেছি কফিল আহমেদ ( Kafil Ahmed ) গান গাইছেন একটা–“মাথা নত না করা…”। 
মজার; হিন্দুদের মুদ্দার পোড়ানো ফিউনারেলের রেফারেন্স পাইতাছি ডলির গানে, সেমিটিক রিলিজিয়নের হইলেও কনটেক্সট দেইখা কইলে খাড়ায় মোসলমানের ফিউনারেলের রেফারেন্স পাইলাম বাংলা মুভির গানটায়; এই গানটার আরো মজা হইলো, খুবই অবিজ্ঞানমনস্ক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গান এইটা 🙂 –মুদ্দারের ফিজিওলজিক্যাল দশা না বোঝা গান, মরার পরে তো নজরই নাই আর, দেহ মাটি খাইলো কি খাইলো না–এইটা তো ব্যাপার না–বিজ্ঞান মোতাবেক; ইভেন, দেখা যে একটা বিয়ন্ড চোখ কারবার–মাথা যে কেমনে ইমেজ উল্টাইয়া সোজা দেখায়, ভাবায় রিকগনাইজ করায়–বিজ্ঞানের আলোর দখলে ঐ রাইটারের মাথা থাকলে সেই ব্যাপারগুলি মিস হইতো না! উনি কইতাছেন, মাথা ছাড়াই চোখ একলা একলা দেইখা ফ্যালে, ইভেন মরার পরেও! বিজ্ঞানমনস্কতার তুমুল ফেইল্যুর রেজিস্টার্ড আছে গানটায়, সো কমফোর্টিং এই ফেইল্যুর–এমন একটা গান পাইলাম আমরা ঐ ফেইল্যুরের চিপার ভিতর দিয়া! 
কফিলের গানে বিজ্ঞান বিজ্ঞান ভাব আছে একটা; ধরেন, ব্যাকবোনের খবর আছে, ব্যাকবোনঅলা অর্গানিজম হবার কারণে মানুষের যে স্পেশাল প্রাইড আছে/থাকা উচিত সেই রকম ভাবও আছে। আর আছে বিজ্ঞানমনস্কতা, রিলিজিয়নগুলি তো মাথা নত করতে কয়, ব্যাকবোনের ফ্লেক্সিবিলিটি আদায় করে প্রণামে-সেজদায়; বিজ্ঞানমনস্ক কফিল সোজা হইয়া খাড়াইয়া থাকবেন, ডাকাডাকিও করতাছেন অমনে খাড়াইতে–কেননা, ওইটা ব্রেভারি–হিউম্যানলি (ম্যানলি বলাই দস্তুর মনে হয় কফিলের বেলায়; কেননা, আরেক গানে উনি বুক টানটান কইরা খাড়াইতে কইছেন–পোলাদেরই কইছেন মনে হয়, মাইয়াদের কইলে সেক্সুয়াল অফেন্স হিসাবে ফেল্ট হইতে পারে নাইলে ) প্রাইড।
ব্রেভারি তো আরেক মজার জিনিস; ব্রেভারির চরম হিসাবে যদি ‘নিঃশেষে পরান দেওয়া’রে ধরি তাইলে ফ্লেক্সিবল ব্যাকবোন অলা রিলিজিয়াস নত মাথাগুলির ব্রেভারিই বেশি দেখা যাইতাছে–ভাতারের চিতায় বউ’র জিন্দা পোড়ার ডিজায়্যার থেকে সুইসাইড বম্বিং পর্যন্ত। মাগার, বিজ্ঞান-কফিল কেন যেন ব্যাকবোনের ফ্লেক্সিবিলিটির ব্যাপারে বেখবর থাকতে ডাকাডাকি করতাছে, মাথা নত করতে মানা করতাছে! হোয়াই! নজিরের এমন ছড়াছড়ি কেমনে না দেইখা আছেন বিজ্ঞান-কফিল! আমার হিউম্যানলি প্রাইড প্রায় নাই বইলা কইতে হয়–খোদা মালুম 🙂 !